ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পুঠিয়ার বানেশ্বর হাট


২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৫

পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে ময়লার স্তূপের পাশেই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কেনাবেচা করছে ক্রেতা-বিক্রেতারা

আরিফ সাদাত, পুঠিয়া (রাজশাহী): রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়ার বানেশ্বর হাট দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বাধ্য হয়ে কেনাবেচা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এ হাট থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও উন্নয়নের তেমন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তবে কিছুদিন ধরে হাটের বিভিন্ন স্থানে ইট বিছিয়ে রাস্তার কাজ চলছে।
গোশত বিক্রেতা মালেক আলী বলেন, পাশেই ময়লার ভাগাড় আর দুর্গন্ধ। কেনাবেচা তো দূরের কথা, এখানে টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে আমাদের। মাছ ও মাংসপট্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মাছের পানি, জবাই করা গবাদি পশুর রক্ত জমে পচা-দুর্গন্ধময় বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাধ্য হয়ে কেনাবেচা করছি।
মাছ ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, মাছ বাজারের সাথেই ময়লার ভাগাড়। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে কেনাবেচা করা গেলেও বর্ষার সময় দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ে হাটজুড়ে। এখানে পচা ময়লা থাকায় ছোট ছোট পোকা, মাছ ক্রয় করতে আশা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এখানে অনেকে মাছ কিনতে আসছে না। বার বার বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না হাট কর্তৃপক্ষ।
আসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, বানেশ্বর হাটের পরিবেশ বর্তমানে খুবই নোংরা প্রকৃতির। দুর্গন্ধের কারণে এ হাটে বাজার করতে আসা যায় না। চারদিকে শুধু ময়লার স্তূপ। শুনছি ৬ কোটি টাকায় হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকেও নাকি ৯-১০ কোটি টাকা আছে, কিন্তু হাটের উন্নয়ন হয় না কেন জানি না।
সবুজ আলী নামে আরেক ক্রেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাটের এই নোংরা অবস্থা। শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে বাজার করা গেলেও বর্ষার সময় পুরো হাট পানির সাথে নোংরা বর্জ্য, দুর্গন্ধ ও ছোট ছোট পোকা মানুষের শরীরে ওঠে। হাটে কেউ আসতে চায় না। অনেক টাকায় এই হাট ইজারা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এর কোনো উন্নয়ন হয় না।
বানেশ্বর বণিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, আম, খেজুরের গুড়, সবজি, গরু-ছাগল ও গৃহস্থালি পণ্যের জন্য বেশ পরিচিত আমাদের এ হাট। প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নেওয়া হলেও হাটটির সার্বিক উন্নয়নে এতদিন কোনো নজরদারি ছিল না। তবে হাটের ভিতরে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ইট বিছিয়ে উঁচু করে রাস্তার কাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে হাটের পানি নিষ্কাশ করতে ড্রেন সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শিবু দাস বলেন, হাটের নোংরা পরিবেশের অন্যতম কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। আমরা উপজেলা প্রশাসন ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছি। অল্পদিনের মধ্যে হয়তো কাজ শুরু হবে। আর হাটের মধ্যে সবজি ও মাংসপট্টিসহ অনেক স্থানে ইট বিছিয়ে রাস্তার কাজ চলছে। কিছু জায়গায় টিন শেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্ধ ড্রেনটি সংস্কার করার পাশাপাশি হাটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।