জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা
২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩৪
# বায়তুল মোকাররম চত্বরে কিডস কর্নার # ফিমেল কর্নার
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা-২০২৫। এবারের ব্যতিক্রমী বইমেলায় নতুন নতুন অনেক বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি বর্ধিত করা হয়েছে পরিসর এবং অংশ নিচ্ছে ৩টি দেশের প্রকাশনা সংস্থা। সব মিলিয়ে এবারের আয়োজন দর্শনার্থীসহ সবার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভিন্নমাত্রা যুক্ত করেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং মুসান্নিফ গ্রুপের স্পন্সরে এবারের মেলাটি সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে সুন্দর এ মেলা বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ইসলামী ভাবাপন্ন মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
কতদিন চলবে মেলা
মেলা শুরু হয়েছে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে। এটি চলবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। এবারের মেলায় ১৯৯টি স্টল রয়েছে। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দেশের স্বনামধন্য ইসলামী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মিশর, লেবানন ও পাকিস্তানের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও অংশ নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বইমেলা আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।
সরকারি ছুটির দিনে মেলা শুরু হয় ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত, আর অন্য দিনগুলোয় ফটক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে পুরো প্রাঙ্গণ।
প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, ক্বিরাত ও হামদ-নাত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতির চেতনা ও ইতিহাসকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম মাধ্যম বই : ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব গেটে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বই একটি জাতির চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। আর বইমেলা হলো সেই জ্ঞানের ভাণ্ডারকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক মহতি আয়োজন। ইসলামী বইমেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রচার-প্রসারের কার্যকর ক্ষেত্র।
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের বইমেলা মুসলিম সমাজকে আলোকিত করতে অসামান্য ভূমিকা পালন করে। এরূপ বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়, এটি জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতার প্রসার, সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশ ও দাওয়াতি কাজের এক অনন্য ক্ষেত্রও বটে। এর মাধ্যমে সমাজে আলোকিত, নীতিবান ও দায়িত্বশীল মানুষ তৈরি করা সম্ভব। এ জাতীয় আয়োজন আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। ড. খালিদ বলেন, বর্তমান ভোগবাদী সমাজে অশ্লীলতা ও ভ্রান্ত ধারার বইপত্রের প্রভাব বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে ইসলামী বইমেলা পাঠককে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে আকৃষ্ট হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, পুস্তক প্রকাশকদের মুখপাত্র আহমেদ রফিক বক্তৃতা করেন। এ সময় বাংলাদেশে মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ ডিসকাউন্ট
মেলা উপলক্ষে মাসজুড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টল, জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে ইফা প্রকাশিত বই সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ হতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ কমিশনে বিক্রয় করা হবে। সোমবার মেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে কথা হয় বিক্রেতা আবদুস সোবহানের সাথে। তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত পুরনো বইগুলোয় সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং নতুন বইগুলোয় ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে।
প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন বই
কুরআন-হাদিসের গ্রন্থ, ইসলামী গবেষণা, সমকালীন চিন্তাধারা, শিশুদের ইসলামী বই, সাহিত্য ও ইতিহাস- সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় সংগ্রহের পসরা সেজেছে এ মেলায়। প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, ক্বিরাত ও হামদ-নাত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেধা পাবলিকেশন্স প্রকাশক বলেন, মুসান্নিফ গ্রুপের সহযোগিতায় এবারের আয়োজন আরো বর্ণিল ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। বিদেশি প্রকাশকরা আসায় পাঠকরা আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী গ্রন্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মুসান্নিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহদিউল আলম বলেন, ইসলামী সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি ইসলামের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রচার করে, ধর্মীয় জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং মুসলিমদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে। এর অন্যতম মাধ্যম হলো বই। বিভিন্ন প্রকাশনী এই মেলায় একত্র হয়েছে, যার ফলে পাঠকদের বই কিনতে সুবিধা হচ্ছে। এই বইমেলা ইসলামী সাহিত্যের জন্য নতুন দিগন্ত। মূলত দীনের খেদমত, ইসলামী সাহিত্যের জাগরণে সহায়তার উদ্দেশ্যেই মুসান্নিফ গ্রুপ এবারের ইসলামী বইমেলায় স্পন্সর করেছে।
শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন: বই, সিরিজ ও প্লে-জোন
আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা ২০২৫ এ শুধু বড়দের জন্য নয়, ছোটদের জন্যও থাকছে ভিন্নমাত্রার আয়োজন। মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো স্টলগুলোয় পাঠক-অভিভাবকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। শিশুদের বই, সিরিজ, ফ্ল্যাশকার্ড ও বিজ্ঞান বাক্স- এসবের সাথে রয়েছে আনন্দমুখর কিডস প্লে জোন। ফলে বই পড়ার পাশাপাশি বাচ্চারা পাচ্ছে খেলাধুলার পরিবেশও। এছাড়া আতফাল এনেছে বাংলা পাঁচটি ও ইংরেজি চারটি সিরিজ, বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিশেষ সিরিজসহ আরও অনেক বই। ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে ইসলামী শিশুতোষ বইয়ের অভাব থাকলেও আতফালের বইগুলো সেই শূন্যতা পূরণ করছে।
ফিউচার উম্মাহ বিডি এনেছে পাঁচটি সিরিজ ও প্রায় ৩০টি বই। তাদের উদ্দেশ্য হলো ইসলামের জ্ঞানসম্পন্ন শক্তিশালী এক প্রজন্ম গড়ে তোলা। অনেক ক্রেতার মতে, সিরিজ আকারে প্রকাশিত বইগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে মেলায় রয়েছে মোট ১৭টি বিজ্ঞান বাক্স, যেমন আলোর ঝলক, চুম্বকের চমক, তড়িৎ তাণ্ডব ইত্যাদি। এতে শিশুরা বই পড়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা ও বানানোর আগ্রহ পাচ্ছে।
লিটল উম্মাহ এনেছে ৯টি সিরিজ ও দুটি বই। তাদের বইগুলো শিশুদের ইসলামমুখী করে তুলতে সহায়ক, এমনটাই জানালেন অভিভাবকরা। অন্যদিকে শিশু কানন প্রায় ২০০ বই ও পাঁচটি সিরিজ সাজিয়েছে তাদের স্টলে। ক্রেতাদের মতে, তাদের বইগুলো শিশুদের জন্য মানসম্মত ও শিক্ষণীয়।
সুকুন পাবলিশিং : তাদের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের জন্য ৩টি সিরিজ বই ও ১টি ফ্ল্যাশকার্ড সেট।
সিরিজ: আদব-আখলাক নিয়ে গল্প, মসজিদ নিয়ে গল্প, আল্লাহর ১২ নাম গল্প আকারে।
ফ্ল্যাশকার্ড: ২৪টি কার্ড, সিরাত সম্পর্কিত।
উদ্দেশ্য: ছোটদের শৈশব থেকেই নবীজী (সা.) ও মসজিদের ধারণা দেয়া।
নাশাত পাবলিকেশন : শিশুদের জন্য ১টি সিরিজ ও ২৪টি বই।
উদ্দেশ্য: শিশুরা যেন ইসলামী সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং ভ্রান্ত সাহিত্য থেকে দূরে থাকে।
টুন টুন পাবলিকেশন : ৪ লেভেলের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন সিরিজ। বাংলা সংস্করণে সহানুভূতি সিরিজ ও ৩টি আলাদা বই।
উদ্দেশ্য: বাজারের প্রচলিত বইয়ের পরিবর্তে শিশুদের ইসলামী বইয়ের প্রতি টান তৈরি করা।
আতফাল : বাংলা সিরিজ: ৫টি, ইংরেজি সিরিজ: ৪টি, বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিশেষ সিরিজসহ আরও অনেক বই।
উদ্দেশ্য: শিশুরা ছোট থেকে ইসলামের শিক্ষায় বেড়ে উঠুক।
ফিউচার উম্মাহ বিডি : ৫টি সিরিজ ও প্রায় ৩০টি বই।
উদ্দেশ্য: ইসলামের জ্ঞানসম্পন্ন শক্তিশালী এক প্রজন্ম গড়ে তোলা।
বিজ্ঞান বাক্স : মোট ১৭টি বিজ্ঞান বাক্স যেমন: আলোর ঝলক, চুম্বকের চমক, তড়িৎ তাণ্ডব ইত্যাদি।
উদ্দেশ্য: শিশুদের বই পড়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখা ও জিনিস বানানোর আগ্রহ বাড়ানো।
লিটল উম্মাহ : ৯টি সিরিজ ও ২টি বই।
উদ্দেশ্য: শিশুদের ইসলামমুখী করে তোলা।
শিশু কানন : ৫টি সিরিজ ও প্রায় ২০০টি বই।
উদ্দেশ্য: শিশুদের পড়াশোনার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করা।
শিশুদের প্লে-জোন : শুধু বই ও সিরিজেই সীমাবদ্ধ নয়- মেলায় আছে শিশুদের জন্য আলাদা কিডস প্লে-জোন। সেখানে শিশুরা আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছে, খেলছে একে অপরের সঙ্গে, যেন অনেক আগের পরিচিত বন্ধুত্বের আবহ।
নাশিদ সন্ধ্যা
বইপ্রেমীরা পছন্দের বই সংগ্রহের পাশাপাশি উপভোগ করেছেন ভিন্নধর্মী আয়োজনও। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে নাশিদ সন্ধ্যা। বাদ মাগরিব মঞ্চে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশ নেন দেশের খ্যাতনামা নাশিদশিল্পীরা। নাশিদ পরিবেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দর্শনার্থীরা শোনেন কুরআন তিলাওয়াতও। এসব পরিবেশনা মেলার পরিবেশকে আরও আধ্যাত্মিক ও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
ফিমেল কর্নার : শিশুদের মতোই নারীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। মেলায় রয়েছে দুটি ফিমেল কর্নার, যেখানে মহিলাদের আরাম করে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানেই রাখা হয়েছে নামাজ ও অযুর সুব্যবস্থা, যাতে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদতের পাশাপাশি বইমেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ইসলামী বইমেলা কেবল বইপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারকে নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর এক অনন্য উৎসব।
কী বলছেন দর্শনার্থীরা
মো. ইলিয়াস হোসেন, মিরপুর থেকে এসেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী। সোমবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয়। সাথে তার ৬ বছরের এক ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। জানালেন, মেলার পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনা অনেক সুন্দর। মেট্রোতে মতিঝিল নেমে বায়তুল মোকাররক পূর্ব চত্বরে চলে এসেছেন। বাচ্চাদের জন্য তিনি কয়েকটি বই কিনেছেন।
জায়েদ আলী মুন্সী, ঢাকার সোনারগা থাকেন। স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক। বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে মেলায় কথা হয়, জানালেন গুলিস্তানে বাসে ওঠার আগে মেলাটি ঘুরে কয়েকটি বই এবং ইসলামী সাহিত্য কিনেছেন। তিনি জানান, বইয়ের দাম এবার একটু বেশি। প্রকাশকগণ কোয়ালিটির কথা বলে দাম বেশি রাখছেন। কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষদের কথা বিবেচনা করেই দাম নির্ধারণ করা উচিত। আর ইসলামী বইয়ের বেশিরভাগ ক্রেতাও বলা চলে মধ্যবিত্ত শ্রেণিরই।
মেলায় বই কিনছিলেন ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম। চাচা বইমেলার খবর কিভাবে জানলেন জিজ্ঞেস করতে বললেন নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি কাজে স্টেডিয়াম মার্কেটে এসেছিলাম। জোহরের নামাজ বায়তুল মোকাররমে পড়তে এসে মেলাটি চোখে পড়ল। আর এ সুযোগে বাড়ির লোকদের জন্য, নাতি-নাতনিদের জন্য কিছু বই কিনে নিলাম। মেলা ছাড়া এক সাথে ইসলামের বিভিন্ন রকম বইগুলো এখন আর এলাকার বইয়ের দোকানে এভাবে পাওয়া যায় না। এ ধরনের মেলার খবর মিডিয়ায় আরো বেশি করে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কী বলছেন প্রকাশকরা
বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট দিয়ে মেলায় ঢুকতেই ডানপাশের স্টল আধুনিক প্রকাশনীর কাজী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এবারের মোটামুটি আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে। এবারের মেলায় আধুনিক প্রকাশনীর বেশ কয়েকটি বই বেশ চাহিদা তৈরি করেছে দর্শনার্থী আর পাঠকদের নিকট। তিনি জানান, এগুলো হলো প্রফেসর ড. আ ছ ম তরীকুল ইসলামের ইসলাম আমাদের গৌরব, হারাম উপার্জন-ইবাদত কবুল ও জান্নাতপ্রাপ্তির অন্তরায় প্রভৃতি বইগুলো। এছাড়া বিশ্বনন্দিত লেখক সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর খেলাফত ও রাজত্ব, আল জিহাদ, পর্দা ও ইসলাম এবং ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা বইগুলোও ব্যাপক চলছে।
মেধা প্রকাশনীর আব্দুল হান্নান জানান, আমাদের প্রকাশিত মাওলানা তারিক জামিলের লেখা এবং শফিউল্লাহ কুরাঈশী অনুদিত কোন পার হতে কোন পারে, সেতুর নাম পুলসিরাত, কে সে জন বইগুলো খুব পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে।