সাতক্ষীরায় উৎপাদিত সুপারি রফতানি হচ্ছে


২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সুপারি। বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সুপারি রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ধানের পরই গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সুপারি, যা দীর্ঘদিন থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। লাভজনক ফসল হিসেবে এ অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে কমবেশি সুপারির চাষ করা হয়। এ বছর সুপারির ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে চাষিদের অভিযোগ। চাষিরা বলছেন, পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা সুপারি গাছে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে কাঁচা এবং পাকা সুপারি কেনাবেচা। কেউ কেউ আবার সুপারি কিনে শুকিয়ে টাডি হিসাবে পরে বিক্রি করে থাকেন। এতে চাঙা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাটি, বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়। হাটের দিন সকাল থেকেই এসব বাজারে চাষিরা বস্তা ও ঝুড়িতে করে সুপারি নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। আর এ কেনাবেচা চলে বিকেল পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় পাইকার ও মহাজনরা আসেন এসব হাটে সুপারি কিনতে। দিনের কেনাবেচা শেষে তারা লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাকে করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপারি চালান করেন। শুধু দেশেই নয়, এ সুপারি রফতানি হচ্ছে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় অর্থকরী ফসল সুপারির উৎপাদন দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে বছরে এখন ৪৫০ টন সুপারি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদনে তেমন খরচ না থাকায় জেলায় সুপারির বাগান বাড়ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৩৫০ বিঘা জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে ৪৫০ টন। কেজি প্রতি শুকনা সুপারির বাজার দর ৪৫০ টাকা। এ হিসাবে সুপারির বাজার মূল্য ২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত তিন বছরের ব্যবধানে জেলায় সুপারি আবাদ বেড়েছে প্রায় ২০০ বিঘা পরিমাণে।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মঙ্গলাবন্দকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, তার তিন বিঘা জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। নারিকেল বা অন্যান্য ফসলি গাছগাছালির সাথেই মূলত সুপারি গাছ লাগানো রয়েছে। তিনি বলেন, এসব সুপারি গাছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর যাবত ফল দিচ্ছে। বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা সুপারি বিক্রি হয়। এসব সুপারি স্থানীয় ব্যাপারীরা বাগান থেকে পাইকারী মূল্যে নিয়ে যায়। জেলার পাইকারি সুপারি বিক্রয় মোকাম পাটকেলঘাটা বাজারে সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার পাইকারি সুপারির হাট বসে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণ সুপারি উঠে এই হাটে। স্থানীয় ছাড়াও পাশের যশোর ও খুলনা থেকে পাইকারি ব্যাপারী সুপারি সংগ্রহ করেন পাটকেলঘাটা থেকে। এ বাজারের সুপারি বিক্রয় আড়তদার হযরত আলী জানান, প্রতি সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার তার আড়তে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুপারি ক্রয়-বিক্রয় হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাটকেলঘাটা থেকে সুপারি ও পান কিনতে আসেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পান ও সুপারি আমাদের দেশের খুবই অর্থকরী ফসল। সাতক্ষীরাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুপারি উৎপাদন হচ্ছে। এখন অনেকে বাড়ির বসতভিটার সাথেই সুপারি বাগান করছেন, আবার কোনো কোনো কৃষক সাথী ফসল হিসেবেও সুপারির সাথে বিভিন্ন ফসল করছেন। তবে পান এবং সুপারি খুবই লাভজনক ফসল।