মৌলভীবাজারে মনু সেচ প্রকল্প

কাউয়াদিঘী হাওরে রোপা আমন ও বোরো চাষাবাদে কাজে আসছে না


২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৭

মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে মনু সেচ প্রকল্প কাউয়াদিঘী হাওরে ২২ হাজার ৫৮০ হেক্টর রোপা আমন ও বোরো চাষাবাদে সিংহভাগ কাজে আসছে না ।
বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউস দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সেচ না করায় ভেস্তে যাচ্ছে রোপা আমন। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেকগুলো ক্যানেল দিয়ে হাওরের কৃষিজমিতে চাহিদামাফিক পানি সরবরাহ করা হয় না। কৃষকরা জানিয়েছেন ক্যানেলগুলো যুগ যুগ ধরে সংস্কার না করায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে শীত মৌসুমে হাওরের বোরো জমিতে সামান্য পরিমাণ পানি পৌঁছে দেওয়া হলেও বৃহৎ একটা অংশে পানি পৌঁছে না।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত মনু সেচ প্রকল্প একটি বৃহত্তম সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলায় ২২ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯৭৫-৭৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মৌলভীবাজারের কুশিয়ার নদীর কবল থেকে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং রবি মৌসুমে অধিক ফসল উৎপাদন করা।
কিন্তু প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর মাত্র কয়েক বছর কৃষকরা সুবিধা পেলেও পরবর্তীতে পানি সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম বৃহৎ দৈর্ঘ্যের ‘ক্যানেলগুলো ভরাট হয়ে যায়। পাশাপাশি পাম্প হাউসেও দেখা দেয় সমস্যা। এতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের কাছে পানি পৌঁছে না।
এ বছর হাওরে প্রচুর পরিমাণ পানি বেড়ে যাওয়ায় রোপা আমন মৌসুমে বীজতলাসহ রোপণ করা চারা হাওরের জলে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই উপজেলার প্রায় বিশ হাজার কৃষক। তাদের অভিযোগ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কাশিমপুর পাম্প হাউস দিয়ে সময় মত পানি শেষ করলে বর্ষা মৌসুমে রোপা আমন তলিয়ে যেত না।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, হাওরে গুটিকয়েক মানুষকে মৎস্য বৃদ্ধির সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ইচ্ছে করেই পানি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়। হাওরে পানি বৃদ্ধিতে মাত্র কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী উপকৃত হলেও রোপা আমন ও বোরো চাষি লক্ষাধিক কৃষক বেকায়দায় পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হন।
কাউয়াদিঘী হাওরের একাটুনা ইউনিয়নের বড়কাপন এলাকার কৃষক আব্দুল কাদির, মধু মিয়া ও আকাইলকুড়া ইউনিয়নের পাড়া শিমইল গ্রামের আব্দুল জলিল ও কান্দিগাও এলাকার সোনা মিয়া জানান, রোপা আমন মৌসুমে চারা রোপণ করায় কাশিমপুর পাম্প হাউস দিয়ে ঠিকমতো পানি সেচ না করায় চারাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। নতুন করে আবার চারা রোপণ করেছি। এখন চারা রোপণের মৌসুম চলে গেছে। নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আবার রোপণ করলাম।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, যেসব চ্যানেলগুলো দিয়ে শুষ্ক মৌশুমে পানি যায় না, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, হাওর থেকে যতটুকু পানি কমানোর আমরা কমিয়েছি। আর কমানো যাবে না। তবে ক্যানেলগুলো সংস্কার করে শুষ্ক মৌসুম পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।