দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনিতে সরকারের নজর না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়ছে
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩০
মো. আফজাল হোসেন, দিনাজপুর : দেশের উত্তর অঞ্চলের দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লি. খনিটির প্রতি সরকারের নেক নজর না থাকায় মারাত্মক সংকটের দিকে চলে যাচ্ছে। পাথর খনিটি আর্থিক ছাড়াও সরকারের নীতিগত কারণে সংকটে ক্ষতির মুখে পড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, খনি থেকে পাথর উত্তোলনে অর্থিক পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। তার চেয়ে কম মূলে বিক্রি করা হয় উত্তোলনকৃত পাথর। এ থেকে উত্তরণে পাওয়ার উপায় সরকারের সংশ্লিষ্টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো সহায়তা কারণ প্রয়োজনীয় বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তা এখনো আমদানি বন্ধ হয়নি। লোকশানের ভারে খনিটিতে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নানা রকম কর। অন্যদিকে সরকারি কাজেও এখান থেকে পাথর ক্রয় করা হচ্ছে না। সেই কারণে মধ্যপাড়ার পাথর বিক্রিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমজিএমসিএলের ইয়াডে পাথর পড়ে আছে লাখ লাখ টন। এভাবে চলতে থাকলে কিছু দিন পর পাথর রাখার জায়গা থাকবে না। ফলে কোম্পানির কাজ বন্ধ রাখতে হবে। এসব মিলে লোকশানে চলা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন। সরকারিভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় খনিটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, সরকারের অবহেলা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অসহযোগিতার মুখে পড়েছে প্রকল্পটি। দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনিটি বছরের পর বছর লোকশান দিয়ে চলছে এরপরও সরকারের নীতিতে আসেনি কোনো পরির্বতন। বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে পাথর আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়েছে আমদানিকারকদের। দেশীয় খনির পাথর সরকারের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহারে কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি এই কোম্পানিটি যেখানে লোকশানের বোঝা নিয়ে ন্যুব্জ, সেখানে এনবিআর এর নানা ধরনের ট্যাক্স। খনির সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো অব মিনারেল ডিপামেন্টের রয়েলিটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি এ কোম্পানিটি টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন বিশেজ্ঞরা। তারা মনে করেন, খনি থেকে পাথর উত্তোলনে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমাতে হবে। বিএমডিএর রয়েলিটিও চাইলে হ্রাস করতে পারে সরকার। সরকারকে খনিটির প্রতি পদক্ষেপ নিয়ে নানা ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। ২০২২ সালে বিএমডিকে প্রতি টনে ২.৫ ডলার দিতে হত, সেটা গত বছর থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে কোম্পানিটির পাথর উত্তোলন খরচ অনেক বেশি পড়ছে। মধ্যপাড়ার পাথর খনির উত্তোলনকৃত পাথরের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরিতে আমদানি করা পাথরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে নীতি সম্বয় করা দরকার। এছাড়া ঠিকাদার কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও পাথর উত্তোলন বিষয় নিয়ে চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ বিষয়ে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।