আয়নার ছাত্রনেতা
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২১
॥ রাশেদুজ্জামান ॥
২০৩১ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ৩৬৯ নম্বর কক্ষে সদ্য উঠেছেন ছাত্রনেতা রাফসান ইসলাম। মুখে বিপ্লব, বুকভরা সাহস, চারপাশে অনুসারী- সবাই বলে, “এই ছেলেটা কিছু একটা করবে।”
রুমে ঢোকার প্রথম রাতেই এক জিনিস চোখে পড়ে-
দেয়ালের এক কোণায়, অদ্ভুত একটা আয়না।
পুরোনো কাঠের ফ্রেমে, কিছুটা ধূসর কাচ।
রাফসান জিজ্ঞেস করে ওর রুমমেটকে,
“আয়নাটা কে লাগিয়েছে?”
রুমমেট বলে,
“ওটা খুলে না ভাই। অনেকেই চেষ্টা করেছে। লেগে আছে, যেন কারো স্মৃতি হয়ে।”
প্রথম কিছুদিন কিছুই হয় না।
তারপর এক রাতে হঠাৎ বাতি নিভে যায়।
মোবাইলের আলোয় আয়নার সামনে গিয়ে দেখে,
নিজের প্রতিবিম্বটা… চোখ মারে।
পরের রাত
রাফসানের ঘুম ভেঙে যায়। ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক ৩টা।
আয়নায় একটা চিরকুট সেঁটে আছে-
“তুই কি সফল হবি?”
লাল কালিতে লেখা।
রাফসান হলের পুরোনো ফাইল ঘেঁটে জানতে পারে,
২০২৪ সালে এই রুমেই থাকত এক ছাত্রনেতা-
হায়দার।
সততার আন্দোলন করতেন।
বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন,
বিপ্লব সফল হয়। স্বৈরশাসক দলবল নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়
নিপীড়িত নেতারা সবাই মুক্তি পায়
কিন্তু এরা সবাই পলাতক শাসকদের মতো আচরণ শুরু করে
২০২৬ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখ রাত
সে নিখোঁজ হয়
আজও তার খোঁজ কেউ পায়নি।
শুধু জানা যায়, শেষ রাতে সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছিল,
বলেছিল, “আমি একা নই… আমার পেছনে সময় দাঁড়িয়ে আছে।”
রাফসানের ভাষা বদলে যেতে থাকে। বক্তৃতায় জড়িয়ে যায় অন্য কণ্ঠ।
শ্রোতারাও খেয়াল করে-
সে বলে, “সত্যের নামে শাসক আসে, মিথ্যার নামে চিরকাল থাকে।”
এক রাতে সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, বলে,
“তুই কে?”
আয়না থেকে উত্তর আসে,
“আমি তুই। তুই-ই তো আমায় ডাকিস।
তুই বিপ্লব করিস, আমি তো ক্ষত গুনে রাখি।”
সে রাতে আয়নার কাচে এক নতুন চিরকুট ভেসে ওঠে-
“পালিয়ে যা। পালালে বাঁচবি। আমি পারিনি।”
তারপর এক রাতে…
রাফসান নিখোঁজ।
রুম ৩৬৯ আজও তালাবদ্ধ।
আয়নাটা এখনও দেয়ালে লেগে আছে।
প্রতিদিন রাত ৩টায় হলের নৈশপ্রহরী এক আওয়াজ শুনেন-
কেউ যেন ধীরে ধীরে বলে ওঠে,
“আমি হায়দার নই… আমি রাফসান নই… আমি প্রতিবাদ।
আমি আয়নার ছাত্রনেতা।”