আলোকে তিমিরে

ছাত্রসমাজের সংহতি ধরে রাখতে হবে


১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:১৫

মাহবুবুল হক : আলহামদুলিল্লাহ। ২০২৫-এর ৯ এবং ১১ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পরম্পরায় অভাবিত, অভূতপূর্ব, অচিন্তনীয় ও অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। যেসব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে, তার সাথে তুল্যমূল্য ঘটনা সমসাময়িক ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের অপার্থিব ঘটনা যে ঘটেনি, তা নয়। সেদিকে আমরা যাচ্ছি না। আমরা এখানে ইনশাআল্লাহ আপাতত সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করছি মাত্র।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন এবং ১১ সেপ্টেম্বর ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নির্বাচন। দুটি নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুলভাবে জয়লাভ করেছে। জয়লাভ করার পর দেশি-বিদেশি মিডিয়া, সংবাদপত্র, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পর্যবেক্ষক; এমনকি যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয় লাভ করতে পারেননি, তারাসহ সকলেই ভিন্ন ভিন্নভাবে মতপ্রকাশ করেছেন যে, দুটি বড় ঝুঁকিপূর্ণ, জটিল ও কঠিন নির্বাচন অত্যন্ত সহজ, সরল, নিপুণ, প্রাণবন্ত এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে খোশ মেজাজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দুঃখের সাথে যেমন সুখ থাকে আবার সুখের সাথে যেমন দুঃখ থাকে, সে ধরনের দুটি দুঃখজনক ঘটনা নির্বাচনকালীন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে। নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত দুজন মানুষ- তার মধ্যে একজন ছিলেন শিক্ষক, মহান আল্লাহর চিরন্তন ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ওপারে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আল্লাহর রহমতে দুটিই ছিল সাধারণ মৃত্যু। এ বিষয়ে মানুষের কোনো হাত ছিল না। কারো কোনো অভিযোগ ছিল না। তবে আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন চলাকালীন অবস্থায় ইন্তেকাল করায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। উপস্থিত মানুষজন বিস্মিত হন এবং হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুঃখিত হন। কষ্ট অনুভব করেন। কেউ কেউ চোখের পানি ফেলেন। সবাই যার যার মতো প্রার্থনা ও দোয়া করেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সাথে সাথে বিষয়গুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেন। এসব নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। সবাই এ দুটি বিষয়কে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে সহজভাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
এ দুটি দুঃখজনক মানবিক ঘটনা ছাড়া আর কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়নি। একদিক থেকে এ পরিস্থিতি ছিল অচিন্তনীয়। তুলনাহীন। নির্বাচন হবে- ঝগড়া-বিবাদ, ঝাপটা-ঝাপটি, মারামারি, দৌড়াদৌড়ি, রক্তারক্তি, ছোটাছুটি, বিক্ষোভ, মিটিং, মিছিল, অ্যাম্বুলেন্স, থানা পুলিশ, হাসপাতাল এসব কিচ্ছু হবে না, আমরা বাংলাদেশিরা কস্মিনকালেও এ ধরনের কথা ভাবতে পারি না। স্বপ্নেও আমরা এ ধরনের সুনসান পরিস্থিতির ছবি কখনো দেখি না। এবার মহান আল্লাহ তাঁর মহিমাময় কুদরতের মাধ্যমে এসব আমাদের দেখালেন। সমস্ত কৃতজ্ঞতা একমাত্র মহান পালনকর্তার কাছে। আন্তরিক ধন্যবাদ গুড গভর্নেসের জন্য দায়িত্ব অর্পিত প্রশাসকবৃন্দের সমীপে।
মনে পড়ে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বেশ কয়েক মাস আগে অত্যন্ত গর্বভরে ও আনন্দচিত্তে দেশবাসীকে আশ্বাসভরা কথা জানিয়েছিলেন, এবার আমরা এমন একটা অভাবনীয় সুন্দর নির্বাচন করব, যেটা বিশ্ববাসী চিরদিন মনে রাখবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো কিছু প্রণোদনাসূচক ও উদ্দীপনামূলক কথা বলেছেন। দেশবাসী নিশ্চয়ই এত তাড়াতাড়ি সেসব অমূল্য কথা ভুলে যাননি। আমরা এ মুহূর্তে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাঁর সেই অমীয় বাণীগুলো স্মরণ করার চেষ্টা করছি। কথাগুলো তিনি বলেছিলেন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ও প্রসঙ্গে। আর আমরা এখানে এখন আলোচনা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন প্রসঙ্গে। প্রধান উপদেষ্টার মনে কী ছিল, আমরা তা জানি না। মানুষের মনের কথা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা মহান আল্লাহ জানেন বা বলতে পারবেন। কিন্তু আমাদের মনে হয়, যেদিন তিনি উচ্ছ্বাসবশে উপর্যুক্ত বাণীগুলো আন্তরিকতার সাথে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে উচ্চারণ করছিলেন, মহান রব তাঁর সেই কথাগুলো কবুল করে নিয়েছেন। যার ফলে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ছোট আকারের নির্বাচনে তাঁর সেই আশাবাদ পূর্ণতার দিকে মোহময় হয়ে উঠেছে। নিষ্ঠাবান বান্দার ইচ্ছা যখন সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অভিপ্রায়ের সঙ্গে মিলে যায়, তখনই জগতে কল্যাণ ও মঙ্গল সাধিত হয়। দুনিয়ায় স্বস্তি ও শান্তি সঞ্চারিত হয়। আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, পরম করুণাময় ও দয়াময় মহান আল্লাহর দরবারে।
বিশ্বে যখন যেখানে বড় কোনো বা বৃহৎ কোনো পরিকল্পনা থাকে, তখন তা ছোট আকারে গবেষণা করে সফল হওয়া যায় কিনা, তা পরখ করা হয়। ছোট স্কেলে পরিপূর্ণভাবে সফলতা এলে পরিকল্পনাকারীদের মনে সাহস সঞ্চারিত হয়। উদ্দীপনা সঞ্চালিত হয়। বড় স্কেলে কাজ করার জন্য তখন তারা উদ্দীপ্ত হন। এটাই বিশ্ব ব্যবস্থা। এটাই মডেল। এটাই পাইলট প্রজেক্ট।
ছোট আকারের দুটি নির্বাচন সঠিক ও সুন্দরভাবে সফল হওয়ায় ইলেকশন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, দেশ-বিদেশের ভোটার, বিশ্ববাসী সবাই এখন স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন। যারা আগাগোড়া পজিটিভ, তারা তো এখন দারুণভাবে কনফিডেন্ট, ইনশাআল্লাহ এবার আমরা একটা অনুপম নির্বাচন দেশবাসীকে উপহার দিতে পারব। আর যারা বরাবর নেগেটিভ, যারা আশাহীন, বিমুখ, কিন্তু ভাষাহীন নন, যাদের বয়ানে সবসময় থাকে অন্ধকার ও নৈরাশ্য, তারাও এখন একটু নড়েচড়ে বসছেন। চোখ ডলছেন। ভাবছেন, এ-কী হলো, এ-কী হলো।
তবে একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা ছিল, যেটা আসলে আমরা বলতে চাই, কিন্তু লিখতে চাই না। লিখলে রেকর্ড থেকে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা খুব ছোট হয়ে যাই। খুব খাটো হয়ে যাই। আমাদের লজ্জাশরম, আমাদের মূল্যবোধ, ধর্ম, মনন, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, জাতিসত্তা, আত্মপরিচয়, জীবনাচরণ সবকিছু ধুলায় লুণ্ঠিত হয়ে যায়। আমাদের গর্ব-গৌরব, সৌরভ, সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। সে কারণে মুখ খুলতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু বিবেকের কাছে অ্যারেস্ট হয়ে যাই। একটা সত্যকে আমরা কীভাবে মাটিচাপা দেব? একটা সত্যকে আমরা কীভাবে অস্বীকার করব? ঘটনাটা ঘটেছে সবার সম্মুখে। অন্তত শত শত শিক্ষক-ছাত্রের সম্মুখে। সবাই মাথা হেট করেছিল। একটা সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন চলছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভাইস চ্যান্সেলর সাহেব উন্মুক্ত ময়দানে শিক্ষক ও ছাত্রদের নিয়ে বসে নির্বাচনের তদারকি করছেন। হঠাৎ একজন ছাত্রনেতা ভিসি সাহেবকে অযাচিতভাবে গালিগালাজসহ অত্যন্ত নীচু মানের আচরণ করে বসে। ঘটনাটি ছোট-খাটো কোনো ঘটনা নয়।
পাঠকরা জানেন, বাংলা ভাষায় ‘তুই’ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে। আর্য ব্রাহ্মণরা এদেশে এসে দ্রাবিড় ধর্মের মধ্যে নানা বিভক্তি সৃষ্টি করে। মানুষকে তারা নানা জাতে বিভক্ত করে। সবচেয়ে দুর্বল ও নীচু জাতের মানুষকে তারা ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। শব্দটি মূলত ছিল তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের, অবজ্ঞা-অবহেলার, ঘৃণার, অসম্মানের। ছাত্রটি ব্রাহ্মণের সন্তান কিনা জানি না, তবে সে ভিসি সাহেবকে তুই-তোকারি করে যাচ্ছেতাই কথাবার্তা বলছিল। জবাবে ভিসি সাহেব বক্ষ্যমাণ ছাত্রনেতাকে আপনি আপনি বলে সম্বোধন করছিলেন। বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে জানি না। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রভাষা বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমাদের দেশে জাতির জন্য যা কিছু অর্জন, তার অধিকাংশের অগ্রপথিক ছিল ছাত্রসমাজ। সব বড় বড় অর্জনের মূল সৈনিক ছিল নিঃসন্দেহে ছাত্রসমাজ। সে কারণেই ছাত্রসমাজের কাছে এদেশের মানুষ বরাবর কৃতজ্ঞ। কারণ তারা শুধু তাদের বিদ্যাপীঠের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেনি। তারা সবসময় সংগ্রাম করেছে দেশের সমস্ত অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বরাবরই তারা দল, মত, আদর্শ, ধর্ম নির্বিশেষে নিজেদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করতে সক্ষমতা অর্জন করেছিল। কখনো তারা রাষ্ট্রভাষার জন্য, কখনো তারা বৈষম্যের জন্য, কখনো স্বায়ত্তশাসনের জন্য, কখনো স্বাধীনতার জন্য, কখনো গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য, কখনো শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিলের জন্য যুগপৎ সংগ্রাম করেছে। মোটামুটি সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এভাবেই তো চলে আসছিল। ইতিহাস বলছে, মতবাদ ও আদর্শের বিভিন্নতা সত্ত্বেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্রদের মধ্যে সবসময় এক ধরনের ঐকমত্য বিরাজিত ছিল। এদেশের ছাত্রদের যুগপৎ আন্দোলনের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ এবং অনেক গৌরবের। সেই গৌরব ও সৌরভকে ধ্বংস করে দেয় দেশের চিহ্নিত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকার। তারা ছাত্র তথা শিক্ষার্থীদের লাল বাহিনীর মতো পেটোয়া বাহিনী বানায়। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ পেটোয়া বাহিনীর অধীন বানায়। এ প্রক্রিয়ায় ছাত্রনেতৃবৃন্দ আর ছাত্রত্ব বজায় রাখতে পারেনি। তারা সরকারের অংশীদার হয়ে দাঁড়ায়। সকল অন্যায়সহ সরকারকে রক্ষা করার জন্য তাদের নিয়োগ করা হয়। এভাবেই গত ১৬ বছর ছাত্র রাজনীতি ধ্বংস করা হয়। ছাত্র রাজনীতি বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আর বজায় থাকে না। সরকারি কোষাগার ও দলীয় কোষাগার থেকে ছোট-বড় সকল ধরনের ছাত্রনেতৃবৃন্দের জন্য নিয়মিতভাবে পারিতোষিক প্রদান চলতে থাকে। শুধু তাই নয়, দেশের বৈধ ও অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা বিরাট অংশ তাদের প্রদান করা হতে থাকে। ছাত্রনেতা বা ছাত্র রাজনীতির নামে এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় যে নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা কায়েম ছিল, তা বর্ণনাতীত। দেশে অভয়ারণ্য বলে কোনো কিছু ছিল না। ফ্যাসিবাদী সরকারের সকল অপকর্মের সঙ্গী ছিল তারা। এর জন্য দায়ী কে? দায়ী ফ্যাসিবাদী সরকার। তারাই তাদের স্বার্থে দেশের ছাত্রসমাজের একাংশকে এভাবেই ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস করে দেয় তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ।
এর বিপরীতে ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পাইওনিয়ার ছিল কারা? সেই ছাত্রদেরই বিরাট একটি অংশ।
নিরাপদ সড়ক থেকে সূত্রপাত করে কোটা আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, এক দফা আন্দোলন কারা করেছিল? সবই সেই ছাত্রসমাজ।
এসব আন্দোলন কি কোনো একটি ছাত্র সংগঠন এককভাবে গড়ে তুলেছিল? না।
ফ্যাসিবাদীদের রক্ষী বাহিনী ছাড়া দল, মত, আদর্শ, ধর্ম নির্বিশেষে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। এ ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। পরাজিত করেছে। তাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে। তারপর ভুল হোক, শুদ্ধ হোক, এ অন্তর্বর্তী সরকারকে তারাই গঠন করতে পরিপূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতা করেছে। এখন সেই ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজই নিজেদের বোধ, বিশ্বাস ও উপলব্ধির কারণে দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিপুলভাবে সমর্থনসহ ভোট দান করে বিজয়ের মুকুট পরিয়েছে।
এটা বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক উপলব্ধি ও অবদান। এ যুগপৎ অবদানকে শিরোধার্য করতে হবে। এসব মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়। ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিনয়ের সাথে এসব কথা স্মরণে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া ছাত্রসমাজের অধিকাংশ তোমাদের শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। এ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে গভীর আন্তরিকতা ও প্রত্যয় নিয়ে তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে- শুধু ইসলামী ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরাই তোমাদের ভোট দেয়নি, ভোট দিয়েছে বৃহত্তর ছাত্রসমাজ। সবার দিকে তোমাদের নজর রাখতে হবে। সকলকে সমানভাবে ভালোবাসতে হবে। শুধু মুসলিমদের ভালোবাসলে হবে না। ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, মতবাদ নির্বিশেষে সকলের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে, এটা কোনো আসল বিজয় নয়। মহান আল্লাহ বিজয়ের জন্য তোমাদের সামনে হাইওয়ের তোরণ খুলে দিয়েছেন। এখন মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সকলকে সাথে নিয়ে তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক এ সংহতিকে ধরে রাখতে হবে। সাসটেইনেবল করতে হবে।
তোমাদের এ ঐতিহাসিক উত্থানকে সেক্যুলার বিশ্ব কোন কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করছে, তা তোমরা জানো। সেসব মূল্যায়ন যে অসত্য, মিথ্যা এবং প্রতিবেশীদের আজগুবি রটনা, তা তোমাদের কথা দিয়ে নয়, কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, সেই সুযোগের সুচারু, উন্নত ও মানবিক সদ্ব্যবহার করার জন্য তোমাদের আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আনন্দে আত্মহারা হওয়ার সময় এটা নয়। তোমাদের জন্য এখন পরীক্ষার সময়। খুব সতর্ক ও সাবধানভাবে বেছে বেছে চলতে হবে। সেক্যুলারদের পথ অনুসরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যদের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য তোমরা তোমাদের নিজস্ব পথেই চলতে থাকো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি পদে পদে সাহায্য করবেন।
মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ছাত্রীরা তোমাদের অবারিতভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করছে। এ বিষয়টি গভীর অন্তরদৃষ্টি দিয়ে অনুভব করতে হবে। তারা তোমাদের বোন। তারা যেন কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ করার সুযোগ না পায়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতে হবে। সর্বোপরি সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন।