সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১১

আস্থা ভোটে হেরে পদচ্যুত ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী
ফ্রান্সে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হলো। আস্থা ভোটে হেরে পদচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। এর ফলে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র নয় মাসের মাথায় তাঁকে পদ ছাড়তে হলো। এ পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর জন্যও নতুন সংকট তৈরি করেছে। গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ফরাসি পার্লামেন্টে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বাইরু নিজেই জাতীয় ঋণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার সমর্থন আদায়ের জন্য এ ভোটের প্রস্তাব করেছিলেন। তবে ফল উল্টো হয়ে যায়। সমর্থন না পেয়ে বরং তাঁর সরকারকে বিদায় নিতে হয়। এতে ফ্রান্সে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে এবং মাখোঁর সামনে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। আস্থা ভোটে বাইরুর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ৩৬৪টি, আর সমর্থনে ছিল মাত্র ১৯৪টি ভোট। ভোট থেকে বিরত ছিলেন ২৫ জন এমপি। এ পরাজয়ের কারণে পুরো সরকারকেই ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। আস্থা ভোটের আগে সংসদে বক্তৃতায় বাইরু এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারকে টেনে নামানোর ক্ষমতা আপনাদের আছে, তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা নেই। খরচ আরও বাড়বে, আর অসহনীয় ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে। ফ্রান্সের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।’ বাইরুর এ বক্তব্য সত্ত্বেও সংসদ সদস্যরা তাঁর পরিকল্পনায় আস্থা রাখতে রাজি হননি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র ৯ মাসের কার্যকালেই পদত্যাগ করতে হলো তাঁকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। রয়টার্স।

রাজধানী দোহার আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি হামলা
এবার কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা চালালো ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলের দাবি, তারা কাতারে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস সূত্র জানিয়েছে, হামলায় তাদের কোনো সদস্য নিহত হয়নি। হামলার সময় হামাসের কর্মকর্তারা মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ করে আইডিএফ ও আইএসএ ‘সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে। তবে ঠিক কোথায় হামলা চালানো হয়েছে, তা ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। হামাস জানিয়েছে, হামাসের যে নেতারা দোহায় ইসরাইলের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ করে হামলা চালানো হয়েছে। কাতারের দোহার কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে ও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ড. মাজেদ আল আনসারি ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ হামলা পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও কাতারে অবস্থানকারীদের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’। তিনি জানিয়েছেন, কাতারের রাজধানী দোহার যে স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্যরা বসবাস করতেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দোহা দূতাবাস হামলার খবর পাওয়ার পর তাদের কর্মীদের জন্য ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া কাতারে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপদে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস এ মুহূর্তে হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। আল-জাজিরার সংবাদদাতা সুহাইব আল-আসা জানিয়েছেন, দোহায় ইসরাইল যে স্থানটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তা একটি আবাসিক এলাকায়, কোনো বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়। আল-জাজিরা।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা স্টাইলে পালালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি জেন-জি আন্দোলনের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সহকারী প্রকাশ সিলওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগের আগে তিনি দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে ফোনালাপে কথা বলেন এবং সেনাপ্রধানের আহ্বানেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া তিনি নিরাপদে দেশ ত্যাগের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে নেপালে জেন-জি আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনের মূল কারণ ছিল সরকারি পদে প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানদের নিয়োগ ও সুবিধা দেয়া, যা নেপালি জনগণের মধ্যে ‘নেপো কিডস’ নামে পরিচিত। এ অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে এবং তারা আন্দোলনে নেমে এসেছে।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী অলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দেশের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল জানান, সেনা কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারবে যদি প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী অলিকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এ ঘটনাকে অনেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের সঙ্গে তুলনা করছেন। সরকারি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অলি পদত্যাগের পরে দেশের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনার সহায়তা চেয়েছেন। সেনা সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত থাকবে। ইন্ডিয়া টুডে।

ব্রিক্স দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় চীন
ব্রিক্স দেশগুলোর অনলাইন শীর্ষ সম্মেলনের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে, চীনা মুখপাত্র লিন চিয়ান বলেন, ব্রিক্স সহযোগিতা ব্যবস্থা হল নতুন বাজার দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশের ঐক্য ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বর্তমানের একতরফাবাদ, সংরক্ষণবাদের সামনে, ব্রিক্স দেশগুলো যৌথভাবে বহুপক্ষবাদ রক্ষা করে, ন্যায্যতা রক্ষা করে, যৌথ উন্নয়ন বেগবান করে। পাশাপাশি ব্রিক্স দেশগুলো বর্তমান আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সক্রিয় ও স্থিতিশীল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বর্তমানে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, ব্রিক্স সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গভীরভাবে মত বিনিময় করেন। চীন বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে উন্মুক্ত, সহনশীল, উভয় কল্যাণের ব্রিক্স চেতনা বাস্তবায়ন করা, আরো ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত বিশ্ব পরিচালনা ব্যবস্থা গঠন করা, আরো সহনশীল অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন জোরদারে নতুন অবদান রাখতে চায়। রয়টার্স।

রাশিয়ার অর্থনীতি ধসিয়ে দেয়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
রাশিয়ার অর্থনীতি ধসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রুশ তেল কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা গেলে মস্কোকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা সম্ভব হবে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যদি ওয়াশিংটন ও ইউরোপ মিলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্কতা দিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে হলে ইউরোপীয় মিত্রদের এগিয়ে আসতে হবে এবং মস্কোর তেল কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘এখন বিষয়টা দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা কতদিন টিকে থাকতে পারে আর রুশ অর্থনীতি কতদিন টিকে থাকতে পারে সেই হিসেব-নিকেশের ওপর।’
তার মতে, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ তেল আমদানি করা দেশগুলোর ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্কারোপ করলে রাশিয়ার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যাবে। বেসেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে প্রস্তুত, তবে আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদেরও এতে সঙ্গ দিতে হবে।’ এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ায় ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা সবচেয়ে কঠোর শুল্কগুলোর একটি। এদিকে বেসেন্টের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেন জানিয়েছিল, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে এবারই সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে। রাতভর চলা হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং কিয়েভে একটি সরকারি ভবনে আগুন লেগে যায়। গত রোববার ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত কিথ কেলগ এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, মস্কো যুদ্ধ বন্ধের বদলে সবচেয়ে বড় আক্রমণ চালিয়ে কিয়েভের মন্ত্রিসভার দপ্তরে আঘাত হেনেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক পথে এগোতে চাইছে না।’ আল-জাজিরা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগ
ক্ষমতায় বসার এক বছর পার হওয়ার আগেই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর দলের ভেতর-বাইরে চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিক বলেন, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দলকে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে বলেছেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও নতুন কেউ দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত ইশিবাই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন। তার পদত্যাগ নড়বড়ে অবস্থায় থাকা দেশটির নীতি স্থবিরতার কাল আরো দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এর আগে ইশিবার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। একসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো ইশিবা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এক বছরও হয়নি, এর মধ্যেই তার জোট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। জীবনযাপনের খরচ বাড়তে থাকায় ভোটারদের ক্ষোভ তার দল ও জোটের ওপর গিয়ে পড়েছে।
জুলাইয়ে উচ্চকক্ষে পরাজয়ের পর তার দল লিবারেল ডেম্যোাট পার্টি (এলডিপি) তাকে দায় নিয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানালেও তিনি এতদিন তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এলডিপি-ই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রায় পুরো সময় ধরে এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে চালিয়ে আসছে। ক্ষমতা না ছেড়ে ইশিবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টায় বেশি মনোযোগী ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক এরই মধ্যে জাপানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অটোমোবাইল ও এর যন্ত্রাংশ খাতকে অস্থির করে তুলেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে গত সপ্তাহ থেকে জাপানি মুদ্রা ইয়েন ও এর সরকারি বন্ডের বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল, ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের লভ্যাংশ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ইশিবা পদত্যাগের ঘোষণায় জাপানে এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ শুরু হবে। এলডিপি প্রথমে তাদের নেতার জায়গায় ইশিবার স্থলাভিষিক্ত বেছে নেবে। এরপর ওই নতুন নেতাকে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে উৎরাতে হবে। নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স।

ট্রাম্পের অপসারণের দাবিতে উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েনের ঘটনায় ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাস্তায় টহলরত বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ‘উই আর অল ডিসি’ শিরোনামের এ মিছিলে অংশ নেন অনিবন্ধিত অভিবাসী ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকেরাও। তারা হাতে ব্যানার নিয়ে সেøাগান দেন- ‘ট্রাম্পকে এখনই যেতে হবে’, ‘ডিসিকে মুক্ত করো’, ‘স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ো’। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে অ্যালেক্স লফার নামে একজন বলেন, ‘আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করছি। আমাদের রাস্তায় ফেডারেল পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের কোনো জায়গা নেই।’ ট্রাম্প গত মাসে শহরে অপরাধ দমনের কথা বলে সেনা মোতায়েন করেছিলেন। তার দাবি ছিল, ‘আইনশৃংখলা ও জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বর্তমানে ছয়টি রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দুই হাজারের বেশি সেনা শহরে টহল দিচ্ছে। সেনাদের দায়িত্ব কবে শেষ হবে তা স্পষ্ট নয়, তবে ডিসির ন্যাশনাল গার্ডের কার্যাদেশ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘অপরাধ বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েনের ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত ৪ সেপ্টেম্বর মামলা করেছে ওয়াশিংটন ডিসি। ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব এ পদক্ষেপকে ‘নজিরবিহীন, অপ্রয়োজনীয় এবং অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, “ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো ‘অপরাধ বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা’ নেই। বাস্তবে ডিসিতে সহিংস অপরাধের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে এবং চলতি বছর আরো ২৬ শতাংশ কমেছে।’ রয়টার্স।

ভারতকে সংখ্যালঘুদের জন্য বিপজ্জনক স্থানে পরিণত করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি
হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসনের অধীনে ভারত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি বিপজ্জনক দেশে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস), বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং অন্যান্য চরমপন্থী সংগঠনের হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের সংকলিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের; বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন তীব্রভাবে বেড়েছে। এ সম্প্রদায়ের সদস্যদের হুমকি, হয়রানি এবং আক্রমণ করা হচ্ছে নির্বিচারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম ও দলিত বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়েছে, যা হিন্দু আধিপত্যের আরএসএস-চালিত হিন্দুত্ব আদর্শকে উৎসাহিত করছে। মুসলিম, খ্রিস্টান এবং দলিতরা জীবনের সকল ক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে বলা হয়েছে, ভারতে ইসলামফোবিয়া সবচেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে হিন্দুত্ববাদী নেতারা প্রকাশ্যে গণহত্যা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা ভারতে মুসলমানদের আসন্ন গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত এবং দেশটির অবৈধভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (আইআইওজেকে) মুসলমানদের ওপর আক্রমণ এবং তাদের সম্পত্তি, জমি, স্কুল, মাজার এবং মসজিদ দখল করা বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এতে জোর দেওয়া হয়েছে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-অপরাধ বন্ধে হস্তক্ষেপ করা উচিত। ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে ভারত এবং কাশ্মীরে কঠোর আইনের অধীনে মুসলিম পণ্ডিত, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, উলামা এবং ছাত্রদের সহ হাজার হাজার মুসলমানকে আটক করা হয়েছে। বিজেপি সরকার জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), পুলিশ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য অপব্যবহার করছে, এমনকি ভারতীয় সামরিক বাহিনীও এখন সেনা প্রশিক্ষণ স্কুলগুলোয় আরএসএস হিন্দুত্ব আদর্শ প্রচার করছে। আরএসএস এবং বিজেপির প্রচারিত হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদের উত্থান সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে কোণঠাসা করে ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার পক্ষে কাজ করছে। এটি অ-হিন্দুদের, বিশেষ করে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের ‘অন্যকরণ’ (ড়ঃযবৎরংধঃরড়হ) চাপিয়ে দেয় এবং ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে একটি কর্তৃত্ববাদী হিন্দু-আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আনন্দবাজার।

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকির ভারত সফর বাতিল
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফর বাতিল করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতে আসার কথা ছিল। সফরের জন্য ছাড় না পাওয়ার কারণেই এ সফর স্থগিত করা হয়েছে। যদি হতো, তাহলে আফগানিস্তানে ২০২১ সালের অগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এটিই হতো কাবুল থেকে ভারতে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সকল শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং জানিয়েছে বিদেশ সফর তারা কেন করতে চাইছেন সেই বিষয়টি আগে নিশ্চিতভাবে জানাতে হবে। এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মুত্তাকির প্রস্তাবিত ভারত সফরের প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আফগানিস্তানের জনগণের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ভারত আফগান জনগণের আকাক্সক্ষা এবং উন্নয়নমূলক চাহিদাগুলোকে সমর্থন করে চলেছে। আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদি এই বিষয়ে কোনো আপডেট থাকে, তাহলে আমরা তা আপনাদের জানাব।’ গত মে মাসে মুত্তাকির সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফোনে কথাবার্তা হয়েছিল। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি ছিল নয়াদিল্লি এবং কাবুলের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের যোগাযোগ। ভারত এখনো তালেবানদের স্বীকৃতি দেয়নি। কাবুলে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের জন্য জোরদার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবানরা। তাদের পাশে রয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি সেই সঙ্গে এও বলে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। আল-জাজিরা।

গুজরাটে পুলিশ হেফাজতে মুসলিম কিশোরকে যৌন ও শারীরিক নির্যাতন
ভারতের গুজরাটের বোটাড জেলার ১৭ বছর বয়সী মুসলিম কিশোর আরিয়ান মাখিয়ালা পুলিশ হেফাজতে টানা ৯ দিন ধরে গুরুতর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত মাসে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে তার পরিবার। এতিম কিশোর মাখিয়ালা একজন দিনমজুর এবং বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তার দাদা-দাদি ও দুই বোনের একমাত্র উপার্জনকারী সে। তাকে গত ১৯ আগস্ট একটি স্থানীয় মেলা থেকে চুরির সন্দেহে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। দুই দিন ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার বোটাড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করতে গেলে জানতে পারেন যে, তাকে আটক করা হয়েছে। তার চাচা সোহিলভাইয়ের মতে, মাখিয়ালাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করেই ৯ দিন ধরে হেফাজতে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, যা আইনি প্রোটোকলের লঙ্ঘন। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মাখিয়ালাকে বার বার মারধর করে গুরুতর আহত করেছে এবং যৌন নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় তার দাদা হস্তক্ষেপ করলে তাকেও মারধর করে ছয় দিন আটক রাখা হয়। পুলিশ পরে দাবি করে, মাখিয়ালাকে সাপ বা পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোটাড সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে, তার পরিবার তাকে ফুলে যাওয়া শরীর নিয়ে গুরুতর অবস্থায় দেখতে পায়, যার ফলে তাকে আহমেদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মেডিকেল রিপোর্টে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং কিডনি বিকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সোহিলভাই জানান, জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করার তাদের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হয়। কর্মকর্তারা দাবি করেন, মাখিয়ালা নাবালক নয়। পরিবার আরও অভিযোগ করে, পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাখিয়ালার দুই বোনের বিয়ের জন্য জমানো ৫০,০০০ রুপি জব্দ করেছে। বোটাড পুলিশ আটক ও নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গুজরাটভিত্তিক মাইনরিটি কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এমসিসি) এ মামলাটি হাতে নিয়েছে এবং জড়িত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবিতে রাজ্যের পুলিশের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে। এমসিসির মুজাহিদ নাফিস স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে থানা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি পুলিশি দায়মুক্তির অবসান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, পাশাপাশি ভারতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতার বৃহত্তর বিষয়টিও তুলে ধরেছে। মুসলিম মিরর।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুমকি ইসরাইলের
সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরাইল উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এ উদ্যোগ নেওয়ায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগকে মারাত্মক ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইসরাইল পাল্টা ও একপাক্ষিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন করে তুলবে। গিডিয়ন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এতে ইসরাইল একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো তথাকথিত স্বীকৃতির উদ্যোগে এগিয়ে গিয়ে বড় ভুল করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ এ মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত জুলাই মাসে ফ্রান্স এবং সৌদি আরবের আয়োজনে একটি সম্মেলনে দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ঘোষণা দেন যে, প্যারিস ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। পরবর্তীতে ব্রিটেনও জানায় যে, যদি ইসরাইল অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি চালু না করে, তবে তারাও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিবিসি।

ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন না মানার ফল আজকের গাজা পরিস্থিতি : জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু, ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্ভিক্ষ ও বাস্তুচ্যুতি ইসরাইলি নীতির ফসল, যা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাসীনতার প্রতিফলন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গাজায় শোচনীয়ভাবে বন্দি হয়ে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তা করুন, হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করুন এবং যুদ্ধ বন্ধ করুন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী সম্প্রতি গাজার জনগণের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করেছে, যা দুর্ভিক্ষের সতর্কতা ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর এবং তীব্র সামরিক হামলার ছায়ায় সংঘটিত হয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দোজারিকও গাজায় ইসরাইলি হামলা ও বাধ্যতামূলক উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এসব হামলা আরো বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটাচ্ছে। পার্সটুডে।

গাজায় ‘হত্যাযজ্ঞ’ থামাতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর ৯ পদক্ষেপ
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ঘোষণা করেছেন গাজায় চলমান ‘হত্যাযজ্ঞ’ থামানোর জন্য নয়টি নতুন পদক্ষেপ। তিনি টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘ইসরাইল যা করছে তা আত্মরক্ষার অংশ নয়, এটি নিরীহ জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা।’ তিনি জানান, যদিও ২০২৩ সাল থেকে স্পেন বাস্তবভাবে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তবে এখন সরকার তা ‘স্থায়ী’ করার জন্য দ্রুত আইন প্রণয়ন করবে। এছাড়া স্পেনের বন্দরে জ্বালানি পরিবহনের জাহাজ প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে এবং প্রতিরক্ষা সামগ্রী বহনকারী বিমান স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। সানচেজ আরও বলেছেন, যারা সরাসরি হত্যাযজ্ঞ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গাজায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত, তারা স্পেনে প্রবেশ করতে পারবে না। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা, অধিকৃত অঞ্চলে স্পেনীয় নাগরিকদের দূতাবাস (কনস্যুলার) সেবা সীমিত করা এবং রাফাহে স্পেনের উপস্থিতি বাড়িয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের নতুন প্রকল্প চালু করা। স্পেন ইউএনআরডব্লিউএ (টঘজডঅ)-কে অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বাড়াবে এবং ২০২৬ সালে গাজার জন্য অতিরিক্ত ১৫০ মিলিয়ন ইউরো মানবিক সহায়তা প্রদান করবে। সানচেজ বলেছেন, ‘আমরা জানি এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধাপরাধের অবসান ঘটাতে যথেষ্ট নয়, তবে আমরা আশা করি এটি নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং প্যালেস্টাইনি জনগণের দুঃখ কিছুটা কমাবে। স্পেন একা যুদ্ধ থামাতে পারবে না, কিন্তু তা মানে নয় যে, আমরা চেষ্টা করতে পারব না।’ আনাদোলু এজেন্সি।

ইরাকে উপজাতি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত
ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাগদাদে উপজাতীয় সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বাগদাদ থেকে এএফপি জানায়, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর সা’দা এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গেলে দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা পুলিশকে লক্ষ করে হামলা চালালে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ছয় হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে প্রায়ই উপজাতীয় বিরোধ ঘটে থাকে। দেশটিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত রয়েছে। ইরাকে উপজাতিগুলো বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে এবং তারা নিজেদের নৈতিক ও বিচারিক বিধির অধীনে পরিচালিত হয়। তাদের কাছে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। ২০০৩ সালে দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর কয়েক দশক সহিংসতার মধ্যে কাটানো ইরাক এখন স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে শুরু করেছে। এএফপি।

তীব্র সমালোচনার মধ্যেই জাবালে মূসায় তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল রিসোর্ট
বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান সিনাই বা মূসার পর্বত। মিশরে অবস্থিত এই পাহাড়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন হযরত মূসা (আ.)। কিন্তু সেই পবিত্র স্থানটিতেই এখন বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেছে মিসর। ফলে দেশটিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা। মূসার পর্বত শুধু মুসলমানদের কাছেই নয়, বরং খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছেও সমানভাবে পবিত্র। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই হযরত মূসা (আ.) ঐশ্বরিক বাণী লাভ করেছিলেন। স্থানীয়রা পাহাড়টিকে ‘জাবাল মুসা’ নামে চেনে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকেরা বেদুইন গাইডদের সঙ্গে নিয়ে এ পাহাড়ে ওঠেন, সূর্যোদয় উপভোগ করেন এবং বিভিন্ন পদযাত্রায় অংশ নেন। তবে এখন সরকার এটিকে মেগা-রিসোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এ স্থানে রয়েছে একটি শহর, পাহাড় ও ষষ্ঠ শতাব্দির প্রাচীন খ্রিস্টান মঠ। অথচ এখানেই দ্রুত গতিতে নির্মাণ চলছে বিলাসবহুল হোটেল, মোটেল ও কেনাকাটার বাজার।
স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও এ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার বলেন, ‘এ প্রকল্পটি স্থানীয়দের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি এমন কোনো উন্নয়ন নয় যা তারা চেয়েছিল, বরং বাইরের স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হচ্ছে।’ এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানিয়েছে গ্রিস। কারণ মঠটির সঙ্গে গ্রিসের গভীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগ রয়েছে। গত মে মাসে মিসরের এক আদালত রায় দেয়, বিশ্বের প্রাচীনতম খ্রিস্টান মঠ সেন্ট ক্যাথেরিনস সরকারি জমির ওপর নির্মিত। ওই রায়ের পর মিসর-গ্রিসের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। জেরুসালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেট জানায়, এ পবিত্র স্থানের ওপর তাদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব রয়েছে। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও এ মঠের জন্য একটি সুরক্ষা পত্র দিয়েছিলেন। মঠটির ভেতরে ফাতেমি আমলে নির্মিত একটি ছোট মসজিদও রয়েছে। প্যাট্রিয়ার্কেট একে ‘খ্রিস্টান-মুসলিম শান্তির প্রতীক এবং সংঘাতময় বিশ্বে আশার আশ্রয়স্থল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবিসি।

নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ৬৩
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৬৩ জনকে হত্যা করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বোর্নো রাজ্যের গভর্নর বাবাগানা জুলুম জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন সেনাসদস্যও ছিলেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে দারুল জামাল শহরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে নাইজেরিয়া-ক্যামেরুন সীমান্তে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের আশ্রয় শিবিরগুলো বন্ধ করে নিজেদের গ্রামে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে সর্বশেষ হামলাটি সেই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বাবাগানা জুলুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। এ সম্প্রদায়কে কয়েক মাস আগে পুনর্বাসন করা হয়েছিল এবং তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। এখন পর্যন্ত আমরা ৬৩ জনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। এর মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন।’
২০১৩-১৫ সালে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বোকো হারামের বিদ্রোহের পর সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা কিছুটা কমেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকান প্রভিন্সসহ (আইএসডব্লিউএপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী উত্তর-পূর্বের গ্রামীণ এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। গর্ভনর আরো জানান, নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর সংখ্যাগত শক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ফরেস্ট গার্ডস নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত বাহিনী গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে হামলা শুরু হয়। সে সময় কয়েক ডজন সশস্ত্র ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি চালান এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। এএফপি।

আবু রায়হান আল-বিরুনি: সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাখায় বহুমুখী অবদানের জন্য আবু রায়হান আল-বিরুনিকে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐক্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গেল ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ইরানের বিখ্যাত এ বহুবিদ্যা বিশারদের স্মরণে পালিত হয়েছে জাতীয় দিবস। আবু রায়হান আল-বিরুনি বর্তমান উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর তিনি জ্ঞানের সন্ধানে ইরানের গোরগানে যান, সেখানে তিনি পড়াশোনা ও শিক্ষাদান করেন। এরপর অজানা বিষয়ে জানতে তিনি ভারত ভ্রমণ করেন এবং অবশেষে বর্তমান আফগানিস্তানে তার জীবন অতিবাহিত করেন। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, ইতিহাস এবং দর্শনসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে তিনি এক অসাধারণ এবং বহুমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত। এক সহস্রাব্দ পরেও তার অবদান ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মানবজাতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে রয়ে গেছে। আল-বিরুনিকে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দীতে বিজ্ঞানের পদ্ধতির ওপর তার শ্রেষ্ঠ কাজগুলো ছাড়াও তার চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা। আবু রায়হান আল-বিরুনি কেবল জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিলেন না; তিনি জ্ঞান আবিষ্কারের একটি প্রক্রিয়া ছিলেন। সত্যের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি, মানব মর্যাদার প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং তার সীমাহীন কৌতূহল সংস্কৃতি, ধর্ম এবং মতাদর্শের ব্যবধান জুড়ে সেতুবন্ধন তৈরির জন্য একটি সময়োপযোগী কাঠামো প্রদান করে।
আমরা যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজনের মুখোমুখি, তখন তার উত্তরাধিকার আমাদের ভয়কে অনুসন্ধান এবং অনুমানকে প্রমাণ দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে উৎসাহিত করে। আল-বিরুনি বিজ্ঞানী, মানবতাবাদী, বৈশ্বিক নাগরিকের চেতনাকে আলিঙ্গন করার মাধ্যমে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সু-অবহিত এবং শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি। এটি প্রমাণ করে যে জ্ঞানের অন্বেষণ মানবজাতির সবচেয়ে শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ শক্তি একাদশ শতাব্দীর এ বহুবিদ্যাবিশারদ যেভাবে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক সংলাপের পথ আলোকিত করেছেন আজ আমরা কেবল একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছি না; আমরা এক কালজয়ী বুদ্ধিবৃত্তিক আলোকবর্তিকা উদযাপন করছি। আবু রায়হান আল-বিরুনির চিন্তাভাবনা এবং পদ্ধতি এতটাই আধুনিক ছিল যে তার কাজ আমাদের থেকে হাজার বছরের দূরত্বকে অতিক্রম করে গেছে। তার প্রতিভার গভীরতা বোঝার জন্য, প্রথমে তার বেড়ে ওঠার সময়কার বুদ্ধিবৃত্তিক স্বর্ণযুগ সম্পর্কে জানতে হবে। চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দী ছিল ইসলামিক-ইরানীয় সভ্যতার মধ্যে অভূতপূর্ব পাণ্ডিত্যপূর্ণ উদ্দীপনার সময়। এই যুগে আরও অনেক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছিল। যেমন – চিকিৎসক এবং আলকেমিস্ট জাকারিয়া আল-রাজি, যার চিকিৎসা সংক্রান্ত রচনাগুলো ইউরোপে শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ইবনে আল-হায়থাম, যার আলোকবিজ্ঞানের যুগান্তকারী কাজ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করে। তবে এ পণ্ডিতদের মধ্যেও আল-বিরুনি নিজেকে আলাদাভাবে তুলে ধরেছিলেন। অন্যরা যখন একক বিষয়ে গভীরভাবে নিমগ্ন ছিলেন, তখন আল-বিরুনি বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সারসংক্ষেপকারী। উদাহরণস্বরূপ, তার জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত গণনাগুলো তার উন্নত গাণিতিক তত্ত্ব দ্বারা পরিমার্জিত হয়েছিল এবং পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে তার দার্শনিক ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।
তিনি জ্ঞানকে একটি বিশাল, আন্তঃসংযুক্ত জাল হিসেবে দেখেছিলেন। এ সামগ্রিক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তার সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন, যা তাকে এমন সব বিষয় এবং সম্পর্ক দেখতে সাহায্য করেছিল, যা আরও বিশেষায়িত পণ্ডিতরা হয়তো দেখতে পেতেন না। আল-বিরুনি কেবল বিশ্ব নিয়ে অধ্যয়ন করেননি; তিনি এর অন্তর্নিহিত ঐক্য বুঝতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত আল-বিরুনির সবচেয়ে আধুনিক অর্জন ছিল তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা। এমন একসময়ে যখন আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রায়ই বিজয় এবং বিতর্কের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হতো, তখন আল-বিরুনি সহানুভূতিশীল, বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তার শ্রেষ্ঠ কাজ, ‘তারেক আল-হিন্দ’ (ভারতের ইতিহাস), নৃতত্ত্ব এবং ধর্মীয় অধ্যয়নের একটি যুগান্তকারী নিদর্শন হিসেবে রয়ে গেছে। তার পদ্ধতি ছিল বৈপ্লবিক এবং আজও গবেষকদের জন্য এটি একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি শব্দ লেখার আগে আল-বিরুনি বছরের পর বছর ধরে সংস্কৃত শিখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, একটি সংস্কৃতির মূল আত্মা বুঝতে হলে, সেই সংস্কৃতির মৌলিক গ্রন্থগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সেখানকার মানুষের সাথে তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে হবে। তিনি ভারতীয় প্রধান গ্রন্থগুলো আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন, যাতে সেগুলোর জ্ঞান সহজলভ্য হয় এবং তার বিশ্লেষণ যেন সরাসরি প্রমাণভিত্তিক হয়, কেবল শোনা কথা বা কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে না হয়। মেহর নিউজ।

ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনের আরেক বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর
ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এক বিক্ষোভকারীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনার পর থেকে ইরানে আবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে ইরানে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। তাকে হিজাব সঠিকভাবে না পরার অভিযোগে আটক করে নৈতিকতা পুলিশ। তবে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান। এ মৃত্যুর ঘটনায় পুরো ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যেখানে শত শত মানুষ নিহত হন। সেই আন্দোলনের সময় সংঘটিত এক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মিজানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিক্ষোভকারীর নাম মেহরান বাহরামিয়ান। তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ইস্ফাহান প্রদেশের সেমিরোম এলাকায় পুলিশের গাড়ি লক্ষ করে গুলি চালান। ওই হামলায় মোহসিন রেজাই নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার দুই বছর পর শনিবার সকালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে মাহসা আমিনি-পরবর্তী বিক্ষোভে জড়িত অন্তত ১০ জনকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান। এদিকে অধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বাহরামিয়ানের ভাই ফাজেলকেও একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের আরেক ভাই মোরাদ ২০২২ সালের আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই আটককৃতদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং স্বীকারোক্তি আদায় করে। অনেক সময় তাদের দীর্ঘদিন একাকী কারাগারে বন্দি রাখা হয়, এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেই জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তিকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যেই ইরানের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে। তবে তেহরান বলছে, দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান