কুড়িগ্রামের হবি কাজীর বাগানের নয়নকাড়া মাল্টা আঙুর
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৭
আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে হবি কাজীর ফলের বাগানের ফল ও উন্নত জাতের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। নিজের সাড়ে সাত একর জমির ও পর এই বাগান তৈরি করে ফল এবং চারা উৎপাদন করে অনেক সুনাম অর্জন করেছে এই ব্যক্তি মালিকানা কৃষি ফার্মটি। একই সাথে এ বাগানে সৃষ্টি হয়েছে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান।
জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মুক্তারাম এলাকায় বাসিন্দা এবং বেলগাছা ইউনিয়নের কাজী আলহাজ মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান সরকার ২০১৮ সালে সারে সাত একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন এগ্রো কাজী ফার্ম। এতে তিনি মালটা, আঙ্গুর, ড্রাগন, লিচু, আপেল ও আম ফল উৎপাদন করছেন। একই সাথে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন তিনি ও তার কৃষি ফার্মটি। সুসাধু ফল এবং চারা উৎপাদন করায় কাজী ফার্ম জেলায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এই বাগানে মাল্টার গাছ আছে প্রায় তিন হাজার, আঙুরের গাছ তিন শত, আমের পাঁচ শত, লিচু পঞ্চাশ, ড্রাগন এক শত এবং আপেলের বিশটি গাছ আছে। এই গাছগুলো থেকে অনেক ফল উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে। একই সাথে চারা গাছ উৎপাদন করে তা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করেও অনেক টাকা আয় করছে ফল ও চারা উৎপাদনের এই ফার্মটি। প্রতিদিন এই বাগানে কাজ করছেন ১৫-২০ জন শ্রমিক। বাগানের শ্রমিক রহমত ও রহিমা বলেন,আমরা শুরু থেকেই এই বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এই বাগান তৈরি করতে মালিককে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এলাকাবাসী আব্দুস সালাম, নুর আলম বলেন, এই বাগানের ফল অনেক সুসাধু এবং চারাগুলো উন্নত জাতের। ফল ও চারা নিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মানুষ আসেন। আলহাজ মো. হাবিবুর রহমান সরকার বলেন, আমার একটি ফলের বাগান স্থাপনের স্বপ্ন ছিল। অনেক পরে হলেও তা আমি করতে পেরেছি। বাগানের অধিকাংশ গাছে এখন ফল ধরে। চারা বিক্রয় করেও এখন আয় করা হচ্ছে। বাগান তৈরিতে যা খরচ করেছি তা এখনো তুলতে পারিনি। তবে কোনো বালা-মুসিবত না হলে আশা করছি দু-এক বছরের মধ্যে খরচ উঠে আসবে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি অফিসার নাহিদা আফরিন বলেন, কাজী ফার্ম জেলায় বিভিন্ন জাতের ফল ও উন্নত জাতের চারা উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কৃষি ক্ষেত্রে এই বাগানের গুরুত্ব অপরিসীম।