সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:২৯

ইসরাইলের সাথে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় তুরস্কের ৩ পদক্ষেপ
ইসরাইলের সাথে যেকোনো সময় সংঘাত শুরু হতে পারে বলে তুরস্ককে সতর্ক করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। এই সতর্কবার্তাকে আমলে নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে আঙ্কারা- এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম উন্নয়ন, নাগরিক সুরক্ষার মজবুতি ও পারমাণবিক হুমকি প্রতিরোধে উন্নত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান জানিয়েছেন, তুর্কিবাহিনী স্টিল ডোম সিস্টেম গ্রহণ করেছে। এতে ৪৭টি প্রতিরক্ষা যান রয়েছে। যার মূল্য প্রায় অর্ধবিলিয়ন ডলার। রাজধানী আঙ্কারার আসিলসান কোম্পানির সদর দফতরে ওই সিস্টেমটি অর্পণ অনুষ্ঠান করা হয়। এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তুরস্কের চারদিকে যে উত্তপ্ত অবস্থা, তা-ই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও রাডারের গুরুত্ব প্রতীয়মান করে। উল্লেখ্য, স্টিল ডোম সিস্টেমটির উন্নয়নে গত সাত বছর ধরে কাজ করছে তুর্কি কোম্পানি আসেলসান। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে আকাশ প্রতিরক্ষাকে উন্নত করা হয়েছে। এতে বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে একটি বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে নেটওয়ার্কভিত্তিক সমন্বিতভাবে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোরকুট (Korkut) : প্রাথমিক সতর্কীকরণ (early warning) সুবিধাসহ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। হিসার (Hisar) : মাঝারি-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সিপার (Siper) : উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (electronic warfare) সিস্টেম। তুরস্কের প্রতিরক্ষাবিষয়ক ওয়েবসাইট সাওয়ানমাতার ও প্রস্তুতকারক কোম্পানির অফিসিয়াল তথ্যসূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল-জাজিরা।

গাজায় অভুক্ত ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু : ইউএনআরডব্লিউএ
গাজায় অভুক্ত ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু বলে জানিয়েছে জাতিংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। গত ১ সেপ্টেম্বর সোমবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইউএনআরডব্লিউএ সূত্রে বলা হয়েছে, গাজায় এখন ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু রয়েছে। তারা সবাই অভুক্ত, হতাশ ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। এখন তাদের শিক্ষাগ্রহণের সময় হলেও পাঠশালায় ফিরে যেতে পারছে না তারা।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি ক্ষুধার যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুধার তাড়নায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩৪৮ জনে পৌঁছেছে। তবে তাদের মধ্যে ১২৭ জন শিশু। আল-জাজিরা।

ভারতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য অপরিহার্য : আরশাদ মাদানী
ভারতের বরেণ্য আলেম ও দেশটির স্বাধীনতায় অবদান রাখা মুসলমানদের প্রাচীন প্ল্যাটফর্ম জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেছেন, ভারতের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য হিন্দু-মুসলিম ঐক্য অপরিহার্য। সাম্প্রদায়িকতা দেশকে শুধু পিছিয়েই দেয়। গত ৩১ আগস্ট রোববার দিল্লিতে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের দিল্লি শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মাওলানা মাদানী এ সময় ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিশেষ করে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন। দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন বর্ষীয়ান এই আলেম বলেন, আসামের মুসলমানদের ওপর নানা রকম নিপীড়ন চলছে। কখনো নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা, আবার কখনো বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জমিয়ত আইনি লড়াই চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও এসেছে।
ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানরা বাইরের কেউ নয়, এ দেশেরই সন্তান। তাদের পূর্বপুরুষরাই এখানকার এবং এখানেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। দিল্লির সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মোহাম্মদ মুসলিম কাসেমী এবং পরিচালনা করেন মুফতি আবদুর রাজ্জাক মাজাহেরী। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। এতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক আলেম, ইমাম, মাদরাসা প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভা শেষ হয় মাওলানা মাদানীর বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে। উল্লেখ্য, জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্ল্যাটফর্ম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। সিয়াসত ডেইলি।

মসুলের ঐতিহাসিক আল-নুরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন
হেলানো মিনারের জন্য বিখ্যাত ইরাকের মসুল নগরীর প্রাচীন আল-নুরি মসজিদের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির এটি নামাজের জন্য খুলে দেয়া হবে। গত রোববার (৩১ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের জুনে ঐতিহাসিক এই মসজিদ উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় বলে দাবি করে ইরাকি সেনাবাহিনী। এরপর ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইরাক সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মসজিদটি পুনর্নির্মাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে সময় এ প্রসঙ্গে ইউএইর সংস্কৃতিমন্ত্রী নুরা আল কাবি জানিয়েছিলেন, ‘মসুলের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণে তার দেশ পাঁচ কোটি চার লাখ ডলার দেবে।’ হাজার বছরের পুরনো এ সভ্যতা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই ইউএই এ অর্থ অনুদান দেয়। আল-নুরি মসজিদ নির্মিত হয় ১১৭২ সালে নুরেদ্দিন আল জিংকির নির্দেশে। একসময় তিনিই আলেপ্পো ও মসুল শাসন করেছেন। তার নামেই এ মসজিদের নামকরণ হয়। ইরাকে যে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা মূল কাঠামো নিয়ে টিকে ছিল, সেগুলোরই একটি ছিল আল-নুরি মসজিদ।

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত ৮০০
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরো ২ হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছে। রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সে (জিএফজেড) তথ্য মতে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, এখন পর্যন্ত কেবল কুনার প্রদেশেই ৮০০ মানুষের মৃত্যুর কথা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া সেখানে আরো আড়াই হাজার আহত হওয়ার কথা জানা গেছে। এদিকে নানগারহার প্রদেশে ১২ জন নিহত ও ২৫৫ জন আহত হয়েছে। জিএফজেড জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরো শত শত মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আল-জাজিরা।

লেবাননে হিজবুল্লাহর স্থাপনায় ইসরাইলের হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ পরিচালিত একটি স্থাপনায় গত রোববার (৩১ আগস্ট) হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জেরুসালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছুক্ষণ আগে আইডিএফ (সেনাবাহিনী) দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর স্থাপনায় সামরিক অবকাঠামোয় তারা হামলা চালিয়েছে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সামরিক ওই স্থাপনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোও রয়েছে। এই স্থাপনার অস্তিত্ব ও এর মধ্যে কার্যকলাপ ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সমঝোতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে সেনাবাহিনী। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরাইল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শত্রুতা চালিয়েছে, যা গত বছর দুই মাসের প্রকাশ্য যুদ্ধে পরিণত হয়। সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সহায়তায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ভেঙে ফেলেছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তারা বলছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত এই হামলা চলবে। বাসস।
আফগানিস্তানে ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউনিসেফ
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করতে ইউনিসেফের স্থানীয় টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক মানবিক সংস্থা (ইউনিসেফ)। ইউনিসেফের কাবুল অফিসের কর্মকর্তা সালাম আল জানাবি জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় সড়কপথে যাতায়াত এখন বন্ধ রয়েছে। সম্ভবত শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ভবনগুলো প্রায় একে অপরের গা-ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় সবকিছু একে অপরের ওপর ভেঙে পড়ছে।’ ইউনিসেফের এখন প্রধান অগ্রাধিকার স্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা, পানি এবং স্যানিটেশনের সুযোগ করে দেয়া বলে জানিয়েছেন আল জানাবি। বিবিসি।

যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে মুসলিমরা
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের এসেক্স কাউন্টির বাসিলডনে যখন আকমলের (ছদ্মনাম) মসজিদ ভাঙংচুর করা হয়, তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ‘আমি খুব আহত হয়েছিলাম,’ ৩৩ বছর বয়সী এই বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী বলেন, যিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করার অনুরোধ করেছিলেন, ‘আমার স্থানীয় মসজিদে হামলা করা হয়। এটি বাড়ির খুব কাছে ছিল।’ গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) মধ্যরাতের কিছু আগে বাসিলডনের সাউথ এসেক্স ইসলামিক সেন্টারের দেয়াল বিকৃত করা হয়েছিল। ‘খ্রিস্ট রাজা’ এবং ‘এটি ইংল্যান্ড’ শব্দগুলোর পাশাপাশি এর দেয়ালে লাল ক্রস লাগানো হয়েছিল। গত ২৯ আগস্ট শুক্রবারে জুমার নামাজের আগের রাতে সময়টি অনেকের কাছেই পরিকল্পিত বলে মনে হয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব ইংলিশ কাউন্টিতে মুসল্লিদের ভয় দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। ‘আমার স্ত্রী এবং শিশু এখানে বড় হচ্ছে,’ আকমল আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাই। আমি এখানে থাকতে পারছি না।’ সম্প্রদায়ের নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বাসিলডন কাউন্সিলের নেতা গ্যাভিন ক্যালাগান এটিকে ‘করুণ অপরাধমূলক কাপুরুষতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ‘এটাকে ক্ষমা করবেন না। এটা একটা নোংরা আচরণ এবং এটা আমাদের শহরকে লজ্জা দেয়… যারা কাপুরুষরা এটা করেছে তাদের ধরা হবে,’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবারের নামাজের ঠিক আগে এটা করা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটা লক্ষ্যবস্তু। এটা ভয় দেখানো এবং এটা অপরাধমূলক।’
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের প্রধান ওয়াজিদ আখতার বলেন, ‘সেন্ট জর্জ পতাকা ইংল্যান্ডের একটি প্রতীক যা আমাদের সকলের গর্বিত হওয়া উচিত। এভাবে এটি ব্যবহার করা, যা নাৎসিরা কীভাবে ইহুদিদের বাড়িঘর লক্ষ্যবস্তু করেছিল তা প্রতিধ্বনিত করে, আমাদের পতাকা এবং আমাদের জাতির জন্য একটি অপমান। নীরবতা ঘৃণা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে।’ এসেক্স পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। কাউন্সিলের কর্মীরা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ভোরে মুসল্লিদের আগমনের আগে গ্রাফিতিটি অপসারণের জন্য কাজ করেছিলেন, কিন্তু ভয়ের অনুভূতি এখনো রয়ে গেছে। ‘আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম,’ ওই এলাকায় বসবাসকারী ৪৩ বছর বয়সী সাজিদ ফানি বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে এখানে এমন কিছু ঘটবে।’ স্থানীয় বিশপরা হামলায় খ্রিস্টান চিত্রের অপব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে ভাঙচুরকে ‘কলঙ্কজনক এবং গভীরভাবে বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করে বলেছেন যে, বর্ণবাদকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য খ্রিস্টধর্মকে ব্যবহার করা ‘ধর্মতাত্ত্বিকভাবে মিথ্যা এবং নৈতিকভাবে বিপজ্জনক’। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, কিছু গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী, চরমপন্থী এবং ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের’ সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিত্রিত করে বিদ্বেষ টিকিয়ে রাখা বা দীর্ঘস্থায়ী করে তোলায় ভূমিকা রাখছে। আল-জাজিরা।

ইসরাইলের গোপন খননে আল-আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন হুমকির মুখে
ফিলিস্তিনি প্রশাসনের দাবি, দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদের নিচে ইসরাইল গোপনভাবে খনন চালাচ্ছে এবং মুসলমানদের প্রাচীন ইসলামী প্রত্ননিদর্শন ধ্বংস করছে। তারা বলছে, এই কাজের মাধ্যমে শহরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আল-আকসাকে ইহুদিকরণের ষড়যন্ত্র চলছে। গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে জানায়, আল-আকসার নিচে ইসরাইলের বেআইনি খনন কাজ চালানোর ভিডিও ফাঁস হয়েছে। জেরুসালেম গভর্নরেটের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইল উমাইয়া যুগের ইসলামী নিদর্শন ধ্বংস করছে, যা মুসলিমদের এই স্থানের ন্যায্য মালিকানার প্রমাণ। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, খননের মাধ্যমে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বর্ণনা জোরদার করতে ও ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলার পরিকল্পনা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভর্নরেট সতর্ক করেছে যে, গোপনে এই খনন কাজ মসজিদের ভিত্তি এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনি প্রশাসন আন্তর্জাতিক মহল, জাতিসংঘ এবং ইউনেস্কোকে দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে আহ্বান জানিয়েছে।
যদিও সুনির্দিষ্ট খননস্থলের তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে ইসরাইল বহু বছর ধরে আল-আকসার নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আসছে। ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এটি পূর্ব জেরুসালেমকে ইহুদিকরণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানের একমাত্র অধিকার জর্ডান-পরিচালিত জেরুসালেম এনডাওমেন্ট কাউন্সিলের। ২০১৩ সালের মার্চে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একটি চুক্তি সই করেন, যার মাধ্যমে জেরুসালেমসহ ফিলিস্তিনের সব পবিত্র স্থানের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব জর্ডানকে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিকভাবে আল-আকসা মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ইহুদিরা এটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে উল্লেখ করে এবং দাবি করে, এখানেই তাদের প্রাচীন দুটি মন্দির ছিল। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয় এবং ১৯৮০ সালে পুরো শহরটি সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি।

ইরাকে ৫ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন নগরীর সন্ধান
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ৫ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন একটি নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সাম্প্রতিক সময়ে মসুল বাঁধের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পানির নিচে চাপা পড়ে থাকা এ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দৃশ্যমান হয়েছে। এই আবিষ্কার ইরাকের ইতিহাস ও উত্তর মেসোপটেমিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার (৩০ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের দুহোক প্রদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শুক্রবার জানায় যে, তারা এখানে হেলেনিস্টিক যুগের (খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালের কাছাকাছি) অন্তত ৪০টি মাটির কফিনসহ ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কবরস্থানগুলোর একটির সন্ধান পেয়েছে। মসুল বাঁধ ১৯৮৬ সালে নির্মিত হওয়ার পর এই এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এ বছর বাঁধের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ প্রকাশ্যে আসে। দ্রুত উদ্ধার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে আবার পানি বেড়ে যাওয়ার আগেই প্রত্নবস্তুগুলো রক্ষা করা যায়।
সাইটটি দুহোক প্রদেশের দক্ষিণে পুরনো খানকে গ্রামে অবস্থিত। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন, এ স্থানটিতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুগের নিদর্শন রয়েছে- নিনেভেহ ভি যুগ, প্রাচীন ও মধ্য ব্রোঞ্জ যুগ, মিতানি রাজ্য, নব্য-আসিরীয় সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ইসলামী যুগ পর্যন্ত। খননকালে হেলেনিস্টিক যুগের অক্ষত প্রত্নবস্তু, মাটির পাত্রের টুকরো এবং প্রাচীন বসতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার উত্তর মেসোপটেমিয়ার ইতিহাসে সংস্কৃতি বিনিময়ের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুহোক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বেক্স ব্রিফকানি বলেন, ‘এ আবিষ্কার অঞ্চলটির ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলমান খননকাজে ভবিষ্যতে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে।

ব্যাপক বিক্ষোভের পর ইন্দোনেশিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ইন্দোনেশিয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চলমান সহিংসতায় ছয়জন নিহত হওয়ার পর গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আইন প্রণেতাদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে এই ব্যবস্থাগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশটির অভিজাত আধাসামরিক পুলিশ ইউনিটের একটি দল ২১ বছর বয়সী ডেলিভারি ড্রাইভার আফান কুর্নিয়াওয়ানকে পিটিয়ে হত্যা করার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। এরপর থেকে রাজধানী জাকার্তা থেকে জাভার যোগিয়াকার্তা, বান্দুং, সেমারাং, সুরাবায়া ও উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের মেদানসহ অন্য প্রধান শহরগুলোয় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভ প্রাবোও ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতা। ইন্দোনেশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র ও বিক্ষোভকারীদের আরো সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার রাজধানী জাকার্তাজুড়ে পুলিশ চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে এবং একজন পুলিশ মুখপাত্র সম্প্রচারক কম্পাস টিভিকে জানিয়েছেন, নাগরিকদের ‘সুরক্ষা’ ও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য অফিসাররা শহরে টহল দিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করার জন্য এবং শক্তি প্রদর্শনের জন্য গত রোববার গভীর রাতে পুলিশ সংসদে সাঁজোয়া গাড়ি ও মোটরবাইকের একটি বহর মোতায়েন করেছে। এই সংকটের কারণে প্রাবোও এই সপ্তাহে চীনে তার পরিকল্পিত সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি স্মরণে এই সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাজাফ্রি সাজামসোয়েদ্দিন রোববার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর বাড়ি লুটপাটের পর সামরিক বাহিনী ও পুলিশ ‘দাঙ্গাবাজ ও লুটেরাদের’ বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাকাসারে একটি কাউন্সিল ভবনে শুক্রবার বিক্ষোভকারী কর্তৃক আগুন লাগার ঘটনায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ সংস্থার কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফাদলি তাহার রোববার বলেন, শুক্রবার মাকাসারে আরেকজনকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা সন্দেহে জনতা মারধরের পর হত্যা করা হয়েছে। যোগকার্তায় আমিকম যোগকার্তা বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভে তাদের ছাত্রী রেজা সেন্ডি প্রাতামার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এএফপি।

মিশরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে নিহত ৩, আহত শতাধিক
মিশরের রাজধানী কায়রো যাওয়ার পথে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৩ জন। এতে আহত হয়েছেন শতাধিক। গত শনিবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় লাইনচ্যুত হয় ‘মারসা মাতরুহ’ নামের ট্রেনটির সাতটি বগি। কর্মকর্তারা জানান, দুটি বগি উল্টে যায়। সাহারা মরুভূমির পাশেই ফোকা ও জলাল স্টেশনের মাঝের রেলপথে হয় এ দুর্ঘটনা। তবে এমন দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। গালফ নিউজ।

রাশিয়া-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: পুতিন
রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে অর্থনীতি থেকে শুরু করে কৌশলগত সমন্বয় পর্যন্ত দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে। শনিবার চীনের সংবাদসংস্থা সিনহুয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২১ সালের পর থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এখন চীন। আর রাশিয়া গত বছরে চীনের পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক অংশীদার হয়েছে’। তিনি আরও জানান, বাণিজ্য মূলত ডলারে হিসাব করা হলেও এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব জাতীয় মুদ্রায় লেনদেন হচ্ছে। ডলার ও ইউরোর অংশ নেমে এসেছে ‘পরিসংখ্যানগত ভুলের স্তরে।’ পুতিন উল্লেখ করেন, রাশিয়া এখনো চীনের শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারী। ২০১৯ সালে চালু হওয়া ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া’ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ইতোমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ঘনমিটার ছাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালে পূর্বাঞ্চলীয় গ্যাস পাইপলাইন সম্পন্ন হলে চীনে গাড়ি রপ্তানি ও জ্বালানির চাহিদা পূরণে রাশিয়ার ভূমিকা আরও বাড়বে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর করবে। পুতিনের ভাষায়, ‘আমার আসন্ন সফরে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হবেই।’ শুধু অর্থনীতি নয়, কৌশলগত ক্ষেত্রেও রাশিয়া-চীনের সমন্বয়ের কথা তুলে ধরেন পুতিন। তার ভাষায়, এই সহযোগিতা ‘বিশ্ব রাজনীতির একটি প্রধান উপাদান’। জাতিসংঘ ও গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস ইন ডিফেন্স অব দ্য ইউএন চার্টার-এ দুই দেশের যৌথ কাজকে তিনি গ্লোবাল সাউথকে শক্তিশালী করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। দুই দেশই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের পক্ষে, যাতে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ে এবং বর্তমান বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়। পুতিন বলেন, ‘আমরা ব্রিকসের মধ্যে চীনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি, যাতে এটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রভাব বাড়াতে পারে।’ তিনি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সংস্কারের আহ্বান জানান। বেইজিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন এক ‘নতুন আর্থিক ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলেন, যা হবে ন্যায্য, উন্মুক্ত এবং ‘নব-উপনিবেশবাদী উদ্দেশ্যের ঊর্ধ্বে।’ আনাদোলু এজেন্সি।

ইসরাইলকে সহায়তার প্রতিবাদ করায় চাকরি হারালেন মাইক্রোসফটের ৪ কর্মী
ইসরাইলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট চারকর্মীকে বরখাস্ত করেছে। ‘নো অ্যাজিউর ফর অ্যাপার্থেইড’ নামের একটি প্রতিবাদী গোষ্ঠী জানিয়েছেন, ফোনের ভয়েসমেইলের মাধ্যমে মাইক্রোসফটের চারকর্মীকে জানানো হয়েছে যে, তাদের চাকরি চলে গিয়েছে। ওই কর্মচারীদের নাম, অ্যানা হ্যাটল, রিকি ফামেলি, নিসিরিন জারাদাত এবং জুলিয়াস শ্যান। অত্যাচারী ইসরাইলকে সাহায্য করছে মাইক্রোসফট, এই দাবিতে সম্প্রতি মাইক্রোসফটের প্রধান কার্যালয়ে তাঁবু টাঙিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে বরখাস্ত হওয়া চারকর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপরই তাদের বরখাস্ত করা হয়।
জানা যায়, চলতি সপ্তাহে সাতজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সংস্থার প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের অফিসে অবস্থান ধর্মঘট করেন হ্যাটল ও ফামেলি। এরপর তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন মাইক্রোসফটের সাবেক কর্মী ছিলেন। প্রতিবাদী গোষ্ঠীর দাবি ছিল যে, মাইক্রোসফট যেন ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। মাইক্রোসফট ইসরাইলকে গণহত্যা চালাতে সাহায্য করছে। তাই ইসরাইলের সঙ্গে অবিলম্বে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে প্রতিবাদ দেখান বিক্ষোভকারীরা। এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংস্থার নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে চারকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে, মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ক্লাউড সেবা ব্যবহার করে ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ফোনকলের তথ্য সংরক্ষণ করছে এবং নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও এটা প্রথম নয়, এর আগেও ইসরাইলের সঙ্গে মাইক্রোসফটের সুসম্পর্কের কারণে বেশ কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গন এ ধরনের প্রতিবাদের মুখে পড়ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ক্ষুধার্ত শিশু ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক ছবি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন অনেকে। বর্তমানে খাদ্যসংকটে ভুগছেন গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা। আরব নিউজ।

ইউক্রেনকে রাশিয়ার গভীরে আঘাতে সক্ষম অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ন্যাটো
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে এমন অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত করতে সক্ষমÑ ন্যাটোয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ম্যাথিউ হুইটেকার বলেছেন। ‘এবং অবশেষে আপনি জানেন, আমরা কিছু গভীরতর আঘাতের ক্ষমতা দিচ্ছি এবং সম্ভবত ইউক্রেনীয়রা সেগুলো ব্যবহার করবে,’ কূটনীতিক ফক্স নিউজে সরাসরি সম্প্রচারের সময় বলেছিলেন। তিনি কোন সিস্টেমের কথা উল্লেখ করছেন তা নির্দিষ্ট করেননি, তবে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন কর্তৃক কিয়েভকে ৩,০০০ এরও বেশি বিমানভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করার পরিকল্পনার পাশাপাশি ন্যাটো মিত্রদের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কেনার কথা উল্লেখ করেছেন। ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করছেন যে ইউক্রেন আত্মরক্ষা চালিয়ে যেতে পারে। এবং এখন তাদের আরও দূর পাল্লায় আঘাতের ক্ষমতা দিচ্ছেন যার ফলে স্পষ্টতই তাদের আক্রমণের ক্ষমতা বাড়তে পারে,’ হুইটেকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাশিয়া বার বার উল্লেখ করেছে, দূরপাল্লার হামলা কিয়েভ দ্বারা নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়, যাদের বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্যবস্তু নির্দেশিকা প্রদান করে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলে রাশিয়া দৃঢ়ভাবে জবাব দেবে, বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তাস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান