বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনয়ন হোয়াইট হাউসের
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১১
সোনার বাংলা ডেস্ক: ঝানু কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত (অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি) হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের এ কূটনীতিক এরই মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতার ঝুলিকে ভারী করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তাকে রাষ্ট্রদূত করা নিয়ে। এবার সেটাই চূড়ান্ত হচ্ছে। তাকে রাষ্ট্রদূত মনোনয়ন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিভিন্ন পদে নানা দেশে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে বিবৃতি পাঠানো হয়েছে মার্কিন সিনেটে। এতে বলা হয়েছে, সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি ভার্জিনিয়া রাজ্যের। অনলাইন উইকিপিডিয়া বলছে, উইলিয়াম ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমন একজন মার্কিন কূটনীতিক, যিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কার্যত দূতাবাস’, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ইন তাইওয়ান (এআইটি)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি তাইওয়ানে আমেরিকান ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের তাইওয়ান সমন্বয় অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রিস্টেনসেন ডেনিশ আমেরিকান শিল্পী সিসিএ ক্রিস্টেনসেনের প্রপৌত্র। তিনি ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চীনা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ব এশিয়ান স্টাডিজে এমএ এবং ওরিগন স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএমডি (ডক্টর অব ডেন্টাল মেডিসিন) ডিগ্রি অর্জন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের আগে ক্রিস্টেনসেন মার্কিন বিমানবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক ব্যুরোর তাইওয়ান সমন্বয় অফিসের পরিচালক হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ২০১০ সাল থেকে ক্রিস্টেনসেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তাইওয়ান সমন্বয় অফিসের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নীতি প্রণয়নে তার প্রধান ভূমিকা ছিল।
২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসে তার পোস্টিংয়ে, তিনি পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইচআইভি/এইডস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কর্মী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। ক্রিস্টেনসেন মার্কিন সাবেক সিনেটর অলিম্পিয়া স্নোর কর্মীদের একজন কংগ্রেসনাল ফেলো হিসেবেও কাজ করেন। পূর্বে তিনি বেইজিং, হংকং এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন। ২০২২ সালের আগস্টে ক্রিস্টেনসেনকে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় মার্কিন মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিযুক্ত করা হয়। তিনি চেসলি ‘সুলি’ সুলেনবার্গারের স্থলাভিষিক্ত হন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয় ক্রিস্টেনসেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে অবসর গ্রহণের পর ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবেন। ২০২১ সালের ১৮ জুন তাকে জাতীয় সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানের সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুন তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্রিস্টেনসেনকে গ্র্যান্ড মেডেল অব ডিপ্লোমেসি দেয়া হয়। একই বছর ২৫ জুন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন ক্রিস্টেনসেনকে গ্র্যান্ড কর্ডনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অফিস অর্ডার অব দ্য ব্রিলিয়ান্ট স্টার প্রদান করে।
ওদিকে বিভিন্ন পদে মনোনয়ন দেয়া সম্পর্কে হোয়াইট হাউস বিবৃতিতে বলেছে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিনিধি হিসেবে অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি পদমর্যাদা ও মর্যাদাসহ মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ট্যামি ব্রুসকে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিনিধি হিসেবে এবং অতিরিক্ত কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি হিসেবে ভারতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সার্জিও গোরকে। তিনি ফ্লোরিডার। সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য (মিনিস্টার-কাউন্সিলর শ্রেণি), যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি হিসেবে বাহরাইনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ফ্লোরিডার স্টেফানি হ্যালেটকে।
সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য (কাউন্সেলর শ্রেণি), যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি হিসেবে জর্ডানে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আইওয়ার জেমস হোল্টসনাইডারকে। মিসৌরির উইলিয়াম লংকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর এক্সট্রা অর্ডিনারি অ্যান্ড প্লিনিপোটেনশিয়ারি হিসেবে আইসল্যান্ডে। নিউইয়র্কের স্টিফেন মিরানকে যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ থেকে শুরু হওয়া ১৪ বছরের অসমাপ্ত মেয়াদের জন্য কাজ করবেন। মিসিসিপির রবার্ট পি. চেম্বারলিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ডিস্ট্রিক্ট বিচারক হিসেবে (নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিসিসিপি)।
আলাবামার এডমন্ড জি. লাকুর জুনিয়রকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ডিস্ট্রিক্ট বিচারক হিসেবে (নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব আলাবামা)। আলাবামার বিল লুইসকে বিচারক হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিডল ডিস্ট্রিক্ট অব আলাবামায়। দেলাওয়ারের জেনিফার লি মাসকটকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সার্কিট বিচারক হিসেবে (তৃতীয় সার্কিট)। মিসিসিপির জেমস ডি. ম্যাক্সওয়েল ওকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিসিসিপির বিচারক হিসেবে। অন্যদিকে আলাবামার হ্যারল্ড ডি. মুটি ওওকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব আলাবামার বিচারক হিসেবে।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার স্টিফেন এফ. রিকার্ডকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সুপিরিয়র কোর্টের অ্যাসোসিয়েট বিচারক হিসেবে। পনের বছর মেয়াদের জন্য তাকে এ মনোনয়ন দেয়া হয়। ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এলানা এস. সুটেনবার্গকে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সুপিরিয়র কোর্টের অ্যাসোসিয়েট বিচারক হিসেবে পনের বছর মেয়াদের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার জন কুয়ং ট্রুয়ংকে ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সুপিরিয়র কোর্টের অ্যাসোসিয়েট বিচারক হিসেবে পনেরো বছর মেয়াদের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।