সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪২
গুয়াতেমালায় ল্যাব ইঁদুর হিসেবে ৫ হাজার মানুষকে ব্যবহার করেছে আমেরিকা
আমেরিকার বিজ্ঞানের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, আমেরিকায় মানুষের প্রতি বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক মনোভাবের অস্তিত্বের কারণে এই দেশের গবেষকরা মানুষকে; বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও দুর্বলদের ল্যাবরেটরি ইঁদুর হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য করেছেন। পার্সটুডের মতে, ‘৫ হাজার গুয়াতেমালার ল্যাবরেটরি ইঁদুর’র গল্পটি মার্কিন চিকিৎসা ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটিকে নির্দেশ করে, যা গুয়াতেমালায় ঘটেছিল। কিন্তু এই ‘ল্যাবরেটরি ইঁদুর’ আসলে মানুষ ছিল, যারা অমানবিক পরীক্ষার শিকার হয়েছিল। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে ড. জন চার্লস কার্টারের নেতৃত্বে আমেরিকার গবেষকরা গুয়াতেমালায় যৌনবাহিত রোগের ওপর পেনিসিলিনের প্রভাব তদন্তের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আমেরিকান গবেষকরা পাঁচ হাজারেরও বেশি গুয়াতেমালার বন্দি, রাস্তার নারী, মানসিক রোগী ও যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত সৈনিকদের এই রোগগুলোর চিকিৎসায় পেনিসিলিনের প্রভাব অধ্যয়নের জন্য সংক্রামিত করেছিলেন। চিকিৎসার প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করার সম্মতি ছাড়াই মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে সিফিলিস এবং গনোরিয়ার মতো রোগে সংক্রামিত করা হয়েছিল। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই বন্দীদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যারা পরীক্ষার উদ্দেশ্য বা এর ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এই মামলাটি চিকিৎসা গবেষণায় মানুষের ওপর নির্যাতনের ঐতিহাসিক উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি, যা পরবর্তীতে চিকিৎসা নীতি এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। ২০১০ সালে এই ভয়াবহ অপরাধ প্রকাশের পর গুয়াতেমালার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলভারো কলম পরীক্ষাগুলোকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গুয়াতেমালার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলভারো কলমের সাথে একটি ফোনালাপের সময় এই অনুশীলনগুলোর জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই এটিকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেছিলেন। কারণ এই অমানবিক পরীক্ষার শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। গুয়াতেমালার অমানবিক পরীক্ষাগুলো কেবল চিকিৎসা ইতিহাসের ওপর একটি কালো দাগ ছিল না। বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং লাতিন আমেরিকার মধ্যে। ২০১০ সালে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকাশের পর, অনেক লাতিন আমেরিকার দেশ চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এই অবিশ্বাস গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সম্পর্কিত ক্ষেত্রে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নীতিশাস্ত্রের প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দিতে পরিচালিত করে। এটি মানব গবেষণায় অবহিত সম্মতির ওপর কঠোর নিয়মকানুন তৈরির জন্য চাপও তৈরি করে। বিশ্বব্যাপী এই প্রকাশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অনেক দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা সম্পর্ক আরো সতর্ক হতে বাধ্য করে।
আফগান মুদ্রার মান বেড়েছে ২১ শতাংশ
তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত আফগানিস্তান আজ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় বিপুল পরিমাণ ডলার নিয়ে ক্ষমতাসীনরা দেশত্যাগ করলে দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়ে। সেই সময়ে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কারণে বহু পরিবার চরম দুর্দশায় সন্তান বিক্রির মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের চার বছরের শাসন শেষে এখন আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা ও উন্নতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত চার বছরে আফগান মুদ্রার মান ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে আফগানি মুদ্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হাসিবুল্লাহ নুরি জানিয়েছেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুদ্রার মান বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতকে প্রসারিত করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক খাতের অর্থায়ন গত এক বছরে ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাসিবুল্লাহ নুরি আরও বলেন, ‘গত বছর বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে আফগান মুদ্রার মান ০.৭৯ শতাংশ ইতিবাচক ছিল, বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে। এটি প্রমাণ করে আমাদের মুদ্রা স্থিতিশীল রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে মুদ্রার মান যেন অতি মাত্রায় ওঠানামা না করে, সেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’ বর্তমানে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করছে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ সংখ্যা আরও বাড়ানো গেলে আফগান ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবেন। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাতে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা গেলে এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে অনেক গ্রাহক এখনো অভিযোগ করছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় প্রয়োজনীয় সেবা সবসময় পাওয়া যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সংযোগ আরও জোরদার করা যায়, তবে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে। তোলো নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনোই নতি স্বীকার করবে না ইরান: খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথানত করবে না। তিনি দেশকে পরাধীন করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে নতুন আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার (২৪ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তৃতায় খামেনি অভিযোগ করেন যে, গত জুনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা দেশটিকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে নিজের ইচ্ছামতো চালানো এবং ওয়াশিংটনের ‘আনুগত্যে বাধ্য করা’। তবে ইরানি জনগণ সেনাবাহিনী, সরকার ও সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশে দাঁড়িয়ে শত্রুদের শক্তিশালী আঘাত করেছে। খামেনি আরও বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো এখন ভেতর থেকে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এজেন্টরা ইরানি সমাজে বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ‘শত্রুর মূল কৌশল হলো দেশে ফাটল ধরানো,’ উল্লেখ করে তিনি দেশের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান। খামেনি দেশবাসীর প্রশংসা করে বলেন, ‘আল্লাহর কৃপায় আজ দেশ ঐক্যবদ্ধ। মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্র, সামগ্রিক ব্যবস্থা ও শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গে জনগণ একত্রিত হন।’
কোনো আপসে ইউক্রেনকে বাধ্য করা যাবে না: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন আর কখনোই আপসের নামে কোনো চাপের মুখে পড়বে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটি সম্মান করে। গত রোববার (২৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। রোববার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ার সময় এই বক্তব্য সামনে এসেছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন আর কখনোই সেই লজ্জাজনক অবস্থায় পড়বে না, যেটাকে রাশিয়া ‘আপস’ বলে দাবি করে। স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন ন্যায্য শান্তি। আমরা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করব। বিশ্ব তা জানে এবং সম্মান করে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখন স্বীকার করছে যে কিয়েভ কোনোভাবেই রাশিয়ার দাবিমতো পরাজিত হয়নি, যদিও যুদ্ধ পুরোপুরি জয়ী হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। আমরা কোনো ভুক্তভোগী নই, আমরা যোদ্ধা। ইউক্রেন ভিক্ষা চায় না, বরং প্রস্তাব দেয়। আমরা শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাচ্ছি, যা আমাদের টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এনে দেবে।’ তিনি এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী, সমান মর্যাদার, ইউরোপীয় এবং স্বাধীন ইউক্রেন রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ জোরদার করেছেন। গত ১৫ আগস্ট আলাস্কায় ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই উদ্যোগ এগিয়েছে। এরপর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প, জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। রোববার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কিয়েভে পৌঁছান ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দিতে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার পর পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে প্রথম কানাডাই ইউক্রেনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কার্নি এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই সংকটময় সময়ে কানাডা ইউক্রেনের পাশে আছে এবং ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে।’ পরে ভিডিও বার্তায় কার্নি বলেন, ‘ইউক্রেন যখন সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই করছে এবং স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছে, কানাডা প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের পাশে থাকবে।’
মেলানিয়া ট্রাম্পকে চিঠি দিলেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি
তুরস্কের ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগান এক খোলা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে গাজার শিশুদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি প্রকাশে আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে মেলানিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। এমিনে এরদোগান লিখেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে শিশুদের জন্য মেলানিয়ার সহমর্মিতা যেমন বিশ্বে আশা ছড়িয়েছে, গাজার জন্যও একই ভূমিকা রাখা জরুরি। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুরই অধিকার রয়েছে নিরাপদ ও ভালোবাসাময় পরিবেশে বেড়ে ওঠার, যা কোনো ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক সীমারেখায় আটকে রাখা উচিত নয়। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি লিখেছেন, হাজারো শিশু পরিচয়হীন অবস্থায় কবরস্থ হচ্ছে, যাদের কফিনে কেবল লেখা থাকে ‘অজ্ঞাত শিশু’। এই বাস্তবতাকে ইউনিসেফ ‘পৃথিবীর ওপর নরক আর মাটির নিচে শিশুদের কবরস্থান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমিনে এরদোগান মেলানিয়াকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে চিঠি পাঠিয়ে গাজায় মানবিক বিপর্যয় থামানোর আহ্বান জানান। তার মতে, মেলানিয়ার কণ্ঠ ফিলিস্তিনের শিশুদের রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত আঠারো হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে, তবে এখনো এক মিলিয়নের বেশি শিশু বেঁচে আছে যাদের রক্ষা করা সম্ভব। শেষে এমিনে এরদোগান লিখেছেন, ‘একজন নারী, একজন মা এবং একজন মানুষ হিসেবে আমি আপনার আবেগের সঙ্গে একাত্ম। আমি বিশ্বাস করি, আপনি গাজার শিশুদের জন্যও আশার বার্তা তুলে ধরবেন।’ আনাদোলু এজেন্সি।
লন্ডনে মুসলিম নারীর ছদ্মবেশে চুরির সময় এক ভারতীয় হিন্দু গ্রেপ্তার
লন্ডনে লক্ষণ লাল নামে এক ভারতীয় হিন্দু পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিজাব পরে মুসলিম নারীর পোশাকে দোকান থেকে চুরি করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। উপস্থিত জনতার হাতে অভিযুক্ত ভারতীয় আটক হওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত শনিবার (২৩ আগস্ট) এআরওয়াই নিউজ, ডায়ালগ পাকিস্তানসহ একাধিক নিউজ পোর্টালের ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেলে শর্ট ভিডিও ও রিল আকারে একটি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা ওই ব্যক্তির হিজাব খুলতেই একজন পুরুষ বের হয়ে আসছেন। তাকে ধরে ফেলায় উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়। মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এই ভিডিও। এর আগে গত মাসে লন্ডন থেকে স্কটল্যান্ডগামী একটি বিমানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির অস্থির আচরণ এবং মুসলিম সেজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার ঘটনায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে গ্লাসগো অভিমুখী ইজি-জেট ফ্লাইটের এই ঘটনার পরপরই পুলিশের হাতে আটক হন ৪১ বছর বয়সী অভয় নায়েক। অভয় নায়েক, যিনি বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরের বাসিন্দা, বিমানে হঠাৎ করে চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’, ‘ট্রাম্পের মৃত্যু হোক,’ এবং “আল্লাহু আকবার।’ তার এমন উক্তি এবং আচরণে বিমানের সহযাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, এমনকি অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন যে এটি কোনো আত্মঘাতী হামলা কিংবা জঙ্গি তৎপরতা হতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর, বিমানের পাইলট জরুরি অবতরণ করেন এবং অভয় নায়েককে পুলিশে সোপর্দ করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্কটল্যান্ড পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করছে। এআরওয়াই নিউজ।
ভারতের ৪০ শতাংশ মুখ্যমন্ত্রী ফৌজদারি মামলার আসামি
৩২ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ ভারতে রাজ্যের সংখ্যা ২৮ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা ৮টি। ভারতের ২৮টি রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত দুই অঞ্চল দিল্লি এবং পদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রীশাসিত রাজ্য সরকার ক্ষমতাসীন। অর্থাৎ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ভারতে মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যা ৩০ জন। এই ৩০ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন, অর্থাৎ শতকরা হিসেবে ৪০ শতাংশই ফৌজদারি মামলার আসামি। ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী এনজিও অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য। এডিআরের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। সেখানে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ফৌজদারি মামলা চলছে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে- ৮৯টি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই আছেন দক্ষিণ ভারতের অপর রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তার বিরুদ্ধে চলছে ৪৭টি ফৌজদারি মামলা। তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানেও রয়েছে দক্ষিণ ভারত। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে চলছে ১৯টি মামলা; এডিআরের তালিকায় তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে অবস্থান করা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারমাইয়াহ-এর বিরুদ্ধে চলছে ১৩টি মামলা। পঞ্চম স্থানে আছেন মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক আদালতে ৫টি ফৌজদারি মামলা চলছে। এছাড়া কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে দুটি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের বিরুদ্ধে ১টি, হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ১টি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্দ সিং মানের বিরুদ্ধে ১টি ফৌজদারি মামলা চলছে। ভারতের এই ১২ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ঘুষ গ্রহণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এডিআরের প্রতিবেদনে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্ট লোকসভায় তিনটি বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেসব বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের হয় এবং মামলার অভিযোগ যদি গুরুতর হয়, তাহলে মামলা দায়েরের ৩০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে। এনডিটিভি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান