১৬ ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন

এলডিসি উত্তরণ অন্তত ৩ বছর পেছানোর দাবি


২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০০

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণ আরও ৩ থেকে ৫ বছর পেছানো জরুরি বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তা না হলে উত্তরণ-পরবর্তী অভিঘাত মোকাবিলা করতে পারবে না দেশের অর্থনীতি। লজিস্টিক সমস্যা, টাকার অবমূল্যায়ন এবং জুলাই আন্দোলনের পর অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
গত ২৪ আগস্ট রোববার রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৬টি বাণিজ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসিবি) সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামী বছরের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে আছে। এ অর্জন আমাদের জন্য জাতীয় গৌরবের বিষয়, যা বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশের দৃঢ়তা, অগ্রগতি ও শিল্পায়নের সাফল্য প্রমাণ করে। তবে সফলভাবে এ উত্তরণ নিশ্চিত করতে সঠিক প্রস্তুতি জরুরি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারাবে, কাঁচামালের উৎসবিধি কঠোর হবে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ সুবিধার অবসান হবে, বিদেশি ঋণ ব্যয়বহুল হবে। এসব কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত, ওষুধ খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে পাড়বে। তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এলডিসি থেকে উত্তরণকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। তবে সফল ও টেকসই উত্তরণের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের বাড়তি সময় প্রয়োজন।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদেশি ঋণের সুদ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, যা দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ তৈরি করছে। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতে ভঙ্গুর দশা। বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। মার্কিন পালটা শুল্ক পোশাক রপ্তানিকারকদের চাপে ফেলেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জলবায়ুর অভিঘাতজনিত ঝুঁকি বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লজিস্টিক খরচ বিশ্বের অন্য দেশের চেয়ে বেশি। টাকার অবমূল্যায়ন অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। সর্বোপরি জুলাই আন্দোলনের পর অর্থনৈতিক চাপের কারণে এলডিসি উত্তরণ পেছানো জরুরি। তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণকে চ্যালেঞ্জ নয়, বিরাট সুযোগে পরিণত করতে পারবে। ২০৩১ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এলডিসি উত্তরণের সাফল্য নির্ভর করছে আমরা কত দ্রুত ও সুসমন্বিতভাবে সরকারি-বেসরকারি খাত একত্রে কাজ করতে পারি তার ওপর।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, আগের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে বাহবা পেতে এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিনা, সেটা সবাই দেখেছে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এলডিসি উত্তরণ করা হয়েছে কিনা, সেটা সঠিক না বেঠিক, সেটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। ব্যবসায়ীদের কাজ চ্যালেঞ্জগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা। তাই ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে চিঠি দিয়ে এলডিসি উত্তরণ পেছানোর অনুরোধ জানানো হবে।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি একে আজাদ, ফরেন চেম্বারের সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির প্রমুখ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সঠিক সময়ে প্রস্তুতি ছাড়া এলডিসি উত্তরণ না হলে দেশের অর্থনীতি ভুগবে। অন্তত ৩ বছর এলডিসি উত্তরণ পেছানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।