গোল্লাদোপের মানুষ বাঁচতে চায়


১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩৯

মুহাম্মদ আল্-হেলাল, লোহাগড়া (নড়াইল) : সারা দেশের মতো নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার উত্তরাঞ্চল জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে মধুমতি নদীর পশ্চিম তীরে বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। শালনগর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে রয়েছে গোল্লাদোপ, যার পূর্ব দিকে রসুলপুর (রামকান্তপুর), উত্তর দিকে বাতাসী ও শিয়রবর, পশ্চিম দিকে রঘুনাথপুর, দক্ষিণ দিকে কাওনশিশা, মাধবহাটি গ্রাম। এ দোপের চারদিকে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি। মধুমতি নদীতে বাড়ি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশ লোক এ দোপের আশপাশে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে। এদিকে দোপের মাঝের জমিতে সারা বছর কোনো ফসল না হওয়ায় এখানে অনেকে মাছের ঘের কেটে মাছ চাষ শুরু করেছেন। দোপের পানি যাওয়ার জন্য দোপের উত্তর দিকে আর দক্ষিণ দিকে দুটি কালভার্ট রয়েছে। দক্ষিণ দিকের কালভার্ট দিয়ে দোপের পানি মাধবহাটি, সত্রহাজারী, তেলিগাতির খাল হয়ে দেবির বিলে চলে যায়। কিন্তু ঘরবাড়ি এবং মাছের ঘের বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি কালভার্ট দিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে বসতবাড়িগুলোয় বর্ষা মৌসুম এলেই পানি উঠে যাচ্ছে। বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ার কারণে বিষধর সাপের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে, ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত।
জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী মো. মুজিবুর রহমান মোল্লা, মো. আতিয়ার সরদার, মো. আনিস সরদার, মো. জহুর মোল্লা বলেন, মাছের ঘেরগুলোর মধ্য দিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে আমরা আপাতত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতাম। অন্যদিকে মৎস্যচাষি শেখ জিয়াউর রহমান জানান, ঘেরের মধ্য দিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে আমার করার কিছু নেই। আরেক ভুক্তভোগী মোল্লা মো. উজ্জ্বল হোসেন লায়েব বলেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার। অন্য এক ভুক্তভোগী অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন যে, মধুমতি নদীতে বাড়ি জমিজমা ভেঙে যাওয়ার পর এখানে বাড়ি করলাম। এখন বাড়িতে বর্ষা মৌসুম এলেই পানি উঠে যায় আর রাতে সাপের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। গোল্লাদোপবাসী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুদৃষ্টি কামনা করে উক্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়।