আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নির্বাচনের অনুকূল নয়
১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০০
গণতন্ত্র উত্তরণের পথ নির্বাচন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের মানুষের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে একতরফা, বিনা ভোট, রাতের ভোট এবং ডামি নির্বাচনের নামে বিগত দেড় দশক ধরে প্রতারিত হয়ে নির্বাচনের আসল রূপ ভুলে যেতে বসেছে দেশবাসী। তাই পরিবেশ সৃষ্টির আগে নির্বাচনের নাম শুনলেই জনমনে আতঙ্ক শুরু হয়।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু বিরোধীদলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মনে করে, দেশে এখনো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিস্ট পতনের পর সবার আগে জনগণের দাবি পূরণে খুনিদের বিচার এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন পদ্ধতিসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সংস্কার জরুরি। সংস্কারের আগে নির্বাচন করলে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন হবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নির্বাচনের অনুকূল নয়। একটি বড় রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজি, দখল ও অন্যান্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না। এমনকি শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতেও সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের অপকর্মের ভিডিও ধারণ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে ঘটনাস্থলে আসার সাহস দেখাচ্ছে না। এমন নৈরাজ্যের মধ্যে নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ বলছে, ‘নির্বাচন হতে হবে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর) পদ্ধতিতে’। এ পদ্ধতির সমর্থক দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মনে করেন, পেশিশক্তি ও কালো টাকার অবৈধ নির্বাচন ঠেকাতে পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নতুন ফ্যাসিবাদের যাতে আর জন্ম না হয়, এজন্য সংখানুপাতিক সেই পিআর পদ্ধতির নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আগে ফ্যাসিবাদের বিচার, স্বৈরাচারের শাসনামলে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন করতে হবে।
আমরাও মনে করি, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে এবং প্রত্যেকটি ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতেই আগামী নির্বাচন নিশ্চিত করা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এর ব্যতিক্রম করা মানে ২০২৪ বিপ্লবের চেতনা উপেক্ষা এবং নব্য ফ্যাসিজমের কাছে আত্মসমর্পণ, যা জাতির জন্য খুবই নেতিবাচক- এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই ড. ইউনূস সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা ছাড়া নির্বাচনের পথে হাঁটলে তা হবে আত্মঘাতী, যা আমাদের কারো কাম্য হতে পারে না।