নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃশ্যই জুলাইযোদ্ধাদের প্রশান্তি এনে দেবে : মিয়া গোলাম পরওয়ার
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৫০
জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর মহাখালীতে সমাবেশ ও বিশাল গণমিছিল করে
স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বাষির্কী উপলক্ষে সারা দেশে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গণমিছিল প্রেস ক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। অপরদিকে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে গণমিছিল মহাখালী রেলগেট থেকে শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় এসে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করলে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন শাখার পক্ষ থেকে পৃথকভাবে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে পুরানা পল্টন মোড়ে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতির আশা-আকাক্সক্ষা উপেক্ষা করে একটি দলের প্রত্যাশিত জুলাই সনদ উপস্থাপন করা হলে জাতি সেই সনদ প্রত্যাখ্যান করবে। ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জাতি এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মানুষের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ অংশগ্রহনমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে। এ দাবির প্রতি দেশের জনগণ সমর্থন দেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনসহ ১১টি কমিশন গঠন করে। সকল সংস্কার কমিশনকে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করলেও একটি দল নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করে সরকারকে যথাযথ সহযোগিতা করেনি, করছে না। তারা সংস্কার চায় নিজেদের মতো করে। দুই সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং ৫০ হাজারের অধিক আহত জুলাইযোদ্ধার গণঅভ্যুত্থানের আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তব রূপ দিয়ে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে জামায়াতে ইসলামীসহ দেশপ্রেমিক সচেতন সকল নাগরিক দাবি জানিয়েছে। জাতির প্রত্যাশিত ঘোষণাপত্র উপস্থাপিত না হলে জনগণ সরকারের ঘোষিত ঘোষণাপত্র মেনে নেবে না।
এ সময় তিনি বলেন, একটি দল ক্ষমতায় গিয়ে সব সংস্কার মুছে দেওয়ার ঘোষণায় জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় আবির্ভূত হতে চায়। বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না। ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের আকাশে বিজয়ের আভাস নিয়ে নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃশ্যই জুলাইযোদ্ধাদের প্রশান্তি এনে দেবে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সেই মহান নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। বৈষম্যহীন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের এক কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির কোনো স্থান হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নেমে আসবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জনগণ রাজপথে নামলে আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জুন কিংবা ফেব্রুয়ারি যখনই নির্বাচন হোক, এর আগে সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বলেছিলেন, জুনের পর তিনি একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না। পরবর্তীতে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরবর্তীতে তিনি একটি দলের সাথে বিদেশের মাটিতে আলাদা বৈঠক করে আবার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন। নির্বাচন যখনই হোক, আগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসে যেভাবে হ্যাঁ/না (গণভোট) ভোট দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে বৈধতা দিয়েছেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও একইভাবে নিজের ক্ষমতাকে বৈধতা দিয়েছেন। সেভাবে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই ঘোষণাপত্রের বৈধতায় কারোরই আপত্তি থাকার কথা নয়। ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি মেশিনের নাম, পিআর একটি পদ্ধতিগত দিক। যিনি বলেন, মানুষ ইভিএম বুঝে না আসলে তিনি না বুঝলেও বাংলাদেশের ঠেলাওয়ালা, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, চা-পান বিক্রেতাও পিআর পদ্ধতি বুঝে। তিনিও পিআর পদ্ধতি ঠিকই বুঝেন, কিন্তু বোঝাতে চান না। জাতির জন্য রাজনীতি করলে পিআর মেনে নিতে তিনি সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই এক চেতনার নাম। এই জুলাই মানুষকে শোষণ থেকে মুক্তি দিতে, বৈষম্যহীন একটি ইনসাফভিত্তিক ন্যায়বিচার ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের নাম। জুলাইয়ের চেতনা সারা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। নতুন বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। যারা নতুন করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় নিজেদের অধিষ্ঠিত করতে চায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে এদেশের ছাত্র-জনতা তাদের প্রতিহত করবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ঢাকা-৯ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। এছাড়া সমাবেশে মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, এডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, ডা. আতিয়ার রহমান, ড. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসানসহ শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্র-জনতার চেতনা ছিল বৈষম্যহীন আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেতনা। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি দল পুরোনো নিয়মেই দেশ গড়ার মনোভাব পোষণের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে নতুন করে প্রতারণার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা জুলাই চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের সাথে বেঈমানীর পথে হাঁটছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের আইনি ভিত্তি দিয়ে বাস্তবরূপ দিতে হবে। নতুবা জুলাই ঘোষণাপত্র নামক এক টুকরো কাগজ জনগণ গ্রহণ করবে না, মেনে নেবে না। নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিচার ও সংস্কার ছাড়া কোন নির্বাচন নয়, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা যেনতেন নির্বাচন দিয়ে কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করলে জনগণ সেটি প্রতিহত করবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা আবারো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় মদদ দিচ্ছে অভিযোগ করে বলেন, নিরপেক্ষতা হারালে পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে। তাই তিনি সরকারের ভিতরে ও বাইরে থেকে কোনো ষড়যন্ত্র না করে জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল পল্টন মোড় থেকে প্রেস ক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
উত্তর সিটির গণমিছিল
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের গণমিছিল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দেশের কিছু মানুষ ও চিহ্নিত রাজনৈতিক দল ছাড়া সকলেই জুলাই মুক্তিযোদ্ধা; তাই এ বিষয়ে কোনো বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ নেই।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জিয়াউল হাসান, জামাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা মহনগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
ডা. তাহের বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী-বাকশালীরা দেশে অপশাসন-দুঃশাসন চালিয়েছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তারা আবার দৃশ্যপটে ফিরে আসার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বীর জনতা তাদের সে ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবেনা। যারা নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদেরও জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তিনি দেশ ও জাতিকে নিয়ে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত সত্য, ন্যায় ও ইসনাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে জামায়াত কারো সাথে আপস করবে না, বরং দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষার জন্য সবকিছু করবে। তিনি দেশকে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, গতানুগতির পদ্ধতির নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রায় সকল নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনসহ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনই নির্বাচন ছিলো না। এসব নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক রিগিং, গণহারে সিল মারা, কেন্দ্র দখল, ডামি নির্বাচন, ব্যালট ছিনতাই, দিনের ভোট রাতে করাসহ ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত এসব ছিলো ভুয়া ও নির্বাচনের নামে প্রহসন। তাই দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি তথা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু করতে হবে। এ পদ্ধতি চালু হলে নির্বাচনী অপরাধ থাকবে না, ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল হবে না। থাকবে না টাকার খেলা। মূলত যাদের প্রয়োজনীয় জনসমর্থন নেই, তারাই এ পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। তারা মাস্তানি ও অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান। কিন্তু জনগণ তাদের সে সুযোগ দেবে না। পিআর পদ্ধতি ছাড়া অন্যকোনো পদ্ধতি তারা মেনে নেবে না।
ডা. তাহের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণের রক্তের ওপর দিয়েই জুলাই বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আপনি এখন ক্ষমতায়। আপনি বা আপনার পরিবারের কোনো সদস্য আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করার রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করলে তা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। আর দেশ ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তারা আপনাকে ছাড়বে না। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে’।
তিনি অতীতের অপশাসন-দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা বিএনপি-আওয়ামী লীগের শাসনামল দেখেছি। কিন্তু মানুষের মুক্তি মেলেনি। জনগণ তাদের অধিকারের নিশ্চয়তা পায়নি। আপনারা যদি আমাদের একবার সুযোগ দেন এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, তাহলে আমরা ৫৪ বছরের ইতিহাসই বদলে দেবো। দুর্নীতিবাজদের হয় দুর্নীতি ছাড়তে হবে, নয়তো জেলে যেতে হবে। আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি কিনবেন না বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না’।
ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও ইসলামের বাংলাদেশ। যেখানে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। তিনি গণহত্যাকারীদের বিচার এবং পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জুলাই সনদ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু সে সনদে জনপ্রত্যাশার বাইরে কিছু থাকলে তা দেশপ্রেমী জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। শুধু ঘোষণা নয়, বরং তা নির্বাচনের আগেই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচন হতে হবে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই। নির্বাচনের আগেই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হতে হবে। চাই প্রয়োজনীয় সংস্কারও। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
গণমিছিল মহাখালী রেলগেট থেকে শুরু হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় এসে মহানগরী আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
রাজশাহী সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় মুক্তির ১ম বার্ষিকী উপলক্ষে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজশাহী নগরীর আলুপট্রি মোড় হতে গণমিছিল শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে নগরীর গণকপাড়া মোড়ে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের ১ম বার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যয় হোক যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন, আমরা তাদের স্বপ্ন বৃথা হতে দেবো না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবো। জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতৃত্ব, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এ ধরনের নেতৃত্ব সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই নৈতিকতাসম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির কাজ করছে। রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, নায়েবে আমীর ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর. সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুব আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, শিল্প ও বাণিজ্য সেক্রেটারি অধ্যপক সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ। সমাবেশে অতিথি ছিলেন রাজশাহীর শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
খুলনা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণমিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান। সেক্রেটারি শেখ সায়ফুল্লাহর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দীন আহমেদ, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবু তাহের, কয়রা সদর ইউনিয়ন আমীর মিজানুর রহমান, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন আমীর মাস্টার নূর কামাল হোসেন, মহারাজপুর ইউনিয়ন আমীর মাস্টার সাইফুল্লাহ হায়দার, বাঙালি ইউনিয়ন আমীর হাফেজ মাওলানা হাফেজ মাওলানা আব্দুল হামিদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আমীর আবু সাঈদ, বাঙালি ইউনিয়ন আমীর সাজ্জাদুল ইসলাম, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান প্রমুখ। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে গণমিছিলটি কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা বাস টার্মিনাল, ইজিবাইক স্ট্যান্ড ও উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে কয়রা জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, একটি শ্রেণি দেশে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে। এর দায় আমরা নির্দিষ্ট কোন দলকে দিতে চাই না। আগামী নির্বাচনে এই চাঁদাবাজদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে মহানগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই-২৪ গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা শেখ মো. অলিউল্লাহ, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, আ স ম মামুন শাহীন, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, মীম মিরাজ হোসাইন, মোকাররম বিল্লাহ আনসারী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন ও সেক্রেটারি রাকিব হাসান, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী, হরিণটানা থানা আমীর আব্দুল গফুর, লবণচরা থানা আমীর মোজাফফর হোসেন, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি আজিজুর রহমান স্বপন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সাধারণ সম্পাদক ডা. সাঈদুজ্জামান, আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান নাঈম, আব্দুল আউয়াল, মো, মহিউদ্দীন, শেখ তুহিন, এডভোকেট ব ম মনিরুল ইসলাম, শাহ মাহমুদুল হাসান জিকু প্রমুখ। পরে এক বিশাল গণমিছিল সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে ফেরিঘাট মোড় ও পাওয়ার হাউস মোড় হয়ে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বরিশাল সংবাদদাতা : সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মু. বাবর। সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আমীর বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিল শেখের বেটি পালায় না। কিন্তু আমরা দেখলাম ৫ আগস্ট গণবিপ্লবে গোষ্ঠীশুদ্ধো পালিয়ে গেছে। বিপ্লব-পরবর্তী এক বছরেও আমরা খুনিদের বিচার করতে পারিনি, অনতিবিলম্বে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।