আওয়ামী জঙ্গিমুক্ত করে গোপালগঞ্জবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
৩১ জুলাই ২০২৫ ১৪:৪৮
গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি বিপ্লবোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত। গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ শহরে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে রহস্যজনকভাবে পাঁচজন নিহত হয়েছে। তার মানে কি আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা অতীতের মতো লাশের রাজনীতিই, নিহত হওয়ার কারণ। আমরা জানি, পুলিশের কাছে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ছিলো না। সেনাবাহিনী আওয়ামী জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ফাঁকা গুলি এবং পরে বাধ্য হয়ে পায়ে গুলি করেছে। ঘটনাস্থলে নিহত হওয়ার পর খবর পাওয়া যায়নি। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানান, ‘নিহত চারজনকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আর আহত ২০-২৫ জনের অধিকাংশের শরীরেই গুলির আঘাত আছে। নিহত আ. ইমনের চাচা শাকিল মোল্লা বলেন, ‘গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সড়কে ইমনের বা পায়ে গুলি করা হয়েছে।’ পরে যিনি-যারা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, তাদের কারো শরীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ছিলো না। তাহলে তারা কারা? গোপালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রাথমিক পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে গত ২২ জুলাই জেলাটি সফর করেন ১১ জন নাগরিক। তারাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, পায়ে গুলি লেগে এত দ্রুত মৃত্যুর ঘটনা শুনে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি করেছে। ইতোপূর্বের ঘটনা বিশ্লেষণ করলেও এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। গোপালগঞ্জে সারা দেশের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সমবেত হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়ি পুড়িয়েছে। তাদের আহত করেছে। সর্বশেষ এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ ত্যাগ করার আগে তাদের গাড়িবহরে হামলা করেছিলো হত্যার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে বসে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও শেখ পরিবারের দুজন প্রভাবশালী আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশনায় এ হামলা হয়েছে। সারা দেশ থেকে বাছাই করা আওয়ামী জঙ্গিদের এখানে হাজির করা হয়েছে যুদ্ধ-প্রস্তুতি নিয়ে।
আমরা মনে করি, গত ১৬ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ না করলে কেউ জীবিত ফিরে আসতে পারতেন না। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন মিডিয়াও এ কথা স্বীকার করেছে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ যারা আওয়ামী লীগের এ সন্ত্রাসী হামলার পক্ষে দাঁড়িয়ে মানবাধিকারের বুলি আওড়াচ্ছেন, তারা আসলে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের মিশন বাস্তবায়ন করতে চান। তাদের অবশ্যই অজানা নয়, আমেরিকা-ইউরোপের উদার গণতান্ত্রিক দেশে ফ্যাসিস্টদের কঠোরভাবে দমন করা হয়। কারণ জঙ্গি, খুনিদের মানবাধিকারের ঢাল দিয়ে রক্ষার অর্থ, গোটা মানবসমাজকে হুমকির মধ্যে ফেলা, যা কারো কাম্য নয়। আমরাও আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকিতে ফেলতে না চাইলে অবশ্যই আওয়ামী জঙ্গিবাদকে কঠোরবভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, আত্মরক্ষার অধিকার আইনস্বীকৃত। এনসিপির সমাবেশ ছিলো পূর্বনির্ধারিত। তারা সেখানে যুদ্ধ করতে যায়নি। তারা গিয়েছিলো গোপালগঞ্জবাসীকে বিপ্লবের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং এর ফলে তাদের কী লাভ হয়েছে, কেন ফ্যাসিস্টের পতন জরুরি ছিলো, তা বোঝাতে। গোপালগঞ্জের অধিকাংশ শান্তিপ্রিয় মানুষের আমন্ত্রণেই তারা সেখানে জনসভার আয়োজন করেছিলো। কিন্তু চিহ্নিত নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে। এ হামলা ছিলো পূর্বপ্রস্তুতিমূলক এবং বিপ্লবের বীরদের হত্যার উদ্দেশ্যেÑ বিষয়টিকে এভাবে বিচার না করলে আমরা ভুল করব।
আমরা জানি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও বিজয়ের মাস আগস্ট। ইতিহাসের পাতায় লেখা রক্তরাঙা ৩৬ জুলাই কড়া নাড়ছে। পতিত পরাজিত ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরারও বসে নেই। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে জঙ্গি হামলার হুমকি দিচ্ছে। বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রতিবিপ্লবের হুমকি মোকাবিলার করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে ঐকবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো জনপদ নয়। এলাকার মানুষের জান-মাল রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গোপালগঞ্জকে আওয়ামী জঙ্গিমুক্ত করতে হবে। গোপালগঞ্জের সাধারণ শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।