সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৩১ জুলাই ২০২৫ ১৪:৪৭
পতনের মুখোমুখি ইসরাইল : নাফতালি বেনেট
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, ইসরাইল ‘পতনের মুখোমুখি’। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে দ্রুত প্রতিস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে তুর্কি গণমাধ্যম। গত রোববার (২৭ জুলাই) বেনেট তার এক্স অ্যাকাউন্টে বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আমি রিপোর্ট করছি, ইসরাইল ভেঙে পড়ছে।’ ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী বেনেট দাবি করেছেন, তিনি অভিযোগের সুনামি, হামাস এবং জাতিসংঘ চালিত ক্ষুধার বয়ান এবং ইসরাইল সম্পর্কে মিথ্যাচারের বানোয়াট চিত্রের মুখোমুখি হচ্ছেন। নেতানিয়াহুর জোটের সদস্যদের সমালোচনা করে বেনেট বলেন, তারা ‘আমরা গাজা নিশ্চিহ্ন করব’ এবং ‘গাজায় পারমাণবিক বোমা ফেলব’ এর মতো বেপরোয়া বক্তব্যের মাধ্যমে ভয়াবহ ক্ষতি করছে। এসবই করা হচ্ছে তাদের ঘাঁটি দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য।’ ‘উপসংহার স্পষ্ট: এ গর্ত থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ ধ্বংসাত্মক সরকারকে সরিয়ে দেশকে একটি নতুন পথে নিয়ে যাওয়া’ বলেন তিনি। আনাদলু এজেন্সি।
সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া
সীমান্ত সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করার পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা হামলা-পাল্টা হামলার মাঝে সোমবার কুয়ালালামপুরে দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসেছেন। গত সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরের দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় থাই ও কম্বোডিয়ার নেতাদের গাড়িবহর পৌঁছায়। এ গাড়িবহরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকাবাহী গাড়িও দেখা গেছে। থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত স্থানীয় সময় সকাল ৭টার পরপরই কুয়ালালামপুরে সাক্ষাৎ করেন। এই দুই নেতার বৈঠকের সময় মালয়েশিয়ার রাজধানীর আকাশে উড়োজাহাজ চক্কর দিতে দেখা যায়।
এ সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পর উভয় নেতা ও মধ্যস্থতকারী বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণ, রকেট ও গুলিবিনিময়ের কারণে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব আছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। গত ২৬ জুলাই শনিবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার চলমান সংঘাতের অবসানে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি। গত ২৮ জুলাই সোমবারের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা ও চীনের একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নিয়েছে। দ্য স্টার অনলাইন মালয়েশিয়া।
আসাদের পতনের পর প্রথম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করল সিরিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি হবে নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে দেশটির প্রথম নির্বাচন। অবশ্য পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ আসনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ সরাসরি নিয়োগ দেবেন, আর বাকি আসনগুলোয় সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সিরিয়ার জনগণের পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চ কমিটির প্রধান মোহাম্মদ তাহা আল-আহমাদ রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানাকে জানান, ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি হবে নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম নির্বাচন। গত ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের আকস্মিক আক্রমণে আসাদের শাসনের অবসান ঘটে। নতুন গঠিত ২১০ আসনের পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ আসনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ সরাসরি নিয়োগ দেবেন, বাকি আসনগুলোয় সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিটির আরেক সদস্য হাসান আল-দাঘিম সম্প্রতি এরেম নিউজ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রতিটি প্রদেশে একটি করে ইলেকটোরাল কলেজ গঠন করা হবে, যারা নির্বাচিত আসনগুলোয় ভোট প্রদান করবে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট শারাআ যে অস্থায়ী সংবিধানে স্বাক্ষর করেন, তাতে একটি ‘জনগণের কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়, যা পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত অস্থায়ী সংসদ হিসেবে কাজ করবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। আল-জাজিরা বলছে, সিরিয়ায় এমন সময় নির্বাচনের ঘোষণা এলো, যখন দেশজুড়ে নতুন সরকার নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে সুইদা প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, যা দেশটির যুদ্ধোত্তর উত্তরণ প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রয়টার্স।
মমতার চাপে পিছু হটল হরিয়ানা, ভাষাভিত্তিক বৈষম্য তীব্র হয়ে উঠছে ভারতে
বাংলা ভাষায় কথা বলাই ‘অপরাধ’? হরিয়ানায় গুরুগ্রামে সেই ভাষাই যেন কাল হয়েছিল বাংলার শ্রমিকদের জন্য। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল অন্তত ৩০ জন পরিযায়ী শ্রমিককে। চাওয়া হয়েছিল নাগরিকত্বের নথিপত্র। বিষয়টি সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘বাংলা ভাষাভাষীদের ওপর অত্যাচার বরদাশত করব না।’ মুখ্যমন্ত্রীর জোরালো প্রতিবাদ, সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট এবং প্রশাসনিক চাপের পর অবশেষে ‘পিছু হটতে’ বাধ্য হলো হরিয়ানা সরকার। ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক থাকা শ্রমিকদের একে একে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ইতোমধ্যেই ১৫ জন শ্রমিক ফিরে এসেছেন মালদহের চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুরে। বাকি ১৫ জনকেও শিগগিরি মুক্তি দিয়ে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় সম্প্রতি বাঙালিদের ওপর ‘ভাষাভিত্তিক বৈষম্য’ এবং নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। হরিয়ানা তার সাম্প্রতিক নজির। গুরুগ্রামের একাধিক নির্মাণস্থলে কাজ করতেন মালদহের বহু শ্রমিক। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি ছিল, তারা নাকি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’। প্রমাণ স্বরূপ চাওয়া হয়েছিল নাগরিকত্বের নথি। বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘বাংলাভাষীদের ওপর কোনো রকম বৈষম্য চলবে না। এটা ভাষার ওপর সন্ত্রাস।’ মমতার তোপের জবাবে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি পালটা সুরে বলেন, ‘দেশে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো জায়গা নেই। যা কিছু হয়েছে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে।’ তবে সাইনির এ বক্তব্যের পরেও হরিয়ানা প্রশাসনের পদক্ষেপ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠছে, যদি তারা সত্যিই অনুপ্রবেশকারী হতেন, তবে এত সহজে কেন মুক্তি?
এ ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বাংলা ভাষাভাষীদের টার্গেট করা হচ্ছে। ‘বাংলায় বললেই বাংলাদেশি? এ কোন যুক্তি?’ প্রশ্ন তুলছেন মালদহের তৃণমূল সাংসদ খুরশিদ আলম।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এ ইস্যুকে অকারণে রাজনৈতিক রং দিচ্ছেন। বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে মাত্র। এতে এত প্রতিক্রিয়া কেন?’ তবে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পেলেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই শ্রমিকরা। তাদের পরিবারের সদস্যদের কথায়, ‘দোষ কী ছিল আমাদের? শুধু বাংলা বলেছিলাম!’ অনেকের মতে, এ ঘটনায় ফের একবার স্পষ্ট, দেশের ভেতরেই ‘ভাষাগত পরিচয়’ এখন অনেক সময়েই বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর সেই বিভেদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান, তা মানছেন রাজনীতির একাংশ। দ্য ওয়াল।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা একটি ন্যায্য অধিকার: জাতিসংঘ মহাসচিব
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চলমান ভয়াবহতা এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে নয়, ‘অধিকার’ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই অধিকারকে অস্বীকার করা হলে সারা বিশ্বে চরমপন্থা আরও উসকে উঠবে। গত সোমবার (২৮ জুলাই) জাতিসংঘ আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গুতেরেস এ বার্তা দেন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, এখনই সময় বাস্তব ও অপ্রতিরোধ্য পদক্ষেপ নেওয়ার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, মানুষ আশাহত হচ্ছে, বিশ্বাসের ভিত ভেঙে পড়ছে। পরবর্তিতে তার ভ্যারিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে আবার উল্লেখ করেন এসব। গুতেরেস গাজায় চলমান মানবিক সংকটের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।’ তিনি গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ‘ধ্বংসাত্মক এক প্রবাহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং শান্তির আশা ক্রমেই বিলীন করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার অধিকার অস্বীকার করা মানে হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে চরমপন্থীদের জন্য এক উপহার প্রস্তুত রাখা। এটি শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।’ মানবিক সহায়তা নিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘জীবন রক্ষাকারী সহায়তার ওপর যে সব বিধিনিষেধ ছিল, সেগুলোর কিছুটা শিথিল করা হয়েছে এটা ইতিবাচক। কিন্তু এতেই সমাধান আসবে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন: অবিলম্বে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির নিঃশর্ত মুক্তি এবং পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা। এসব কোনো রাজনৈতিক শর্ত নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার মৌলিক ভিত্তি।’ সম্মেলনে গুতেরেস বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর সময় নেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই। শান্তির পথে ফিরে আসা ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই, না ফিলিস্তিনিদের, না ইসরাইলিদের, না আমাদের।’ আল-জাজিরা।
মানবিক জাহাজ ‘হান্দালা’র ওপর ইসরাইলি হামলা ‘নৌদস্যুতা’র শামিল : হামাস
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় অবরোধ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে ইসরাইলি নৌবাহিনী গাজামুখী একটি মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ ‘হান্দালা’র ওপর হামলা চালিয়েছে। এজাহাজটি গাজার অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধসহ আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়ে যাত্রা করছিল। হামাস এ হামলাকে আখ্যা দিয়েছে ‘নৌদস্যুতা’ হিসেবে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলা চালানোর সময় গাজার আশপাশে নৌবাহিনী ও ড্রোন দিয়ে জাহাজটিকে ঘিরে রেখেছিল। ঘটনার সময় সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সশস্ত্র ইসরাইলি সেনারা হান্দালা জাহাজে উঠে কর্মীদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিছুক্ষণ পর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে জাহাজের ক্রু ও যাত্রীদের ভাগ্য অজানা থেকে যায়। জাহাজটি ইসরাইলি নৌবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক কমিটি জানায়, হান্দালা জাহাজটি গাজার উপকূলের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়া জাহাজগুলোর একটি। ২০১০ সালে আটক হওয়া মাভি মারমারার চেয়ে এটি আরও ২ নটিক্যাল মাইল কাছাকাছি এসেছিল। এর আগে এক মাস আগে ‘ম্যাডেলিন’ নামক আরেকটি সহায়তা জাহাজকেও একইভাবে আটক করা হয়েছিল। গাজা মিডিয়া অফিস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘকে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হান্দালা জাহাজ ইতালির সিসিলি থেকে ১৩ জুলাই গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এবং ২০ জুলাই ২১ জন আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়ে গাজার উদ্দেশে পুনরায় রওনা হয়। জাহাজে ছিল শিশুদের খাদ্য, ডায়াপার, ওষুধসহ মানবিক সহায়তা। হামলার সময় ইসরাইলি সেনারা জাহাজে উঠে কর্মীদের হাতে লাইফ জ্যাকেট পড়িয়ে বসার নির্দেশ দেন। গাজার মুক্তি সংগ্রামী গোষ্ঠী ও হামাস হামলাটিকে নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘নৌ ডাকাতি’ ও ইসরাইলি দখলদারির চেহারার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। গাজায় এ অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর অভাব ছিল, যা শিশু, রোগী ও দরিদ্রদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অমানবিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যা, গণহত্যা হিসেবে অভিহিত হয়েছে। গাজার মানবিক সংকট ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব সহায়তা জাহাজ অবরোধ ভাঙার একমাত্র আশা হিসেবে বিবেচিত হয়। গত ২ মার্চ থেকে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ এবং খাদ্য ও ওষুধের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাপক ক্ষুধা ও গুরুতর অপুষ্টি দেখা দিয়েছে; বিশেষ করে শিশু ও রোগীদের মধ্যে। আনাদলু এজেন্সি।
গাজায় খাদ্যের অভাবে মৃত্যুঝুঁকিতে ৪০ হাজার শিশু
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর গত ২৮ জুলাই সোমবার এক কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, শিশু খাদ্যের চরম ঘাটতির কারণে হাজার হাজার শিশু মারা যেতে পারে। সতর্ক বর্তায় বলা হয়, ‘এই নৃশংস ও শ্বাসরোধকারী অবরোধের কারণে গাজায় বর্তমানে এক বছরের কম বয়সী ৪০ হাজারের বেশি শিশু ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে।’ ইসরাইল ১৫০ দিন যাবত গাজায় শিশু খাদ্য প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছে গণমাধ্যম দপ্তর। ‘আমরা জরুরিভাবে সকল ক্রসিং অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার এবং শিশু ফর্মুলা (শিশু খাদ্য) এবং মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের দাবি জানাচ্ছি’ বলেছে দপ্তরটি। দ্য নিউজ আরব।
পবিত্র কাবার সামনে ফিলিস্তিনি পতাকা উড়ানোয় মিশরীয় আটক
পবিত্র কাবা ঘরের সামনে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন এবং গাজার অবরোধ ও অনাহারের অবসানের আহ্বান জানানোর পর সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী এক মিশরীয় ওমরাহ যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় অনলাইনে নিন্দার ঝড় বইছে। অনলাইনে শেয়ার করা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি ‘ওয়া ইসলামাহ!’ বলে চিৎকার করছেন এবং গাজার ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন করছেন। ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম বা মুসলমানদের হুমকির মুখে থাকাকালীন বেদনা প্রকাশ করতে এ বাক্যটি ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ আবেগঘন দৃশ্যে ওই ওমরাহ পালনকারীকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘গাজার শিশুরা মারা যাচ্ছে। হে মুসলিমরা!’ কয়েক সেকেন্ড পরে, সৌদি কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে তাকে মসজিদের ভেতরে আটক করে। মিডল ইস্ট আই।
বিজেপি বিধায়কের মাথায় কাঁচা ডিম ভাঙলো বিক্ষুব্ধ জনতা!
কট্টর ইসলামবিদ্বেষী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির এক বিধায়কের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের সেই বিধায়কের দিকে কাঁচা ডিম ছুড়ে মারছে, আর সেই ডিম ঠিক মাথায় গিয়ে আঘাত হানলে মুহূর্তেই তা ফেটে গিয়ে এক বিশ্রী অবস্থার সৃষ্টি করে, যা নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যম তোলপাড়। এ বিধায়ককে রীতিমতো ট্রলের বন্যায় ভাসাচ্ছেন ভারতীয় নেটিজেনরা। ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে জানা যায়, কর্ণাটকের বিজেপি বিধায়ক মুনীরথনা নাইডু একটি জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে ফেরার সময় ঘটে এ ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিজেপির এ বিধায়ক জনসভা শেষে গাড়ির দিকে এগোচ্ছেন, এমন সময় এক বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি আচমকা তার মাথার ওপর একটি কাঁচা ডিম ছুড়ে মারেন। এ সময় বিধায়ক স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে যান, যদিও পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেয়।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হতে থাকে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ কয়েক মিলিয়ন মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। শ্রী লিলা নামের এক ভারতীয় ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সাবধান হও মোদিজি, জনতার রাগ ফুটে উঠেছে এ ডিমে! আজ আপনার বিধায়কের মাথায় পড়েছে, কাল আপনার মাথায়ও পড়তে পারে।’ মিতালি ঠাকুর নামের আরেক ভারতীয় ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘এদের তো তারপরও লজ্জা হয় না। ওরা দুর্নীতি করবে, জনগণের টাকা মারবে, তো জনতা বসে থাকবে? আজ কাঁচা ডিম ভাঙলো কাল জনতা বেশি ক্ষুব্ধ হলে জুতো খুলে মারবে।’ এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেশটির ক্ষমতাসীন দলের এ বিধায়কের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। জনতার ক্ষোভ যদি ডিমের আঘাতে প্রকাশ পায়, তবে সেটি নিছক প্রতিবাদ নাকি রাজনৈতিক বার্তা তা নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে কর্ণাটক রাজনীতিতে। আর অন্যদিকে বিজেপি কেন্দ্র বিষয়টিতে যেন আঙুল চুষছে। তাদের বিধায়ক দুর্নীতিবাজ জানার পরও তাকে সরানোর কোনো নাম-গন্ধ নেই। সিয়াসত ডেইলি।
বর্ণবিদ্বেষকে ভালোবাসায় পরিণত করছেন মামদানি
‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন মাঝে মাঝে অন্য বাচ্চাদের বলতাম যে আমার মা ভারত থেকে এসেছেন, আবার কখনো আফ্রিকা থেকে এসেছেন। আসলে, তিনি উভয় জায়গা থেকেই এসেছেন। একজন এশীয় উগান্ডান বা ভারতীয় উগান্ডান হিসেবে, আপনার ঐতিহ্য প্রায়ই এক কথায় তুলে ধরা যায় না। পাঁচ দশক আগে আমার পরিবারকে উগান্ডা থেকে বহিষ্কার করার পর, তাদের অভিবাসনের ফলে ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়াও আমার অতীতের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছিল, যা একটি সহজ প্রশ্নের হতাশাজনক জটিল উত্তর তৈরি করেছিল: তুমি কোথা থেকে এসেছো? এটি এমন একটি প্রশ্ন যার জবাব দিতে জোহরান মামদানিকে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম এশিয়ান আমেরিকান এবং মুসলিম মেয়র হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ক্রমাগত লড়াই করতে হয়েছে। উগান্ডার কাম্পালায় ভারতীয় বাবা-মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণকারী মামদানি হিন্দি এবং উর্দুতে প্রচারণা চালিয়ে তার বহুসংস্কৃতির পরিচয় গর্বের সাথে বহন করেন। ২০০৯ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় তার ব্যক্তিগত ইতিহাসের সাথে হেরফের করার অভিযোগও আনা হয়েছে, যেখানে তিনি ‘এশিয়ান’ এবং ‘কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান আমেরিকান’ উভয় ক্ষেত্রেই টিক চিহ্ন দিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, তার পরিচয় পূর্ব আফ্রিকান এশীয় পরিচয়ের জটিলতা এবং উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকারের কথা বলে যা এখনো অনেক বর্ণের মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি মামদানি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি তার বিবাহ উদযাপন করতে এ সপ্তাহে পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে উগান্ডা ভ্রমণ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ঘোষণাটি পোস্ট করার পর ‘আফ্রিকায় ফিরে যান’ বলে অনলাইনে তার প্রতি বিভিন্ন ঘৃণামূলক মন্তব্য করা হয়। তবে তিনি একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শক্তিশালী রাজনীতিবিদ আমেরিকানদের তাদের পার্থক্য তুলে ধরতে ভয় পান, সেখানে মামদানি নিউইয়র্কবাসীকে তাদের আলিঙ্গন করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার জন্মভূমিতে ভ্রমণ করার সেই বার্তাটি যেন আরও জোর দিয়ে বলে যে, আমেরিকান হওয়ার যেমন একাধিক উপায় আছে, তেমনি অন্য কোথাও থেকে আসারও অনেক উপায় আছে। নিউইয়র্ক টাইমস।
পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তান সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হওয়া হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা বা পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসীরা এসেছিল এমন প্রমাণ নেই। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম। তার মতে, হামলায় দেশীয় সন্ত্রাসীরাই জড়িত থাকতে পারে। অন্যদিকে তার এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। গত সোমবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতের পার্লামেন্টে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে বিতর্কের আগে পেহেলগাম হামলা ঘিরে কংগ্রেস নেতা পি. চিদাম্বরমের এক মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলায় দেশীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে এবং পাকিস্তান থেকে হামলাকারীরা এসেছিল এমন কোনো প্রমাণ নেই। সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম বলেন, ‘(মোদি) সরকার বলছে না যে, এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) কী তদন্ত করেছে। তারা কি সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করেছে? তারা কোথা থেকে এসেছে? যতটুকু জানা যাচ্ছে, তারা দেশীয় সন্ত্রাসীও হতে পারে। আপনারা কেন ধরে নিচ্ছেন তারা পাকিস্তান থেকে এসেছে? (তাদের পাকিস্তান থেকে আসার) কোনো প্রমাণ নেই।’
সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, পেহেলগামে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে ঠাণ্ডামাথায় হত্যা করা হামলাকারীরা পাকিস্তানের নাগরিক। চিদাম্বরম আরও বলেন, অপারেশন সিন্দুর চলাকালে ভারতের ক্ষয়ক্ষতি সরকার গোপন করছে। তার ভাষায়, ‘আমি কলামে লিখেছি, যেকোনো যুদ্ধে উভয় পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভারতও নিশ্চয়ই কিছু হারিয়েছে। সেটি খোলাখুলিভাবে বলুন।’ তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল প্রায় প্রতিদিনই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করতেন। তাই যদি কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে, সেটা স্বীকার করাই উচিত। যুদ্ধ মানেই ক্ষয়ক্ষতি, এটা স্বাভাবিক। আমি মনে করি, সরকার অপারেশন সিন্দুর ঘিরে একটি মোটা পর্দা টানতে চাচ্ছে কিন্তু সেটা চলবে না।’ চিদাম্বরম প্রশ্ন তোলেন, সরকার সংসদে এ ইস্যুতে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে কেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেন অপারেশন সিন্দুর নিয়ে কথা বলছেন না? সংসদ তো গণতন্ত্রের মন্দির সেখানে বিতর্ক চলুক না কেন? প্রধানমন্ত্রী মোদি তো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, নানা জনসভায়ও বক্তব্য রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, সরকার হয়তো অস্বস্তিতে পড়তে পারে যদি প্রশ্ন ওঠে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কীভাবে এলো। প্রবীণ এ কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা তো ভারত সরকার দেয়নি, ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন।’ চিদাম্বরমের এ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে শাসক দল বিজেপি। এনডিটিভি।
খামেনিকে আবারও ‘হত্যার’ হুমকি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যেই এ হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। গত রোববার (২৭ জুলাই) রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা। বার্তা সংস্থাটি বলছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গত রোববার প্রকাশ্যেই ইরানকে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দক্ষিণ ইসরাইলের রামন বিমান ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে কাটজ বলেন, ‘আমি এখান থেকেই স্বৈরাচারী খামেনিকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই: যদি আপনি ইসরাইলকে হুমকি দেওয়া চালিয়ে যান, তাহলে আমাদের দীর্ঘ হাত আবারও তেহরানে পৌঁছাবে, আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তি নিয়ে এবং এবার ব্যক্তিগতভাবে আপনিও লক্ষ্যবস্তু হবেন।’
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যটি উদ্ধৃত করেছে ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ। অবশ্য ইসরাইলি এ হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়। পাল্টা জবাবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। অবশেষে এ সংঘাত গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়। আনাদোলু এজেন্সি।
পুতিনকে এবার ট্রাম্পের ১০ দিনের আলটিমেটাম
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে নতুন করে ‘১০ থেকে ১২ দিনের’ সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হলে রাশিয়া এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশের ওপর উচ্চ হারের শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গত সোমবার (২৮ জুলাই) স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ কোর্সে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। গত মাসের শুরুতে যুদ্ধ বন্ধে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া তিনি পুতিনের প্রতি হতাশ উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি আজ থেকে শুরু করে ১০ অথবা ১২ দিনের একটি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছি। এখানে অপেক্ষা করে কোনো লাভ নেই। কারণ আমরা কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।’
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের দাবি পূরণ না করলে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্কারোপ শাস্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই। যদি আপনি জানেন উত্তর কী হতে চলেছে, তাহলে অপেক্ষা কেন? তবে আমি রাশিয়ার সঙ্গে এটা করতে চাই না। আমি রাশিয়ান জনগণকে ভালোবাসি।’ এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণায় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ক্রেমলিন। তবে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে কিয়েভ। জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক এক এক্স বার্তায় বলেন, ‘ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তির স্পষ্ট বার্তা প্রদান করছেন। তিনি পুতিনকে দেওয়া সময়সীমা কমিয়ে আনছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে, উত্তরটি স্পষ্ট। পুতিন কেবল ক্ষমতাকে সম্মান করেন এবং সেই বার্তাটি জোরে এবং স্পষ্ট।’ রয়টার্স, সিএনএন।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান