আলোকে তিমিরে

লন্ডনে ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা সেক্যুলার হয়ে যাচ্ছে


২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:৪৩

॥ মাহবুবুল হক ॥
হঠাৎ করে দাওয়াত পেলাম লন্ডনের মুসলিম কমিউনিটি এসোসিয়েশনের। তাও আবার বাটিস্ত সবার জন্য। কারণ আমি ও আমার জীবনসঙ্গী ছাড়া বাকি তিনজন ল’ইয়ার-সলিসিটর। বোধ হয় আমাকেও তারা আইনজ্ঞ মনে করেছে (বহুপূর্বে ল’ পড়েছিলাম তো)। এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ল’ইয়ার হামিদ হোসাইন আজাদ আমাদের জেনুইন জামাই। যার শ্বশুর অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল (৯৮) আমাদের এলাকার বড় ভাই (গডফাদার নন), যিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যে নির্বাচনের প্রাক্কালে ৬ দফার পক্ষে ভোট চাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একদম খোলামনে এ বলে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘আমি কলাগাছ দাঁড় করিয়েছি, তোমরা কলাগাছে ভোট দিবা।’ যে লেগাছি এখনো বিদ্যমান। জাতির বড় ক্ষতিটা তখন থেকে শুরু।
গত ৯ জুলাই বুধবার লন্ডনে যখন (সন্ধ্যা ৬-১০-৩০) বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ ও মতবাদের ওপরতলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ‘দ্য রয়্যাল রিজেন্সি হলে’ এ মহতি অনুষ্ঠান চলছিল। বোধ করি, তখন ঢাকার মিটফোর্ডে মনুষ্য-জালেমকৃত কিয়ামতের আয়োজন চলছিল। অনুষ্ঠানকালে ফোন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে নব্য জাহেলিয়াতের নির্মম ও নিষ্ঠুর খবরটি পাই। হায় আল্লাহ!
দুটি অনুষ্ঠানই মুসলিমদের। ছয় হাজার মাইলের ব্যবধানে প্রায় একই সময় ঘটনাগুলো চলছে। এক স্থানে বা জায়গায় মুসলিমরা উদ্যোগ নিয়ে দীপ্ত কণ্ঠে বলছে, ‘বিনাবিচারে কোনো মানুষকে হত্যা করার অর্থ গোটা মানবজাতিকে হত্যা করা।’ অন্য জায়গায় কে কী উচ্চারণ করছিল জানি না, তবে একদল মুসলিম নামধারী মনুষ্য জানোয়ার সিমেন্টের ভারী ভারী পাথর উত্তোলন ও নিক্ষেপ করে একজন মুসলিমের জীবনাবসান নিশ্চিত করার নিষ্ঠুরতম ও বর্বরোচিত অন্যায় কাজে লিপ্ত ছিল। গোটা মানবজাতির জান ও মাল রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তারাই ঘটা করে শতকরা ৮৫% মুসলিমের দেশে ইতিহাসের এ জঘন্যতম নিকৃষ্ট কাজটি হাজার হাজার মুসলিমের উপস্থিতিতেই সংঘটিত করছিল। ‘আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান’।
ফিরে আসি তিমিরাচ্ছন্ন অন্ধকার থেকে মহা আলোকে। মূলত ‘মুসলিম কমিউনিটি সার্ভিস এওয়ার্ড’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত সে ঐশ্বর্যময় ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তা ছিল আমার জন্য নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী। ১৯৮০ সালে এ লন্ডনেই আরো একটি বড়োসড়ো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেটা ছিল মসজিদ উদ্বোধনকেন্দ্রিক। ঢাকা থেকে প্রধান মেহমান এসেছিলেন। তারই আহ্বানে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু অকুস্থলে পৌঁছে আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। আরে একী! একটা বিশাল প্রাচীন গির্জা মসজিদে রূপান্তর করা হচ্ছে। আমার মাথায় এলো, আমাদের দেশে কি এসব সম্ভব? গির্জা বা মন্দিরকে মসজিদ বানানো যাবে? আর এটা আমরা করবই-বা কেন? জায়গার কী অভাব আছে? পুরনো বাড়িঘর কি লন্ডনে বিক্রি হয় না? এসবের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে লাগলাম। বিশেষ করে এসবের শুরুটা আনন্দময় হলেও ভবিষ্যৎটা মুসলিমদের জন্য স্বস্তিকর ও শান্তিময় হয় না। হয়নি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব নিয়ে নাড়াচাড়া করে। নানা অপবাদ দেয়। ইতিহাসের কথা বলে না। কিংবদন্তির কথা বলে। গোঁড়ামির, সংকীর্ণতার, হিংসা-বিদ্বেষের এবং সাম্প্রদায়িকতার কিচ্ছা-কাহিনী আবিষ্কার করে। শত শত বছর পরও তুলকালাম কাণ্ড সংঘটিত হয়। যেমন ভারতের বাবরি মসজিদ। হায় হায় কত কাণ্ড! কত হত্যা! কত মিথ্যা! কত দুরাচার! কত অবিচার! প্রতিবাদের কারণে কত মসজিদ, কত মাদরাসা, কত এতিমখানা এবং কত মক্তব ধূলির ধরায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। আর যার জেরে হতাহতের সংখ্যা তো ক্রমাগত বাড়ছেই। ভাবতে ভাবতেই একনিষ্ঠ বন্ধু ও কলিগের কথা মনে পড়ে যায়। আবু জাফর মো. ইকবাল (পরবর্তীতে পিআইডির প্রধান হিসেবে অবসরগ্রহণ করেছিলেন)। একসময় আমাকে একটি মূল্যবান গ্রন্থ পাঠ করতে দিয়েছিলেন। প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার গ্রন্থের নাম ছিলÑ ‘তাজমহল ইজ দ্য হিন্দু প্যালেস’ ভারতের ‘রি রাইটিং অব হিস্টি প্রজেক্ট’ নামক একটি ইতিহাস গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থটি খুব খরচ করে যত্নের সাথে প্রকাশ করেছিল। এতে ভিন্ন তেমন কোনো কথা বা তথ্য-তত্ত্ব ছিল না। বাবরি মসজিদ সম্পর্কে সনাতন ধর্মের উপরিমহল যা বলছে, এখানেও ইনিয়ে-বিনিয়ে তাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ হিন্দুদের সম্পত্তি। মুসলিমরা এটা জোরজবরদস্তি করে দখল করে নিয়েছে।
ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানের প্রধান মেহমান হাজির হয়েছেন। বললেন, আমার পাশে থাকবেন, আমরা একসাথে আজ একটা বড় কাজ করব। আমি আমার মনোভাব তার কাছে ব্যক্ত করলাম এবং বললাম, আমি ছোট মানুষ। বিতর্কিত কাজে আমি অংশগ্রহণ করতে চাই না। তিনি বললেন, “এটা ভারত নয়। এটা ব্রিটেন। এখানে রুল অব ‘ল’ আছে, আইনের বাইরে কেউ কিছু করতে পারে না। এখানকার খ্রিস্টানগণ তো ধর্ম-কর্ম করছে না। তারা তো ‘প্রোটেস্ট্যান্ট’। গির্জায় যায় না। এখন তো এরা ‘অ্যাগনস্টিক’ হয়ে গেছে। অর্থাৎ সংশয়বাদী হয়ে গেছে। এখানকার ‘ক্যাথলিক’রাও প্রোটেস্ট্যান্ট-গির্জা কিনতে চায় না। আর ‘ক্যাথলিকরা’ চলে গেছে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে। অল্প কিছুসংখ্যক ‘ক্যাথলিক’ লন্ডনে বসবাস করলেও তারা আমাদের মতো সিরিয়াস না। তারা এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তারাও সেক্যুলার হয়ে গেছে। আর আপনি হয়তো ভালোভাবে জানেন না, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ গির্জা বিক্রি হয়ে গেছে। সেসব বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ক্রয় করে যার যার মতো কাজে লাগাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের মুসলিমরাও এসব ভাঙাচোরা গির্জাকে মসজিদ, মাদরাসা ও মক্তবে পরিণত করছে। আইনগত কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে না। আমরাও ইতোমধ্যে কয়েকটি গির্জা ক্রয় করেছি। তার মধ্যে এটি অন্যতম একটি। আমরা তো জোর করে বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে এসব ক্রয় করছি না। এখানকার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব ক্রয়-বিক্রয় চলছে। বিষয়টা ‘কমন’ বা ‘জেনারেল’ পার্টিকুলার কিছু না।” আমি তার যৌক্তিক কথায় সায় দিয়ে মসজিদ উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করেছিলাম।
আমরা থাকছি ‘হারলো কাউন্সিলে’। এখান থেকে ৫০১ হাইস্টিট নর্থে অবস্থিত দ্য রয়্যাল রিজেন্সিতে যেতে বেশ সময় লেগে গিয়েছিল। দুপুরের খাওয়া হয়নি। ঢুকতেই (বাংলাদেশি) এখানকার এক এমপি মহিলা সাদর আমন্ত্রণ জানালেন। অভ্যর্থনা টেবিলে যেতেই বললেন, ২৫নং টেবিল আপনাদের জন্য বরাদ্দ করা আছে। সেখানে পৌঁছাতেই দেখি আমাদের সবার নামসহ কার্ড! এবং প্রোগ্রাম, পৃষ্ঠপোষক এবং খানাপিনা কারা আয়োজন করেছে, তাদের বর্ণাঢ্য কার্ডসমূহ। বসতেই এসে গেল ড্রিং ও এপিটাইজার। যে যেরকম চাচ্ছি, দিচ্ছে। টেবিলের ওপর থরে থরে সাজানো রয়েছে স্প্রিংরোল, পর্ন ক্রেকা’স ও ভেজিটেবল পাকোড়া। বলতে কী আমাদের সবার লাঞ্চ হয়ে গেল। ডিনারের পূর্বে এলো চিকেন, মালাই ট্রিক্কা, ল্যাম্ব কাবাব, সামুচা ও সালাদ। আমাদের অপরাহ্ণের নাস্তা হয়ে গেল। ডিনারে এলো ক্যারট ডাল-পোলাউ, নান ভুনা ল্যাম্ব, বাটার চিকেন, মিক্সট সবজি এবং চমৎকার ডাল। সব শেষে গাজরের হালুয়া ও আইসক্রিম। চা তো ছিলই।
লন্ডনের ও ঢাকার পুরনো বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দেখা হলো, কথা হলো। আমার হাতে ওয়াকিং স্টিক ছিল। আর সাথে ছিল অল্প কয়েকটি মাত্র বিজনেস কার্ড। হাতে লাঠি থাকায় অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। মিলিত হওয়ার সময় বেশ কয়েকজন তরুণ ও যুবক বলল, আপনি এত বৃদ্ধ তা তো জানতাম না। প্রধান আয়োজকদের বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপও হলো। তারাও আমার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আন্তরিকভাবে সহানুভূতি ও দোয়া জানালেন।
ঠিক ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হলো। মাঝে মাগরিব। কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট স্বাগত ভাষণ শুরু করলেন ৭টায়। বললেন, এটা তাদের দ্বিতীয় আয়োজন। এ আয়োজনের পটভূমি ও প্রেক্ষাপট উদ্ভাসিত করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, “রাসূলের সময় মক্কার মুতইম ইবনে আদি নামে বনু নৌফেল গোত্রের একজন সরদার ছিলেন, যিনি কখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু জীবিতাবস্থায় তিনি সবসময় মুসলিমদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আবু তালিব উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের সময় প্রায় তিন বছর যখন মুসলিমদের আটকিয়ে রাখা হয়েছিল, তখন এবং রাসূল (সা.) যখন তায়েফে নিজ আত্মীয়-স্বজনদের নিকট ইসলামের দাওয়া প্রচার করতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর ওপর যে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চলেছিল, তখনো এ মুতইম অবারিতভাবে রাসূলসহ তাঁর সঙ্গীদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় মুতইমের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেছেন, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন; এমনকি বদরের যুদ্ধে যারা পরাজিত হয়ে বন্দিত্ব অর্জন করেছিলেন, তাদের দিকে তাকিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছিলেন ‘আজ যদি মুতইম জীবিত থাকতেন এবং আমার কাছে এ বন্দিদের মুক্তির জন্য আবেদন জানাতেন, তাহলে আমি সকলকে মুক্তি দিতাম’।”
‘মুসলিম সম্প্রদায়ের না হয়ে যারা মুসলিমদের মানবাধিকার, তাদের স্বপ্ন কল্পনা, আকাক্সক্ষা, বোধ ও বিশ্বাস, ন্যায্য হিস্যা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, যাপিত জীবন, উন্নতি, বিকাশ, যুদ্ধ, শান্তিসহ সর্ববিষয়ে আন্তরিকতার সাথে পৃষ্ঠপোষকতা করে, বিপদ-আপদ-মুসিবতে সাহায্য-সহযোগিতা ও সহানুভূতি প্রকাশ করে এবং যাদের চিন্তা, কর্মপরায়ণতা, আগ্রহ ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি সমুজ্জ্বল, তাদের প্রতি আমাদের অনন্ত শ্রদ্ধা, উদ্বাহু অভিনন্দন, অফুরন্ত শুভেচ্ছা, অবারিত ভালোবাসা ও দোয়া চিরন্তন। সেই সূত্রেই অতল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আমাদের এ ক্ষুদ্র আয়োজন।’
পুরস্কার গ্রহণ করলেন : প্রফেসর ক্রানছিজ টমাস ডেভিস, প্রফেসর পল রেনোল্ডস, ড. চ্যারিস এ্যালেন অলিভার ম্যাক টারনান, মার্ক ইরেরা গুয়ের, কার্ল এরিনডেল, প্রফেসর ক্যাথি মাসন, কাথলিন জ্যাকসন, চেরিস নিনেহাম ও চেরিস ডয়লি।
আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, আমাদের দেশে এমন ধরনের সুবর্ণ কাজ যুগে যুগে যারা করতে চেয়েছে, তারা ব্যর্থ হয়েছে, সফল হতে পারেনি। আমাদের দেশটা এক ধর্ম, এক আদর্শ বা এক মতবাদের দেশ নয়। দেশটা বহু ধর্ম, বহু আদর্শ ও বহু মতবাদের দেশ। বহুত্ববাদ এখানে বিরাজমান। মিনিমাম ম্যাচিংয়ে এখানে বসবাস করতে হবে। সবার স্বার্থকে এখানে উচ্চকিত করতে হবে। শুধু মেজরিটির স্বার্থ দেখলে হবে না। মাইনরিটির স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। মেজরিটি বা মাইনরিটি ভাগ করা যাবে না। একতাবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমানা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এসব কারণেই তো কোটা, বৈষম্য এবং আন্দোলনের উদ্ভব ঘটেছিল। সেই অভ্যুত্থান, বিপ্লব এখন কোথায়? ফ্যাসিবাদবিরোধীরা সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। তছনছ করে দিয়েছে।
নির্বাচন থেকে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। সংস্কার বা বিচার বিভাগীয় কাজ সেরে নির্বাচন দিলে হয়তো কিছু পরিবর্তন আসতো। কিন্তু দেশের অবস্থা যে পর্যায়ে চলে গেছে, তাতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিলে আরো বড় একটা মনুষ্যসৃষ্ট কিয়ামত এসে যেতে পারে। সে কিয়ামতের মধ্যে নতুন বহু কিছুর উদ্ভব ঘটতে পারে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, নির্বাচন দিলেও ক্ষতি, আবার না দিলেও ক্ষতি। এখন সরকারকে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে ভাবতে হবে- কোনটাতে কম ক্ষতি হবে। কম লাভ এবং কম ক্ষতির মধ্য দিয়েই এখন অগ্রসর হতে হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আগ্নেয়গিরি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এ আগ্নেয়গিরিকে নেভানো যাবে না। একে ধীরে ধীরে উচ্চকিত রাখতে হবে। সমুজ্জ্বল রাখতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচনের পর যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা যদি ফ্যাসিবাদের পথ ধরে, তবে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের মতো নবতর অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। বিপ্লব ঘটাতে হবে। বিপ্লবী শক্তিকে তরতাজা রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া যাবে না। ওয়াদা অনুযায়ী নির্বাচন না দিলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে।