সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩৯
কাশ্মীরে যৌথবাহিনীর হেফাজতে মুসলিম কনস্টেবলকে অত্যাচার কারাদণ্ড অভিযুক্তদের
অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে এক মুসলমান পুলিশ কনস্টেবলকে হিফাজতে নিয়ে অকথ্য অত্যাচারের মামলায় অভিযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ঘোষণা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সময় বেঁধে সিবিআইকে ঘটনার তদন্ত করত বলল শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির নির্দেশে নির্যাতনের শিকার কনেস্টবলকে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা দেবে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন। ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২০ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির। এই ছয় দিন ধরে পুলিশ কনস্টেবল খুরশিদ আহমদ চৌহানকে কুপওয়াড়ার জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার চালায় গুজরাটের কসাই নামে নিন্দিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুগত যৌথবাহিনী। আদালতে খুরশিদ অভিযোগ করেন, মারধরের পাশাপাশি কেটে নেওয়া হয়েছিল যৌনাঙ্গও। নাগরিকের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধে আদালতে যান কনস্টেবল। যদিও পালটা তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলা দায়ের হয়। গত সোমবার (২১ জুলাই) বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে মামলা ওঠে। সিবিআইকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন দুই বিচারপতি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের এক মাসের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। এইসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে অবিলম্বে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে খুরশিদকে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টার মামলা বাতিল করেছে শীর্ষ আদালত। সিয়াসত ডেইলি।
কাবুলে মহসিন নকভি ও হাক্কানির বৈঠক, সন্ত্রাস দমনে যৌথ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সন্ত্রাস দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আলোচনার জন্য এক দিনের সরকারি সফরে কাবুল গেছেন। সফরটি পাক-আফগান সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) হুমকি এবং সীমান্তপথে অনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত রোববার (২০ জুলাই) কাবুলে পৌঁছান মহসিন নকভি; তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব খুররম আঘা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আফগান উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা মোহাম্মদ নবি ওমারি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। গত সোমবার (২১ জুলাই) দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, সীমান্তে ক্রমবর্ধমান সংঘাত-ঝুঁকি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সমন্বয় গড়াই সফরের মূল উদ্দেশ্য। পাক-আফগান সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সীমান্ত হামলা, টিটিপি-সংযুক্ত জঙ্গি তৎপরতা এবং মাদক ও অননুমোদিত পারাপার ইস্যুতে চাপের মুখে রয়েছে। এমন সময়ে নকভির এ সংক্ষিপ্ত কিন্তু উচ্চপর্যায়ের সফরকে উভয় দেশ নিরাপত্তা সংলাপ পুনরুজ্জীবনের সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সফরকালে মহসিন নকভি আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। আলোচনায় উঠে আসে সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) হুমকি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ এবং পাক-আফগান সীমান্ত আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা। এক সরকারি বিবৃতিতে বৈঠকটিকে “ক্রমবর্ধমান সীমান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী” বলা হয়েছে। নকভির প্রতিনিধি দলে স্বরাষ্ট্রসচিব খুররম আঘা ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমনে তাদের স্বাগত জানান আফগান উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা মোহাম্মদ নবি ওমারি। বৈঠকে মহসিন নকভি বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে, যা উভয় দেশকে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি আফগানিস্তানের সঙ্গে “ভাইয়ের মতো দীর্ঘদিনের সম্পর্ক” বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে শর্তহীনভাবে লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। নকভি আরও বলেন, “বৈধ পথে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক আফগান নাগরিকদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।” আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তবসম্মত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সংগঠিত সীমান্ত চেকপোস্ট ব্যবস্থাপনা এবং শরণার্থী প্রবাহে স্বচ্ছতা আনাই হবে এ আলোচনার সাফল্যের পরীক্ষাকাঠি। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
২৫ বছরে আরো ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র হবে : বিশ্বব্যাংক
আবহাওয়া পরিবর্তনের অভিঘাত আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে, যারা মূলত ‘আবহাওয়া-প্ররোচিত’ আয়ের ক্ষতির কারণে দারিদ্র্যের নতুন শিকার হবে। ‘দ্য ফিউচার অব পোভার্টি: প্রজেক্টিং দ্য ইমপ্যাক্ট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অন গ্লোবাল পোভার্টি থ্রু ২০৫০’ শীর্ষক এ বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি বৈশ্বিক উষ্ণতা বর্তমান গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাংকের হিসাব বলছে- শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৮৮ লাখে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, সাহারা-উপসাহারীয় আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল হবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব অঞ্চলের দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং বার বার চরম আবহাওয়ার ধাক্কায় পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় সরকার ও নাগরিকদের পক্ষে এ অভিঘাত সামলানো হয়ে উঠবে চরম দুরূহ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী এ দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজনে সাহায্য করতে হবে। বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য আয়বৈষম্য কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। তারা জানিয়েছে, সামান্য আয়ের ব্যবধান থাকলেও তা চরম দারিদ্র্য বৃদ্ধির একটি বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাই, নীতিনির্ধারণে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিকসেবা ও কৃষিনির্ভর জীবিকার ক্ষেত্রে অধিকতর সুযোগ পেলে আবহাওয়ার অভিঘাত মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি দারিদ্র্যকে আরও গভীর করতে পারে। বিশেষ করে যেসব উন্নয়নশীল দেশে গৃহস্থালি ব্যয়ের বড় অংশ খাদ্যেই ব্যয় হয়, সেখানে এ প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদন ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলোÑ প্রায় সব অনুমানিত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আয়ের ক্ষতি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলো প্রায় সমানভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তবুও আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর, যারা এরই মধ্যে অধিক উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বসবাস করছে। বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে- আবহাওয়া পরিবর্তন যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ডন।
কোরিয়ার বিশ্ববরেণ্য আলেম শায়খ আব্দুল ওহহাব যাহেদের ইন্তেকাল
দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী বিশ্ববরেণ্য আলেম ও ইসলাম প্রচারক সিরিয়ার আলেপ্পোতে জন্মগ্রহণকারী শায়খ ড. আব্দুল ওহহাব যাহেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। স্থানীয় সময় গত শনিবার (১৯ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়নজু শহরে ৮৪ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। শায়খ আব্দুল ওহহাব রহ. প্রায় ৪০ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলাম প্রচার ও ইসলামী শিক্ষার বিস্তারে কাজ করেছেন। তার নিরলস প্রচেষ্টায় হাজার হাজার কোরিয়ান ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। শায়খ আব্দুল ওহহাবের জন্ম সিরিয়ায়, সেখানেই তিনি প্রাথমিক দীনি শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর তিনি মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাফসির ও হাদিস বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, হাদিস বিষয়ে মাস্টার্স ও তুলনামূলক ফিকহে পিএইচডি করেন। এছাড়া তিনি ভারত ও পাকিস্তানের বহু খ্যাতিমান আলেম ও শায়খদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। ভারতের মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহ., পাকিস্তানের মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ বিন্নোরী রহ. এবং অন্য অনেক বড় আলেমের সাথে তার সম্পর্ক ছিল।
কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে অধ্যাপনা করেন, কুয়েতের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ফিকহ এনসাইক্লোপিডিয়া প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি, স্নাতকোত্তর ডিন এবং হাদীস ও ফিকহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি কোরিয়ান ভাষা শেখেন। কোরিয়ানদের ধর্মবিশ্বাস, সংস্কৃতি, সমাজনীতি গভীরভাবে বুঝে তাদের উপযোগী করে ইসলামের আদর্শ ও শিক্ষা প্রচার করতে থাকেন। তার প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বহু মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। কোরিয়ান ভাষায় তিনি বহু দীনি গ্রন্থ রচনা করেন, যেগুলো কোরিয়ান ভাষাভাষী কোটি কোটি মুসলিম ও অমুসলিমের ইসলাম সম্পর্কে জানার বড় মাধ্যম। শায়খ আব্দুল ওহহাব দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়নজু মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বক্তব্য ও নসিহত শুধু মুসলমানদের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখেনি; বরং অমুসলিমদের মধ্যেও ইসলামের ইতিবাচক শিক্ষা পৌঁছাতে সহায়ক হয়েছে।
তার মৃত্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার মুসলমানদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার মুসলমানদের জন্য একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষক এবং সত্যিকার পথপ্রদর্শক। যেকোনো সমস্যা ও সংকটে সবাই তার কাছেই আশ্রয় ও সান্ত্বনা খুঁজতো। যেকোনো বিষয়ে তার ফতোয়ার অপেক্ষা করতো। গত রোববার (২০ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়নজু মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতেই তাকে দাফন করা হয়েছে। আল-জাজিরা।
শান্তি ফেরাতে কঙ্গোর সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় চলমান সশস্ত্র সংঘাত থামাতে দেশটির সরকার ও রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সংঘাত দেশটির খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দোহা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কাতারে তিন মাস আলোচনার পর উভয়পক্ষ নীতিগত এ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছে। যুদ্ধবিরতি শর্তাবলিতে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে কঙ্গো ও রুয়ান্ডা সরকারের মধ্যে একটি পৃথক শান্তি চুক্তি হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে, বিশেষ করে লাভজনক খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ, পূর্ব ডিআরসি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাতে জর্জরিত। যুদ্ধ সেখানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং লাখ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এম২৩-এর অপ্রতিরোধ্য আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়। গোষ্ঠীটি গোমা ও বুকাভুর মূল প্রাদেশিক রাজধানীসহ বিশাল অঞ্চল দখল করে নেয়।
দোহায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে যুদ্ধরত পক্ষগুলো ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে’ সম্মত হয়েছে। চুক্তির মধ্যে রয়েছে, ‘ঘৃণামূলক প্রচারণা’ এবং ‘বল প্রয়োগ করে নতুন অবস্থান দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা’ থেকে বিরত থাকা। চুক্তিতে পূর্ব ডিআরসি’তে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য একটি রোডম্যাপ এবং একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করার জন্য একটি চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাতারের রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষরের পর কঙ্গোর প্রেসিডেন্টের দূত সুম্বু সীতা মাম্বু এবং এম২৩-এর স্থায়ী সচিব বেঞ্জামিন এমবোনিম্পা করমর্দন করেন। শনিবার রুয়ান্ডা চুক্তির মধ্যস্থতার জন্য কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি ‘গ্রেট লেকস অঞ্চলে টেকসই শান্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। আফ্রিকান ইউনিয়ন নতুন চুক্তিটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘এটি পূর্ব ডিআরসি এবং বৃহত্তর গ্রেট লেকস অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনের চলমান প্রচেষ্টায় একটি বড় মাইলফলক।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের আঞ্চলিক শান্তিরক্ষা মিশন মনুস্কো চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। এএফপি।
ইসরাইলের সহযোগীদের বিচারের ঘোষণা হামাসের
গাজায় ইসরাইলের সহযোগীদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় ইসরাইলের সহযোগী, যুদ্ধবাজ ও সংগঠিত গ্যাং এবং দখলদারদের এজেন্টদের একটি ‘কালো তালিকা’ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বার্তা সামনে এসেছে। আল-জাজিরায় পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই বার্তা পাঠানো হয়। সূত্রটি বলেছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই তাদের বিপ্লবী আদালতের মাধ্যমে বিচার করা হবে। তিনি আরো বলেন, ‘যদি এ ব্যক্তিরা জনগণের পাশে ফিরে না আসে এবং তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত না হয়, তাহলে তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত থেকে রেহাই নেই।’ হামাসের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, শত্রুর সাথে সম্পর্কযুক্ত এ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি গাজার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। সূত্রটি সতর্ক করেছে যে ‘আমরা সন্দেহভাজনদের সতর্ক করছি। তারা শিগগিরই বা পরে প্রতিরোধের ন্যায়বিচার এবং তরবারির মুখোমুখি হবে।’ এই প্রেক্ষাপটে হামাসের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গাজার সাহায্য কেন্দ্রগুলো কখনো কখনো দখলদারদের সহযোগীদের নিয়োগ ও গোপন সাক্ষাৎস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেইসাথে তরুণদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে তাদের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
ইসরাইলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফায় ইয়াসের আবু শাবাবের নেতৃত্বাধীন একটি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যেটি হামাসের বিরুদ্ধেও কাজ করছে। এছাড়া গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে আরো কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতিরোধ কাঠামোর বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়েদিওথ আহরোনোথ দাবি করেছে যে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট সম্প্রতি গোপনে গাজায় একটি ‘ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া’ গঠনের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এই অভিযানের অনুমোদন ছিল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু থেকে। অন্যদিকে, গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিপ্লবী আদালত দক্ষিণ গাজায় মিলিশিয়া পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত ইয়াসের আবু শাবাবকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। ১৯৬০ সালের ফিলিস্তিনি দণ্ডবিধি এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবী কার্যবিধি আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আদালতের বিবৃতিতে জানানো হয়, আবু শাবাব আত্মসমর্পণ না করলে তাকে ‘ন্যায়বিচার থেকে পলাতক’ হিসেবে বিবেচনা করে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। উল্লেখ্য, আবু শাবাব অতীতে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। আল-জাজিরা।
আফগানিস্তানে ইসলাম ও মহানবী সা.-কে অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
আফগানিস্তানে ইসলাম ও মহানবী সা.-কে অবমাননার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আফগানিস্তানের একটি প্রাদেশিক আদালত। দেশটির ‘সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ’ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শিগগিরই এ রায় কার্যকর করা হবে। খাইবার জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি পাকতিকা প্রদেশের জানি খেল জেলার বাসিন্দা। ইসলাম ও নবীজি সা.-কে অবমাননার দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করলে প্রাদেশিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান এমন ভূখণ্ড নয়, যেখানে ইসলাম বা নবী করিম সা.-কে অপমান করা যাবে এবং তা সহ্য করা হবে। কাবুল ফ্রন্টলাইন।
হামলার পর প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় বসলো ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা
গাজায় মাধ্যমিক পর্যায়ের সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে শত শত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরাইলের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরুর পর প্রথমবার কোনো সরকারি পরীক্ষার আয়োজন হচ্ছে। গত শনিবার (২৬ জুলাই) মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যায়ের সমাপনী পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আশায় এ অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। পরীক্ষা হবে অনলাইনে, বিশেষায়িত সফটওয়্যার ব্যবহার করে। নির্বিঘ্ন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে বসে অনলাইনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বসছেÑ এটি নির্ভর করছে তারা কোন অঞ্চলে অবস্থান করছে, তার ওপর। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিদিনই ইসরাইলি বোমাবর্ষণ চলছে। দেইর আল-বালাহ থেকে আল-জাজিরার রিপোর্টার তারেক আবু আজজুম বলেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরীক্ষা কেবল উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তির সুযোগ নয়, বরং ইসরাইলি অবরোধ পেরিয়ে ভবিষ্যতের পথ খুঁজে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে, যেখানে নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ, নেই বই, নেই কার্যকর ইন্টারনেট তবুও যুদ্ধ যেন তাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে না পারে সেই প্রত্যয়ে গাজার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হচ্ছে, লগইন করছে এবং তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসছে।’ যুদ্ধ শুরুর পর গাজার বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষা থেমে যায়। শনিবারের এ পরীক্ষার ফলাফল তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। যদিও অনেক শিক্ষার্থীর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তারা এখনো মাধ্যমিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। কারণ ইসরাইলি হামলা গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের হামলায় মূলত এ ভূখণ্ডের অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোও বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই প্রথম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। যার মাধ্যমে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা তাদের সমাপনী পরীক্ষা দিতে পারছে। কেন্দ্রীয় গাজা গভর্নরেটের পরীক্ষা পরিচালক মোরাদ আল-আঘা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অ্যাপ ডাউনলোড করেছে পরীক্ষার জন্য। কিন্তু তারা অনেক সমস্যার মুখে পড়ছে। আমরা এ উদ্বেগগুলোর কথা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি- যাতে দ্রুত সমাধান হয় এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।’ শিক্ষার্থীরা ক্যাফে, তাঁবু এবং আশ্রয়কেন্দ্র থেকে- যেখানেই চার্জ দেওয়া ডিভাইস ও সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়, সেখান থেকেই পরীক্ষায় লগইন করছে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে তারা একটি ‘মক টেস্ট’ দিয়েছে। এটি শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য নয় বরং সিস্টেমের স্থিতিশীলতা পরখ করার জন্যও আয়োজন করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা বলেছে, গাজায় অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া সহজ নয়। শিক্ষার্থী দোহা খাতাব বলেন, ‘আমরা অনলাইনে পরীক্ষা দিচ্ছি ঠিকই কিন্তু ইন্টারনেট দুর্বল, আমাদের অনেকের কাছে ডিভাইস নেই, পরীক্ষার জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। বোমাবর্ষণে আমাদের বইগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।’ আল-জাজিরা।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২ ইসরাইলি সৈন্য গ্রেফতার
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ইসরাইলি সৈন্যকে গ্রেফতার করেছে বেলজিয়ামের ফেডারেল পুলিশ। মানবাধিকার সংগঠন হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) ও গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (গ্লান) পক্ষ থেকে অভিযোগের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। এইচআরএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেফতার ইসরাইলি দম্পতি বেলজিয়ামের টুমরোল্যান্ড সঙ্গীত উৎসবে অংশ নিতে এসেছিলেন। সেখানে কৌশলে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে বেলজিয়াম পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এইচআরএফ জানায়, ‘বুমের টুমরোল্যান্ড উৎসবে স্পষ্ট শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে বেলজিয়ামের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে একটি ফৌজদারি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গত সপ্তাহেই এইচআরএফ ও গ্লান যৌথভাবে বেলজিয়ামে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করে। এ দুটি মানবাধিকার গোষ্ঠী এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছে, ‘এই উন্নয়ন একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বেলজিয়াম আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং অভিযোগগুলোকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।’ তারা আরো উল্লেখ করে, ‘এটি এমন এক সময়, যখন বিশ্বের অনেক সরকার প্রধানই নীরব। এই পদক্ষেপটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্যোগ ও চাপে এখনো কিছু দেশে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে। বেলজিয়ামের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনের ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। মিডল ইস্ট আই।
‘গাজা গণহত্যায় সহযোগিতা’র অভিযোগ নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস গাজায় গণহত্যার সহযোগী বলে অভিযোগ তুলেছে গাজায় যুদ্ধবিরোধী লেখকদের সংগঠন রাইটারস অ্যাগেইনস্ট দ্য ওয়ার অন গাজা (ডব্লিউএজিওজি)। সংগঠনটির দাবি, পদ্ধতিগতভাবে ইসরাইলপন্থী ও ফিলিস্তিনবিরোধী অবস্থান ধারণ করে পত্রিকাটি। তাছাড়া এর শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যের প্রভাবশালী ইসরাইলপন্থী লবিং গোষ্ঠীগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে নানা তথ্য-প্রমাণসহ একটি নথিও প্রকাশ করেছে ডব্লিউএজিওজি। গাজায় যুদ্ধবিরোধী লেখকদের ওই সংগঠন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিউইয়র্ক টাইমস গাজায় চালানো গণহত্যার সহযোগী। তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে এবং বৈদেশিক নীতিতে অভিজাতদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করছে।’ নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরো বেশকিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সংবাদমাধ্যমগুলো গাজায় করা ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধকে পদ্ধতিগতভাবে ঢাকার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার (১৬ জুলাই) ডব্লিউএজিওজির প্রকাশিত ওই নথিটিতে শুধু আদর্শগত বা বস্তুগত জায়গা থেকে সম্পৃক্ততা নয়, বরং ইসরাইল-সমর্থিত বিভিন্ন লবিং গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গণহত্যা, জাতিগত নিধন, অধিকৃত ভূমি, এমনকি ফিলিস্তিন শব্দটি পর্যন্ত না লিখতে সংবাদকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ডব্লিউএজিওজির মুখপাত্র জানান, এ পর্যন্ত তাদের নথিতে দখলদারিত্ব ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে বস্তুগত সম্পর্কের বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এবার তারা মতাদর্শগত আলোচনাও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংগঠনটি জানায়, তাদের এ অনুসন্ধান মূলত মন্ডোওয়াইস ও দ্য ইলেকট্রনিক ইন্তিফাদার আর্কাইভ ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সংগৃহীত হয়েছে। ডব্লিউএজিওজির দাবি, এমন কিছু মানুষকে নিউইয়র্ক টাইমস প্রচারের সুযোগ দিয়েছে, যারা জায়নিস্ট প্রকল্প (ইহুদি প্রকল্পকে) সমর্থন করেন। এর মধ্য দিয়ে তারা আসলে গাজায় পরিচালিত ইসরাইলি ‘গণহত্যার কল্পনাকেই’ সমর্থন করেছে। ইউএনবি।
ব্রহ্মপুত্রের ওপর বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের
চীন গত ১৯ জুলাই শনিবার ভারতের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানায়, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেইজিং কর্তৃক অনুমোদন পায়। এটি তিব্বত অঞ্চলে চীনের কার্বন নিরপেক্ষতা লক্ষ্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ‘উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রাথমিকভাবে অন্যান্য অঞ্চলে ব্যবহারের জন্য প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি তিব্বতের স্থানীয় বিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ করা হবে।’ বাঁধটি নির্মিত হচ্ছে অরুণাচল প্রদেশের নিকটবর্তী তিব্বতের নিংচি অঞ্চলে। নির্মাণ পরিকল্পনায় পাঁচটি পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত থ্রি গর্জেস বাঁধের চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। তবে এ মেগা প্রকল্প ভাটির দেশ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তিব্বতের এ প্রকল্প ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নদীঘেঁষা অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। নদীটির উপরিকাঠামোগত পরিবর্তন বিশেষত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ভারত সরকার এ প্রকল্প নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাটির রাজ্যগুলোর স্বার্থ যাতে উজানের অঞ্চলে কার্যকলাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য চীনকে আহ্বান জানানো হয়েছে।’ চীনের এ বাঁধ নির্মাণের পদক্ষেপটি আঞ্চলিক পানি-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ জাপানের প্রধানমন্ত্রী
জাপানের ক্ষমতাসীন জোট দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, তার এখনই সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। গত রোববার (২০ জুলাই) তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ইস্যুর কারণে এই নির্বাচন হয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও এর অংশীদার কোমেইতোর জন্য হতাশাজনক। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ‘এই কঠিন ফল’ আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন, তবে এখন তার দৃষ্টি হলো বাণিজ্য আলোচনা। এর আগে গত বছর দেশটির শক্তিশালী নিম্নকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবার উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো তার জোট। এটি জোট সরকারের প্রভাব কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির ২৪৮ সদস্যের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ক্ষমতাসীন জোটের ৫০টি আসন দরকার ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এনএইচকের রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা ৪৭টি আসন পেয়েছে। আরো একটি আসনের ফল ঘোষণা বাকি আছে। উচ্চকক্ষের অর্ধেকের মতো আসনে রোববার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর সদস্যরা ছয় বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
নির্বাচনের ফলকে ভোটারদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনার বিষয়টি এতে ভূমিকা রেখেছে। বহু মানুষ মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভয়াবহ অসন্তুষ্ট; বিশেষ করে চালের দাম নিয়ে। এর সাথে রয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এলডিপিকে ঘিরে হওয়া নানা কেলেঙ্কারি। এলডিপির শেষ তিন প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল দু’মাসের মধ্যে এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, এবারেও একই বিষয় হতে পারে। কোনো কারণে শাসক দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে তা নতুন রাজনৈতিক নাটকীয়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান আলোচনায় জাপান সরকারকে কিছুটা অস্থিতিশীল করবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থকরা অনেকেই সানসেইতো পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও ‘জাপানিজ ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে তারা রক্ষণশীল ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। কোভিড মহামারির সময়ে সানসেইতো টিকার বিষয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করে ইউটিউবের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। এবারের নির্বাচনে বিদেশি অধিবাসী ও অভিবাসন বিষয়ে তাদের বক্তব্য ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। নিজস্ব সংস্কৃতি আর কড়া অভিবাসন নীতির কারণে বিখ্যাত এ দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পর্যটক ও বিদেশি অধিবাসীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে বিদেশিরা সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে-এমন সেন্টিমেন্ট সেখানে জোরাল হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ বা খারাপ আচরণ মোকাবিলায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইশিবা। বিবিসি।
১৮ বছর পর মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলার ১২ মুসলিম বেকসুর খালাস
ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৬ সালে ট্রেনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১২ জন মুসলিম ব্যক্তি প্রায় ১৮ বছর জেল খাটার পর বম্বে হাইকোর্টের রায়ে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই মুম্বাইয়ের পশ্চিম রেলপথের লোকাল ট্রেনগুলোয় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ১৮৯ জন নিহত এবং ৮০০ জনের বেশি আহত হন। এই ঘটনায় ১২ জন মুসলিম ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালে একটি বিশেষ আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ কামাল আনসারি, মোহাম্মদ ফয়সাল আতাউর রহমান শেখ, এহতেশাম কুতুবউদ্দিন সিদ্দিকি, নাভিদ হুসেন খান এবং আসিফ খান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তানভীর আহমেদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আনসারি, মোহাম্মদ মাজিদ মোহাম্মদ শফি, শেখ মোহাম্মদ আলি আলম শেখ, মোহাম্মদ সাজিদ মারগুব আনসারি, মুজাম্মিল আতাউর রহমান শেখ, সোহেল মাহমুদ শেখ এবং জমীর আহমেদ ও লতিফুর রহমান শেখ। এছাড়া ওহিদ শেখ নামে একজন ৯ বছর জেল খাটার পর আগেই খালাস পান।
২০১৫ সালের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্তরা এবং রাজ্য সরকার উভয়ই বম্বে হাইকোর্টে আপিল করে। এ আপিল বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অবশেষে ২০২৪ সালে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই বম্বে হাইকোর্টের দুই বিচারপতি, আনিল কিলোর এবং শ্যাম চাঁদক, রায় দেন যে তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত বলেন, “যথাযথ প্রমাণের ঘাটতির কারণে দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো।” তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো প্রকাশিত হয়নি। অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ান সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এবং ওড়িশা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. এস. মুরলিধর। তিনি বলেন, “এই মামলা প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, জনচাপ এবং মিডিয়ার প্রচারে পরিচালিত হয়েছে।” তিনি তদন্তকারীদের আচরণ এবং স্বীকারোক্তি নেওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, মিডিয়া ট্রায়ালের কারণে অভিযুক্তদের শুরু থেকেই দোষী হিসেবে গণ্য করা হয়। ড. মুরলিধর উল্লেখ করেন, “১৮৯ জনের মৃত্যু মর্মান্তিক, কিন্তু যাদের গ্রেফতার করা হয়, তারাও একপ্রকার ভিকটিম। ১৮ বছর পর খালাস পাওয়া মানে তারা নির্দোষ ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তদের পরিবারও কলঙ্ক বহন করে। সমাজ খুব নিষ্ঠুর। ‘জঙ্গি’ তকমা পেলে কেউ আর সম্মানের চোখে দেখে না। ১৭ বছর জেলে থাকার পর জীবনের মূল স্রোতে ফেরা প্রায় অসম্ভব।” মুসলিম মিরর।
সাইপ্রাসকে দুটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এরদোগানের জোরালো আহ্বান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাইপ্রাসকে দুটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বাস্তবতা মেনে নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। দ্বীপটির উত্তরাংশে তুর্কি-সাইপ্রিয়টদের নিয়ন্ত্রিত অংশকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিই তার মূল বার্তা। গত রোববার (২০ জুলাই) সাইপ্রাসে ১৯৭৪ সালের তুর্কি সামরিক অভিযানের ৫১ বছর পূর্তি উপলক্ষে উত্তর সাইপ্রাস সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ আহ্বান জানান। ওই অভিযানের পর থেকেই দ্বীপটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত দক্ষিণে গ্রিক-সাইপ্রিয়ট প্রশাসন, উত্তরে তুর্কি-সাইপ্রিয়ট নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল। এরদোগানের মতে, বহু দশক ধরে চলমান এ বিভক্ত বাস্তবতা অস্বীকার করে আলোচনা এগোয় না; বরং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই স্থায়ী শান্তির পথ। গ্রিসের সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭৪ সালে নিকোসিয়ায় অভ্যুত্থান ঘটালে তুরস্ক সামরিক হস্তক্ষেপ চালায় এবং দ্বীপের উত্তরাংশে প্রবেশ করে। পরবর্তী বছরগুলোয় উত্তরে তুর্কি প্রভাব সুদৃঢ় হয়। ১৯৮৩ সালে তুর্কি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল একতরফাভাবে তার্কিস রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাস নামে রাষ্ট্র ঘোষণার ঘোষণা দেয়, যাকে এখন পর্যন্ত একমাত্র তুরস্কই স্বীকৃতি দিয়েছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে সাইপ্রাস তখন থেকেই কার্যত দুই প্রশাসনে বিভক্ত অবস্থা বজায় রেখেছে।
৫১তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, “দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে যে স্বপ্ন রয়েছে আমরা সেটিকে পূর্ণ সমর্থন করি। বাস্তবতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি স্থাপনের এখনই সময়।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, উত্তরাঞ্চলের তার্কিস রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাসের সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে। এরদোগানের ভাষায়, “তার্কিস-সাইপ্রিয়টরা যুগ যুগ ধরে যে অবিচারের স্বীকার হয়েছেন তা শেষ হওয়া উচিত।” দ্বীপটির বর্তমান বাস্তবতায় উত্তর সাইপ্রাসে তুর্কি-সাইপ্রিয়টদের প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বেশি, আর দক্ষিণাংশ আলাদা প্রশাসনে পরিচালিত। এএফপি।