‘দাঁড়িপাল্লা জিতে যাক’…
২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:১৬
স্টাফ রিপোর্টার : সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে গত ১৯ জুলাই শনিবার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় সমাবেশকে কেন্দ্রে করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সমাবেশ ১৯ জুলাই হলেও একদিন আগেই (১৮ জুলাই শুক্রবার) ঢাকায় এসে অবস্থান নেন কয়েক লাখ মানুষ। আশপাশের জেলার মানুষ ঢাকামুখী হন ১৯ জুলাই ফজর নামাজের পর থেকেই। হাতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীকসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও মুখে ‘আল্লাহর আইন চাই সৎ লোকের শাসন চাই’ স্লোগান নিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখী মানুষের ঢল নামে।
জামায়াতে ইসলামীর রুকন বা কর্মী নন এমন হাজার হাজার মানুষ সেদিন অংশ নেন জাতীয় সমাবেশে। রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, কুলি-দিনমজুর থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। মানুষের মধ্যে দেখা গেছে এক নতুন স্বপ্ন, তারা সৎ ও যোগ্য মানুষের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা জানান দিয়েছিল সেই সমাবেশে।
সেইদিন দুপুরে যাত্রাবাড়ী মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের পথে চলা একটি রিজার্ভ বাস থেকে একজন রিকশাওয়াকে দুটি খাবারের বক্স দেন জামায়াতের কর্মীরা। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ দুটি বিরিয়ানির বক্স পেয়ে বেজায় খুশি সেই রিকশাওয়ালা। চলন্ত পথে সেই রিকশাওয়ালাকে এ প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, আপনি যে খাবার পেয়েছেন, সেটি কারা দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলেন, জানি। ‘জামায়াতের ভাইয়েরা দিয়েছে, দাঁড়িপাল্লার’ পক্ষ থেকে। কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তিনি আরেকটু কথা বাড়িয়ে বলেন, এবার আমরা অন্য কোনো দলকে চাই না। দাঁড়িপাল্লা জিতে যাক, দেশ চালাক এটাই চাই। এর আগে অনেক শাসন ও সরকার দেখেছি, এবার জামায়াতকে দেখতে চাই। যাত্রাবাড়ীর সেই রিকশাওয়ারার মতো হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে একই ধরনের ঊচ্ছ্বাস দেখা গেছে সেই দিন।
গত ১৯ জুলাইয়ের সেই সমাবেশে অংশ নিতে যাওয়া রিজার্ভ বাসে তোলা হয় সাধারণ যাত্রীদেরও, যারা বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে গণপরিবহন পাচ্ছিলেন না, জামায়াতের কর্মীরা তাদের রিজার্ভ গাড়িতে তুলে নেন। পৌঁছে দেন গন্তব্যে, এতে উপকারভোগী মানুষ দলটির নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, এমন উপকারী মানুষের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাধারণ মানুষ আর বঞ্চিত হবে না। সবাই তার ন্যায্য অধিকার পাবেন।