সম্পাদকীয়

অন্যায়-অনাচার দুর্নীতি-দুরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে


১৭ জুলাই ২০২৫ ১৪:০০

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সোহাগ নিজ দলের প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন। তাকে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বযুদ্ধে শক্তি ও কৌশলে পরাজিত হয়ে তার এ নির্মম পরিণতি হয়েছে। যদি তিনি শক্তি ও কৌশলে জয়ী হতেন, তাহলে হয়তো সোহাগের জায়গায় এ নিহতের নাম প্রতিপক্ষ অর্থাৎ যাদের হাতে পুলিশের হাতকড়া, তাদের কারো থাকতো।
এমন নির্মমভাবে সোহাগ কিংবা তার প্রতিপক্ষ কারো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। কিন্তু আমরা জানি, অপরাজনীতি বন্ধ না হলে আমাদের ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। কারণ রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারের ফ্যাসিস্ট অপসংস্কৃতি এদেশে অতি পুরনো। তবে বিগত দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে তা পরিপুষ্ট হয়েছে। সেই পরিপুষ্ট অবস্থার অবসান ঘটানোর জন্যই দেশের তরুণ ছাত্র-জনতা বিগত বছেরর ৩৬ জুলাই বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বিপ্লব করেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও কিছু কিছু রাজনৈতিক দল পুরনো সেই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেনি এবং পারছে না। রাজনৈতিক দল গঠন ও পরিচালনার জন্য নেতা-কর্মী এবং সুধীজনের দেশ ও জনগণের সেবায় স্বেচ্ছায় দেয়া স্বচ্ছ টাকায় তাদের চলে না। কারণ তারা রাজনীতিবিদ নন, রাজনীতিজীবী। তারা বুঝতে চাচ্ছেন না, তদের দিন শেষ।
আমরা দেখছি, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের চেতনায় জেগে উঠেছে দেশ। বিপ্লবের এক বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে বিভিন্ন আয়োজনে। তবে প্রতিবিপ্লবীরাও বসে নেই। দেশ অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের এজেন্টদের সাথে হাত মিলিয়ে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে একটি গোষ্ঠী নব্য ফ্যাসিস্টরূপে ফিরে এসে জনগণের জান-মাল আক্রান্ত করছে। দেশ অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। এ অপকর্ম করে তারা মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত উসকে দিয়ে নিজেরা লাভবান হবে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে তা অসম্ভব। বিশেষ করে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম খুবই সচেতন। তারা চায় সত্য সুন্দর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” শুধু তাদের মুখের স্লোগান নয়। অন্তরের সৌন্দর্য ও সততার প্রকাশ। তাই তো কোথাও কোনো অন্যায় দেখলে ওরা গর্জে উঠছে। নিজের জীবনবাজি রেখে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ঘুষের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসছে। দুভার্গ্য দেশের একশ্রেণির রাজনীতিজীবীর, যারা রাজনীতিকে মানবতার কল্যাণের ব্রত না করে, জনগণের সম্পদ লুট করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ব্যবসা মনে করে। তাদের কাছে ক্ষমতা মানে জমিদারি। কিন্তু তারা হয়তো জানে না, এ জমিদারি টিকিয়ে রাখতে আধিপত্যবাদ বিস্তারের আড়ালে মাস্তান পোষা এবং ভোটের নাটকে ক্ষমতা দখলের পর রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় মাস্তানদের ব্যবহার করে লুট করার ধান্ধাবাজদের দিন শেষ।
তাই তারা এ সুুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। রাজনৈতিক সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে মাঠ গরম করছে। যেনতেন একটি নির্বাচনের জন্য দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে হত্যা সন্ত্রাস। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট থেকে অবৈধ দাবি আদায়ের নীলনকশা আঁকছে।
কিন্তু না। অপরাজনীতি বন্ধ হবেই। কারণ বিপ্লবের পক্ষের সত্য ও ন্যায়ের বর্মপরা ছাত্র-জনতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোও বসে নেই। তারা সদা সতর্ক আছে। সব অন্যায়-অনাচার দুর্নীতি-দুরাচারের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত আছে এবং থাকবে। ঐক্যবদ্ধভাবে তারা তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়বেই, ইনশাআল্লাহ।