এক অনিবার্য বিপ্লবের নাম ৩৬ জুলাই
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:৪৫
এক অনিবার্য বিপ্লবের নাম ৩৬ জুলাই
এক অবিস্মরণীয় বাস্তবতা, এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস
এ ইতিহাস স্বৈরাচারের গণহত্যার বিরুদ্ধে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান
এক ভয়ঙ্কর দ্রোহের স্ফুলিঙ্গ
ছাত্র-জনতার রক্তমাখা গণবিপ্লবের ফসল
গণতন্ত্র হন্তারক স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা এক মহান বিজয়
যে দেশ রক্ত দিয়ে কেনা একাত্তর পেয়েছিল
পেয়েছিল একটা মানচিত্র, একটা পতাকা, একটা স্বাধীনতা
অতঃপর সে দেশ যখন স্বৈরাচারের কড়াইয়ে জ্বলতে থাকলো
তখন আসলো জুলাই ৩৬ বিপ্লব, হাসলো গণতন্ত্রের বিজয়।
এ বিজয় ছিল
খুন-গুম, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে
গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে
অর্থ পাচার, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে
ছিল জনগণের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রুর বিরুদ্ধে
ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে বিপ্লব হয়েছিল রক্তখেকো দানবের বিরুদ্ধে
হালাকু খাঁ, চেঙ্গিস খাঁ কিংবা হিটলারের এক উত্তরসূরি কুখ্যাত খুনির বিরুদ্ধে
এ ছিল এক অনিবার্য বিপ্লব
এ খুনি এক ভয়ঙ্কর স্বৈরাচার
যে মত প্রকাশের ঠোঁটকে সেলাই করে দিয়েছিল
বিরুদ্ধ মতের মেরুদণ্ডে বুলডোজার চালিয়েছিল
চাঁদা বসিয়েছিল বেঁচে থাকার অধিকারকে
নিজ দেশেই পরদেশী করেছিল জনপদকে
হামলা-মামলায় বাড়িছাড়া করেছিল নগর জনপদকে
নির্বাচন নির্বাচন খেলায় ধ্বংস করেছিল নির্বাচন কমিশন
করেছিল অভিনব অটোপাসের, রাতের আঁধারের এবং ডামি নির্বাচন
মানুষকে অমানুষ করার ব্যবস্থা করেছিল, চালু করেছিল নাস্তিক্য শিক্ষা ব্যবস্থা
বিচার ব্যবস্থায় দক্ষতার সাথে নিয়োগ দিয়েছিল মাথা কেনা বিচারপতিদের
এনেছিল প্রহসনের বিচার
ফেরাউনের মগজ নিজের মাথায় স্টোর করেছিল রাজ্য হারানোর ভয়ে
দিয়েছিল প্রহসনের মৃত্যুদণ্ড, দেয়া হলো রাজনৈতিক ফাঁসি
ধনের মহব্বত কারুনকে পিছনে ফেলে চুরি করেছিল ব্যাংক রিজার্ভ
করেছিল ব্যাংক লুট।
হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে গড়েছিল বেগমপাড়া
সোনার ছেলেরা গড়েছিল এক একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এক একটা মিনি ক্যান্টনমেন্ট
নগরের কোথাও কোথাও চলছিল পতিতাবৃত্তির লাভজনক তেজারত
তৈরি হয়েছিল নেতা-নেত্রীর মনোরঞ্জনের জলসাঘর
মেয়েরা বোনেরা লজ্জা বিলিয়ে নিজেদের মধ্যেই খুন হচ্ছিল
কোটা অ্যাপস ডাউনলোড করে অটোজেনারেটে নিয়োগ করছিল দলীয় ক্যাডার
দেশটা চলছিল পরদেশীয় দাদাগিরিতে
কাশ্মীর কিংবা সিকিমের মতো দেশকে বানিয়েছিল ব্যবসার পণ্য
এক স্বৈরাচার তার পূর্ব স্বৈরাচারীকে করেছিল দেবতুল্য
এভাবেই অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বিপ্লব
স্বাধীন দেশটা ধীরে ধীরে হায়দারাবাদ হয়ে উঠছিল
লাল-সবুজের ভূগোলকে নারকীয় লঘি-বৈঠার তাণ্ডবের অক্টোপাস ঘিরে ধরেছিল
ছাত্র পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছিল নির্মমভাবে
তখন বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছিল
ক্রমেই লাল-সবুজের মানচিত্রটি পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ছুটে চলছিল মহাশূন্যের দিকে
আরও ঘটেছিল পিলখানা ট্র্যাজেডি হত্যা করা হয়েছিল দেশপ্রেমকে
ফাঁসি দেয়া হয়েছিল কুরআনের পাখিকে
নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল নিরীহ জনতাকে
তখন বিশ্বজিৎও রক্ষা পাইনি
রক্ষা পাইনি বুয়েটিয়ান আবরারও, হায়েনারা পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছিল তাকে
ঘটিয়েছিল শাপলা চত্বরে গণহত্যা, করেছিল অসংখ্য লাশকে গুম
দেশজুড়ে চলছিল ক্রসফায়ার নাটক
প্রতিদিন নিরীহ জনতা হচ্ছিল গুমের কুয়াতে নিরুদ্দেশ
মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছিল খুনের আফিমতা
তখনই বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছিল
এভাবে একসময় প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতা বাকশক্তিহীন হয়ে পড়ল
অসহায় বেওয়ারিশ হয়ে শুয়ে পড়লো স্বৈরাচারের পায়ের নিচে
দেশে তৈরি হলো গোয়ানতানামো ‘আয়নাঘর’
চললো নির্যাতন আর গোপন রিমান্ড
গুম, খুন, বিনা বিচারের আটকে রাখার বন্দিশিবির হলো ভয়ানক নির্যাতনের ঠিকানা
স্বদেশ মৃত্যুর উপত্যকা হয়ে দাঁড়ালো এভাবেই বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠছিল।
একটা স্বাধীন দেশ ক্রমেই স্বাধীনতা হারাতে লাগলো
হরিলুট হতে লাগলো নিজের গায়ের মাংস
কাপড় খুলে লজ্জা উন্মুক্ত করে দিতে লাগলো
দাদাগিরি আধাআধি নয় ষোলোআনাই কায়েম হলো
শুরু হলো ভিন্নরকম তেজারত
পরকীয়া প্রেমে বলি হতে লাগলো দেশপ্রেম। জাতকুল ভুলে গেল বাপের নাম
এভাবেই এদেশ দেখলো এক স্বৈরশাসককে তখত হয়ে পড়ল নমরূদি তখত
তখন দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের প্রকাশ ঘটলো
মশার মতো ছুটে আসলো প্রতিরোধ
এভাবেই এক অনিবার্য বিপ্লবের পদচিহ্নরা মিছিল করতে লাগলো
পাপ বাপকেও ছাড়ে না বলে কথা-
জনতার পিঠ ঠেকে গিয়েছিল দেয়ালে
ছড়িয়ে পড়লো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ
রক্ত রঞ্জিত হলো পথ
প্রেম আর দ্রোহের পৃথিবী দেখলো স্বৈরাচারমুক্ত এক নতুন দেশ
আবু সাঈদ, মুগ্ধদের রক্ত এনে দিল দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
এভাবেই ঘটলো ৩৬ জুলাই বিপ্লব।