আহসান হাবিব বুলবুলের দুটি কবিতা


১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:৩৯

জুলাই বিপ্লবের কবিতা

“রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়”-
জুলাই বিপ্লবে তা বাস্তবে দৃশ্যমান হয়
এক বিস্ময়!
রক্তের একটা তীর্যক আলো আছে,
সে আলোয় মাঠে নেমে আসে ‘জেনারেশন জি’
সময়ের সাহসী সন্তান; যেন আবাবিল,
আকাশের সিঁড়ি ভেঙে নামে ওরা,
ওরা নির্ভীক! মৃত্যুকে করে ভ্রুকুটি
মানি না পরাভব
মানি না শৃঙ্খল!
জাগলো বিবেক। রাস্তায় নেমে আসলো
কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা,
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হলো চারদিক
স্বৈরাচার নিপাত যাক;
অবশেষে পালালো ফ্যাসিস্ট হাসিনা শেখ।
পড়ে আছে ছোপ ছোপ রক্ত
এখানে সেখানে ইতস্তত
পিচঢালা পথে সড়কে মহাসড়কে।
রক্ত তো নয় যেন রং
লাল রঙে সবুজ ঘাসে
আবার অঙ্কিত হলো
বাংলাদেশের পতাকা
স্বাধীনতার পতাকা।
সাঈদ মুগ্ধ শান্ত ওয়াসিম তামিম
আরও কত নাম না জানা ভাই-বোন
রক্তের আখরে লেখলো নাম ইতিহাসে।
ছত্রিশ জুলাই দুই হাজার চব্বিশ
বাড়ির দেয়াল গাছ রাজপথ রঞ্জিত হলো গ্রাফিতিতে-
“বুকের ভিতর দারুণ ঝড়
বুক পেতেছি গুলি কর”
তবু স্বাধীনতা চাই
তবু সাম্য মৈত্রী চাই,
চাই কথা বলার অধিকার॥

ওরা এক মহাকাব্য

ক্ষমতার মোহে অন্ধ স্বৈরাচার
গুলি চালাতে কাঁপে না বুক,
পেতে দেয়া বুকে গুলি করে কাপুরুষ!
গুলির পরিত্যক্ত খোসা আজো কুড়িয়ে চলেছি আমি
গভীর রাতে গুলির শব্দে জেগে উঠি
মায়ের বোনের ভাইয়ের আহাজারি
আমার কর্ণকুহরে বাজে।
প্রতি ফোঁটা রক্ত রং হয়ে ভাসে
দেয়ালে দেয়ালে (গ্রাফিতিতে)
স্বাধীনতা চাই!
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ, লোনাজল শুকিয়ে যায় একসময়
মায়ের উদাস দু’চোখ শুধু চেয়ে থাকে
সন্তানের পথপানে…
তুমি কেঁদো না মা, তুমি কেঁদো না
তুমি আবু সাঈদ আর মুগ্ধদের মা
তুমি শহীদের মা!
আবু সাঈদের বুক এখন বাংলাদেশের হৃদয়
ওরা এক মহাকাব্য!