ফেনীতে বন্যা, নোয়াখালীসহ কয়েক জেলায় বৃষ্টি
১৭ জুলাই ২০২৫ ১৩:২৯
স্টাফ রিপোর্টার : গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল এলাকায় সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন চলতে পারেÑ এমন আভাস দিয়েছে ঢাকার আবহাওয়া দফতর। এদিকে অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের বাড়িঘর ও জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি : রাজধানী ঢাকায় ১৫ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মৌসুমি নিম্নচাপের ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়। এ অবস্থা বেশ কয়েকদিন থাকতে পারে।
বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত ফেনী : স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার বছর না পেরোতে ফের পানিতে ডুবেছে ফেনীর জনপদ। টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা ও ফেনী সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। প্রবল পানির তোড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, মৎস্যজীবী ও গবাদিপশু পালনকারীরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বন্যাদুর্গত এলাকায় এবারও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ছাড়িয়েছে কোটি টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় জেলায় আউশ ৮৪৫ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫৩৭ হেক্টর, মরিচ ১৪ হেক্টর, আদা ৭ হেক্টর, হলুদ ২ দশমিক ৫ হেক্টর, টমেটো ০ দশমিক ১১ হেক্টর, আমন বীজতলা ৬৮৯ হেক্টর এবং বস্তায় সংরক্ষিত আদা ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৫৬৪ দশমিক ৬১ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফুলগাজীর দরবারপুর ইউনিয়নের কৃষক কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যায় ৩ বিঘা জমির আমন ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বছরই বন্যার কারণে আমনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সঙ্গে পরিবার নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সরকারি সহায়তা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
নোয়াখালীতে ধীরগতিতে নামছে পানি
টানা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের পর গত ১১ জুলাই শুক্রবার দিনব্যাপী নোয়াখালীতে দেখা মিলেছে ঝলমলে রোদের। তবে জেলার নিম্নাঞ্চল ও শহরের বেশিরভাগ এলাকায় এখনো বন্যার পানি জমে রয়েছে। পানি ধীরগতিতে নামায় জনদুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ছয়টি উপজেলার ৫৭টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। ১১ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৭০টি পরিবারের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০৩ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় ছিলেন। কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫টি বসতঘর। সুবর্ণচরে একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
টানা বৃষ্টিতে অচল সাতক্ষীরা
টানা বর্ষণে সাতক্ষীরায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শহরের একাধিক এলাকা পানিতে ডুবে রয়েছে। সড়কে নেই যানবাহন, দোকানে নেই বেচাকেনা। বহু বাসাবাড়ির ভেতরে ঢুকেছে পানি। পানিতে দাঁড়িয়ে ভুক্তিভোগীরা বলেন, ‘রোজগার না থাকলে চাল-ডাল কিনবো কি দিয়ে? কেউ সাহায্যও করে না, সরকারও কিচ্ছু বলে না।’ সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ১৪ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গতরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে কয়েকদিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ মিলিমিটার।
সাভারে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বেড়েছে ভোগান্তি
সাভারে গত কয়েকদিনের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং সড়কের কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে, যা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া থেকে বাজার-সংলগ্ন প্রায় আধা কিলোমিটার, জোরপুল-জয়নাবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের জোরপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে বেপারিপাড়া মোড় প্রায় ১ কিলোমিটার, পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি এবং ডিইপিজেড-আশুলিয়া সড়কের জামগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। তেঁতুলঝরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের পথে যেতে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর আগে জনপ্রতিনিধিদের অনেকবার বলেছিলেন স্থানীয়রা, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
মোংলায় বৃষ্টিতে তলিয়েছে সাড়ে ৬০০ চিংড়ি ঘের
মোংলায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাড়ে ৬০০ চিংড়ি ঘের। গত দেড় সপ্তাহ ধরে চলা টানা বৃষ্টিতে ঘের ডুবে মাছ বের হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি হয়েছে অর্ধকোটি টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার চিলা ও চাঁদপাই ইউনিয়নের চিংড়ি চাষিদের। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সুন্দরবন, মিঠাখালী, সোনাইলতলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিকেরা। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার সাড়ে ৩০০ হেক্টর জমির ঘের তলিয়ে মাছ বেরিয়ে গেছে। বেশিরভাগ ঘেরের বেড়ি তলিয়ে গেছে। তাই নেট জাল দিয়ে মাছ আটকে রাখার চেষ্টা করছেন চাষিরা।