১৯ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ
১৭ জুলাই ২০২৫ ১২:৫৩
সোনার বাংলা রিপোর্ট : ১৯ জুলাই শনিবার দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। সারা দেশে সাজ সাজ রব উঠেছে। কারণ এদিন দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করবে। জাতীয় এ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এ সময়ের অন্যতম জননন্দিত জননেতা ডা. শফিকুর রহমান। ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ হবে। এর আগে জামায়াত কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলীয়ভাবে সমাবেশ করেনি। ১৯ জুলাই দুপুর ২টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। ইতোমধ্যে সমাবেশ বাস্তবায়নে দলের আমীরসহ শীর্ষনেতাদের তদারকিতে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে সারা দেশে ব্যাপক গণসংযোগ ও মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। এতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও যোগ দিচ্ছেন। সাত দফা দাবিতে পোস্টারিং করা করা হয়েছে। এ সাত দফা দাবি হলোÑ ১. সকল গণহত্যার বিচার, ২. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ৩. জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, ৪. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, ৫. পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, ৬. প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা এবং ৭. লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ।
জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্রে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পক্ষের রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতাদের সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীতে বড় সমাবেশ করে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন, ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় মহাসমাবেশ করেছে। বিএনপি নয়াপল্টনে কয়েক দফা সমাবেশ করেছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কারাবন্দী নেতা (বর্তমানে মুক্ত) এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পুরানা পল্টন মোড়ে একটি সমাবেশ ছাড়া রাজধানীতে বড় কোনো জমায়েত করেনি।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে জামায়াতে ইসলামী কখনো জনসভা করেনি। এটি হবে আমাদের প্রথম সমাবেশ।’ তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন, তার আগে ‘লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন অনুষ্ঠান ও তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে এ সমাবেশ হবে।
জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করার পর গত ৪৫ বছরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী কখনো সমাবেশ করেনি। তবে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকতে তারা জোটবদ্ধভাবে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। ফলে দলীয়ভাবে আয়োজিত এ সমাবেশকে বিশেষ কিছু এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জনসমর্থন প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। এ সমাবেশ বাস্তবায়নে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক উপকমিটিও করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামের পতাকা উত্তোলন এবং ইসলামী ঐক্যের কাক্সিক্ষত পরিবেশ সবার চাওয়া-পাওয়া। এ আকাক্সক্ষা সামনে রেখে ১৯ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ কর্মসূচির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জাতীয় সমাবেশ হলো তার টার্নিং পয়েন্ট। তার সফল বাস্তবায়নে এখন থেকে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।