সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১০ জুলাই ২০২৫ ১১:১৫
ব্রিকস সমর্থক দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন বাণিজ্য হুমকি দিয়েছেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতি নিয়ে গঠিত এ জোটের সম্প্রসারণ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন কাঠামোর বাইরে একটি নতুন শক্তিধর ব্লক গঠনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরোতে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলন। এই জোটে আগে থেকেই সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ঠিক এ সময়েই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা দেন, যেসব দেশ ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত হবে বা তাদের ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতি’কে সমর্থন জানাবে, তাদের পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এদিকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “শুল্ক বাড়ানোর প্রবণতা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি।” তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আইএমএফের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন, যাতে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাসহ বিভিন্ন দেশের নেতা সরাসরি অংশ নিলেও, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে অনলাইনে যুক্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের হুমকি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই বাড়তি শুল্কারোপ করে, তবে তা বিশ্ববাণিজ্যে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে। একদিকে উদীয়মান শক্তিধর অর্থনীতির জোট ব্রিকস, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বলয় এ দুই মেরুর প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রয়টার্স।
গাজায় ইসরাইলের সহিংসতা মানবতাবিরোধী: প্রেসিডেন্ট লুলা
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চলমান হামলা ও ফিলিস্তিনি জনগণের ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্ববাসীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমাজ উদাসীন থাকলে তা নৈতিকভাবে ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে থাকবে। গত রোববার (৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদলু। রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে রোববার প্রেসিডেন্ট লুলা এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের নিপীড়ন, নির্বিচার হত্যা এবং খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা মানবতাবিরোধী। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, যেন তারা এ সহিংসতা প্রতিরোধে সরব হয় এবং নির্লিপ্ত না থাকে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেন, “ইসরাইল গাজায় যেভাবে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং মানবিক সাহায্য বন্ধ করে ক্ষুধা ছড়িয়ে দিচ্ছে, সেটিকে আমরা আর চুপচাপ মেনে নিতে পারি না। গাজায় তারা যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতে বিশ্বকে দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।”
ব্রাজিল সরকার গাজা সংকট শুরুর পর থেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বানে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লুলা অতীতেও গাজার পরিস্থিতিকে “গণহত্যার মতো অপরাধ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইসরাইল এখনো হামলা অব্যাহত রেখেছে, আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও। এ পরিস্থিতিতে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ওঈঈ) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ওঈঔ) গণহত্যার অভিযোগে মামলাও চলছে। আনাদলু এজেন্সি।
বিশ্বের ৩৫ ভাষায় শোনা যাবে মক্কার জুমার খুতবা
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করা হবে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবা। গত শুক্রবার (৪ জুলাই) পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি এ ঘোষণা দেন। এদিন খুতবা প্রদান ও জুমার নামাজের ইমামতি করবেন ধর্ম বিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান শেখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস। প্রেসিডেন্সির জনসংযোগ বিভাগের সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক ফাহিম আল-হামিদ বলেন, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে খুতবার বার্তা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের মাঝে আন্তঃসংযোগ স্থাপন ও সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিনিময়ে সেতুবন্ধন তৈরিই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। লাইভ অনুবাদের ফলে এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে মুসলমানরা নিজ নিজ ভাষায় এ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বার্তা গ্রহণ করতে পারবেন। এটি ধর্মীয় সম্প্রচারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সৌদি গ্যাজেট।
চীনা জে-১০ সি যুদ্ধবিমান পেল ইরান, আকাশে শক্তির ভারসাম্যে এগিয়ে তেহরান
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে নাটকীয় পরিবর্তন আনার আভাস দিলো এক নতুন খবর। ব্রিকস নিউজ-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দাবি করেছে, চীনের জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড এএইসিএসএ রাডার এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইসরাইলের এফ-৩৫ স্টিলথ জঙ্গি বিমানগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ব্রিকস নিউজের তথ্যানুযায়ী, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শক্তির ভারসাম্য ইরানের পক্ষে চলে যেতে পারে। অবশ্য প্রথম চালানে কয়টা বিমান ইরানকে দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কয়টি চালান দেওয়া হবে তাও জানান হয়নি। এর আগে ইরানের জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে মোট ৪০টি জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে। প্রতিটি জে-১০ সি-এর দাম প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার হওয়ায় পুরো ৪০টি বিমানের সম্ভাব্য মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে কেবল বিমান কেনার খরচই শেষ কথা নয় দীর্ঘমেয়াদে এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিমানের মূল দামের প্রায় তিনগুণ হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
হামশাহরি অনলাইনের আরেক প্রতিবেদনে এই জে-১০ সি যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জে-১০ চীনের তৈরি অন্যতম অত্যাধুনিক কৌশলগত যুদ্ধবিমান। এ বিমানকে চীনের সামরিক স্বনির্ভরতার প্রতীক এবং ২১ শতকের অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির অগ্রগতির দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হয়। চেংদু এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং কর্পোরেশন বা সিএসি এ বিমানটির নকশা তৈরি করেছে এবং তৈরিও করেছে। ন্যাটো চীনের এ বিমানকে “ফায়ার বার্ড” নামে ডাকলেও চীনে একে “মাইটি ড্রাগন” বলা হয়। জে-১০ এর বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে জে-১০ সি সর্বাধুনিক। পাকিস্তান ইতোমধ্যে জে-১০ সি-এর অন্যতম প্রধান ব্যবহারকারী। সাম্প্রতিক পাক-ভারত লড়াইয়ে এ বিমান তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি মিশর, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার ও সৌদি আরবও এ বিমান কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। রাশিয়ার কিছু প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ফাইটারটির নকশায় এফ-১৬-এর মতো কিছু দিকও রয়েছে। প্রায় দুই দশক গবেষণা ও উন্নয়নের পর ২০০৫ সালে জে-১০ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনা বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়। আজও এটি চীনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সব মিলিয়ে, চীনা জে-১০ সি যুদ্ধবিমান ইরানের হাতে পৌঁছানো শুধু তেহরানের সামরিক ক্ষমতা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শক্তির ভারসাম্যকেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। হামশাহরি অনলাইন।
ফিলিস্তিনকে ১০ হাজার টন চাল সহায়তার ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত সোমবার (৭ জুলাই) ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ১০ হাজার টন চাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কোন অঞ্চলে চাল পাঠানো হবে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি তিনি। ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী আন্দি ইমরান সুলাইমান জাকার্তায় ফিলিস্তিনি প্রতিপক্ষ রিজক সালিমিয়ের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। ইন্দোনেশিয়ান সংবাদ সংস্থা কৃষিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, “প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনে সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার টন চাল সরবরাহের জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।” সুলাইমান আরো জানান, অনুদানের চাল প্রস্তুত এবং বিতরণ শুরু করার জন্য তারা ফিলিস্তিনি দূতাবাসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিস্তিনের সরকার কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। দ্য নিউ আরব।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার সংগঠন বাদ
ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়াভিত্তিক সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্টকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। গত সোমবার (৭ জুলাই) অনলাইনে প্রকাশিত স্মারকলিপি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্ট বর্তমানে হায়াত তাহরির আল-শামকে (এইচটিএস) এখন আর ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করছে না যুক্তরাষ্ট্র। আল-নুসরা ফ্রন্ট ছিল আল-কায়েদার সিরিয়া শাখা। তবে আল-শারা ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ২৩ জুনের স্মারকলিপিটি গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ৩০ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর আরোপিত জটিল নিষেধাজ্ঞার কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। জারি করা ট্রাম্পের এই আদেশে, ‘সিরিয়ার উন্নয়ন, সরকারের কার্যক্রম এবং দেশের সামাজিক বন্ধন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ’ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। দ্য নিউ আরব।
ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থী গ্রুপ নিষিদ্ধ, ধর্মযাজকসহ গ্রেপ্তার ২৭
ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামক প্রো-প্যালেস্টাইন প্রতিবাদী গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত শনিবার (৫ জুলাই) মধ্যরাতের পর থেকে কার্যকর হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে গ্রুপটির সদস্য হওয়া, এটির সমর্থন করা, তহবিল সংগ্রহ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কার্যক্রম শেয়ার করা, বা এর পক্ষে মিটিংয়ের আয়োজন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে। এ পদক্ষেপটি ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো একটি অহিংস প্রতিবাদী গ্রুপকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর শনিবার (৫ জুলাই) লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ ২৭ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ছিলেন ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ধর্মযাজক রেভারেন্ড সু পারফিট যিনি ব্রিস্টল থেকে এসেছিলেন। তিনি একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছিলেন, যাতে লেখা ছিল, “আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।” মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, “গ্রুপটি এখন নিষিদ্ধ এবং এটির সমর্থন প্রকাশ করা একটি অপরাধ। গ্রেপ্তার চলছে।” গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে অপরাধের সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল কারণ হলো গত ২০ জুন ফিলিস্তিনপন্থী গ্রুপ প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সদস্যরা আরএএফ ব্রিজ নর্টন বিমান ঘাঁটিতে প্রবেশ করে দুটি ভয়েজার বিমানে লাল রং স্প্রে করে। এ ঘটনার ফলে প্রায় ৭০ লাখ পাউন্ড (৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রুপটি দাবি করেছে, এই বিমানগুলো গাজার ওপর নজরদারি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হয়, যা ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েট কুপার এ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেন এবং এটি ২ জুলাই হাউস অফ কমন্সে ৩৮৫-২৬ ভোটে এবং পরবর্তীতে হাউস অব লর্ডসে অনুমোদিত হয়। ফিলিস্তিনপন্থী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’’ গ্রুপ ৪ জুলাই হাইকোর্টে এ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার জন্য একটি জরুরি আবেদন করে, কিন্তু বিচারপতি মার্টিন চেম্বারলেন এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। গ্রুপটি পরে কোর্ট অব অ্যাপিলে আবেদন করে, কিন্তুগত ৪ জুলাই শুক্রবার রাতে এ আবেদনও ব্যর্থ হয়। গ্রুপটি এখন আগামী ২১ জুলাই সোমবার একটি বিচারিক পর্যালোচনার জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা যায়।
এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং লিবার্টি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শতাধিক আইনজীবী তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা এটিকে “অগণতান্ত্রিক” এবং “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, “সম্পত্তির ক্ষতি যদি মানুষের জীবনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য না হয়, তবে তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।” প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি বলেছেন, “এই নিষেধাজ্ঞা হাজার হাজার মানুষকে রাতারাতি অপরাধী করে তুলেছে। আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।” আনাদলু এজেন্সি।
ভারতে ইসলামবিদ্বেষী ছবি নিষিদ্ধের দাবি
ভারতের মুসলিমরা একটি ইসলামবিরোধী চলচ্চিত্রের মুক্তি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। বিজেপি সদস্য অমিত জানির সমর্থিত ‘উদয়পুর ফাইলস’ ছবির ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। এ ছবির ট্রেলারটি কেবল মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অনুভূতি উস্কেই দেয় না, বরং এমন চরিত্রগুলোকেও দেখায় যারা ইসলাম, ইসলামী বিশ্বাস, মসজিদ এবং বিখ্যাত মুসলিম ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। ছবির গল্পটি কানহাইয়া লাল নামে একজন দর্জিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, যাকে ভারতের রাজস্থানের উদয়পুর শহরে হত্যা করা হয় এবং দর্জিকে হত্যার ষড়যন্ত্রে মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রিত করা হয়। ভরত এস. শ্রান্তে পরিচালিত এ ছবিতে পাকিস্তানবিরোধী বিষয়বস্তুও রয়েছে। ছবিটির ট্রেইলার প্রকাশের পর ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বসহ অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব ছবিটিকে ইসলামবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। জে এন।
চীনের আজব আবিষ্কার পরিবেশবান্ধব দৈত্যাকৃতির পর্দা!
চীন মানেই যেন নতুনত্ব আর আজব আজব সব আবিষ্কারের সমারোহ। কখনো তাদের তৈরি গাড়ি উড়ে আকাশে, তো কখনো আবার পেঁপে রঙের রোবট হাঁটে রাস্তায়। এবার তাদের আরেক আজব আবিষ্কার এলো জনসম্মুখে। বাড়ি তৈরিতে যেন শ্রমিকরা তিতিবিরক্ত না হয়, পরিবেশ যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে সে জন্য চীন আবিষ্কার করেছে বিশালাকৃতির এক দৈত্যাকারা পর্দা। যেটি সাধারণ কোনো পর্দা নয়, এর ভেতরে রয়েছে দিনের পর দিন কাজ করে যাওয়ার সব সুযোগ-সুবিধা। এই পর্দার গল্প শুনলে মনে হবে বিজ্ঞানের কোনো কল্পকাহিনি। একটা নির্মাণস্থলের ওপরে বিশাল এক গম্বুজ, যা আবার ফোলানো! বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে বাদামি রঙের এক দৈত্যাকার ডিম বসে আছে শহরের মাঝখানে। আর সেই ডিমের ভেতরে চলছে গাঁইগুঁই শব্দে নির্মাণযজ্ঞ, মেশিনের তাণ্ডব। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বাইরে দাঁড়িয়ে কেউই সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছে না।
চীনের জিনান শহরে দেখা মিলেছে এ পর্দার। সেখানকার একটি নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে বসানো হয়েছে ৫০ মিটার উঁচু ইনফ্ল্যাটেবল ডোম, যা ঘিরে রেখেছে ২০,০০০ বর্গমিটার জায়গা। উদ্দেশ্য একটাই ধুলাবালি আর বিকট শব্দ থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেওয়া। এই ডোম যেন এক আধুনিক, পরিবেশসচেতন দৈত্য। বাইরে তার সাদা ফ্যাব্রিকের গা, ভেতরে গরম হাওয়া দিয়ে তাকে সবসময় ফুলিয়ে রাখা হয়। কোনো খুঁটি বা পিলার নেই। শুধু ধ্রুব বায়ুচাপেই দাঁড়িয়ে থাকে এটি। এর ভেতরে ইট, পাথর, মিক্সার সবকিছুর সমন্বয়ে চলছে কাজ, কিন্তু বাইরের লোক কিছুই টের পাচ্ছে না। ধুলা উড়ছে না আর শব্দও পৌঁছাচ্ছে না লোকালয়ে।
চাইনিজ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ডোমটি তৈরি হয়েছে বিশেষ ফ্যাব্রিক দিয়ে, যা আগুন, পানি এমনকি ঝড়ো বাতাসও ঠেকাতে পারে। গবেষকদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই গম্বুজ ৯০ শতাংশ ধুলা আটকে দিতে পারে, আর শব্দ কমায় ৬০ শতাংশের বেশি। এমনকি ভেতরের শ্রমিকরা যাতে নিশ্বাস নিতে পারেন স্বস্তিতে, সে জন্য রয়েছে উন্নত ফ্রেশ এয়ার ফিল্টারিং ব্যবস্থা। এটির সুবিধাজনক বিষয় হলো, এর ভেতরে সূর্যের আলো আসার ব্যবস্থাও আছে। স্বচ্ছ অংশ রাখা হয়েছে, যেখান দিয়ে প্রকৃতির আলো ভেতরে ঢুকে পড়ে নিঃশব্দে। ফলে দিনভর আলোর জন্য বাড়তি বৈদ্যুতিক খরচও পড়ে না। বিশাল এ দানবাকৃতির পর্দা মাত্র ১০ দিনে বসানো যায়। ওজন কম, চাইলে খুলে আবার অন্য কোথাও বসানো যায়। ফলে পরিবেশে কোনও স্থায়ী ক্ষতিও হয় না। আল জাজিরা।
ইরাকে অভিযান চলাকালে তুরস্কের ১২ সেনা নিহত
ইরাকে এক অভিযান পরিচালনাকালে তুরস্কের ১২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (৭ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের একটি গুহায় তল্লাশি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় ১৯ সেনা গুরুতর অসুস্থ হন। সেখানে মিথেন গ্যাসের কারণে অন্তত ১২ সেনা নিহত হয়েছেন। গত রোববার তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিথেন সরাসরি বিষাক্ত নয়, তবে এটি ঘনবদ্ধ ও সংকীর্ণ স্থানে শ্বাসরোধকারী হয়ে উঠতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। কীভাবে গুহায় এত বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন জমে ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার নিহতদের মরদেহ দক্ষিণাঞ্চলীয় হাক্কারি প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় সেখানে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালের মে মাসে তুরস্ক পরিচালিত ‘অপারেশন ক্ল্যাউ লক’ অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত এক সেনার মরদেহের খোঁজে এ তল্লাশি চালানো হয়েছিল। আনাদলু এজেন্সি।
নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের হামলায় ৯ জন নিহত
আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নাইজেরিয়ায় আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারাম। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বরনো রাজ্যের মালাম ফাতোরি এলাকায় এ হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। গত সোমবার (৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদলু। গত রোববার (৬ জুলাই) বরনো রাজ্যের রাজধানী মেইদুগুরি থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দূরের মালাম ফাতোরি শহরে। জঙ্গিরা এ শান্তিপূর্ণ জনপদে অতর্কিতে হামলা চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরনো রাজ্যের স্থানীয় সরকার কমিশনার সুগুন মাই মেলে। রাজ্যপাল বাবাগানা উমারা জুলুম বিদেশ সফরে থাকায়, তার পক্ষে একটি প্রতিনিধিদল হামলাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গভর্নর জুলুমের নির্দেশে আমরা মালাম ফাতোরির জনগণের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।” স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়।
কমিশনার আরও বলেন, মালাম ফাতোরি একটি কৌশলগত এলাকা হওয়ায় এর স্থিতিশীলতা রক্ষা রাজ্য সরকারের জন্য অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকাতে প্রশাসনিক কার্যালয়ের চারপাশে খাল খননের জন্য খননযন্ত্র মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে, সরকার প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ নাইরা (প্রায় ৩২৬ মার্কিন ডলার) এবং আহতদের প্রত্যেককে ২.৫ লাখ নাইরা (প্রায় ১৬৩ মার্কিন ডলার) অর্থ সহায়তা দিয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমিশনার উসমান তার জানান, মালাম ফাতোরিতে বাস্তুচ্যুত আরও ৩ হাজার পরিবার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে, ফলে মোট পুনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫ হাজারে। আনাদলু এজেন্সি।
বরখাস্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মহত্যা রাশিয়ার মন্ত্রীর
রাশিয়ার সাবেক পরিবহনমন্ত্রী রোমান স্তারোভোইত গত ৭ জুলাই সোমবার আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির তদন্ত কমিটি। তার পদচ্যুতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মস্কোর উপকণ্ঠে একটি গাড়ি থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। মস্কো থেকে এএফপি জানায়, তদন্ত কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ ওদিন্ৎসোভো জেলায় ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর থেকে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী রোমান স্তারোভোইতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। মূলধারায় এটি আত্মহত্যা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।’ ৫৩ বছর বয়সী স্তারোভোইত গত বছর মে থেকে রাশিয়ার পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের গভর্নর ছিলেন, যেখানে রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় অনুপ্রবেশ মোকাবিলা করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, স্তারোভোইত নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কখন তিনি আত্মহত্যা করেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্রেমলিন একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি প্রকাশ করে জানায়, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন তাকে পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় বলা হয়, ‘রোমান স্তারোভোইতকে পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’ রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভ্রমণ বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কুরস্ক অঞ্চলে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সীমান্ত এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়তে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের সম্ভাব্য মামলার বিষয়েও গুঞ্জন রয়েছে। তবে স্তারোভোইতের মৃত্যুর আগে তার বরখাস্ত প্রসঙ্গে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘এটি আস্থাহীনতার সাথে সম্পৃক্ত নয়।’ পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করার পরপরই প্রেসিডেন্ট পুতিন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এএফপি।
গাজায় ইচ্ছেমতো যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইলি সেনারা
গাজা উপত্যকায় তিনবার দায়িত্ব পালন করা এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা স্কাই নিউজকে এক বিরল ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যেখানে তিনি জানিয়েছেন, তার ইউনিটকে প্রায়ই আদেশ দেওয়া হতো, সেনারা যেসব এলাকাকে ‘নো-গো জোন’ বলে চিহ্নিত করেছে, সেখানে যে-ই প্রবেশ করুক, তাকে গুলি করে হত্যা করতে হবে সে ব্যক্তি সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র। ওই সেনা আরো বলেন, ‘যেই আমাদের নির্ধারিত এলাকার মধ্যে ঢুকেছে, সেই মারা যাবে। ভেতরে ঢুকলে বিপজ্জনক তাকে মেরে ফেলতে হবে। কেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই সেনা তার নাম গোপন রেখে কথা বলেন। তিনি বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হতো এবং নিয়মিত আদেশ পরিবর্তনের কারণে সেনাদের আচরণ নির্ভর করত কমান্ডারের মেজাজের ওপর। সেনাটি ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) ২৫২তম ডিভিশনের সদস্য। তিনি যুদ্ধের শুরুতে গাজার কেন্দ্র দিয়ে কাটানো ‘নেটজারিম করিডোরে’ দুটি মেয়াদে মোতায়েন ছিলেন- যা গাজা ভূখণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয় এবং ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রণ সহজ করে। তিনি বলেন, ‘আমরা একবার এমন একটি ঘর দখল করি যেখানে একসময় গাজাবাসীরা থাকত। সেই ঘর ঘিরে একটি অদৃশ্য রেখা টেনে দেওয়া হয়- যাকে বলা হতো ‘নো-গো জোন’। বলা হতো, গাজার সব মানুষ জানে এ লাইন পার হওয়া মানা। কিন্তু বাস্তবে, তারা জানবে কীভাবে?’ তিনি আরো জানান, ‘অনেক সময় কিশোর বাইসাইকেল চালিয়ে এ সীমানায় চলে এলে তাকেও গুলি করা হয়েছে।’ এই সেনা আরো বলেন, সেনারা অনেকেই মনে করতেন, গাজার কেউই নির্দোষ নয়। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য পুরো গাজার জনগণকে দায়ী করা হচ্ছিল। কিছু সেনা বলতো, ‘ওরা কিছু করেনি আমাদের বাঁচাতে, বরং আনন্দ করছিল আমাদের কষ্ট দেখে। কাজেই ওদের মরাই উচিত। তিনি বলেন, নিয়মিত এ ধরনের আলোচনা হতো এবং অধিকাংশ কমান্ডার এ মনোভাবকে সমর্থন করতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ইচ্ছেমতো যুদ্ধাপরাধ করছে আর তার জবাবদিহি নেই। তিনি বলেন, ‘সব কিছু যেন ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ হয়ে গেছে। যে কমান্ডার যা ইচ্ছা করছে। কেউ ধরা পড়ছে না, বিচার হচ্ছে না।’ তিনি জানান, অনেক সময় একই দিনে আদেশ বদলানো হতো- কখনো গুলি চালাতে, কখনো বন্দি করতে। একটি ঘটনায় তিনি দেখেছেন, এক ব্যক্তি অদৃশ্য সীমা পার হলে তাকে গুলি করা হয়। পরে আরেকজন তার মরদেহ নিতে এলে তাকেও গুলি করা হয়। এরপর নতুন আদেশ হয় মরদেহের কাছে এলে বন্দি করো। আবার কিছু ঘণ্টা পর সবাইকে গুলি করো। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি একটা খারাপ কিছুতে অংশ নিয়েছি, তাই ভালো কিছু করতে চাই -সত্য প্রকাশ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি যুদ্ধে… আমাদের এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে খুব খারাপ কিছু ঘটছে এবং এটির অবসান হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিজেদের এবং তাদের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করা খুব কঠিন। অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে তারা কী করতে রাজি হচ্ছেন। তারা মনে করেন যুদ্ধ হওয়া উচিত এবং আমাদের জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা উচিত, কিন্তু তারা এর পরিণতি বোঝেন না। অনেক মানুষ, যদি তারা ঠিক কী ঘটছে তা জানত, তবে এটি ভালোভাবে নিত না। তারা এর সঙ্গে একমতও হতো না। আমি আশা করি, এটি সম্পর্কে কথা বলার মাধ্যমে, এটি কীভাবে কাজ করা হচ্ছে তা পরিবর্তন করতে পারে।’ ওই সেনা জানান, তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন কারণ ইসরাইলে সেনাবাহিনীকে প্রশ্ন করা সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ প্রায় এবং তিনি দেশদ্রোহী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এদিকে এ অভিযোগ সম্পর্কে আইডিএফ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও নিজস্ব নিয়মানুযায়ী কাজ করে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সকল বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আইডিএফ আরো জানায়, এই নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত করা সম্ভব নয়, কারণ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে যদি অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন। স্কাই নিউজ।
মার্কিন শুল্ক ও ইরানের ওপর হামলার নিন্দা ব্রিকস দেশগুলোর
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা ‘ভবিষ্যৎ না ভেবে দেওয়া’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা আমদানি শুল্কারোপ এবং সম্প্রতি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। গত ৬ জুলাই রোববার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ সমালোচনার জবাবে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘যেকোনো দেশ, যারা ব্রিকসের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে। এ নীতির কোনো ব্যতিক্রম হবে না।’
ব্রিকসের ১১টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। এ সংস্থা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এ জোট অনেক বিষয়ে বিভক্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্কনীতি ও আচরণের বিষয়ে তারা একমত। অবশ্য সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, ‘একতরফাভাবে বৃদ্ধি করা শুল্ক নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কারণ এ শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করতে পারে।’ ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের প্রতি প্রতীকী সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। এ দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নিশানায় এসব হামলা চালায়। ডন।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান