ফিলিস্তিনে যুদ্ধের ভয়াবহতা…
৩ জুলাই ২০২৫ ১২:৪৩
মো. আবদুল ওহাব বাবুল : আমরা জানি, যুদ্ধের ভয়াবহতা বড় নিষ্ঠুর, বড় নির্মম। একটি যুদ্ধ কেড়ে নেয় হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, নিরপরাধ মানুষের প্রাণ। অসংখ্য মানুষকে অন্ধ, বিকলাঙ্গ ও পুষ্টিহীন করে ফেলে। সম্প্রতি ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ তার বড় প্রমাণ। যুদ্ধ সভ্যতার ধ্বংস সাধন করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পাওয়া দুর্ভিক্ষ আর বাস্তুচ্যুত হওয়া। যুদ্ধের কোনো ভালো ফলাফল নেই!
বিশ্বে বিরাজমান এ অশান্ত অবস্থায় শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে দেশ-বিদেশে। কোন পথে শান্তি আর কোন পথে মুক্তি, তা আজ সকলের ভাবনা। তাই আজকের বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি আর শান্তি প্রতিষ্ঠা।
পৃথিবীতে যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে সুখ, সমৃদ্ধি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সব নিশ্চিত করা সম্ভব। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত নবী-রাসূলগণ যুদ্ধ, হিংসা আর মারামারি কাটাকাটি থেকে শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঐশী বাণীর প্রচার করেছেন। যুদ্ধ, হিংসা, দ্বন্দ্ব, সংঘাত আর রক্তপাত দিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে না! তাই বর্তমান বিশ্বে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া, ফিলিস্তিন-ইসরাইল, আরাকান-মিয়ানমার জান্তার মধ্যে সকল যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত।
সমকালীন বিশ্বের মানচিত্রে চোখ বুলালেই লক্ষ করা যায়, ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র এক জগদ্দল পাথর ফিলিস্তিনি মুসলমানদের তথা গোটা আরব বিশ্বকে গ্রাস করতে বসেছে। ১৯৪৮ সালে নাকবা বিপর্যয়ের মাধ্যমে অবৈধ বসতি গড়ে তোলে ইহুদিরা। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করে তা, আজ দাম্ভিক আচরণ করছে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে চলা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে লক্ষাধিক বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজা উপত্যকার কোনো সেইফ জোন এখন নেই। সব যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিনের নাগরিকগণ আজ বাস্তুচ্যুত। অথচ বিশ্ববিবেক জাতিসংঘ আজ মৃত্যুবরণ করেছে। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করার মতো ক্ষমতা যদি জাতিসংঘের না থাকে, তবে এরকম জাতিসংঘের প্রয়োজন আমাদের নেই।
সারা বিশ্ব আজ যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখর। যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। (ঘড় ধিৎ, ডব ধিহঃ ঢ়বধপব) বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে শুধু স্লোগান তুললে হবে না, বিশ্বনেতাদের ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অবিলম্বে গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা বন্ধ হোক। বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতির এ সময় আইয়্যামে জাহেলিয়াতের মতো নির্লজ্জ ও নির্মম কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক। যুদ্ধের ভয়াবহতা বড়ই কঠিন। আজ অথবা কাল আমরা যদি এ যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারি, তবে যুদ্ধই একদিন আমাদের নিশ্বাস বন্ধ করে দেবে।
দীর্ঘ ২ বছর যাবত অব্যাহত ইসরাইলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় নব্বই শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আরো দুই হাজার ফিলিস্তনি হত্যা করেছে। ফিলিস্তিন, আরাকান ও কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর ক্রমাগত গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করার কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। ওআইসি, আরব লীগ ও জাতিসংঘকে সজাগ হতে হবে। গাজায় মানবিক সহযোগিতা প্রবেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে হবে। জাতিসংঘের কাজ হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা! যদি এ কাজে বিশ্ব সংস্থা ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের প্রয়োজন কি?
লেখক : শিক্ষার্থী ও খুদে লেখক।