পালিয়ে থেকেও হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা
৩ জুলাই ২০২৫ ১১:৩৯
স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই বিপ্লব ঠেকাতে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ক্ষমতা হারানোর পরও থেমে নেই। নিজেদের মধ্যে নেই ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা-অপরাধবোধ। দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকলেও জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে গুলি চালানো থেকে শুরু করে বিগত সাড়ে ১৫ বছরের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে উল্টো বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। অনেকে চেষ্টা করছে হালে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে। পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিদেশে বসে ভিডিওবার্তা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, দিচ্ছে হুমকিও। নাম-পরিচয় গোপন রেখে বিদেশে থেকে ফোনে উত্তরা থানার ওসির সঙ্গে কথোপকথনে জামায়াত নেতাকর্মীসহ জুলাইযোদ্ধাদের ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়ার অডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। স্থায়ী ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হাসিনার আত্মীয় ফজলে নূর তাপসের অনুসারীরা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। যেকোনো সময় তারা আবার স্বরূপে ফিরবে এমন হুমকিও আসছে অজ্ঞাত স্থান থেকে।
ভারতে পালিয়ে থাকা পতিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঠেকানোর হুমকি দিয়েছেন। ওই ভিডিওবার্তায় তাকে নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। গত ৫ আগস্ট হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের দশ মাস পর ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন জুলাই গণহত্যার অন্যতম শীর্ষ এ অভিযুক্ত। এর আগে দুটি ফোনালাপে বাথরুমে লুকিয়ে থাকার উদ্ভট কল্পকাহিনী শোনালেও তিনি নিজের চেহারা দেখাননি গণহত্যার এ উসকানি ও নির্দেশদাতা। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনো বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তারা নিজেরাও নির্বাচন দেবে কিনা, আমরা যথেষ্ট সন্দিহান।
সংস্কারের আড়ালে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জাতিকে বিভ্রান্ত করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের পলাতক এ শীর্ষনেতা বলেন, নির্বাচনের নামে আজকে তাদের যে অশুভ অ্যালায়েন্স। এ অ্যালায়েন্স সংস্কারের নামে গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। আজকে বিচারের নামে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে প্রহসন করছে। এ ধারা আমরা গুঁড়িয়ে দেবো। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ চলবে। বাংলাদেশে আজ অর্ধেকেরও বেশি ভোটার যে দলের সমর্থক, দিনে দিনে শেখ হাসিনার পক্ষে জনমত বাড়ছে, সে দলকে বাদ দিয়ে এদেশে ইনক্লুসিভ বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে দেবো নাÑ এমন হুমকি দেন কাদের।
এদিকে শেখ হাসিনার আরেক ঘনিষ্ঠ পলাতক ফজলে নূর তাপসের সহযোগী সরোয়ার রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নেওয়া বক্তব্যে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি আওয়ামী লীগের সময় ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারেননি। স্থানীয় এক সন্ত্রাসী সবসময় ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা নিত, এখনো অজ্ঞাত স্থান থেকে নানা হুমকি দিচ্ছে ওই সন্ত্রাসী সরোয়ার। তিনি বলেন, হাসিনার আমলে এ সরোয়ারের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির কারণে রাতে বাসায়ও ঠিকমতো থাকতে পারতেন না ব্যবসায়ীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার উত্তরা থানা ওসির সঙ্গে পলাতক এক আওয়ামী লীগ নেতার ভয়ংকর হুমকি দেওয়ার কথা শোনা গেছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার ভাষ্য, তারা তো (আওয়ামী লীগ) পালানোর জন্য ভারতে যেতে পেরেছেন, কিন্তু জামায়াতের লোকেরা তো আর ভারতেও যেতে পারবেন না। কারণ তাদের যদি পাকিস্তানে যেতে হয়, তাহলে তো ভারতের ওপর দিয়েই যেতে হবে। কিন্তু জামায়াতের লোকেরা সেই সুযোগ পাবেন না। তারা তো এয়ারেও যেতে পারবেন না। তারা যদি মাটির ৫০ হাত নিচেও লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে তুলি এনে তাদের মারব, ভয়ংকরভাবে মারব। দীর্ঘ পাঁচ মিনিটের ওই কথোপকথনের অডিতে শোনা যায়, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর লোকদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। উত্তরা থানার সব উপপরিদর্শককে পরিবারসহ মারার হুমকি দেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। অজ্ঞাত এ হুমকিদাতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও তুলোধুনো করেছেন। তারা বলেছেন, সাহস থাকলে দেশে এসে প্রকাশ্যে এসব কথা বলেন। যারা অজ্ঞাত স্থান থেকে হুমকি দেয়, তাদের ‘কাপুরুষ’ আখ্যাও দেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী।