১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার : যশোর কেশবপুর-চুকনগর সড়কের বেহাল দশা


২৮ জুন ২০২৫ ০৮:২৯

এম এম আবদুর রহমান, কেশবপুর (যশোর): ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা যশোর-কেশবপুর-চুকনগর সড়কের ২ বছর না পেরোতে আবারো সংস্কারের অপেক্ষায় ধুঁকছে। ব্যাপক অনিয়ম, নয়ছয় এর মধ্যে একনেকে পাস করা নকশা কাটাছাঁট করে দক্ষিণ অঞ্চলের ১০ শতাংশের কুখ্যাত শেখ পরিবারের আস্থাভাজন মোজাহার ইন্টারন্যাশনালের সংস্কার করা রাস্তা জামানতের টাকা উঠানোর সাথে সাথে ভেঙে খানাখন্দে ভরে গেছে, বৃষ্টির মৌসুমে অবস্থা আরো কাহিল। বিশেষ করে কেশবপুর, মনিরামপুর শহরের মধ্যে ও কেশবপুর থেকে চুকনগর মুখি সড়কে বড় বড় গর্ত ভারী যান চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যশোরের রাজারহাট খেকে খুলনার চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণকাজ নিম্নমানের হওয়ায় বিটুমিন উঠে গর্ত হয়ে পানি জমে অবস্থা বড়ই করুণ। বিশেষ করে কেশবপুর ও মনিরামপুর পৌর শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। কংক্রিট এর ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ নামকাওয়াস্তে মেরামত করলেও একদিন না যেতেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। রাস্তার দুই ধারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রতিদিন ৩৮কিলোমিটার রাস্তায় কোথাও না কোথাও মালবাহী ট্রাকগুলো রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যাচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত গাইডওয়াল বা রাস্তার সীমানা মার্কিং রঙিন খুঁটি। মনিরামপুরের পৌরসভার মধ্যভাগে অবস্থা বড়ই করুণ তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ৩৮ ফুট রাস্তা চওড়ার স্থলে ২২ ফুটে সীমাবদ্ধ থাকে। এজন্য প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের মধ্যে যানজট লেগেই থাকে। মনিরামপুর শহর পার হতেই ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নষ্ট হয়ে যায়। একনেকের পাস হওয়া রাস্তায় চুকনগর অংশে ওয়াচ টাওয়ার এবং গোলচত্বরের ব্যবস্থা থাকলেও সেই অর্থ কাটছাঁট করে নকশা থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। একই অবস্থা রাজারহাট থেকে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রাস্তা। ব্যবহারকারী যানবাহনের মালিক ও যাত্রীগণ তাদের দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে। রাস্তা সংস্কারের নামে অর্থ নয়ছয় করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের শাস্তি হোক। কেশবপুর শহরের ভারী ট্রাকচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কের ভাঙাচুরার কারণে ট্রাকে ব্যাপক ড্যামারেজ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই অভিযোগ করেন মনিরামপুর শহরের সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্বাস উদ্দিন। এলাকা মানুষ প্রতিদিন বিশেষ প্রয়োজনে রাস্তায় বের হলেই রাস্তা ভাঙাচুরার কারণে কোনো না কোনোভাবে শরীর ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।