রিয়া ও নিফাক দুটি আত্মঘাতী মহাপাপ
২৬ জুন ২০২৫ ১১:১২
॥ এম. মুহাম্মদ আব্দুল গাফ্্ফার ॥
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আরও যেসব মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, জিন ইনসান ছাড়া তারা আল্লাহর হুকুম পালন ছাড়া অন্যকিছু করছে না। একমাত্র মানুষ ও জিন জাতিই তাদের ইচ্ছামতো চলার শক্তি লাভ করেছে। অন্যান্য মাখলুককে আল্লাহ তায়ালা এ শক্তিটা দান করেননি। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দুটি জাতিকে খালেসভাবে তাঁর ইবাদত তথা হুকুম প্রতিপালনের ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বার বার তাঁর হুকুম পালন তথা ইবাদত করার প্রতি আদেশ করেছেন। এ মর্মে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সে রবের ইবাদত (দাসত্ব) করো, যিনি তোমাদের পূর্ববর্তী সব লোকেরই সৃষ্টিকর্তা, তোমাদের আত্মরক্ষা করার উপায় এতেই নিহিত রয়েছে।’ (সূরা বাকারা: ২১)। পবিত্র কুরআনুল কারীমের এ আয়াত দ্বারা গোটা মানবজাতিকে এক আল্লাহর দাসত্ব করার হুকুম জারি করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এরকম বহু আয়াতে বিশ্বের সকল মানুষকে আল্লাহর দেয়া বিধানকে মেনে চলার প্রতি তাগিদ প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহর ইবাদত করতে হবে খালেস তথা আন্তরিকভাবে। আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে কোনো লোক দেখানো প্রদর্শনী, নিজের সুনাম অর্জন বা সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন তথা আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বা ইচ্ছাকে সর্বাগ্রে নির্বাসন দিতে হবে। ইবাদত তথা দাসত্ব শুধুমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার জন্য। এ মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন ‘তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করবে, তাঁর দীনকে খালেস করতে, একনিষ্ঠ ও একমুখী করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (সূরা বাইয়্যেনাহ: ৫)। এ আয়াতের ভাষণ অনুযায়ী, আল্লাহ সুবহানাহুকে সন্তুষ্ট করতে হলে একমাত্র আল্লাহমুখী হয়ে তাঁরই বন্দেগীতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আল্লাহকে মহব্বত করতে গিয়ে তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না। অন্য কোনো সত্তার প্রশ্ন আসলেই সেটা হবে এক ধরনের শিরক। তবে আল্লাহর রাসূলকে (সা.) মহব্বত করতে হবে মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অনুযায়ীই। এ মর্মে পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘হে রাসূল আপনি বলুন তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তাহলে আমার রাসূল (সা.)-এর আনুগত্য কর; তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’ (সূরা আলে ইমরান: ৩১)। এ আয়াতে যে কথা বলা হয়েছে, তা হলো আল্লাহর ভালোবাসা তথা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করতে হলে মহানবী (সা.)-এর আনুগত্য অবশ্যই অপরিহার্য। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও তাঁরই গুণকীর্তন তথা বৈশিষ্ট্যের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করার নামই হলো খালেস আল্লাহর বন্দেগী। বান্দাহ নিজের নামের বাহাদুরী লোকসমাজে প্রকাশ আত্মমর্যাদা লাভ, আত্মপ্রীতি, সুনাম অর্জনের জন্য যে কোনো আমল করবে এটা মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। লোক দেখানো বা প্রদর্শনীর এসব সৎকাজের নামই হলো রিয়া। আর রিয়া মূলত শিরকেরই নামান্তর যা আগেই বলা হয়েছে। রিয়া মুনিন বান্দাহর জন্য কঠিনতর মহাপাপ যার শাস্তি খুবই ভয়াবহ। রিয়া বা প্রদর্শন ইচ্ছা মানুষের মধ্যে গর্ব বা আত্মোহংকারের জন্ম দেয়, যা মানুষের অন্তরে কলুষ-কালিমার সৃষ্টি করে। এ মারাত্মক পাপ মানুষের উদারতা, নিঃস্বার্থপরায়ণতা, নিরপেক্ষতা, ঐকান্তিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, সার্বিক স্বচ্ছতাসহ অনেক গুণাবলিকে ধ্বংস করে দেয়। রিয়া দোষটা যারম ধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তার তাকওয়া তথা পরকালে আল্লাহর দরবারে জবাদিহির চিন্তা-চেতনা থেকে সে দূরে চলে যায়। তার যাবতীয় আমল তথা কার্যক্রম সুনাম সুখ্যাতি তথা আত্মকেন্দ্রিকতার বেড়াজালে আবর্তিত হতে থাকে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে আল্লাহর দীন তথা ইসলামী আন্দোলনের উৎকর্ষতা পরিলক্ষিত হলেও জনশক্তির মধ্যে যে চেতনার সয়লাব ঘটে, তাতে আমল ও ইবাদতের রূহের যে মৃত্যু ঘটে, তাতে আর সন্দেহের কি থাকতে পারে? রিয়া বা প্রদর্শনীর ইবাদতকারীদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ও হাদীসে বহুসংখ্যক বর্ণনায় অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা এসেছে। এ মর্মে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন, ‘শুধু লোক দেখানো ব্যতীত আল্লাহকে এরা খুব কমই স্মরণ করে।’ (সূরা নিসা: ১৪২)।
লোকদেখানো আমল সম্পর্কে মুসলীম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) কর্তৃক একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসের মর্মার্থ কিয়ামতের দিন একজন শহীদ, একজন আলেম ও একজন দাতার বিচার হবে। ঐ বিচারে শহীদ আলেম ও দাতাগণ তাদের আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়েছে বলে দাবি করবে কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলবেন, তোমরা পৃথিবীতে মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য এগুলো করেছো, যার কারণে তোমাদের জন্য আজ জাহান্নাম নির্ধারিত রয়েছে। অতঃপর তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এভাবে রিয়া বা প্রদর্শনীর কুফল সম্পর্কিত বহুসংখ্যক হাদীস মহানবী (সা.) থেকে হাদীস গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম একটি হাদীস এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তাঁর দোষত্রুটি মানুষের গোচরীভূত করবেন আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার সব দোষত্রুটি মানুষকে দেখিয়ে দেবেন।’ (বুখারী, মুসলিম)।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস এরকম হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে এমন জ্ঞান অর্জন করলো যার দ্বারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় কিন্তু তা সে পার্থিব সুখ শান্তি ও সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য অর্জন করলো, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের গন্ধও পাবে না।’ (আবু দাউদ)। আসল কথা হলো লোকদেখানো ইবাদত তথা রিয়া যে একটি মারাত্মক গুনাহর কাজ বা শিরক তাতে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। মুসলমান জ্ঞানী, বিচক্ষণ ব্যক্তি ও মনীষীগণকে এ ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য কর্তব্য অবশ্যই।
মুমিন ব্যক্তিদের জন্য আরেকটি জঘণ্যতম মহাপাপ হলো নিফাক। যার মধ্যে নিফাকি রয়েছে সে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের পরিভাষায় মুনাফিক হিসেবে অভিহিত। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মুনাফিকদের দ্বারাই আল্লাহর দীনের সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে মহান রাব্বুল আলামিন মুনাফিকদের শাস্তি সম্পর্কে ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের তলদেশে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (আল কুরআন)। মুনাফিকরা তাদের অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রেখে মুখে ইসলামের প্রতি বিশ্বাসের দাবি করে। মূলত তাদের এ দাবি ডাহা মিথ্যা। তারা ইসলামের মূলে আঘাত করার লক্ষ্যে মুমিনের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং মুসলমানেদর যেকোনো দুর্বলতার সুযোগে মুসলিম সমাজে ভাঙন ধরিয়ে নিজেদের হীন স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর হয়। এরা নিছক সামাজিক সুবিধা আদায় ও মুসলমানদের আক্রমণ তথা আঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য মুসলিম সমাজে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। এদের কুকীর্তি ফাঁস হবার মুহূর্তে এরা আল্লাহর নামে কসম করে নিজেদের মুলমান বলে জাহির করার অপপ্রয়োগ চালায়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘তারা নিজেদের শপথসমূহকে ঢাল বানিয়ে নিয়েছে, আর এভাবে তারা আল্লাহর পথ হতে নিজেরা বিরত থাকে ও অন্যদের বিরত রাখে, এরা যা কিছু করছে তা কতই নিকৃষ্ট ধরনের তৎপরতা। এসব কিছু শুধুমাত্র এ কারণে যে এ লোকেরা ঈমান এনে পরে আবার কুফরি গ্রহণ করেছে, এজন্য তাদের দিলের ওপর মোহর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা কিছ্ ুবুঝে না।’ (সূরা মুনাফিকুন: ২-৩)। এ শ্রেণির মুনাফিকদের মুনাফিকে আকবর বলা খুবই যুক্তিসংগত তাতে আর সন্দেহ কি? এরা আল্লাহর দীনকে ধ্বংস করার সুযোগ সন্ধানে ব্যস্ত থাকে, সুযোগ পেলে ভয়ঙ্কর রূপে আত্মপ্রকাশ করে। আরেক শ্রেণির মুনাফিক যারা দুর্বল ঈমানের অধিকারী। আল্লাহর দীনকে এ জমিনে বিজয়ী করতে কোনোরূপ ঝুঁকি গ্রহণে ওজর আপত্তি পেশ করে। পবিত্র কুরআনুল কারীম ও হাদীসে এদের সম্পর্কে অনেক বর্ণনা এসেছে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাঁর পয়গম্বরকে জানিয়েছেন, ‘তুমি তাদেরকে দেখেছো কি? তাদেরকে বলা হয়েছিল যে তোমাদের হাত ফিরিয়ে রাখো, নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও, এবার যখন তাদেরকে লড়াই করার আদেশ দেয়া হয়েছে তখন তাদের এক অংশের লোকদের অবস্থা এই যে, তারা অন্য লোকদের এমন ভয় করে যে রকম ভয় আল্লাহকে করা উচিত, কিংবা তার চেয়েও বেশি ভয়; তারা বলে: হে আল্লাহ এ লড়াই করার আদেশ কেন আমাদের প্রতি লিখে দিলে? আমাদেরকে আরও কিছুকাল অবসর দেয়া হলোনা কেন? তাদেরকে বলো দুনিয়ার জীবন সম্পদ অত্যন্ত কম, আর পরকাল একজন আল্লাহভীরু ব্যক্তির জন্য অতিশয় উত্তম, আর তোমাদের প্রতি একবিন্দু পরিমাণও জুলুম করা হবে না।’ (সূরা নিসা: ৭৭)। কুরআনুল কারীমের এ আয়াতের ভাষ্য মোতাবেক যে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে, তা হলো ঈমানের দুর্বলতার কারণে অনেক লোকের মনমানসিকতায় খুলুসিয়াতের ঘাটতি দেখা দেয়। এ থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হলো আল্লাহর ভয় অন্তরে সৃষ্টি করে দেহ-মন এক আল্লাহর হুকুমের তাবেদার বানানোর সর্বাত্মক সাধনায় আত্মনিয়োগ করা। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর দাসত্ব ও মহানবী (সা.) এর আনুগত্যকে অন্তরে স্থায়ী আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে।
মানুষের মধ্যে নিফাক সৃষ্টি হয় সুবিধাবাদ প্রীতি থেকে। স্বীয় হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই নৈতিকতা বর্জিত মানুষেরা নিফাকি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। মুনাফিকের চরিত্রে চারটি দোষ বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। যে সম্পর্কে মহানবী (সা.) এর একটি হাদীস এভাবে এসেছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার মধ্যে চারটি অভ্যাস পাওয়া যাবে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর যেকোন একটি অভ্যাস আছে তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি অভ্যাস রয়েছে যতক্ষণ না সে এটা পরিত্যাগ করে। অভ্যাসগুলো হলো যখন আমানত রাখা হয়, তখন খিয়ানত করে, কথায় কথায় মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা বা চুক্তি করে তখন তা ভঙ্গ করে, যখন ঝগড়া করে তখন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করে।’ (বুখারী, মুসলীম)। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে অন্য একটি হাদীস এভাবে এসেছেÑ যে ওয়াদা পালন করেনা তার দীন (ধর্ম) নেই। আর যার মধ্যে আমানতদারী নেই তার কোনো ঈমান নেই। মূলত এসব দোষগুলোর পথ বেয়েই নিফাক মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে। এ নিফাক মুক্ত হবার একমাত্র উপায় হলো খালেছভাবে তাওবা করে নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) আদেশ নিষেধ মেনে চলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। এ মর্মে মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন, ‘বস্তুত, আমি একমাত্র এ উদ্দেশ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ নিষেধ মান্য করা হয়, আর যেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল তখন যদি (হে রাসূল) আপনার কাছে আসতো অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং রাসূলও যদি তাদেরতে ক্ষমা করে দিতেন অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।’ (সূরা নিসা: ৬৪)।
বিশুদ্ধ তাওবা ছাড়া মুনাফিক তথা গুনাহ কবীরায় লিপ্ত ব্যক্তিদের রেহাই পাবার কোনো উপায় নেই। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বহুবার ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা তাওবা করো সহীহ অর্থাৎ বিশুদ্ধ তাওবা।’
পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভাষণের মর্মার্থ হলো খুলুসিয়াতের সাথে আল্লাহর ইবাদত করলে কেবল তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব অন্যকোনো পন্থায় নয়। এ মর্মে একটি হাদীস এরকম হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে এমন জ্ঞান অর্জন করলো, যা দ্বারা মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় কিন্তু তা সে পার্থিব সুখশান্তি ও সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য অর্জন করলো সে কিয়ামতের দীন জান্নাতের গন্ধও পাবে না।’ (আবু দাউদ)।
হাদীসগ্রন্থের ভাষায় যে বিষয়টি এসেছে, তা হলো যে ব্যক্তি কোথাও উপস্থিত হলে তাঁর খবর কেউ রাখে না বা তাঁর প্রতি কেউ গুরুত্ব দেয় না অথচ তাঁর অন্তর ঈমানের আলোকে উজ্জ্বল এ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট প্রিয়।
এ রিয়া থেকে মুক্তিলাভ করার প্রকৃত উপায় হলো একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে রাজি-খুশি করার জন্যই ইবাদত করা, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। যত বেশি পারা যায় গোপনে তথা সকলের অগোচরে নেক আমল করা। এক্ষেত্রে অপ্রকাশ্যে দান করা ও শেষরাত্রে ঘুম থেকে জেগে সালাত আদায় ও সর্বক্ষেত্রে মহান রাব্বুল আলামিনের সাহায্য প্রার্থনা করাও রিয়া থেকে মুক্তি পাবার উত্তম পদ্ধতি হতে পারে।
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবাইকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক : সদস্য, দারুল ইসলাম ট্রাস্ট, দরগাহ রোড, সিরাজগঞ্জ।