একজন বিশ্বনন্দিত মানুষের মাঝেও সব গুণ থাকে না
২৬ জুন ২০২৫ ১০:৫১
॥ মাহবুবুল হক ॥
অন্তর্বর্তী সরকারের দশ মাসে দেশে কিছু হয়নি- এমন কথাও তো হরহামেশা আমরা শুনছি। কেউ কেউ তো বলছেন, আরে ৯ মাসে আমরা দেশ স্বাধীন করে ফেলেছি, এখন তো এরা রাজধানী ঢাকার যানজটটাই সরাতে পারল না। চোখের সামনে জ¦ল জ¦ল করে যে সমস্যা বিদ্যমান, তা যখন এ সরকার সমাধান করতে পারেনি বা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেনি, তখন চোখের সামনে যেসব সমস্যা নেই, সেসবের অবস্থা তো অবশ্যই বোধগম্য।
সাধারণ যুক্তির হিসেবে এসব আলোচনাকে তুল্যমূল্য করা যায়। উদাহরণ হিসেবে ৫০-৬০ দশকের গ্রামের সালিশ-দরবারের ‘নাটকের’ কথা উল্লেখ করা যায়। সাধারণত সমাজের মোড়ল, মাতবর শ্রেণির বয়স্ক, বিজ্ঞ মানুষেরাই সালিশ-দরবারের সদস্য থাকতেন। জেলা পর্যায়ে যারা আদালতের জুরি থাকতেন, তাদের তো রীতিমতো জজ বলে অভিবাদন জানানো হতো বা মান্য করা হতো। তারা যেনতেন প্রকারে ‘সুজারে বোঝাতেন’- এমন কথা আমরা বলছি না। কিন্তু ‘সালিশ-দরবার’ বিষয়ে নানা কারসাজি ও ফন্দিফিকির তখন চলত, এখনো চলে।
দৃষ্টান্ত হিসেবে, নমুনা হিসেবে বা উদাহরণ হিসেবে সবসময় আমরা সমানুপাতিক বিষয় আনতে পারি না বা নিজের স্বার্থে আনি না। নিজের স্বার্থ, এলাকার স্বার্থ বা দলের স্বার্থ ছাড়া আমাদের তো আর অন্য কোনো স্বার্থ নেই। সুতরাং আমরা যখন যেখানে থাকি, ঘুরেফিরে ওই তিনটি স্বার্থের কথাই বলি। কোথায় ৯ মাসের যুদ্ধ আর কোথায় যানজট! দৃষ্টান্তেরও তো একটা সীমা-পরিসীমা থাকে। একটা লাইন থাকে। একটা মাত্রা থাকে। এ ধরনের উদাহরণের ক্ষেত্রে পাকিস্তান আমলে বলা হতো, ‘কোথায় আইয়ুব খান, আর কোথায় সিঙ্গেল পান?’
যাক এসব, আমরা কারো কথার জবাব দিতে এখানে বসিনি। আমরা শুধু এটুকুই বলব, জুলাই-আগস্টে (২০২৪) যে সাময়িক বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়েছে, তাতে আপামর জনসাধারণের লাভ হয়েছে। প্রথম লাভ হলো একটা সরকার পাওয়া। সরকার পাওয়া মানে অভিভাবক পাওয়া, জান ও মালের নিরাপত্তা পাওয়া, মান-সম্মান-ইজ্জতের রক্ষাকর্তা পাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।
সরকার পাওয়ার সাথে সাথে এসব আমরা পেয়েছি। বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের বেশ আগে থেকেই তো সরকার বলতে কিছু ছিল না। জনগণের জান-মাল ও ইজ্জত-সম্মানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিভিন্ন দলের কর্মীদের মধ্যে মারামারি এবং খুনোখুনি চলছিল। এসব বন্ধ করার বিষয়ে কারো কোনো মাথাব্যথাও ছিল না। দেশব্যাপী হরদম এসব চলছিল। এ বিষয়ে দিন দিন হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল। এসব বন্ধ হতে না হতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল কোনো কোনো দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের মারামারি ও খুনোখুনি। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর এ দুই ধরনের কলহ-বিবাদ অনেকাংশে কমে যায়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে বিভিন্ন দলের নেতা ও কর্মীগণ।
পতিত সরকারের সঙ্গে যারা, যেখানে, যেভাবে জড়িত ছিল, তারা সকলে ভেবেছিল, এবার আর রক্ষা নেই। কত ধরনের বিরোধী পক্ষ, কেউ না কেউ, তাদের জান-মাল-ইজ্জত-আব্রু ধ্বংস বা বিনষ্ট করবে। এক দলের কাছে ছাড়া পেলে আরেক দলের কাছে ধরা পড়বে। ধন-সম্পদ লুটপাট হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জমিজমা হাতছাড়া হবে। আরো কত কী হবে! কিন্তু দেখা গেল, সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য এবং ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যারফলে বিদ্বেষ, হিংসা বা প্রতিহিংসা সমাজে উপস্থিত হয়নি। বরং দু-একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীগণ সরকারের পজিটিভ উদ্যোগকে বাহবা জানাল। অভিনন্দন জানাল। শুধু তাই নয়, সরকারের সাথে সাথে অন্য রাজনৈতিক দলও একই ভূমিকা পালন করতে লাগল। ফলে বড় ধরনের দূরের কথা, ছোট ধরনের প্রতিহিংসাপরায়ণ তেমন কোনো ঘটনা সংঘটিত হয়নি। এটা ছিল একটা বড় ধরনের পজিটিভ বিষয়। যেখানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেখানে তা না হয়ে একটা স্বস্তির পরিবেশ রাতারাতি প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেল। এটা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক এক সাফল্য। কিন্তু এ সাফল্যকে তেমনভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। সরকারের নিজস্ব কোনো দল ছিল না, সেই অজুহাত তুলে এ বিষয়টিকে অবমূল্যায়ন করলে অবশ্যই অবিচার করা হবে। সরকার ছাড়া যে দু-একটি দল এ পরিস্থিতিতে ব্যাপকহারে ফায়দা লুটেছে, তাদের একদিন না একদিন এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। আগামী ভোটের মাধ্যমেও এর পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব পাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ আগাম বক্তব্য রেখেছেন।
সরকার গঠনের পরপরই প্রতিবেশী ভারত, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমাদের দেশে কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি করল। সিলেটের দিক থেকে চারবার এবং ত্রিপুরার দিক থেকে বড় ধরনের দুবার। এ থেকেও দু-একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য সকল দল সরকারের অ্যাকশনকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানালো এবং দলীয় ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করল। এখানেও আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতাই প্রত্যক্ষ করেছি।
প্রতিবেশী তথাকথিত বন্ধু দেশ বন্যার অথৈ পানিতে দেশকে একেবারে ধ্বংস করতে না পেরে, অর্থাৎ এক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে বাংলাদেশে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির যাবতীয় পাঁয়তারা শুরু করল। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমত ও দেশপ্রেমিক অভ্যুত্থানকারী দল এবং জনগণের সহযোগিতায় তাতেও তারা বিজয় লাভ করতে পারেনি। চাল ছাড়া জিনিসপত্রের দাম খুব একটা বাড়েনি। প্রত্যন্ত এলাকার কোনো কোনো জায়গায় পরিবহনের অভাবে কিছু কষ্ট হলেও সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রবল প্রচেষ্টায় তথাকথিত দুর্ভিক্ষ হয়নি। জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেনি।
পতিত সরকার ও দলের লোকজন এবং প্রতিবেশী দেশের চাণক্য রাজনীতি বার বার পরাজিত হওয়ায় তারা ‘মোসাদ’ ও ‘র’-এর মাধ্যমে আমাদের দেশীয় রাজনীতিতে ভাঙন ধরানোর উদ্যোগ নিল। অন্য দলের মাধ্যমে পতিত দলকে সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করল। কিছুটা পারল। কারণ সেক্যুলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বা অস্ত্র হলো ‘সুবিধাবাদ’। ব্যক্তির সুবিধা, দলের সুবিধা ও গোষ্ঠীর সুবিধা একই সমান্তরালে উপনীত হলে আর তো কোনো বাধা থাকার কথা নয়। ছোট দেশ, একে-অপরের আত্মীয়, অকে-অপরের বন্ধু, একে-অপরের বন্ধুর বন্ধু, একে-অপরের শত্রুর বন্ধু, এসব তো ভেতরে ভেতরে চলতেই থাকে। রাজনীতির ক্ষেত্রে ক্ষয়িষ্ণু থেকে লাভ কী? বিপ্লবী হয়ে লাভ কী? ‘নগদ নারায়ণ’ আর সুইস ব্যাংক সবই তো খোলা। সুইস ব্যাংকে জমানো টাকা কি কোনো সরকার উদ্ধার করতে পারবে? ইউনূস সরকার যখন পারেনি, অন্য কোনো সরকারও পারবে না। ইতোমধ্যেই তো সুইস ব্যাংকে নতুন করে বিশাল অংকের টাকা জমা হয়েছে। এখানেই সরকারের কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে। যারা জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে, যারা পতিত সরকার ও দলের লোকজনের সঙ্গে দেশে-বিদেশে ঘন ঘন বৈঠকে বসছে, যারা প্রতিবেশী দেশে হরদম যাওয়া-আসা করছে, তাদের প্রতি ভিন্ন দেশপ্রেমিক দলের লোকজন খোঁজখবর রাখলেও অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো খোঁজখবর রাখছে না। সরকারের এ উদাসীনতা, উদারতা বা উপেক্ষা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক অনৈক্য সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
শুরু থেকেই সরকারের সমালোচনা ছিল, ইউনূস সাহেব বিদেশি নাগরিক, এনজিও কর্মকর্তা ও নিজস্ব বলয় থেকে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। বিদেশি নাগরিকরা বিদেশকে খুশি করার জন্য কাজ করবেন অথবা যে দেশের নাগরিক, সেই দেশ বা সেই দেশের সরকার ওই নাগরিকের মাধ্যমে ফায়দা লুটবে- এটাই তো স্বাভাবিক। অন্তত আমাদের দেশের মানুষ এ বিষয়টিকে সেভাবেই দেখে আসছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এতেই দৃঢ়ভাবে নিবদ্ধ। এনজিগুলোকেও এ দেশের মানুষ সেভাবে পছন্দ করে না, তাদের দেশীয় মনন ও মূল্যবোধের বিরোধী মনে করে। বিদেশি সংস্কৃতির এজেন্ট মনে করে। এছাড়া ইউনূস সাহেব নিজস্ব বলয় থেকে যাদের সম্পৃক্ত করেছেন, তাদের দেশের মানুষ প্রথম থেকেই দেশপ্রেমিক, উপযুক্ত বা দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেনি। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ মুখ্যজনদের অনেকের বিষয়ে এ ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা প্রথম থেকেই বিরাজমান। প্রশাসনে বা ম্যানেজমেন্টে ‘হায়ার এন্ড ফায়ার বলে’ শক্ত ও মজবুত কথা আছে। সঠিক সময় সঠিক ও দক্ষ লোক ‘হায়ার’ করতে হবে, আবার প্রয়োজনে ‘ফায়ার’ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। যারা এ ‘প্রেসকিপশন’ ‘ফলো’ করেছেন, তারা সফলতা অর্জন করেছেন। যারা নানাদিক বিবেচনা করে সংবেদনশীল থেকেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এ জায়গায় ইউনূস সাহেবের সহনশীলতা ও মহানুভবতাকে অধিকাংশ দেশবাসী ‘পজিটিভ এ্যাটিচুড’ হিসেবে বিবেচনা করছে না। তারা ভাবছে, ‘গরমে তো বরফ গলে যাচ্ছে।’
কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রাধান্য দেয়া, বিশেষ বিশেষ কমিশনকে উচ্চকিত করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুই ভাগ করা, মিয়ানমারকে কনফিডেন্সে নেয়া, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার বিষয়ে অগ্রিম কথা বলা, রোহিঙ্গা কমাতে গিয়ে বাড়িয়ে ফেলা, সংস্কার ও বিচার বিষয়ে শক্ত কথা না বলা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পূর্বাহ্নে করার বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত না করাসহ কিছু বিষয় আছে, সেসব বিষয়ে সরকারকে স্থির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হুট-হাট করে যেমন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না, তেমনি অতি প্রয়োজনে বিলম্বও করা যাবে না। দুনিয়ায় এখন ইউনূস তো একজনই, সুতরাং দেশবাসীর আবদার ও প্রত্যাশা তো অনেক!
তারপরও বিদেশে এসে অনুভব করছি, প্রবাসীরা অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর খুব খুশি না হলেও প্রফেসর ইউনূসের ওপর খুব খুশি। তাদের কথা হলো, ইউনূস সাহেব প্রধান উপদেষ্টা হলেও তিনি একাই তো সবকিছু করতে পারছেন না। এখনো বিশ্বায়ন ও ফ্রি ইকোনমি বিদ্যমান। পৃথিবীর কাছে রয়েছে কয়েকশ’ ধর্নাঢ্য পরিবারের শিকল। পৃথিবীর নড়াচড়া, যুদ্ধ-বিগ্রহ, অস্ত্র নির্মাণ, অস্ত্র ব্যবসা, জাতিসংঘের ক্রমাগত নিষ্ক্রিয়তা ও অধঃপতন এবং তার সাথে তথাকথিত উন্নত দেশের মেলবন্ধনে সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে প্রফেসর ইউনূস অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এ পর্যন্ত যা করেছেন, তুলনাহীন, অচিন্তনীয় এবং অপূর্ব। সবই মহান আল্লাহর দান। মহান আল্লাহ সকলকে একসাথে সবকিছু প্রদান করেন না। কারণ বান্দাদেরও তো দোষ-ত্রুটির অন্ত নেই।
প্রফেসর ইউনূস শান্তির মানুষ। বাংলাদেশে এখন কিছুটা শান্তি তো আছে। চালের দাম ৪০ শতাংশ কমাতে পারলে ৫০ শতাংশ স্বস্তি বাড়বে। আরো দুই কোটি মানুষ বিদেশে পাঠাতে পারলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বস্তি বাড়বে। ইহকালে সুখ ও শান্তি সুদূরপরাহত। শুধু স্বস্তি চাই।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশ ও জাতির জন্য সবচেয়ে বড় কাজ করেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ব্যান্ড করে। এরপর সর্বকালে এবং সর্বযুগে এ বিষয়টি সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। পৃথিবীতে অনেক কাল ধরে ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ হচ্ছিল না। বরং উল্টোটাই হচ্ছিল। মনে হয়, একটা সুন্দর সময়ে প্রফেসর ইউনূস এ বিষয়টির ফিতা কাটলেন। আলোর উদ্বোধন হলো, উৎকৃষ্টের উদ্বোধন হলো, তাও দরিদ্র ও অল্প শিক্ষার বাংলাদেশ থেকে। এ যে ঘোর অন্ধকার সময়ে তিনি আলোর একটি উজ্জ্বল মশাল জ্বালালেন, সেজন্য তিনি মহান মালিকের পক্ষ থেকে ইহকাল ও পরকালে অভাবনীয় পুরস্কার পাবেন, ইনশাআল্লাহ। যারা এ মহান কাজটিতে সমর্থন করেছেন, তারা পৃথিবীর দুষ্প্রাপ্য সম্পদ-এসেস্ট, যারা করতে পারেননি, তারা নিঃসন্দেহে এ পৃথিবীর জন্য নিকৃষ্ট লায়াবিলিটি।
আমাদের দেশ ও জাতির জন্য, শুধু এখনকার জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটা বড় ন্যক্কারজনক কাজ হয়েছে ইতোমধ্যে (মেয়র মামলা)। সরকারের পক্ষ থেকে একটি আপিল পেশ করলেই এতবড় জঘন্য কাজটি সংঘটিত হতো না। ইতোপূর্বে মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করতে অবহেলা বা বিলম্ব করেছিলেন বলে দেশ ও জাতির কত সর্বনাশ হয়েছে, তা দেশবাসী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন এবং আরো অনেক দিন করবেন।