দিল্লির সিদ্ধান্তে কড়া মাশুল দিচ্ছে সেভেন সিস্টারের নাগরিকরা


২৬ জুন ২০২৫ ১০:৪৭

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
বাংলাদেশ কি ভারতের সাথে কোনো সংঘাতে জড়িয়েছে? দুই দেশের মধ্যে সীমানা নিয়ে কোনো বিরোধ হয়েছে? বাংলাদেশ কি ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে? অথবা কোনো বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে?
এতগুলো প্রশ্ন করার মানে হলো, গত প্রায় দশ মাস যাবত ভারত বাংলাদেশের প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ ও বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন। কিন্তু এর কোনো দৃশ্যমান ‘কারণ’ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও ভারত বাংলাদেশের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করেই যাচ্ছে। গত বছর আগস্ট থেকে এ অবস্থা জিইয়ে রেখেছে তারা। এর দৃশ্যমান কারণ হতে পারে একটাই যে, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার অবসান। যে দলটি ছিল ভারতের শাসকমহলের একেবারে বশংবদ ও অনুগত। সেই সরকারের পতনে তারা বেজায় অখুশি, রাগান্বিত। যে কারণে বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়ে তাদের প্রতি বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু এ পরিবর্তন বা বদলে দেয়া তো নিতান্তই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বাংলাদেশের জনগণ কাকে ক্ষমতায় রাখবে আর কাকে বিদায় করবে, সেটি নির্ধারণ করা অন্য দেশের বিষয় হওয়া উচিত নয়। যদিও তাদের পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে সম্পর্ক রক্ষায় স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার তাগিদে। কিন্তু তাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং অনেকটাই চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেয়ার কোনোই অবকাশ নেই। আর এটি কি ভারত নিজেদের বেলায় পছন্দ করতো? নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারা সেই অবস্থা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
বাণিজ্য নিয়ে আচরণ
বিশেষ করে ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে চলেছে। ভারত সব স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি নিষিদ্ধ করার আদেশ জারি করেছে। এর বাইরে আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের সব শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয়, ফার্নিচার, প্লাস্টিক পণ্যসহ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব পণ্য পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকেও রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়।
কিন্তু এটি যে তাদের জন্যই বুমেরাং হচ্ছে, সে বোধ যেন হারিয়ে ফেলছে। তবে ভারতীয়রাই বলছে, এই করে যেন ‘নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে ভারত’। সেখানকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে কড়া মাশুল দিচ্ছে সেভেন সিস্টারের নাগরিকরা। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের সাথে লাগোয়া ভারতের সাত রাজ্যের অর্থনীতি। সাম্প্রতিক দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপড়েনে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। এতে চলমান সংকটের জেরে আঞ্চলিক অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরদের আর্থিক লোকসানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আকারে-আয়তনে জনসংখ্যা বহুগুণে বড় হলেও বাস্তবে বাংলাদেশের সাথে নির্ভরশীল প্রতিবেশী ভারত। কয়েকদিন আগেই তৈরি পোশাকসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের স্থলপথে আমদানি নিষিদ্ধ করে নয়াদিল্লি। নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া হয় সেভেন সিস্টার ও পশ্চিমবঙ্গের স্থল সীমান্ত দিয়ে এসব পণ্য রপ্তানি করতে পারবে না ঢাকা। আর এখান থেকেই মূল সংকটের শুরু। বাংলাদেশের সাথে ১৩টি স্থল বন্দর আর চারটি নৌবন্দর রয়েছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত ধরা হয়ে থাকে- আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরামের বন্দরগুলোকে। বাংলাদেশের তৈরি কাঠের আসবাবপত্র কিংবা প্লাস্টিক পণ্য, সিমেন্ট, তুলা এমনকি মাছসহ বেশ কয়েকটি খাদ্যপণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের আগে প্রতিদিনই গড়ে বড় বড় পণ্যের রপ্তানি চালান করা হতো রাজ্যগুলোয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকটা পথ ঘুরে ৮ থেকে ১০ দিন সময় নিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে ভারতে। হিন্দুস্তান টাইমসের দাবি, এর ফলে চড়া দামে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে ভারতীয় ক্রেতাদের। শুধু তাই নয়, সীমিত হয়ে যাওয়া আমদানি-রপ্তানি ভাটা পড়েছে সেভেন সিস্টারের ব্যবসায়ীদের কপালে। এ গণমাধ্যমের দাবি, চলমান সংকটের জেরে ১০ হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া ব্যাপকভাবে লোকসানে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এসব রাজ্যের ট্রাক মালিক, চালক ও দিনমজুররাও।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে আসামের সুতারকান্দি স্থলবন্দরে। একসময়ের ব্যস্ত স্থলবন্দরটি পরিণত হয়েছে প্রায় জনমানবশূন্য সীমান্তে। বন্দরে একজন শ্রমিক আগে যেখানে পাঁচশত থেকে ৭ শত রুপি আয় করতো, বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০ রুপির মুখ দেখছেন শ্রমিকরা। একই চিত্র মেঘালয় সীমান্তে। প্রতিবেদনটির তথ্যানুযায়ী, বাণিজ্য বন্ধের কারণে পাঁচ দিনে আড়াই কোটি রুপির রাজস্ব হারিয়েছে মেঘালয়। বন্ধ হয়ে গেছে রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ত স্থল শুল্ক স্টেশন ডাউকি। বন্ধ হয়েছে কয়লা, বোল্ডার পাথর, চুনা পাথর রপ্তানিও।
অন্যদিকে কিছুটা স্বস্তিতে ত্রিপুরা। কেননা বাংলাদেশি পণ্যের এখনো কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। তবে মজুদ শেষ হলে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। কারণ ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বিশাল।
এদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত পশ্চিম মিজোরামের স্থলবন্দরটির। ধস নেমে পড়েছে এ স্থলবন্দরটির অন্যতম আদা বাজারে। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছে রাজ্যটির আদা ব্যবসায়ীরা। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এ রাজ্যে আদার দাম কেজিপ্রতি ৯ থেকে ১০ টাকা কমেছে। অর্থাৎ এককথায় বলতে গেলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে নিজের ফাঁদে পা দিয়েছে ভারত। যার সুস্পষ্ট উদাহরণ ধীরে ধীরে উঠে আসছে গণমাধ্যমগুলোয়।
বিপন্ন পর্যটন
এর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের অধিকাংশ গণমাধ্যম এমন এক যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো অবস্থা তৈরি করে, যার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য ভারত প্রায় একটি নিষিদ্ধ দেশে পরিণত হয়। কিন্তু তার পরিণতি হয় উল্টো। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় মার্কেট, পর্যটন স্পট, চিকিৎসা কেন্দ্র প্রভৃতি আর্থিক লেনদেনের স্থানগুলো বিরানভূমিতে পরিণত হয়। এসব স্থানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আহাজারি করতে দেখা যায়। তাতে এটা স্পষ্ট হয় যে, ভারতের পর্যটন খাত বাংলাদেশিদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের অবদান উল্লেখযোগ্য।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস রিপোর্ট করে, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে পর্যটন ব্যবসায় তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এরপর যত সময় গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর তাদের ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় অপারেটরদের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ভারত সরকারের তথ্যমতে, দেশটিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশিদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মেডিকেল ভিসায় ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসেই যান পাঁচ লক্ষাধিক বিদেশি। এদের সিংহভাগই বাংলাদেশি পর্যটক। ভারতীয় একটি সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশে ভারতে যান। ভারতে যাওয়া মেডিকেল পর্যটকদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই হলেন বাংলাদেশি। এমনকি ভারতের হাসপাতালগুলোয় সর্বমোট যত রোগী সেবা নেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অংশ প্রায় তিন শতাংশ। সেসময় তারা জানায়, কেবল আগস্ট মাসেই ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর পুরো বছরের হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০২৩ সালের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম। সেসময় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব এরই মধ্যে টের পেতে শুরু করেছে ভারতের হাসপাতালগুলো।
বাংলাদেশের পরিবর্তন বিশেষত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পশ্চিমবঙ্গের কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাহাকার বা সংকট দেখা যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো, বাংলাদেশ থেকে পর্যটক ও চিকিৎসা প্রত্যাশীদের ভারতে আসার সংখ্যা কমে যাওয়া। বিশেষ করে কলকাতার ব্যবসা-বাণিজ্য; বিশেষ করে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত এলাকা, যেখানে বাংলাদেশিদের আনাগোনা বেশি ছিল, সেখানে এর প্রভাব পড়েছে।
কূটনৈতিক টানাপড়েনকে ছাপিয়ে ভারত যেন বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর হামলে পড়ে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বন্দর ব্যবহার করে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দিয়েছিল ভারত। আকস্মিকভাবে গত ৮ এপ্রিল তা বাতিল করে দেয়া হয়। অগত্যা তার এক সপ্তাহ পরই অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সর্বশেষ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ আরো বেশকিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত সরকার, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়। এর ফলে বন্দরে বন্দরে আটকা পড়ে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রাক। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত পাঁচ দশকের সম্পর্কে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে এভাবে আর কখনোই একের পর এক পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে দেখা যায়নি।
অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রায়ই ভারতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য; যেমন- চাল, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, আলু ইত্যাদির ওপর আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে বাংলাদেশকে সংকটের মুখোমুখিও হতে হয়েছে অনেকবার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের এ সিদ্ধান্ত যতটুকু বাণিজ্যিক, তার থেকে অনেক বেশি রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে সে দেশে বাণিজ্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যার সমাধান দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে হওয়া উচিত।
অন্যায্য বাণিজ্য
বরাবরই দেখা যায়, বাণিজ্য সম্পর্ক প্রায়ই ভারতের পক্ষে ঝুঁকে থাকে, যেখানে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতির বোঝা বহন করে চলেছে। যেটি অন্যায্য বাণিজ্য হিসেবে আখ্যায়িত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সটাইল এবং কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অন্যায্য প্রতিযোগিতার উদ্বেগ অসন্তোষ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ট্রানজিট রুটের মতো উদ্যোগগুলো ভারতের জন্য উপকারী হলেও সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সুস্পষ্ট সুবিধা সীমিত। এখন বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাপ খাওয়াতে ভারতের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা দৃষ্টিকটুভাবে দৃশ্যমান। ভারত চাইলে পারস্পরিক বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ক্ষতগুলো মেরামত করতে পারে- এটা তার জন্যই বেশি জরুরি। কেননা এটি না হলে তার পণ্য রপ্তানির বিশাল ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ প্রেক্ষাপট বোঝা পারস্পরিক অবিশ্বাসের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
ভারত এমনিতেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রভুসুলভ আচরণ করতে পছন্দ করে। তথাপি দেখা যায়, বাংলাদেশের কাছ থেকে তারা যতটা সম্ভব বেশিটা পেতে চায়। কিন্তু দেয়ার বেলায় কেবলই নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলেও তার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না। গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে অব্যাহত থাকা এবং সীমান্তে অহেতুক হত্যাকাণ্ড না চালানোর মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে ভারত কখনোই পাত্তা দিতে চায়নি। এখন নয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, এতে নিজেরাই ধরা খেতে বসেছে। বাংলাদেশ কোনো দেশের সাথেই ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘নেতিবাচক’ সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে প্রতিবেশীসুলভ সমআচরণ বরাবরই তার প্রত্যাশার অন্তর্ভুক্ত।