শিক্ষক সমাবেশ


১৯ জুন ২০২৫ ১৪:১৫

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী বলেন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন শিক্ষকদের আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার একটি কারখানা। যারা আমরা এ শিক্ষক পরিষদের ব্যানারে সম্পৃক্ত হয়েছি এখানে লাখ লাখ শিক্ষক ট্রাডিশনাল শিক্ষক, শিক্ষকের নামে শিক্ষক। এ শিক্ষকদের ভেতরে অনেকের সুনাম এবং দুর্নাম রয়েছে। মানুষের সুনাম বাইরে কম আসে, আর দুর্নাম দ্রুত ছড়ায়। আমাদের দায়িত্ব শিক্ষক সমাজকে এ দুর্নামের হাত থেকে রক্ষা করা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের বৈষম্য দূরীকরণ নিশ্চিত করার দাবিতে গত শনিবার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখা আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহ লাভ করেছি। রাব্বুল আলামিন আমাদের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
যে শিক্ষকের ভেতরে মানের ঘাটতি আছে, যার কারণে সমগ্র শিক্ষক সমাজ ঘৃণিত, নিন্দিত ও অপমানিত হয়। এ পরিবেশে সেসব শিক্ষক- যারা মানের দিক থেকে অত্যন্ত পেছনের দিকে, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য শুধুমাত্র জামায়াত-শিবির দেখলে হবে না সাতক্ষীরার প্রতিটি শিক্ষকের কাছে আমাদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। এ কাজটি করতে পারলে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হবে।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আশফাকুর রহমান বিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুহা. রবিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মাওলানা শাহজান মাদানী প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, আমাদের ভাই যারা এ ফেডারেশনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন, এদের ভিতরে অনেকই একাডেমিক্যালি দুর্বল। পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন, কিন্তু ক্লাসে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পারফরমেন্স করতে পারছেন না। কাজেই যাদের ভেতরে একাডেমিক ঘাটতি আছে, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
সব শিক্ষককে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, যে টাকাগুলো দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে, সেই টাকা ফিরিয়ে এনে ফান্ডে জমা করেন। দেখবেন সব শিক্ষককে আমরা নিয়মিত বেতন দিতে পারবো। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, টাকা না দিতে পারলে জাতীয়করণের ঘোষণা দিন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের রেগুলার করার চেষ্টা করলে হয়ে যাবে। আমাদের যে সম্পদ আছে, এ সম্পদ দিয়ে এগুলো করা যাবে। এখন দরকার হলো সিনসিয়ারিটির। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের উপকারে আসে, সেই রকম মানবসম্পদে গড়ে তুলে তাদের মানসম্মত বেতন দিয়ে জীবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগদানের আহ্বান জানান তিনি।
এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি মো. আব্দুর রহিম সরকার, সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদরাসার সভাপতি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাগরদাড়ি আমিনিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, শ্যামনগরে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা আজিজুর রহমান।