নূরুন্নাহার নীরু-এর কবিতা

প্রেমোৎসর্গ


১৯ জুন ২০২৫ ১২:২৬

এ কেমন প্রত্যাদেশ?
স্বপ্নে দেখেন নবী কুরবানি! কুরবানি!
প্রভুর ভালোবাসায় দিতে হবে জবাই
সবচেয়ে প্রিয় মুখখানি।
আল্লাহর নেক বান্দা!
মুসলিম উম্মার পিতা ইব্রাহিম
হুকুম পালনে শিরোধার্য
দ্বিধাহীন চিত্ত উন্নত অকৃত্রিম।
তবু মূক মূঢ়
ভাষা ফোটে না আলোল হৃদয় চিরে,
যাতনার বিলাপ নিঃশব্দে
দুমড়ে বেড়ায় চাঁদ মুখটাকে ঘিরে।
কী হয়েছে বাবা?
বলতে কি আজ বিঁধছে তব কণ্ঠস্বরে!
ভেবো না ভীরু কুলতন্তু;
বলতে পারো ইসমাঈলে নির্ভয়ে সমস্বরে।

পবিত্র আনন পুত্রের।
অভয় পেয়ে বললেন পিতা স্বপ্নের সে কাহিনী,
হাসিমুখে শিশু
গ্রাহ্য করে বোঝায় পিতাকে প্রভুর মর্মবাণী।
এমনই সন্তান এমনই বিশ্বাসী অনুরাগী,
প্রভুর প্রেমে সিক্ত সে যে আখিরাতের বিবাগী।
বোঝালো পিতাকে
বাবা, আমি নই বিচলিত,
চালাও ক্ষুর
খোদার হুকুম হয় না যেন অবহেলিত ।
বদলে দিলেন চকিতে প্রভু-
সন্তানে নয় হোক তা প্রাণীকে ভালোবেসে,
গৃহপালিত পশু নিখুঁত নিটোল,
রক্ত নয়, মাংস নয়, চায় শুধু তাকওয়ার আবেশে।
এরই নাম হলো কুরবানি!
রিপুর আত্মাহুতিতে আত্মার পরিশুদ্ধতায়,
পশুত্বের বলিদানে
মনুষ্যত্বের উদ্ঘাটনে উজ্জীবিত ত্যাগের মহিমায়।

রচে গেল অমৃত ইতিহাস-
কুরবানি! সে তো প্রেমোৎস্বর্গ,
মহান প্রভুর ডাকে
গড়ে তোল সবে আত্মত্যাগের নিসর্গ।