নিজের নাগরিকদের সঙ্গেই লড়াই করছে মোদির বিজেপি


১৯ জুন ২০২৫ ১২:০৯

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
শুনতে অবাক লাগলেও এ কথা সত্য যে, নিজেদের নাগরিকদের সঙ্গেই লড়াই করছে ভারতের শাসকগোষ্ঠী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক নানা ছুঁতায় নিরন্তর এ লড়াই চলছে। এ এক বিস্ময়কর পরিস্থিতি।
আর এ লড়াইয়ের শিকার হয়ে কখনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন মসজিদসহ ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে। কথিত এনআরসি-এসএএ’র নামে নাগরিকদের দেশছাড়া করা হচ্ছে। গরুকে ‘মাতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে রক্ষার নামে ‘গো-হত্যা’ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে মানুষকে হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। কথিত ওয়াকফ বিল পাসের মাধ্যমে নিজেদেরই নাগরিকদের একটি বৃহৎ অংশকে ধর্মীয়ভাবে পঙ্গু করা হচ্ছে। এভাবে একেক সময় একেক ইস্যু আবিষ্কার করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ নিবন্ধে এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছে।
মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস
ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করে ভারতে চরম ঐতিহ্য-বিদ্বেষের পরিচয় প্রদানের একটি নমুনা ছিল ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে বিখ্যাত বাবরি মসজিদ ধ্বংস। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং এর সহযোগী সংগঠনের হিন্দু কর্মীদের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় ষোড়শ শতাব্দীর এ বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। ঐ স্থানে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশের লোকজন সহিংস হয়ে ওঠার পর ধ্বংসযজ্ঞটি সংঘটিত হয়।
অতঃপর এ কূপমণ্ডুকতার ধারা আজো অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে কেবল উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে অভিযান চালিয়ে মসজিদ ও মাদরাসাসহ ২৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করার কথা জানা যায়। যে জেলাগুলোয় অভিযান চালানো হয়, সেগুলো হলোÑ মহারাজগঞ্জ, সিদ্ধার্থনগর, বলরামপুর, শ্রাবস্তী, বাহরাইশ, লাখিমপুর খেরি এবং পিলভিট। এই জেলাগুলো ভারত-নেপাল সীমান্তের নিকটবর্তী। ধ্বংস করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২৫টি মাদরাসা, ৩০টি মসজিদ, ২৫টি মাজার এবং ৬টি ঈদগাহ। রাজ্য প্রশাসনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে এ স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল।” গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে ২৬ পর্যটককে হত্যার ঘটনাকে পুঁজি করে ভারত কেবল পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতেই জড়ায়নি, তারা এর জেরে নিজেদের এসব স্থাপনা ধ্বংস করে। রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসীন বিজেপির অভিযোগ, এ স্থাপনাগুলো ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এদিকে ভারতের অযোধ্যায় ধ্বংস করা ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ও রাম জন্মভূমি বিতর্কের দীর্ঘ দিনের বিরোধে দেশটির সুুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)সহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো তাদের পরবর্তী টার্গেট সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করে। তারা ৩২ হাজার মন্দির ‘উদ্ধারের’ নামে ভারতের মসজিদগুলোকে ধ্বংস করার ঘোষণা দেয়। এছাড়া ‘হিন্দু সংহতি’র সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মুসলিম ও ইসলাম ধর্মকে ‘বিদেশি’ উল্লেখ করে বলেন, “বিদেশি আক্রমণকারীদের চিহ্ন মুছে ফেলে যেভাবে রাম জন্মভূমিকে মুক্ত করা হলো, সেভাবেই মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি, বারানসির কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের আদিনাথ মন্দির (আদিনা মসজিদ) মুক্ত করা হবে।” এভাবেই কার্যত নিজ দেশের ‘অন্য’ ধর্মীয়দের পরিচয়হীন করে ফেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও তাদের আপত্তি নেই।
এনআরসি-সিএএ
ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রাজনীতির সমীকরণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে ভারতে ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)’ নামে নয়া নিবর্তনমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রতিবেশী আসাম দিয়ে শুরু হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর যে ব্যাখ্যা দাঁড় করায়, তাতে একে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা আসামে করা এনআরসি তালিকার বিরোধিতা করে। পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়া হয় এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এ আইনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন-সিএএ’ বিল পাস করা হয় ২০১৯ সালে। এ আইনের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিক্ষোভ দেখা দেয়। বলা হয়ে থাকে, এনআরসি বাঙালি হিন্দুবিরোধী এবং সিএএ বাঙালি মুসলমানবিরোধী। মুসলমানদের উদ্বেগ হলো, এর অপব্যবহার করে ‘মুসলমানদের খেদানো হবে’। এ প্রক্রিয়ার ফলে আসামে যাওয়া যুগ যুগ ধরে থাকা বৈধ অধিবাসীরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ছে। এখন আনা হয়েছে সিএএ ২০১৯। এ আইনটিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ধর্মীয় কারণে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের কেবল নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘অভিবাসন’ বিশ্ববাসী তথা জাতিসংঘ স্বীকৃত একটি মানবিক অধিকার। মানুষ কোনো একটি দেশে নির্যাতিত হয়ে বা জীবনের ভয়ে বা রোজগারের আশায় দেশান্তরী হতে পারে। সে যে দেশে যায়, সেই দেশের আইন অনুযায়ী সে সেখানকার নাগরিকত্ব পায়। এভাবেই ইউরোপ-আমেরিকায় কোটি কোটি মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অভিবাসী নাগরিক হয়েছে। কিন্তু ভারত ও মিয়ানমারে স্থানীয়দের বা আগতদের যেভাবে নাগরিকত্ব হরণ করা হচ্ছে, তা মানবসভ্যতার কলঙ্ক। আরো বলা হয়, ভারতের বিহার, আসাম ও বাংলার মানুষ ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও সামাজিকভাবে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পশ্চিম ভারত ও মধ্য এশিয়া থেকে বাংলায় আসা আর্য বলে দাবিদার দিল্লিমুখী অভিজাতরা এবং চীন থেকে আসা অহোমরা বাংলার মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে নিজেদের প্রভুত্ব কায়েম রাখতে চায়। এদেরই ষড়যন্ত্রে এবং দিল্লির মদদে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, মৈমনসিঙ্গিয়া বাঙ্গাল খেদা ইত্যাদি আন্দোলন হয়।
গো-হত্যা নিয়ে বিরোধ
ভারতে কয়েকদিন পরপরই কথিত ‘গো-হত্যা’ নিয়ে সংহিসতা দেখা দেয়। ভারতের মতো বৃহৎ ও বহু জাতিভিত্তিক দেশে বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ ঐতিহাসিক কাল ধরে বসবাস করে আসছে। কিন্তু বিজেপি ও তার সাম্প্রদায়িক অনুসারীরা এ ঐতিহাসিকতাকে অস্বীকার করে সাম্প্রদায়িকতার আগুন উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে সচেষ্ট থাকে। এর মধ্যে ‘গো-মাতা’ রক্ষা অন্যতম। মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ গরুর গোশত খেয়ে থাকেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধেও নানাপ্রকার আন্দোলনের হুমকিও দেয়া হয়। পিটিয়ে হত্যা করা হয় নিজেদের নাগরিকদের। যদিও প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে এমন অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে গরুকে শুধু যে যজ্ঞে বলি হিসেবে হত্যা করা হতো তাই নয়, বরং বিশেষ অতিথি বেদজ্ঞ প্রমুখদের আপ্যায়ন করার জন্যও গো-মাংসের ব্যবস্থা করা হতো। আধুনিকালের প্রসিদ্ধ হিন্দু ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘আপনারা শুনে অবাক হবেন, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী গরু না খেলে ভালো হিন্দু হওয়া যেত না। তাকে কিছু অনুষ্ঠানে অবশ্যই বৃষ বলি দিয়ে তার মাংস খেতে হতো।’ বিবেকানন্দ আরো বলেছেন, ‘ভারতে এমন এক সময় ছিল, যখন গো-মাংস না খেয়ে কোনো ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণ থাকতে পারতো না।’
বর্তমানে মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের সময়ে গরু জবাইকে কেন্দ্র করে বিভক্তি চরম আকার নিয়েছে। গরু বিক্রি এবং জবাইর ক্ষেত্রে কড়াকড়ির ফলে বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী জনতার হাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বহু মানুষকে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন করে চলেছে। বিশেষ করে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোয় হিন্দু জনতার হাতে মুসলিম নাগরিকের হত্যার ঘটনা ঘটছে। একজন সুপরিচিত সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন, ভারত এমন অবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেন সেখানে ‘পিটিয়ে হত্যার শাসন’ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বিষয়ক প্রতিবেদনে এ পরিস্থিতির একটি সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর; বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর সহিংস হামলা, শারীরিক লাঞ্ছনা ও তাদের প্রার্থনাগৃহ ধ্বংসের উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের সমপদাধিকারী ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে ধারাবাহিকভাবে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন’। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে ভারত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেতে দেখছে; তিনি ও তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সম্প্রতি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের ক্ষমতায় এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতে ধর্ম পরিবর্তন রোধের আইন, ঘৃণামূলক মন্তব্য এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থনা গৃহ ও বাসাবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি।” এভাবে দেখা যাচ্ছে, ভারতের শাসকরা নিজেদের নাগরিকদের ওপর কীপ্রকার নৃশংসতা চালাতে পারে এগুলো তার সামান্য উদাহরণ।
ওয়াকফ বিল
ভারতে সরকারিভাবে ধর্মীয় নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার সর্বসাম্প্রতিক নমুনা হলো ‘ওয়াকফ’ বিল। এটি ইতোমধ্যে পাস করে আইনে পরিণত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলমানদের বিপুল পরিমাণ ইসলামিক সম্পত্তি সরকার হস্তগত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘ওয়াকফ’ শব্দটি আরবি ‘ওয়াকাফা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো কোনো সম্পত্তি দান করা বা উৎসর্গ করা। সাধারণত মুসলিম আইনে ওয়াকফ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে তার সম্পত্তি দান করাকে বোঝায়। এই সম্পত্তি মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, কবরস্থান বা অন্য কোনো দাতব্য কাজের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এটি ইসলামী শরিয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। কোনো সম্পত্তির মালিক নিজের মালিকানা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সম্পত্তি ঘোষণা করে আল্লাহর উদ্দেশে জনকল্যাণ বা জনসেবার জন্য উৎসর্গ করলে সেই উৎসর্গ করার কাজটিকে ‘ওয়াকফ’ বলা হয়। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মুসলমান ওয়াকফ বৈধকরণ আইনে প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ওয়াকফ অর্থ কোনো মুসলমান কর্তৃক তার সম্পত্তির কোনো অংশ এমন কাজের জন্য স্থায়ীভাবে দান করা, যা মুসলিম আইনে ‘ধর্মীয়’, ‘পবিত্র’ বা ‘সেবামূলক’ হিসেবে স্বীকৃত। এককথায়, ওয়াকফ সম্পত্তি হলো সেই সমস্ত স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, যা দলিলের মাধ্যমে আল্লাহর নামে করে দেয়া হয়। নথিপত্রের যুগ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকে এ পদ্ধতি প্রচলিত আছে। সাধারণত কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয় এ জমি। অথবা কেউ উত্তরসূরি হিসেবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। এ সম্পত্তি কখনো হস্তান্তর করা যায় না। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবর, মসজিদের জন্য, গরিব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য জমি ব্যবহার করা হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা দান করা হয় এবং বোর্ডের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রতিটি রাজ্যের একটি ওয়াকফ বোর্ড আছে।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে গত বছর আগস্টে ভারতের লোকসভায় পেশ করা হয় ওয়াকফ বোর্ড পরিচালনাকারী আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এ প্রস্তাবিত বিল পেশ করলে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্র সরকারকে। সংখ্যালঘুদের ধারণা, এই বিল পাস হয়ে গেলে ইসলামিক সম্পত্তি সরকার হস্তগত করবে। এ বিল ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের সত্তায় আঘাত করবে বলে মনে করছেন বিরোধীরা। ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে বিরোধী শিবিরের। একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে টার্গেট করার জন্য এ বিল সংশোধন করা হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উপসংহার
ভারতের বিজেপি সরকার বরাবরের মতো তাদের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে গেছে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা এ সাফাইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এসেছেন। তারা মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, জাতিসংঘ কর্তৃক ‘মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত নাগরিকত্ব আইন এবং অবৈধ নির্মাণ অপসারণের নামে মুসলিমদের সম্পত্তি ধ্বংস করার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে চলেছেন। বলা যেতে পারে, এসব কারণে মোদির বিজেপি ও তার জোট দিনে দিনে জনপ্রিয়তা খুইয়ে চলেছে। আগামী দিনে তার আরো অবনতি ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।