সংক্ষিপ্ত বিশ্বসংবাদ
১৯ জুন ২০২৫ ১১:৫৩
তুরস্ক-সৌদি-ইরান-পাকিস্তান মিলে ইসলামিক আর্মি গঠনের প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসলামিক সেনাবাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে এ সেনাবাহিনী গঠন করা হতে পারে। ইরানি নেতা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, এই সেনাবাহিনী গঠন করা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। ইরান বলছে, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইসলামিক সেনাবাহিনী গঠিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মোড় নিতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরাইলকে লক্ষ করে গত ১৬ জুন সোমবার আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় রাজধানী তেল আবিব ও বন্দরনগরী হাইফায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও অনেক আহত হয়েছেন। হামলায় ঘরবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এ হামলায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দূতাবাসটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত লাখ মার্কিনিকে ঘরেই থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি মার্কিন ঘাঁটি বা স্বার্থে হামলা হয়, তাহলে ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ শক্তিতে জবাব দেবে। ডেইলি মেইল, আল জাজিরা।
যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় জাতিসংঘ : ভলকার তুর্ক
গত সোমবার (১৬ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৫৯তম অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরাইল ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর করার জন্য তৎপরতার ওপর গুরুত্বাারোপ করেছেন। গত শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত করে। এ সামরিক উত্তেজনার কারণে উভয় পক্ষেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তুর্ক বলেন, এ সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে হবে এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।
তুর্ক তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেন, ‘ইসরাইল ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা খুবই উদ্বেগজনক।’ তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান প্রদানের আহ্বান জানান, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তায় জোর দেন। তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘ইসরাইলের যুদ্ধকৌশল ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়ানক ও অমানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।’ তুর্ক আরও অভিযোগ করেন যে, ইসরাইল খাদ্য সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং প্রাণরক্ষাকারী সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি গাজায় নিহত বেসামরিকদের ওপর হামলার ব্যাপারে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। আনাদলু এজেন্সি।
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত এরদোগান ও পুতিন
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে গত চারদিন ধরে যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, সেটি বন্ধে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। উভয়ই আলাদাভাবে জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তারা মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। ‘সংঘাত নিরসনের জন্য রাশিয়ার আগের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে পড়েছে,’ বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। সমস্যার সমাধানে রাশিয়া বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানিয়েছে ক্রেমলিন। এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এরদোগান সোমবার (১৬ জুন) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইসরাইলের সাথে সংঘাতের অবসান ঘটাতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে প্রস্তুত বলে ইরানকে জানিয়েছেন এরদোগান। আনাদলু এজেন্সি।
ভারত পানি বন্ধ করলে যুদ্ধই একমাত্র পথ : বিলাওয়াল
ভারত যদি পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। একইসঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সন্ত্রাসে সহায়তার অভিযোগও তুলেছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছেন, ‘পানি আমাদের জীবনের স্রোতধারা। আমাদের ন্যায্য অংশ কখনো ছাড়ব না। ভারত যদি একতরফাভাবে পানি বন্ধ করে, তাহলে সেটা আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত।’ সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউ উর্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তিবাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও এখানে আলোচনায় আসে। কাশ্মীরে গত এপ্রিলের প্রাণঘাতী সেই হামলার পর ভারত কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করে, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। জবাবে পাল্টা পদক্ষেপে পাকিস্তানও ভারতীয় কূটনীতিক ও সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করে, ভারতীয়দের ভিসা বাতিল করে (শিখ তীর্থযাত্রীদের ছাড়া), নিজের দিক থেকেও সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। সংবাদমাধ্যম বলছে, বিলাওয়ালের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ব্রাসেলসে কূটনৈতিক সফর শেষ করেছে। জিও নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নো কিংস’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে এ বিক্ষোভগুলো করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের আয়োজিত একটি বিরল সামরিক কুচকাওয়াজকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৪ জুন শনিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছিলেন ট্রাম্প। এ সময় নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, হিউস্টনসহ বড় বড় শহরের মানুষ রাস্তায় নামেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলসসহ বিভিন্ন শহরে তার অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় সামরিক কুচকাওয়াজটি। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কুচকাওয়াজ ঘিরে কোনো বিক্ষোভ হলে ‘কঠোর শক্তি’ প্রয়োগ করা হবে। তারপরও নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া ও হিউস্টনের মতো বড় শহরগুলোয় আইনপ্রণেতা, শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা ও অধিকারকর্মীরা আমেরিকার পতাকা ও ট্রাম্পবিরোধী পোস্টার হাতে জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
আয়োজকদের দাবি, সারা দেশে শত শত স্থানে এসব বিক্ষোভ হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন। ফিলাডেলফিয়ার লাভ পার্কে জড়ো হয় বহু মানুষ। ‘আমার মনে হয় আমাদের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাস্তায় নামা জরুরি’ বলেন ৬১ বছর বয়সী নার্স ক্যারেন ভ্যান ট্রিয়েস্তে, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান ট্রাম্প প্রশাসনের জনস্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী ছাঁটাই তাকে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য করেছে। লস অ্যাঞ্জেলসে ছিল সবচেয়ে বড় জনসমাগম। অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে সেখানে টানা কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। মেয়র গ্যাভিন নিউসমের আপত্তি এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের ক্ষোভ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন। লস অ্যাঞ্জেলসে ফেডারেল বিল্ডিংয়ের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের সংঘর্ষ হয় এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়। তবে তার এক-দুই ব্লক দূরে শত শত মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল চালিয়ে যান। ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। রয়টার্স।
মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আরশাদ মাদানির
বিজেপিশাসিত ভারত সরকার ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলায় সমর্থন জানালেও এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির বরেণ্য আলেম ও দেশটির স্বাধীনতায় অবদান রাখা মুসলমানদের প্রাচীন প্ল্যাটফর্ম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। অবৈধ রাষ্ট্রটির এ হামলাকে তিনি ‘রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন। গত শনিবার (১৪ জুন) মাওলানা মাদানির নিন্দা জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত এক্সপ্রেসের উর্দু সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানেই সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানায়। ভারত এক্সপ্রেসের সূত্র মতে, দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা আরশাদ মাদানি ইসরাইলের এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া ইসরাইল এত বড় বর্বরতা চালাতে পারে না। মাওলানা মাদানি বলেন, ইসরাইল যেভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তা জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব হামলা শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়; বরং মুসলিম বিশ্বের সাথে এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা।
এমন পরিস্থিতিতে মাওলানা আরশাদ মাদানি ন্যায়বিচারের পক্ষের বিশ্বশক্তি ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যখন আমাদের চোখের সামনে গাজা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং স্বাধীন দেশগুলোর ওপর প্রকাশ্যে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তখন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং ন্যায়বিচারের পক্ষের বিশ্বশক্তিগুলোর চুপ থাকা উচিত নয়।’ তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, এখন কেবল বিবৃতি দেয়ার সময় নয়; বরং একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করে বাস্তব প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়। উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্ল্যাটফর্ম। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। ভারত এক্সপ্রেস।
বিচারকদের ক্ষমতা সীমিত করতে চায় মার্কিন সিনেট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর বিলের সঙ্গে আদালতের ক্ষমতা সীমিত করার নতুন ধারা যুক্ত করেছেন সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা। এর ফলে সরকারি নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দিতে বিচারকদের ওপর শর্ত আরোপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সিনেট বিচার বিভাগীয় কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর চাক গ্রেজলি বিলটির সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়েছে, কেউ যদি সরকারি কোনো নীতির বিরুদ্ধে আদালতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চায়, তবে তাকে একটি অর্থনৈতিক জামানত (বন্ড) রাখতে হবে, যা সরকারি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণে ব্যবহার করা যাবে যদি আদালতের আদেশ পরে বাতিল হয়। এই শর্ত ট্রাম্পের বহুল আকাক্সিক্ষত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর সিনেট সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস যে সংস্করণ পাস করেছিল, তা অন্যভাবে আদালতের ক্ষমতা খর্ব করেছিল। সেখানে বিচারকদের পক্ষে অবমাননার আদেশ কার্যকর করায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। এ আদেশের মাধ্যমে কোনো পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করলে জরিমানা বা কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বেশ কয়েকজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সময় এমন অবমাননার হুমকি দিয়েছিলেন, যা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা নিষিদ্ধ বা সীমিত করার দাবি তুলেছেন, কারণ এসব আদেশে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা একাধিকবার স্থগিত হয়েছে। মার্চে হোয়াইট হাউস থেকে একটি স্মারকলিপিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, যদি কেউ সরকারি কোনো সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায়, তবে তাদের কাছে অর্থনৈতিক জামানত চাওয়া হোক। এমন শর্ত বহু বিলিয়ন ডলারের নীতিমালার বিরুদ্ধে মামলা ঠেকাতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গ্রেজলির কার্যালয় থেকে বলা হয়, আদালতের আগের নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইলে জামানত রাখা বাধ্যতামূলক হলেও বিচারকরা অনেক সময় সরকারি নীতির বিরুদ্ধে মামলায় সেই শর্ত প্রয়োগ করেন না। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান