ভারতের পানিনীতি ক্ষুব্ধ করছে বিশ্ববিবেককে


১৩ জুন ২০২৫ ০৮:২১

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
পানি নিয়ে ‘রাজনীতি’ করা কিংবা পানিকে ‘সমরাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা কখনোই ভালো চোখে দেখা হয়নি। একে একটি ঘৃণ্য প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পানির উৎসসমূহ যেমন নদী কিংবা হ্রদ ও তার প্রবাহ শক্তিশালী দেশগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর জন্য সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক চুক্তি ও নমনীয় আচরণের দ্বারা বিষয়গুলোর সমাধানের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে এর বিপরীত অবস্থান লক্ষ করা যায়। যে কারণে ভারতের পানিনীতি ক্ষুব্ধ করছে বিশ্ববিবেককে।
গত অর্ধ শতাব্দীকাল যাবৎ বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা-পদ্মা, তিস্তা, মহানন্দা, বরাক প্রভৃতি নদী নিয়ে যা করা হচ্ছে ভারত তা করতে চলেছে সিন্ধু ও তার উপনদীগুলোর পানিপ্রবাহ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে। কাশ্মীরের ঘটনার জেরে ভারত ‘সিন্ধু নদের এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেবে না’ বলে হুমকি দিয়েছে। যদিও সেটি বাস্তবে কতটুকু সম্ভব সে নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে জানা গেছে, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের এ ত্রিদেশীয় নদী সিন্ধুর পানি আটকে রাখার মতো সরাসরি কোনো ব্যবস্থা ভারতের হাতে নেই। যদি গঙ্গায় ‘ফারাক্কা’ বাঁধের মতো পানি বন্ধের কোনো প্রকল্প করতে হয় তাতেও অন্তত কুড়ি বছর লাগবে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন ধরনের হুঙ্কার ও হুমকির কথা প্রচারিত হতে থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ ততোটা সহজসাধ্য নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পানি আটকানো কি সম্ভব?
ভারত পানি বন্ধের হুমকি দিলেও যে কারণে পানি আটকাতে পারবে না ভারত বিশেষজ্ঞরা সেগুলো উল্লেখ করে জানান, বর্ষাকালে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলো যখন ফুলেফেঁপে ওঠে, তখন সেগুলোর কোটি কোটি ঘনলিটার পানি আটকে দেয়া ভারতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এ কাজের জন্য প্রয়োজন পানি সরিয়ে মওজুদ করে রাখার বিশাল অবকাঠামো আর অগণিত খালÑ যা ভারতের নেই। একজন বিশেষজ্ঞ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভারতের যেসব অবকাঠামো আছে, তার বেশিরভাগই বাঁধভিত্তিক পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প, যেগুলোর জন্য বড় ধরনের জলাধারের প্রয়োজন হয় না।’ ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে ভারত এখনো চুক্তি অনুযায়ী তার জন্য ঝিলাম, চেনাব ও সিন্ধুর বরাদ্দ করা ২০ শতাংশ পানিও যথাযথ কাজে লাগাতে পারছে না। মূলত এ কারণেই দেশটি পানি ধরে রাখার অবকাঠামো নির্মাণের দাবি তুলছে। তবে পাকিস্তান চুক্তির শর্ত উল্লেখ করে এ দাবির বিরোধিতা করছে।
শুষ্ক মওসুমে পানির প্রবাহ থাকায় ভারত হয়তো কিছুটা সুবিধা করতে পারবে। তবে এ পরিস্থিতিতে উজানের দেশ সাময়িকভাবে নদীর পানি আটকে রেখে পরে হঠাৎ একসঙ্গে সব পানি ছেড়ে দিতে পারে। ভাটির দেশে কোনো রকমের সতর্কতা দেয়া হয় না। এর ফলে ভাটির দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু ভারত তা করতে পারবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতে প্রথম ঝুঁকিতে পড়বে ভারতই। কারণ ভারতের বাঁধগুলো পাকিস্তান সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। কাজেই পানি আটকে রাখলে ভারতের নিজের অঞ্চলই প্লাবিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
ভারতের একজন ‘গুরু’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, তিনি সিন্ধু নদের পানি বন্ধ করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন যে, এরকম কোনো ব্যবস্থা ভারতের হাতে নেই। সেরকম কোনো প্রকল্প করতে হলে অন্তত কুড়ি বছর সময় লাগবে।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, গঙ্গার পানি প্রত্যাহারে ভারত যতগুলো বাঁধ, ক্যানেল ও প্রকল্প নির্মাণ করতে পেরেছে সিন্ধু নদে তেমনটি নেই। সিন্ধুর উপনদীগুলোর ওপর ভারতের অংশে বেশকিছু হাইড্রো-ইলেকট্রিক ও সেচ প্রকল্প থাকায় মূল নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। তবে মূল নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পাকিস্তান ছাড়াও একই সঙ্গে ভারতের বিশাল ভূ-ভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এর প্রভাব পড়বে একই সঙ্গে দুই দেশের উপনদী ও শাখা-প্রশাখাগুলোর ওপরও।
অন্যদিকে সিন্ধুর পানি প্রবাহ ভারত আটকাতে চাইলে চীন যদি তিব্বতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে মূল ক্ষতির শিকার হবে স্বয়ং ভারত। ফলে ভারত দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পাল্টা ব্যবস্থার কথা ভাবলেও ভাবতে পারে। কিন্তু সেটি কতটা বাস্তবসম্মত হবে সে প্রশ্ন আছে। কেননা মানুষ যতোই প্রকৌশল বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক, দিনশেষে প্রাকৃতিক নিয়মের তোয়াক্কাও তাকে করতে হয়।
একজন বিশ্লেষকের মতে, ভারত সিন্ধুর পানিবণ্টন চুক্তি মুলতবি রাখার একটা অজুহাত সৃষ্টি করে সিন্ধু, ঝিলাম ও চন্দ্রভাগা নদীর পানিকে ‘যুদ্ধাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। মোদি অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে পানিকে কেন্দ্র করে। সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি তিনি নিলেন। সামরিক লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে নদীর পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ফলে পাকিস্তানের ভাটি অঞ্চল সংকটজনক অবস্থায় পড়ে যেতে পারে। মোদির এ কৌশলের কারণে ভূকৌশলগত যুদ্ধে একটি নতুন উপাদান যুক্ত হলো। এখন থেকে নদী ও জলসম্পদ অধিকাংশ ভূকৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বহুদিন ধরেই সিন্ধু পানিচুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পাঁয়তারা করছেন। কাশ্মীরের পেহেলগামের এ ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানে তার প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য সিন্ধু পানিচুক্তির কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়া।
এদিকে কাবুল নদীর ওপরে অনেকগুলো বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য আফগানিস্তানকে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে ভারত। এর ফলে পাকিস্তান কৌশলগতভাবে খুবই অসুবিধাজনক অবস্থানে পড়ে যেতে পারে। বিশ্লেষক আরো বলছেন, একটা বিষয় স্বীকার করে নিতে হবে, পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত উজানে এবং পাকিস্তান ভাটির দিকে অবস্থান করছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, চীন ও ভারতের দিক থেকে হিসাব করলে ভারতের অবস্থান আবার ভাটির দিকে। তাই ভারত এখন আন্তর্জাতিকভাবে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, একদিন সে একই উদাহরণ তার বিরুদ্ধে আরো অনেক বেশি ভয়ংকরভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ভারতের তরফ থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নিলাম-ঝিলাম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে টার্গেট করা রীতিমতো যুদ্ধাপরাধের শামিল। এ ঘটনা ভবিষ্যতের পানিযুদ্ধের ক্ষেত্রে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ ধরনের একটা বাজে দৃষ্টান্তের প্রভাব পড়তে পারে আমাজন, নীল ও ব্রহ্মপুত্রের মতো বিশ্বের বৃহত্তম নদীগুলোর ওপর। ভারতের এমন কিছু ঘটানো উচিত হবে না, যা তার নিজের ওপর বর্তালে সামাল দিতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, লাখ লাখ কিউবিক পানি আটকে রাখা ও ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে গিয়ে ভারত ও আফগানিস্তান নিজেরাও বিপদে পড়তে পারে। মোট কথা, সামরিক সক্ষমতা দিয়ে ভারত এ অঞ্চলে তার আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হচ্ছে না। এখন নদীগুলোকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি
আমরা কেবল জানি যে, ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি আটকে রাখে। কিন্তু এটি হয়তো জানা নেই যে, ফারাক্কার আরো উজানে ভারত তার বহু সংখ্যক সেচ ও পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মূল গঙ্গা এবং এর উপনদীগুলোর ৯০ ভাগ পানি সরিয়ে নিচ্ছে।
শুধু ফারাক্কা নয়Ñ ভারত গঙ্গা-পদ্মাকেন্দ্রিক বাঁধ, জলাধার, ক্রসড্যাম, রেগুলেটরসহ নির্মাণ করছে অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো। ফারাক্কা বাঁধ ছাড়াও ভারত নদীসদৃশ ৭টি ক্যানেল বা কৃত্রিম খাল প্রকল্পের মাধ্যমে লাখ লাখ কিউসেক পানি গঙ্গা থেকে সরিয়ে নিয়ে কয়েক লাখ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করছে। তারা অনেক আগে থেকেই গঙ্গায় নদীসদৃশ বৃহদাকার তিনটি খাল (ক্যানেল) প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ ধরনের প্রকল্পের হাজার হাজার কিলোমিটার খালের মাধ্যমে গঙ্গার পানি সরিয়ে নিয়ে সেচ দেবার ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ‘আপার গঙ্গা ক্যানেল প্রকল্পে’র মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের ২৫ লাখ একর জমিতে সেচ দেয়ার লক্ষ্যে ৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল কেটে পদ্মার পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ‘মধ্যগঙ্গা ক্যানেল প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পে মূল ও শাখাসহ খননকৃত খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার। ‘নিম্নগঙ্গা সেচ প্রকল্পে’র জন্য ৬ হাজার কিলোমিটার খালের মাধ্যমে গঙ্গার পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এভাবে এসব উৎসের শতকরা ৯০ ভাগ পানি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে নদীতে মাত্র ১০ ভাগ পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে। আন্তর্জাতিক এ নদীতে বাঁধের পর বাঁধ দিয়ে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার ফলে মূল গঙ্গা তার উৎসের কাছে হারিয়ে যেতে বসেছে। অর্ধশতাব্দীর মধ্যে গঙ্গা নদীর প্রবাহ ২০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের নানা উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনার শিকার হয়ে ভাটির দেশ বাংলাদেশ এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে ফারাক্কায় জমা হওয়া পানির ভাগাভাগি হওয়া একটা শুভঙ্করের ফাঁকি মাত্র।
জাতিসংঘে পাকিস্তান
পাকিস্তান জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেছে, ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তে সিন্ধু নদের পানি চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলে ২৪ কোটি মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। জাতিসংঘে ‘সশস্ত্র সংঘাতে পানিসম্পদ রক্ষা’ বিষয়ক আলোচনায় পাকিস্তানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। ভারত এ চুক্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। তিনি ভারতের এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধকালীন আচরণের পরিপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ভারত যদি নদীর প্রবাহ বন্ধ করে, ঘুরিয়ে দেওয়া বা সীমিত করার চেষ্টা করে, তা হলে আমরা তা কখনোই মেনে নেব না। এসব নদী পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের প্রাণ।
রাষ্ট্রদূত জাদুন ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যকে ‘ভয়ঙ্কর ও বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ’ বলে মন্তব্য করে উল্লেখ করেন, পাকিস্তানিদের অনাহারে মারার মতো বক্তব্য একটি বিপজ্জনক মানসিকতা প্রতিফলিত করে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে নজরদারি চালানো ও প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। বলেন, যেসব পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে, সেগুলোর দিকে নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি দেয়া জরুরি।
এভাবে বাংলাদেশও ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপন করতে বাধ্য হয়। সে বছর নভেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপিত হওয়ার মুখে ভারত বাধ্য হয় বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৭ সালে প্রথম মোটামুটি একটা সম্মানজনক পানিচুক্তি সম্পাদিত হয়।
উপসংহার
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশন আন্তর্জাতিক পানির ব্যবহারের জন্য একটি চুক্তি তৈরি করে, যা ১৯৯৭ সালের ২১ মে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় কনভেনশন হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এ কনভেনশন অনুযায়ী একের অধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি কোনো দেশই অন্য দেশের অনুমতি ছাড়া একতরফাভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। এই রীতি অনুযায়ী দেশগুলো ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজ নিজ দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অংশের পানি ব্যবহার করতে পারে, তবে অন্য দেশের অংশে পানিপ্রবাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভারত এর বিপরীত আচরণ করে চলেছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে। প্রাকৃতিক সম্পদ পানিকে ব্যবহার করছে সমরাস্ত্রের মতো করে। ভারতকে তার এ মনোবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত করতে আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।