সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১৩ জুন ২০২৫ ০৭:৪৮

মোদির ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন!
ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের (এইচএএফ) বিরুদ্ধে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান শিখ মন্দির। তারা অভিযোগ করেছে, পেনসিলভানিয়া-ভিত্তিক এ এইচএএফ গোষ্ঠীটি ভারত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। এইচএএফকে ভারতের এজেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করতে মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) কাছে জানতে চেয়েছে ফ্রেমন্ট গুরুদ্বার সাহেব। শিখ মন্দিরটিতে প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার শিখ উপাসককে সেবা প্রদান করা হয় এবং এটি বিশ্বব্যাপী শিখ সম্প্রদায়ের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুদ্বার বিশ্বাস করে, এ গোষ্ঠীটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। মার্কিন আইন প্রণেতাদের সাথে গোষ্ঠীটির যে-কোনো মিথস্ক্রিয়া এবং ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। গুরুদ্বারের একজন মুখপাত্র মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে লেখা একটি চিঠিতে লিখেছেন, এইচএএফ বিদেশি কর্মকর্তা এবং মার্কিন আইন প্রণেতাদের মধ্যে বৈঠকের সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের অনুষ্ঠানে বিদেশি কর্মকর্তাদের আতিথ্য দিয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) প্রকাশ্যে সমর্থন করেছে। গুরুদ্বারার চিঠিতে এইচএএফ এর কর্মকাণ্ড বিদেশি এজেন্ট নিবন্ধন আইনের অধীনে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এইচএএফ অভিযোগ অস্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছে, এটি একটি নির্দলীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠান যার কোনো বিদেশি সরকার বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। ‘আমরা এ মিথ্যা এবং ক্ষতিকারক অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে প্রস্তুত,’ জানিয়েছে এইচএএফ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযোগ উঠেছে, ভারত সরকার বিদেশে শিখদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে খালিস্তানের একজন কানাডিয়ান আইনজীবী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার পর এ অভিযোগ জোরালো হয়েছে। কানাডিয়ান সরকার বলেছে, তারা বিশ্বাস করে, ভারতীয় এজেন্টরা নিজ্জরের মৃত্যুর সাথে জড়িত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, একজন ভারতীয় এজেন্ট আমেরিকা-ভিত্তিক একজন শিখ কর্মীকে হত্যার চেষ্টার পিছনে জড়িত ছিল। আল-জাজিরার সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিষ্ঠিত এইচএএফ ভারত সরকারকে ক্রমবর্ধমানভাবে সমর্থন করে আসছে। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে মোদির নীতির পক্ষে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার অভিযোগ রয়েছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

হালাল গোশত ও বোরকা বিতর্কে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা

দুটি বহু পুরোনো এবং মুসলিম জীবনের সাধারণ অনুষঙ্গ হালাল মাংস ও বোরকা পুনরায় যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সম্প্রতি দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিষয় দুটি নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা ব্রিটিশ মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাজ্যে হালাল গোশত ও বোরকা বহুদিন ধরেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের প্রতীক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিভাজন এ প্রথাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। মুসলমানরা আশঙ্কা করছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে প্রতিষ্ঠিত অধিকারগুলো যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বার বার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তাহলে তা কেবল একটি সম্প্রদায় নয়, বরং গোটা ব্রিটিশ গণতন্ত্রের সহনশীলতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সোমবার (৯ জুন) হাউজ অব কমন্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ ই-পিটিশনের ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ পিটিশনে অজ্ঞান না করে পশু জবাই নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এতে এক লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাজ্যের বর্তমান আইনে ধর্মীয় কারণে, বিশেষ করে মুসলিমদের হালাল ও ইহুদিদের শেচিতা প্রথার ক্ষেত্রে অজ্ঞান না করেই পশু জবাইয়ের অনুমতি আছে। তবে পশু অধিকারকর্মীদের মতে, অজ্ঞান না করে জবাই করা নিষ্ঠুর। এটি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই রায়ে বলা হয়েছে, অজ্ঞান না করে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে না।
বোরকা নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিতর্কটি সামনে এনেছে রিফর্ম ইউকে পার্টি। দলটির একাধিক এমপি ইউরোপের কিছু দেশের উদাহরণ টেনে যুক্তরাজ্যেও মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ নিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছায়। এর ফলে দলীয় চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ পদত্যাগ করেন। যদিও পরে তিনি ফের দলে যোগ দেন। কনজারভেটিভ দলের প্রভাবশালী নেতারাও বোরকা নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রিফর্ম ইউকের অন্যতম মুখপাত্র নাইজেল ফারাজ ও লি অ্যান্ডারসন এ অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রেখেছেন। তাদের মতে, জননিরাপত্তার স্বার্থে মুখ খোলা থাকা জরুরি। অন্যদিকে, লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ তাদের মূলনীতি এবং তারা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন না। ধর্মীয় অধিকার রক্ষাকারীরা বলছেন, নারীর পোশাক বাছাইয়ের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা অসাংবিধানিক, ইসলামভীতি উসকে দেওয়া এবং ধর্মীয় বৈষম্যের শামিল। অনেক ইসলামিক চিন্তাবিদও বোরকাকে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় পোশাক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন না। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কোনো জাতীয় পর্যায়ে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। যদিও নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মুখ খোলার প্রয়োজন হতে পারে। এপি।

মঙ্গলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি

মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন কিংবা রোভার ও গবেষণা ঘাঁটি পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে শক্তি সরবরাহ। সূর্যালোকের সীমিত উপস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। এমন এক সময়েই চীনা বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের নতুন এক উপায় আবিষ্কার করেছেন, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে এক যুগান্তকারী সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি চীনের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, তারা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতে পেরেছেন। তাদের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, এই নতুন পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি লাল গ্রহে ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তির জোগান দিতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন ২০২৫ সালের শুরুতে প্রকাশিত হয় এবং চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-এর এক প্রতিবেদনে এই সাফল্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের ঘন বায়ুমণ্ডল এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ তাপ ধারণক্ষমতা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তারা দাবি করেন, মঙ্গলের বাতাসে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড (ঈঙ₂) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এটি একটি বড় সাফল্য, কারণ এর ফলে হিলিয়াম বা জেননের মতো ব্যয়বহুল এবং পৃথিবী থেকে বহনযোগ্য গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা আর থাকছে না। অর্থাৎ, মঙ্গলের নিজস্ব উপাদান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি হলো ‘মার্স ব্যাটারি’। যা মঙ্গলের বাতাসে থাকা উপাদান শোষণ করে তা থেকেই বিদ্যুৎ তৈরি করে। লিথিয়াম-এয়ার বা লিথিয়াম-ঈঙ₂ প্রযুক্তির এ ব্যাটারি দিয়ে ভবিষ্যতে রোভার, হেলিকপ্টার, এমনকি গবেষণাকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে বলে গবেষকরা দাবি করেছেন। মঙ্গলের দিন ও রাতের চরম তাপমাত্রার ব্যবধান সত্ত্বেও এ ব্যাটারি কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। এমনকি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলেও এটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে নির্বিচারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। চীনা বিজ্ঞানীদের দলটি ল্যাবরেটরিতে মঙ্গলের পরিবেশ অনুকরণ করে এই ব্যাটারির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন। সেখানে বায়ুমণ্ডল, তাপমাত্রা এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব মিলিয়ে একটি নিখুঁত অনুকরণমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, এই ‘মার্স ব্যাটারি’ কঠিন পরিবেশেও নির্বিচারে কাজ করতে সক্ষম। এটি মঙ্গলে ভবিষ্যতে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদি রোভার মিশন এবং মানব বসতির পরিকল্পনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। এএফপি।

ইসরাইলের পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ইরানের
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। পরমাণু বলে বলীয়ান হয়ে কখনো কখনো এক দেশ অন্য দেশকে পারমাণবিক হামলার হুমকিও দেয়। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি গুপ্ত অভিযান চালিয়ে ইসরাইলের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি তালিকা পেয়েছে। তারপরেই ইরান হুমকি দিয়েছে যে, যদি ইসরাইল কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তেহরান তেল আবিবের পারমাণবিক কেন্দ্র আক্রমণ করে ধ্বংস করবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (ঝঘঝঈ) জানিয়েছে যে, সে দেশের গোয়েন্দা বাহিনী সম্প্রতি একটি অভিযান চালিয়ে ইসরাইলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির একটি তালিকা পেয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ তালিকাটি ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরিত করেছে। ঝঘঝঈ জানিয়েছে, ইসরাইল যদি কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান এ ধরনের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। গত ৯ জুন সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে ইসরাইলের লুকানো পারমাণবিক স্থাপনার অবস্থান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মতে, ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুর মানচিত্র ইরানি সেনাবাহিনীর টেবিলে রয়েছে এবং ইসরাইল যদি কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আইআরএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির মতো অন্যান্য সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল নথি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে নথি, ছবি এবং ভিডিও, যা ইসরাইলের পারমাণবিক প্রকল্প এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত প্রমাণ দেয়। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানি গণমাধ্যম আরও দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের কাছে অবস্থিত সোরেক পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র থেকে কিছু নথি চুরির বিষয় নিশ্চিত করেছেন। আইআরএনএ।

গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধ ‘লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি’: ম্যাক্রোঁ

গাজার দীর্ঘদিনের মানবিক সংকটের মধ্যে সেখানে মানবিক সহায়তা বন্ধ করার ঘটনা আন্তর্জাতিক সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ মানবিক সহায়তা বন্ধকে ‘লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি’ ও ‘নিন্দনীয় ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানান। মঙ্গলবার (১০ জুন) বার্তাসংস্থা এএফপি থেকে জানা গেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ গাজার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধ ও সেখানে মানবিক সহায়তা বন্ধের বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। গাজার অবরোধ ও সহায়তা বন্ধের পেছনে চলমান সামরিক সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অন্যতম কারণ। এর ফলে গাজার সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তার পথ উন্মুক্ত করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, ‘এই মানবিক অবরোধ একেবারে অগ্রহণযোগ্য এবং এটি একটি লজ্জাজনক কেলেঙ্কারি।’ তিনি বিশ্ববাসীকে গাজার মানুষের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বলেন।
সোমবার ফ্রান্সের প্যারিসসহ অন্তত ছয়টি শহরে হাজার হাজার মানুষ গাজার জন্য মানবিক সহায়তার পথে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। এ বিক্ষোভগুলো বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো আহ্বান করে। বিশেষ করে ফ্রান্স অনবোউড (এলএফআই) দলের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশঁ এ ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজামুখী একটি নৌকা আটকে দেয়, যেটিতে জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ মোট ১২ জন অধিকারকর্মী ছিলেন। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, নৌকাটিতে থাকা ছয়জন ফরাসি নাগরিককে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে ফ্রান্সে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার কার্যালয় জানায়, ফ্রান্স সরকার সব সময় তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, ইসরাইল সরকারের উচিত এ অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এএফপি।

বিশ্বের উচ্চতম মেট্রো স্টেশন তৈরি করছে দুবাই

গণপরিবহন নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে আরেকটি বিশ্ব রেকর্ডের দুয়ারে দুবাই। আর মাত্র কয়েকদিন, এবার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেট্রো স্টেশন হবে দুবাইতে। এমার প্রপার্টিজ স্টেশনের উচ্চতা হবে ৭৪ মিটার। বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত আমেরিকার স্থাপত্য সংস্থা স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম) এ মেট্রো স্টেশনের নকশা করেছেন। এই সংস্থাই বুর্জ খলিফা, শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার এবং নিউ ইয়র্কের অলিম্পিক টাওয়ারের মতো আইকনিক কাঠামো তৈরি করেছিল। প্রায় ১১ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, এমার প্রপার্টিজ স্টেশনটি দিয়ে প্রতিদিন ১ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। আমিরাতের কর্মক্ষমতা এবং জলবায়ুগত চাহিদা বিবেচনা করে স্টেশনটি বানানো হবে। কাঠামোটি জুরা চুনাপাথর, ব্রোঞ্জ ধাতব প্রাচীর প্যানেল এবং গ্রানাইট মেঝে দিয়ে তৈরি করা হবে। দুবাইয়ের পরিচয় মূর্ত করার জন্য পাথর, ব্রোঞ্জ এবং কাচের মিশ্রণের ব্যবহার হবে। এমার প্রপার্টিজ মেট্রো স্টেশন তৈরি হয়ে গেলে, দুবাই মেট্রো ব্লু লাইন আমিরাতের ট্রানজিট ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করবে। রেল নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য ১৩১ কিলোমিটারে বৃদ্ধি করবে এবং স্টেশনের সংখ্যা ৭৮-এর পৌঁছাবে। ব্লু লাইন মেট্রোয় ১৬৮টি ট্রেন (১১টি ট্রাম ট্রেন এবং ১৫৭টি মেট্রো ট্রেন-সহ) পরিষেবা প্রদান করবে। গালফ নিউজ।

ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’-কে গাজায় ভিড়তে দেয়নি ইসরাইল

ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ইতালি থেকে ত্রাণ নিয়ে আসা জাহাজ ‘ম্যাডলিন’ গাজায় ভিড়তে দেয়নি দখলদার ইসরাইল। আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকেই অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) পরিচালিত ত্রাণবাহী জাহাজটিকে ইসরাইলের আশদাদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ইসরাইলি বাহিনী জাহাজের যাত্রীদের ফোন ছুড়ে ফেলতে বলে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, জাহাজ অনুসরণ করা সাংবাদিক ওমর ফায়াদের সাথেও তাদের যোগাযোগ হারিয়ে গেছে। সরাসরি সম্প্রচারও বন্ধ হয়ে গেছে। ‘ম্যাডলিন’-এ আন্তর্জাতিক সংহতি আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুয়াইদা আররাফ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা এখন জাহাজটির সাথে কোনো যোগাযোগ পাচ্ছেন না। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জাহাজটিকে সেলফি ইয়ট বলে উল্লেখ করেছে। তারা লিখেছে, ‘তারকাদের’ বহনকারী ‘সেলফি ইয়ট’-কে নিরাপদে ইসরাইলের উপকূলের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।
‘ম্যাডলিন’ জাহাজে মোট ১২ জন মানবাধিকারকর্মী আছেন। তারা হলেন সুইডেনের পরিবেশবিষয়ক আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান, জার্মানির ইয়াসেমিন আজার, ফ্রান্সের ব্যাপতিস্ত আন্দ্রে, ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলা, ফ্রান্সের ওমর ফায়াদ, পাস্কাল মৌরিয়েরাস, ইয়ানিস মোহামদি, তুরস্কের সুলাইব ওর্দু, স্পেনের সার্জিও তোরিবিও, নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন রেনেস ও ফ্রান্সের রিভা ভিয়া। ইতালির সিসিলি দ্বীপের ক্যাটানিয়া বন্দর থেকে ১ জুন, ২০২৫ তারিখে ম্যাডলিন ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে দুই হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রা শুরু করে। আয়োজকদের মতে, ম্যাডলিন গুরুত্বপূর্ণ সাহায্যের যেসব পণ্য বহন করছে, তার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, ময়দা, চাল, গুঁড়ো দুধ, শিশুর ডায়াপার, নারী স্বাস্থ্যবিধি পণ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ সরঞ্জাম, হাঁটার লাঠি এবং শিশুদের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ। এক সাক্ষাৎকারে মানবাধিকার কর্মী ইয়াসেমিন আজার জোর দিয়ে বলেন, লক্ষ্য কেবল সাহায্য পৌঁছে দেয়া নয়, বরং গাজার জনগণকে বাঁচানোর পথ খুলে দেয়াও। কমিটির প্রধান জাহের বিরাউই বলেন, ‘জাহাজটি ছোট, কিন্তু এর বার্তা বিশাল; মুক্ত জাতির দায়িত্বের প্রতীক এবং এ অপরাধ বন্ধ করার আহ্বান।’ আল জাজিরা।

এবার প্রাণহানি ছাড়াই হজ সম্পন্ন
চলতি বছরের হজ মৌসুমে তীব্র গরম থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবে কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হয়নি এবং গরমজনিত অসুস্থতার হার গত বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। সৌদি সরকারের সক্রিয় প্রস্তুতি, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নই এ সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৫ সালের হজ শুরু হয়েছিল ৪ জুন এবং শেষ হয় ৬ জুন। জুন মাসে মরু আবহাওয়ার সৌদি আরবে প্রচণ্ড গরম থাকে, অনেক সময় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতি বছর লাখো মুসল্লি হজ পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়েন, এমনকি মৃত্যুও ঘটে। ২০২৪ সালের হজে গরমজনিত কারণে মারা গিয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ৩ শতাধিক মুসল্লি এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আরও কয়েক হাজার। এসব কারণেই এবারের হজে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও গরম মোকাবিলায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়। গত শুক্রবার (৬ জুন) সৌদি হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এবারের হজে গরমজনিত কারণে কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হয়নি এবং অসুস্থতার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এমন অর্জনের জন্য মন্ত্রণালয় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর অবদানের কথা বিশেষভাবে স্বীকার করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হজ পালনের সময় তীব্র গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবার ছায়াযুক্ত এলাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয় এবং হজযাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কুলিং সিস্টেম, পানি সরবরাহ ও বিশ্রামের জায়গা রাখা হয়। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আগেভাগে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল, যা বাস্তবে ভালো ফল দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানো ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা। এবারের হজে সেই লক্ষ্যপূরণে একধাপ এগিয়ে গেছে সৌদি সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের মূল লক্ষ্য, প্রতিটি হজযাত্রী যেন নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে হজ সম্পন্ন করতে পারেন।” চলতি বছরে মোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে হজ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন ছিলেন সৌদি নাগরিক, বাকি ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। তাদের সবার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সৌদি প্রশাসন রাতদিন কাজ করেছে। এবারের সফল ও শান্তিপূর্ণ হজ আয়োজন প্রমাণ করেছে, উন্নত পরিকল্পনা ও মানবিক মনোভাব থাকলে তীব্র আবহাওয়ার মধ্যেও বড় ধরনের মানবসমাবেশ নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের এ অর্জন ভবিষ্যতের দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে। গালফ নিউজ।

মরক্কোতে পালিত হলো পশু জবেহবিহীন ঈদুল আজহা
মরক্কোর মুসলমানরা এ বছর ঈদুল আজহা কুরবানির পশু জবেহ ছাড়াই উদযাপন করেছেন। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট, কৃষি দুর্দশা এবং রাজকীয় নির্দেশনার কারণে এ বছর উত্তর আফ্রিকার এ দেশটি ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ নাগরিকদের কুরবানি থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। রাজা তার বার্তায় বলেন, ছয় বছরের দীর্ঘ খরার কারণে মরক্কোর পশুপাল সঙ্কটের মুখে পড়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ তৌফিক রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল আওলা-তে রাজকীয় বার্তাটি পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, জলবায়ু সঙ্কট ও অর্থনৈতিক দুর্দশা মিলিয়ে ভেড়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এবং পশু সংখ্যাও কমেছে। রাজা, যিনি মরক্কোর সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতিতে কুরবানি করা দেশের অনেক মানুষ, বিশেষ করে সীমিত আয়ের জনগণের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।’ কুরবানির ধর্মীয় তাৎপর্য বজায় রেখে তিনি ঘোষণা দেন যে তিনি পুরো দেশের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহার দিনে কুরবানি করবেন।
ঈদের আগে মরক্কোর কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে পশুর বাজার বন্ধের নির্দেশনা জারি করে। সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এর ফলে পশু বিক্রি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ৭ জুন শনিবার দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। মরক্কো একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে ৯৯ শতাংশ জনগণ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দেশটির সংবিধান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই প্রথম নয় যে রাজকীয় নির্দেশে কুরবানি বন্ধ হলো। মরক্কোর মরহুম রাজা হাসান দ্বিতীয় তার শাসনকালে তিনবার ঈদুল আজহায় পশু কুরবানি স্থগিত করেছিলেন যুদ্ধ, খরা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আরোপিত কঠোর শর্তের সময়। এ নিষেধাজ্ঞা মরক্কোর মুসলিম সমাজের কাছে এক বিরল। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে ব্যাখ্যাযোগ্য সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কঠিন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পশু কুরবানি এ বছর বাদ দিলেও, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানাতে রাজা নিজেই পুরো জাতির পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছেন। মিন্ট।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমারে চারবার ভূমিকম্প
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চারবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। এ ভূমিকম্পগুলো মানুষকে উদ্বিগ্ন করলেও, আপাতত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ৩টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে মিয়ানমার ও এর আশেপাশের এলাকায় চারটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৮ থেকে ৪.৩ পর্যন্ত। ভূমিকম্পগুলো বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হলেও মূলত শান রাজ্য, ভারতের আসাম ও মণিপুরের কাছাকাছি এলাকায় অনুভূত হয়েছে। ভারতের জাতীয় ভূকম্পনকেন্দ্রের (এনসিএস) তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি রাত ৩টা ১ মিনিটে শান রাজ্যের নানসাং শহর থেকে ২১৮ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৩.৯। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ভোর ৫টা ৩১ মিনিটে ভারতের আসামের দিব্রুগড় থেকে ২৭৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে ঘটে, যার মাত্রা ছিল ৩.৮। এরপর বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে ভারতের মণিপুর থেকে ১৫৩ কিলোমিটার দূরে ৪.১ মাত্রার তৃতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। সবশেষ ভূমিকম্পটি বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে হয়, যার মাত্রা ছিল ৪.৩, উৎপত্তিস্থল মণিপুর থেকে ১৬৩ কিলোমিটার দূরে। এ ভূমিকম্পগুলোতে আপাতত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইরাবতী।

গ্রেটা থুনবার্গকে কটাক্ষ করে সমালোচিত ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলনের অন্যতম মুখ গ্রেটা থুনবার্গ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন। তবে এবার বিষয়টি শুধু জলবায়ু নয়, সরাসরি গাজার মানবিক সংকটের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে তার নাম। সোমবার (৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রেটা একজন অদ্ভুত ও রাগী তরুণী। আমার মতে, তার রাগ নিয়ন্ত্রণ শেখা উচিত। সেটাই তার জন্য আমার প্রধান পরামর্শ।’ এ মন্তব্যটি এমন এক সময় করা হয়েছে, যখন ইসরাইলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গ্রেটা থুনবার্গসহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে। তারা গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন একটি জাহাজে করে। ফলে ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে অনেকেই সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অমানবিক এবং বিদ্রুপাত্মক বলে মনে করছেন।
গ্রেটা থুনবার্গ কিশোর বয়স থেকেই জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি স্কুল বর্জনের মাধ্যমে প্রতিবাদের এক নতুন রূপ তৈরি করেন এবং জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক ফোরামে পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষে কড়া বার্তা দেন। তবে শুধু জলবায়ু নয়, তিনি যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও বৈশ্বিক অবিচারের বিরুদ্ধেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বারবার। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি এ মানবিক সহায়তা মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান ঘটনায় গ্রেটার পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু মানবাধিকার ও জলবায়ু কর্মী। তাদের মতে, একজন তরুণীর নির্লোভ মানবিক ও নৈতিক উদ্যোগকে বিদ্রুপ করার মানসিকতা নেতাদের ছোট করে দেয়, বড় করে না। আর গাজার মতো একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটময় সময়ে সেখানে ত্রাণ পাঠানোর প্রয়াস কোনোভাবেই অবজ্ঞার বিষয় হতে পারে না। দ্য হিল।

ইসরাইলের দুই কট্টরপন্থি মন্ত্রীর ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ে দেয়া মন্তব্যের কারণে যুক্তরাজ্য দখলদার ইসরাইলের দুই কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত ১০ জুন মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ এই দুই মন্ত্রী এখন থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষিদ্ধ থাকবেন এবং তাদের ব্রিটেনে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ করা হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। ডেভিড ল্যামি বলেন, ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী স্মোটরিচ ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী বেন-গভির ‘চরমপন্থি সহিংসতা উসকে দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন’। এর জবাবে ইসরাইল বলেছে, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে ডেভিড ল্যামি বলেন, ‘এ কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই আমরা এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে থাকা বাকি জিম্মিদের মুক্তির, যাদের এ অঞ্চলের শাসনে কোনো ভবিষ্যৎ ভূমিকা থাকতে পারে না, সেই সঙ্গে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথ তৈরির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’ এদিকে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, এই ‘অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে’ প্রতিক্রিয়া জানাতে আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভা বৈঠক করবে। গণমাধ্যমটি বলছে, এ পদক্ষেপ এমন এক সময় নেওয়া হলো, যখন গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরাইল সরকারকে চাপ দিতে সক্রিয় হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর আরো জানিয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের মতো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যও স্পষ্ট করে বলছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্মোটরিচ ও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে গাজার পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। সেখানে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে। বিবিসি।

মিশরের মরুভূমিতে উঠছে নতুন প্রশাসনিক নগর
বিশ্বজুড়ে স্মার্ট সিটি গড়ার প্রতিযোগিতায় মিশরও পিছিয়ে নেই। মরুভূমির বুকে বিশাল অর্থনৈতিক বিনিয়োগে নির্মিত হচ্ছে দেশটির নতুন প্রশাসনিক রাজধানী। এটি শুধু ভবিষ্যতের আধুনিক শহরই নয়, বরং কায়রোর অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানজট ও পরিবেশ দূষণের বাস্তব সমাধান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এর পরিকল্পনা, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বড় একটি অংশ চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কায়রো থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠছে এ নতুন শহরটি। ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের আবাসনের উপযোগী করে নির্মিত হচ্ছে এ প্রশাসনিক রাজধানী। ২০২৩ সাল থেকেই ধাপে ধাপে এখানে সরকারি দপ্তর ও কর্মকর্তাদের স্থানান্তর শুরু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কায়রোর ওপর চাপ কমানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি আধুনিক প্রশাসনিক হাব গড়ে তোলা, যা আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠতে পারে। এই প্রকল্প চীনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতাধীন কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।
মিশরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানী গড়তে খরচ হবে আনুমানিক ৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে থাকবে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, সংসদ ভবন, সরকারি দপ্তর, বিদেশি দূতাবাস ও আধুনিক আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এলাকা। এ প্রকল্পের বড় অংশ বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলা (ঈইউ) নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (ঈঝঈঊঈ)। প্রতিষ্ঠানটি কেবল নির্মাণই করছে না, বরং চুক্তি অনুযায়ী পুরো এলাকা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণও করবে। সিবিডিতে রয়েছে আফ্রিকার সর্বোচ্চ ভবন “আইকনিক টাওয়ার” যার উচ্চতা ৩৮৫.৮ মিটার। এ ছাড়াও রয়েছে ১০টি অফিস টাওয়ার, ৫টি আবাসিক টাওয়ার এবং ৪টি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল। ইতোমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মচারী সেখানে কাজ শুরু করেছেন এবং ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সেখানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

উত্তাল লস অ্যাঞ্জেলেস, সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে আরও সেনা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ন্যাশনাল গার্ডের অতিরিক্ত ২ হাজার সদস্য এবং ৭০০ মেরিন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (৬ জুন) লস অ্যাঞ্জেলেসের শহরতলির প্যারামাউন্ট এলাকায় নথিবিহীন অভিবাসীদের আটক করতে অভিযান চালায় মার্কিন পুলিশ এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিই (ওঈঊ)। এ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই শহরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় এর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে। প্রথম অভিযানের সময়ই প্যারামাউন্ট এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি হন স্থানীয়রা। অভিবাসন প্রত্যাশী ও মানবাধিকার সমর্থকেরা মিলে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ ও আইসিই সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, বোতল ও মলোটভ ককটেল ছুড়ে মারেন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে প্রথম ধাপে ন্যাশনাল গার্ডের ২ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়।
এরপর গত সোমবার (৯ জুন) পরিস্থিতি আরও খারাপ দেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন করে আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড ও ৭০০ মেরিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে এ মুহূর্তে শহরটিতে প্রায় ৪ হাজার গার্ড ও প্রায় এক হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু এখনো বিক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া ও সান ফ্রান্সিসকোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও বিক্ষোভ চলাকালীন বেশি সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সংখ্যা প্রকাশ পায়নি। ৪২ বছর বয়সী মারজিতা কেরেটা, যিনি একজন প্রথম প্রজন্মের মার্কিন নাগরিক এবং যার মা মেক্সিকো ও বাবা হন্ডুরাস থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, “এখানে যা হচ্ছে, তার প্রভাব সব মার্কিনিদের ওপর পড়ছে। কারণ এদেশের অধিকাংশ মানুষ মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চায়।” উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ও বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর অঙ্গরাজ্য। এখানে বহু সংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসী, বিশেষ করে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে আগত মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই শহরতলির এলাকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই অবস্থায় অভিযান ও সেনা মোতায়েন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্স।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান