সম্পর্কের দূরত্ব কমানোই টার্গেট
১৩ জুন ২০২৫ ০০:০৭
স্টাফ রিপোর্টার : লন্ডনে সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনের যে হোটেলে উঠেছেন প্রধান উপদেষ্টা সেই হোটেলের লবিতেই ১৩ জুন শুক্রবার সকালে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। ড. ইউনূস ও তারেকের মধ্যে অনুষ্ঠিত সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিএনপি শিবিরে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিএনপির দাবি ছিল ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন করার কথা জানানোর পর দলটির শীর্ষ নেতারা হতাশার মধ্যে পড়েন। সংবাদ সম্মেলন করে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় এপ্রিলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি হতাশ। তারা এও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠকের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গত ৯ জুন সোমবার দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তারেক রহমানও। বৈঠকে আলোচনা করা হয় সরকারের সঙ্গে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা করা যায়। স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১০ জুন বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার প্রধানের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক নতুন ‘টার্নিং পয়েন্ট।’ অর্থাৎ এ বৈঠকটি বিএনপির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনের সম্ভাব্য বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে নিয়ে আসার দাবি জানাবেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে। এপ্রিলে ভোট হলে কী কী সমস্যা হতে পারে তা তুলে ধরে ডিসেম্বরের মধ্যে অথবা রোজার আগে অর্থাৎ অন্তত ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোট অনুষ্ঠানের জন্য সরকার প্রধানের কাছে দাবি জানাবেন। চলমান সংষ্কারের সঙ্গে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার সমন্বয়ে সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানাবো হবে প্রধান উপদেষ্টাকে। জুলাই গণহত্যার বিচার চলমান থাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে গত ১০ মাসের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আরও কী কী পরিকল্পনা রয়েছে তার একটা সারসংক্ষেপ জানানো হতে পারে। তাছাড়া দেশে এখন যেসব সঙ্ঘাত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে তার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত তারও একটা ডাটা তুলে ধরে দলের এ অন্যতম শীর্ষনেতাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হতে পারে।
বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, সরকার ও বিএনপির এ বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ট ও গভীর করাই হবে এ বৈঠকের মূল টার্গেট। বৈঠকের উদ্যোগ যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন বিএনপি চাইবে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমে আসুক।