চট্টগ্রামে সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ


৪ জুন ২০২৫ ১২:৫৩

ইমরান সোহেল, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ রিকশা একসময় নগরীর অলিগলিতে চলাচলের সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে মূল সড়কেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেপরোয়া কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা। এতে ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। সিএমপির ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে এপ্রিল মাসে তিন হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টে নগরীর চকবাজার থানাধীন কাপাসগোলার নবাব হোটেল সংলগ্ন হিজড়া খালের নালায় পড়ে যায় মা, দাদিসহ ছয় মাস বয়সী শিশু সেহরিস। পরে মা ও দাদি উঠতে পারলেও পানিতে তলিয়ে যায় শিশু সেহরিস। নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর চাকতাই খাল থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই রিকশাটির গতি ছিল খুব বেশি। যে কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নালায় পড়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। শুরু হয় ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান। চলতি মাসে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নগর ট্রাফিকের চারটি বিভাগ তিন হাজার ১৬৮টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করেছে। এর মধ্যে সিএমপির দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগ ৯১৩টি, উত্তর বিভাগ ৯১৮টি, পশ্চিম বিভাগ এক হাজার ১৬৮টি এবং বন্দর বিভাগ জব্দ করেছে ১৬৩টি ব্যাটারি রিকশা। এসব রিকশা সিএমপির মনসুরাবাদ ও সদরঘাটে ডাম্পিং করা হয়েছে। নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগনাল এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করে ট্রাফিক পুলিশ। এর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বেশ কয়েকজন ব্যাটারি রিকশার চালক। পরে থানা-পুলিশ সড়ক থেকে তাদের সরে যেতে বলতে সেখানে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। পরে চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ৩৩ জন ব্যাটারি রিকশাচালককে গ্রেফতার করা হয়।
সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নগরীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিল এ সিদ্ধান্ত। নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ।
চট্টগ্রাম মহানগর অটোরিকশা-অটো টেম্পু মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী সাপ্তাহিক সোনার বাংলাকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে কমপক্ষে ৫০ হাজারের বেশি। এসব রিকশা চলে বিদ্যুৎ দিয়ে। যার কারণ অপচয় হচ্ছে অনেক বিদ্যুৎ। এসব রিকশা চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ। এর চেয়ে বড় সমস্যা, ব্যাটারি রিকশা বেড়ে যাওয়ায় নগরীতে যানজট বাড়ছে। ট্রাফিক পুলিশের রহস্যজনক আচরণের কারণে এসব রিকশা এতদিন অলিগলিতে চলাচল করলেও বর্তমানে মূল সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নগরীতে ৫০ হাজারের বেশি ব্যাটারি রিকশা চলাচলের মধ্যে পুলিশ আটক করেছে মাত্র তিন হাজার। তাও আবার কয়েকদিন পরপর এসব গাড়ি সাড়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে পুনরায় সেগুলো সড়কে উঠছে। আমাদের দাবি রিকশা বন্ধ করা নয়, মূল কারণ মোটর এবং ব্যাটারি। অবৈধভাবে লাগানো ব্যাটারি ও মোটর খুলে নিলে মূল সড়কে আর ব্যাটারি রিকশা আসবে না বলে আমরা মনে করি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো শহরের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। সম্প্রতি একটি শিশু খালে পড়ে মারা গেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ব্যাটারি রিকশাগুলো দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আপনারা অনুগ্রহ করে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোয় চড়া থেকে বিরত থাকুন। আপনারা যদি তাদের (চালকদের) নিরুৎসাহিত করেন, তাহলেই তারা রাস্তায় নামা বন্ধ করবে।’
নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) নেছার উদ্দিন সাপ্তাহিক সোনার বাংলাকে বলেন, নগরে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি ব্যাটারি রিকশা জব্দ করা হয়েছে। যতই দিন আসবে এ সংখ্যা বাড়ছে। এবং অভিযান নিয়মিত চলবে।