আ’লীগের পতন, অতঃপর পচন!
১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:১৮
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
প্রথমে পতন, তারপর পচন! পতন সুসম্পন্ন হয়েছে। এখন পচনের পালা। এ পচন শুরু হলে তার দুর্গন্ধ সর্বগ্রাসী হতে পারে। তবে এ দুর্গন্ধ সর্বজন গ্রাহ্য হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের হাত ধরে আগস্টের অনিবার্য পরিবর্তন সেই পতনের পরিণতি লাভ করে। অতঃপর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আওয়ামী লীগের পচন ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা যায়, যে দুষ্কর্মের কারণে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও রাজনীতি থেকে পলাতক হতে হলো আওয়ামী লীগকে, রাজনীতি ও সমাজে পুনর্বাসিতও হতে চায় সেই দুষ্কর্মের প্রক্রিয়ায়। সুস্থধারার রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবর্তে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অরাজকতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে পানি ঘোলা করে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের চিন্তা তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে বলে ভাষ্যকাররা মনে করেন। কিন্তু তাতে যে কাজ হচ্ছে না, তাও ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এটি এ রাজনীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যও বটে। এখন তাদের কেবল পচনের জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।
অপরাধের বিচার
প্রবল প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে শেখ হাসিনা একটি আদালত বানিয়েছিল। যেখানে হাসিনা সরকারের আমলে সেই নির্মূলকরণের বিচারিক রূপ দান করা হয়। যদিও তার আন্তর্জাতিক মান ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত সেই কোর্টেই হাসিনার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হতে চলেছে। তবে একটা পার্থক্য হলো, এ আদালতকে বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার প্রয়াস ও প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমেরিকান দুজন বিচার-বিশেষজ্ঞ আইসিটি আদালত পরিদর্শন করেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করেছেন- সাধারণ অর্থে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা- এ সবই হত্যা এবং ধর্ষণের মতো কাজ নিয়ে গঠিত, যা জাতীয় আইন অনুসারে ‘অপরাধ’। আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে এগুলোকে যা আলাদা করে, তা হলো সেই প্রেক্ষাপট যেখানে এ কাজটি সংঘটিত হয়েছে, তা সে আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত (যুদ্ধাপরাধ), বেসামরিক জনগণের ওপর আক্রমণ (মানবতাবিরোধী অপরাধ) অথবা কোনো জাতিগত, বর্ণগত, জাতীয় বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর ইচ্ছাকৃত ধ্বংস (গণহত্যা) হোক। একটি মামলা সফল হওয়ার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যে, অন্তর্নিহিত অপরাধমূলক কাজটি ঘটেছে (যেমন- ব্যক্তি হত্যা) এবং এই প্রাসঙ্গিক উপাদানগুলোর মধ্যে একটি উপস্থিত ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধÑ যেমন, হত্যা, নির্মূল, নির্যাতন, কারাবাস, ধর্ষণ, নিপীড়ন, বলপূর্বক অপহরণ প্রভৃতি। আইসিসির মতে, ‘যেকোনো বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ব্যাপক বা পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ হিসেবে যা সংঘটিত হয়।’
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) মনে করে, বাংলাদেশে বিক্ষোভ ও ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আর সেগুলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অবগতিতে, সমন্বয়ে ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। তারা এটাও মনে করে, হত্যা, নির্যাতন, কারাবরণ ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে।
উপরোক্ত অবস্থার আলোকে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে অবর্ণনীয় কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত- এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আর সেভাবেই এ আদালতের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে বলে আশা করা যায়।
বলা হচ্ছে, এ আদালতে বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের সূচনাতেই পচনের সূচনা হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আদর্শের। বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন প্রদত্ত প্রতিবেদন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। যে অভিযোগের বিচার করা রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যকর্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের দিক থেকে তার প্রস্তুতি ও অগ্রগতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার সন্তোষজনক না হলেও বিচারের জন্য যে সকল প্রক্রিয়া-পদ্ধতি অনুসরণীয় সেগুলো যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেÑ সে প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ হত্যাযজ্ঞ পরিচালনাকারী দল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে মূলত দেশের ভেতরেই আওয়ামী লীগের অপরাধের আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে আওয়ামী লীগ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। লবিং করা আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ গণহত্যাকারী কোনো দলের পক্ষে সহজে কেউ কাজ করতে চাইবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে সারা বিশ্বেই গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে ভাষ্যকারগণ বলছেন, মানবাধিকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আরেকটি অর্থ হলো জাতিসংঘের অধীনে যে মানবাধিকার আদালত রয়েছে, যার দুটিই শেখ হাসিনার জন্য মারাত্মক। এ বিচারের মধ্য দিয়ে কোন কোন ধরনের রাজনীতি আর করা যাবে না বাংলাদেশে, তা স্পষ্ট হবে। হাসিনার বিচার করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে সিরিয়াস হয়ে উঠছেÑ এটা লক্ষণীয়। এটি হলে চলতি মাসের মধ্যে বিচার শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। বিচার কার্যক্রমে এখন যে তদন্ত চলছে তার প্রতিবেদন এপ্রিলের ২০ তারিখের মধ্যে জমা দেয়ার কথা।
এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড বা গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিচার দ্রুত এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা রয়েছে। দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও নতুন করে সামনে এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ বাস্তবতা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে; তাদের মধ্যে মানসিক দুর্বলতা কাজ করছে। এমন পটভূমিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সহসা দলে দলে রাস্তায় নেমে আসবেন, এখনো সেই মনোবল ও সাহস তাদের হয়নি।
পুনর্বাসনের ধারণা
পতিত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের একটি প্রচেষ্টা বেশ জোরদার হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুলে উঠতে থাকা বেলুনের সব বাতাস বেরিয়ে গেছে। কেউ কেউ এমন বলার চেষ্টা করেন যে, সৎ ব্যক্তি নেতৃত্বে এলে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না? এমনও বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিচারের পর তাদেরকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর জনগণ ক্ষমা করলে তাদের রাজনীতি করতে কোনো আপত্তি নেই। পাল্টা আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলে বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত দলটির প্রতীক থাকুক তা তারা চান না। দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ বাংলার মাটিতে আর রাজনীতি করতে পারবে না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রায় দিয়েছে। ফলে সেই রায় কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর এমন দৃঢ় অবস্থান পুনর্বাসনের পক্ষের মনোভাবকে দুর্বল করে দিয়েছে।
আবার এতদিন দলের ভেতরে কোণঠাসা অংশটি এ সুযোগে চাঙা হয়ে দলের রশি হাত করার চেষ্টা করছে বলে মৃদু আভাস পাওয়া যায়। এটি গত বছর আগস্টেই লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা এগোতে পারেনি। বরং দলের সবখানেই হতাশা চেপে বসেছে। রাজশাহী অঞ্চলের আওয়ামী লীগের একজন নেতা বিবিসিকে বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাদের কোনো বার্তা বা নির্দেশনা দেননি। তাদের বিপদে ফেলে দলের নেতারা বিদেশে পালিয়ে যান, এমন একটা চিন্তা থেকে তৃণমূলে তাদের অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
আশার কফিনে পেরেক
অবশেষে সাক্ষাৎ ঘটলো ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির। আর এ সাক্ষাতে দুই সরকারপ্রধানের পরস্পর করমর্দনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আট মাসের মাথায় ভারত স্বীকার করে নিল ড. ইউনূসের সরকারকে। এর ফলে এবার ব্যাকফুটে চলে গেলেন বাংলাদেশের পদত্যাগী ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষেকরা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ভারত কিছুতেই মেনে নেবে না এবং এর ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে ভারত তার স্ট্যান্ড বজায় রাখবেÑ এমন একটা প্রত্যাশা কাজ করছিল আওয়ামী লীগের লোকদের মধ্যে। কিন্তু সেই আশার কফিনে পেরেক মেরে দিল ব্যাংককের বিমসটেক সামিট। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর সামিটের সাইডলাইনে ঘটলো মোদি-ইউনূস বৈঠক। হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এ সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে একটি ছবি তুলে দেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ১০২তম ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে অধ্যাপক ইউনূসকে স্বর্ণপদক প্রদান করছেন। বিশ্লেষকদের অনেকেরই মতে, এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিসরে পরিত্যাগ করল ভারত। ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান মেনে নিয়ে তার হাতে হাত রেখে স্বীকৃতির বায়াত পড়েন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এছাড়া এর মধ্য দিয়ে হাসিনার এখনো বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’ থাকার দাবি কার্যত ছুড়ে ফেলে দিল ভারত। ফলে এখন শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান পুরোপুরি গুরুত্বহীন রাজনৈতিক ব্যাপার হয়ে গেল। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা দিল্লির একটি সেফ হাউসে গৃহবন্দীর মতো জীবনযাপন করছেন। দুই সরকারপ্রধানের করমর্দনের পর দিল্লিতে বসে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ আর থাকার কথা নয়। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত হলে শেখ হাসিনাকে ঢাকার কাছে প্রত্যর্পণের পথও সুগম হলো।
বিমসটেক সম্মেলনের এ সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন, তাও অনেকেই আঁচ করতে পারেন। এর আগে তিনি থাইল্যান্ডের সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে যে টুইট করেছিলেন, তাতে তিনি তাঁর কর্মসূচির সংক্ষিপ্তসার উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাতের কথা মুখে আনেননি। ফলে এনিয়ে শেষ পর্যন্ত ধোঁয়াশা ছিল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সাক্ষাৎ ছিল বাংলাদেশ পক্ষের চেয়ে ভারতের পক্ষে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে, তাতে ভারতেরই পিছিয়ে যাবার আশঙ্কা ছিল।
শেষ কথা
যাই হোক, শেষ কথারও কোনো শেষ নেই। অবিরাম ঘটে চলা ঘটনার ভিড়ে অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে। তবে ইতিহাসের পাতায় কিছু ঘটনা হয়তো অনেকদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মধ্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি হয়তো স্থান পাবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক পলায়নের ধারাবাহিকতায় তার পতন ও পচন বাংলাদেশের জন্য দিক পরিবর্তনকারী সূচক হয়ে থাকবে। নিয়তি তাদের কোন গহ্বরে নিক্ষেপ করে, সেটিই এখন দেখার পালা।