চাহিদা দেশি ও পাকিস্তানি পোশাকের ॥ বয়কট ভারতীয় পণ্য

আড়াই লাখ কোটি টাকার ঈদবাজার


২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:১৬

॥ সাইদুর রহমান রুমী॥
দুয়ারে কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এবারের ঈদ যেন এক নতুন বারতা নিয়ে হাজির হয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশ রাহুমুক্ত ঈদ উদযাপন করবে এবার। শহর-বন্দর-গ্রাম-গঞ্জ সর্বত্রই যেন মানুষের মাঝে স্বস্তি আর বর্ণিল আনন্দের আমেজ। চলছে শেষ মুহূর্তের ঈদের কেনাকাটা। স্বস্তির রমজান পেরিয়ে ঈদ উদযাপনে উন্মুখ এখন দেশের মানুষ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরে কেনাকাটায় অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের শপিং-মল ও মার্কেটে। আড়াই লাখ কোটি টাকার ঈদবাজারে দেশি রং-বেরংয়ের পোশাক-পরিচ্ছদ যেমন দৃশ্যমান হয়েছে তেমনি ভারতীয় পোশাক বয়কটেরও দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। মার্কেটগুলোয় দেশি ও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি।
আড়াই লাখ কোটি টাকার ঈদ বাণিজ্য
এবার মাহে রমজানের শুরু থেকেই ঈদ মার্কেটে মানুষের সমাগম শুরু হয়, যা অন্যান্য বছর দেখা যেত না। সময়ের পরিক্রমায় ২০তম রোজা পেরোতেই কেনাকাটার ধুম পড়েছে ছোট-বড় বিপণিবিতানসহ সর্বত্র। গত ২৫ মার্চ মঙ্গলবার রাজধানী ঘুরে দেখা যায় শপিংমলগুলোয় ঈদের কেনাকাটা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। শপিংমলগুলো থেকে শুরু করে সড়কের পাশে ফুটপাতজুড়ে বসা বিভিন্ন দোকানেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ঢাকার নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক মার্কেট, ফরচুন মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা, যুমনা ফিউচার পার্ক, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মার্কেটে কেনাকাটা করতে মানুষের জনস্রোত লেগে আছে। সেইসঙ্গে প্রধান প্রধান সড়কসংলগ্ন ফুটপাতগুলোয় সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ক্রেতারদের বিপুল সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্তরা রাজধানীর বসুন্ধরা, পলওয়েল, যমুনা ফিউচার পার্ক, সিটি হার্ট, গাজী ভবন, উত্তরা এলাকার ব্র্যান্ড-শপগুলোয় কেনাকাটা করছেন। মধ্যবিত্তরা নিউমার্কেট, মৌচাক, রাজধানী সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিংমলে কেনাকাটা করছেন। নিম্নমধ্যবিত্তরা আবার বঙ্গবাজার, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন মার্কেট বেছে নিচ্ছেন। সবাই যে যার সাধ্যের মধ্যে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটার জন্য হকার্স মার্কেট, বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোয় কেনাকাটা সারতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে ইফতারের পর থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে ঈদবাজার। যে যার সাধ্য অনুযায়ী করছেন কেনাকাটা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক বাড়তি রাখা হচ্ছে, অভিযোগ ক্রেতাদের।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, এবারের ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু পোশাকের বাজারেই যোগ হতে পারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা। নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা। ধনী মানুষের দেওয়া জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসছে প্রায় ৩৮-৪০ হাজার কোটি টাকা। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বাণিজ্য ১ হাজার কোটি টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪-৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় সাড়ে ১২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ৬০ লাখ দোকান কর্মচারী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিক ঈদ বোনাস পাবেন, যা ঈদ অর্থনীতিতে যুক্ত হবে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আসছে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা করে। ঈদের সময়ে প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে বাড়তি ব্যয় মেটাতে পাঠানো প্রচুর পরিমাণে এ বৈদেশিক মুদ্রা ঈদ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখছে। ঈদকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যবসা হয়। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ১০ বছর আগে ঈদকেন্দ্রিক গড় ব্যবসা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এবার ঈদকেন্দ্রিক আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এবার দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের মনে স্বস্তি আছে। দলে দলে মানুষ মার্কেট-শপিংমলে আসছেন ঈদ কেনাকাটা করতে। তবে রোজার শুরুতে মার্কেটগুলোয় বিক্রি কিছুটা কম হলেও মধ্য রোজার পর থেকে বিক্রি-বাট্টা বেড়েছে। আর শেষ দিকে এসে তো মার্কেটে ক্রেতার ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। কারণ সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা বোনাস হাতে পেয়েছেন। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী এবং ব্যাংকাররা চলতি মাসের বেতনও ইতোমধ্যে হাতে পেয়ে গেছেন। তাই পোশাক বাজার, খাদ্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে সব ধরনের বাজারেই ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। আমরা আশা করছি, এবারের ঈদবাজার সব মিলিয়ে খুব ভালো কাটবে এবং ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, এবারের ঈদকেন্দ্রিক আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। আমাদের এ টার্গেট পূর্ণ হবে কিনা, সেটি বলতে পারছি না। কারণ এবার পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। অবশ্য আমরা আশাবাদী, আড়াই লাখ কোটি টাকার ব্যবসা না হলেও বিক্রি পরিস্থিতি আমাদের প্রত্যাশার কাছাকাছিই থাকবে।
৮০-৯০ হাজার কোটি টাকার পোশাকের বাজারে
রোজার ঈদে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে পোশাকের বাজার। ধারণা করা হচ্ছে এবারের ঈদবাজারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকার বেচাবিক্রি হবে। কেননা ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারেই নতুন পোশাক কেনা হয়। নতুন পোশাকের পাশাপাশি কিনেছেন জুতা, অর্নামেন্টস, প্রসাধনী প্রভৃতি। নতুন পোশাকের পাশাপাশি যারা অন্য পণ্য কিনেছেন, তাদের অধিকাংশই জানান পোশাকের জন্যই ব্যয় হয়েছে ৭০-৮০ শতাংশ অর্থ। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, ঈদের বাজারে মূল বিক্রি হয় নতুন পোশাক। পাশাপাশি জুতা, অর্নামেন্টস, প্রসাধনী, ঘর সাজানোর জিনিস এবং কিছু আসবাবপত্রও বিক্রি হয়। তবে ঈদকেন্দ্রিক ক্রেতারা যে অর্থ ব্যয় করেন তার ৮০ শতাংশই যায় পোশাকের জন্য। বাকি ২০ শতাংশ অর্থ অন্য পণ্যে ব্যয় হয়।
দেশি ও পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদবাজারে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় সব পোশাক এসেছে। বাজারে দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আধুনিক ডিজাইনের সব ধরনের পোশাক রয়েছে। পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি, ফতোয়া, থ্রিপিস, টুপিস ও শিশুদের জন্য সব ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। পুরুষ ক্রেতাদের তুলনায় নারী ক্রেতাই বেশি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার সব পোশাকের দাম একটু বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।
বাচ্চাদের পোশাক ও নারীদের পোশাকের চাহিদাই তুলনামূলকভাবে বেশি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সহায়তায় বর্ডার খোলে দিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ভারতীয় পোশাক বৈধ-অবৈধ পথে নিয়ে আসতে উৎসাহিত করায় অন্যান্য বছরে ঈদে দেশীয় পোশাক ব্যাপক মাইর খায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরো উল্টো। ভারতীয় পোশাক না আসাতে মানসম্মত দেশীয় পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। মহিলাদের থ্রিপিস-টুপিসসহ বাহারী নানা পোশাকে পাকিস্তানি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদ মার্কেটে মানুষের ঢল দেখে দোকানীরা বেশি দাম হাকাচ্ছে।
রাজধানীর মৌচাক মার্কেটে পরিবারসহ ঈদবাজার করতে আসা ইলিয়াস আলী একজন চাকরি জানান, ঈদের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি, এ অবস্থায় বাজারে মানুষের ঢল দেখা যাচ্ছে। পরিবারের জন্য কিছু কিনতে চেষ্টা করছি। দেখা যাক কিনতে পারি কিনা। তবে দোকানিরা দাম ছাড়ছে না। এলিফ্যান্ট রোডে জুতা কিনতে আসা আখতার হোসেন বলেন, জুতার অসম্ভব বেশি দাম হাকা হচ্ছে- বাজেটের বাইরে, কী করব ভেবে পাচ্ছি না। তাই পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করতে চেষ্টা করছি।
নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে ফাহমিদা আক্তার বলেন, আমি ও আমার মেয়ের জন্য ড্রেস কিনতে এসেছি। আমাদের পছন্দ পাকিস্তানি থ্রিপিসগুলো। মার্কেটে কাপড়ের দাম বেশি। পছন্দের জিনিস কিনতে চেষ্টা করছি। অন্যান্য সময় অনলাইনে কিনে ফেলি, কিন্তু যেহেতু ঈদ তাই মেয়ের আবদারে মার্কেটে এসেছি।
চাঁদনী চক মার্কেটের দোকানদার রায়হান উদ্দিন জানান, এবার ঈদে ক্রেতাদের উপস্থিতি একটু বেশি মনে হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে সব নতুন কালেকশন দোকানে এনেছি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। ভালো বিক্রির কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন মার্কেটের কসমেটিক্সে ও জুতার দোকানিরাও। বেচাকেনা গত বছরের তুলনায় এবার ভালো হচ্ছে। সময় যত যাচ্ছে, ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে বলে জানান তারা।
বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে পোশাক কিনতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিম জাহান বলেন, ‘পাকিস্তানি পোশাকের ডিজাইন, এমব্রয়ডারি সুন্দর। তাই পাকিস্তানি পোশাকই প্রথম পছন্দ। তবে দাম বেশি হওয়ায় বাজেট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। কিছু দোকানে ভারতীয় পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে, ওগুলোরও দাম বেশি।’
পরিবার নিয়ে রাজধানী সুপার মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং ওদের মাকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। সবাই নিজের পছন্দ অনুযায়ী কেনাকাটা করবো। নতুন পোশাকের পাশাপাশি সবার জন্য নতুন জুতা কেনার ইচ্ছা আছে।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা বলতে আমি মূলত বুঝি নতুন পোশাক কেনা। প্রতি বছরই ঈদে নতুন পোশাক কিনি, এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়ী আসিফ বলেন, ‘মানুষ নতুনত্ব পছন্দ করে। আগে ভারতীয় পোশাকের প্রতি নির্ভরতা থাকলেও এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে ভারতীয় পোশাক সেভাবে দেশে আসছে না। ফলে মানুষ পাকিস্তানি আর দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।’
জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস জাফিরা ক্লথিংয়ের ব্যবস্থাপক সাজু আহমেদ পাকিস্তানি পোশাক নিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানি পোশাকের দাম সব সময়ই একটু বেশি থাকে। কারণ কাপড়ের মান ভালো। এছাড়া আমাদের দেশে পরিবহন খরচ ও ভ্যাট বেশি, যা পোশাকের দামে প্রভাব ফেলে। যদি খরচ কমানো যায় বা পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়, তাহলে পোশাকের দাম আরো কমবে।’ দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গর্জিয়াস ও ফ্যাশনেবল পোশাকগুলোর দাম তিন হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর সাধারণ সুতি কাপড়ের পোশাকের দাম এক হাজার ২০০ থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। মধ্যবিত্তরা পাকিস্তানি পোশাক কিনলেও তারা মূলত মাঝারি দামের পোশাকই কিনছে।’
কাপ্তান এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বে থাকা মো. হানিফ বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা পাকিস্তানি পোশাক নিয়ে কাজ করছি। তবে এবারের মতো এত বেশি চাহিদা আগে দেখিনি। পাকিস্তানি পোশাকের কাপড়, সূচিকর্ম ও ডিজাইন একটু ব্যতিক্রমী, তাই যারা ট্রেন্ডি পোশাক পছন্দ করে, তারা এগুলো কিনছে।’ তিনি বলেন, ঈদের বাজারে যেভাবে দোকানে দোকানে ভারত-পাকিস্তানের পোশাক বেচাকেনা হয়, সে তুলনায় বৈধ পথে আমদানি খুবই কম। মূলত ভারত থেকে অবৈধ পথে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করা হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে লাগেজে করে তৈরি পোশাক আসে।
কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা
ঈদ অর্থনীতি নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে ঈদবাজারের অবদান প্রতি বছরই বাড়ছে। ঈদকে ঘিরে সারা দেশের নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়। ব্যাংকগুলোয় কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে বছরের দুটি ঈদ দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুরবানির ঈদ জমে ওঠে কুরবানির পশুর বাজারকে ঘিরে, আর রোজার ঈদে পোশাক, কসমেটিক্স থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য এবং জাকাত-ফিতরাও অনেক ভূমিকা রাখে। ঈদকে ঘিরে রেমিট্যান্স চাঙ্গা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিও গতিশীল হয় ঈদকে ঘিরে। কারণ প্রবাসীরা দেশের থাকার পরিবার-পরিজনের জন্য প্রচুর রেমিট্যান্স পাঠান। সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অন্যরকম গতি ফিরে আসে। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিস্থিতি।