সৌদির ভিসা সীমিতকরণ নীতি

ওমরাহ পালন অনিশ্চিত কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির


২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:০৬

স্টাফ রিপোর্টার : মক্কায় ওমরাহ পালনকারীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় ভিসা সীমিত করেছে সৌদি সরকার। বাংলাদেশ থেকে যারা এবার ওমরাহ পালনে সৌদি যেতে আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে সবাইকে ভিসা দিচ্ছে না দেশটি। ফলে ইবাদতের উদ্দেশে বিমানের অগ্রিম টিকিট ও বাড়ি বুকিং দেওয়ার পরও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির এবার ওমরাহ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই নয়, সব দেশের জন্যই ভিসা সীমিত করেছে সৌদি সরকার- এমনটিই জানা গেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে। রমজানে বেশি লোকের চাপ, একসঙ্গে এত লোকের চাপ সামলাতে একটু সমস্যা হচ্ছে, তাই হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সৌদি সরকার এমন নীতি অবলম্বন করেছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সূত্র বলছে, হঠাৎ করেই সৌদি আরব ওমরাহ ভিসায় কোটা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়, এতে বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীদের ওপরও প্রভাব পড়েছে। আগে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ওমরাহ ভিসার আবেদন অনুমোদিত হলেও রমজান মাসের শুরুতে এ হার নামে ৮-১০ শতাংশে। রমজানের শেষ দিকে তা আরও কমে ২-৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হাব বলছে, ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি ভিসার জন্য উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিং করেছেন। তাদের অনেকে পরিবারসহ ওমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে ভিসা পাননি। ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি জেনে আরও অন্তত ৫৫ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ যাত্রার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। অবশ্য তারা উড়োজাহাজের টিকিট বুকিং দেননি। ভিসা না মেলায় ওমরাহপ্রত্যাশীদের মতো ওমরাহ এজেন্সিগুলোও বড় আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওমরাহযাত্রীর জন্য আগাম টিকিট ও হোটেল বুকিং দেয় এজেন্সিগুলো। ক্ষতির কারণে কিছু এজেন্সি এ পরিস্থিতিতে কার্যক্রম স্থগিত রাখার চিন্তা করছে। এয়ারলাইনসগুলোরও একই অবস্থা। কারণ যাত্রীরা ভিসা জটিলতার কারণে টিকিট বাতিল করছেন বা ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ওমরাহ ভিসার হার কমানোয় জটিলতা
পবিত্র ওমরাহ ভিসা দেওয়ার হার কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। চলতি মাস থেকে ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কোটা পদ্ধতি চালু করেছে দেশটি। শতকরা ১০ ভাগ বাংলাদেশিকে বর্তমানে ওমরাহ ভিসা দিচ্ছে ঢাকার সৌদি আরব দূতাবাস। হাব সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্যমতে, সৌদি সরকার ওমরাহর ক্ষেত্রে কোটা চালু করেছে। আগে ১০০টি ভিসার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০০টিই ভিসা পাওয়া যেত। বর্তমানে ৮-১০ শতাংশ ভিসা পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই গত ৫ মার্চ থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে কামনা করেছে হাব। এদিকে আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে ১৫ বছরের কম বয়সীরা হজে যেতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি সরকারের হজ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সৌদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠি
বাংলাদেশ থেকে রমজান মাসে অনেক মুসল্লি ওমরাহ করতে যান। সেই অনুযায়ী এবারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন অনেকে, এজেন্সিগুলো তাদের জন্য টিকিটও বুকিং দিয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ ভিসা সীমিত করায় বিপাকে পড়েছেন ওমরাহযাত্রী ও এজেন্সিগুলো। ভিসা বন্ধ হলেও আগেভাগে বুকিং দেওয়া বিমান টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে টিকিট-মূল্য সবাই ফেরত পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধে উদ্বেগ জানিয়ে সংকট নিরসনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জটিলতা কাটিয়ে বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এজেন্সিগুলোর অগ্রিম ভাড়ার অর্থ ফেরত দেবে এমন নিশ্চিত করেছে বলেও জানিয়েছেন আ ফ ম খালিদ হোসেন। ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ‘সৌদি সরকার নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসা ওপেন করে (খুলে) দিয়েছিল অথচ (কাজের উদ্দেশ্যে) লাখ লাখ মানুষ এখন সৌদি আরবে হাজির। হজের চেয়েও বেশি মানুষ এখন মক্কা-মদিনায়। মানুষ যে ইবাদত করবে সেই পরিবেশ নেই। এ পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা ইস্যু প্রায় বাতিল করে দিয়েছে। (বাংলাদেশিদের জন্য) তারা এখন ভিসা ইস্যুর হার ১০%-এ নামিয়ে এনেছে।’ তিনি বলেন, ‘ওমরাহ ভিসা ইস্যু করা কমিয়ে দেওয়ার কারণে আমরা উদ্বিগ্ন, সেই উদ্বেগ আমরা তাদের জানিয়েছি। ভিসা আগের মতো ওপেন করার অনুরোধও করেছি। আমরা সৌদি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম সকল প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। হজের পাশাপাশি ওমরাহ পালনকেও উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে। হজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা আবশ্যক হলেও ওমরাহ পালনের বিশেষ কোনো সময় নেই। তবে হজের নির্ধারিত বিশেষ সময়ে (৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন) ওমরা পালন করা বিধেয় নয়। এ পাঁচ দিন ছাড়া বছরের যেকোনো দিন যেকোনো সময় ওমরাহ পালন করা যায়। ওমরাহ শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিদর্শন করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মিকাত হতে ইহরাম করে শরিয়াহ নির্দেশিত পন্থায় পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ায় সা’ঈ করাকে ওমরাহ বলে। রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে হজ এবং ওমরাহ করো। কেননা এ দুটি দরিদ্রতা ও গুনাহকে সেভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, কামারের হাপর যেভাবে লোহা থেকে ময়লাকে দূরীভূত করে দেয়।’ (নাসাঈ)।