ওমরাহ ভিসা জটিলতা, বিপাকে শত শত গমনেচ্ছু
২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:১২
॥ সাইদুর রহমান রুমী॥
কোনো ধরনের পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিদের জন্য হঠাৎ করে ওমরাহ ভিসা প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে বাংলাদেশ থেকে রমজান মাসে ওমরাহ গমনেচ্ছুক হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে এজেন্সিগুলো অগ্রিম টিকিট ও বাড়ি-হোটেল ভাড়া বাবদ বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটছে সংশ্লিষ্টদের। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিসা বন্ধ করেনি, বাংলাদেশিদের চলতি রমজানের বরাদ্দ কোটা ফুরিয়ে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হঠাৎ বন্ধ মোফা
রমজানের শেষ দশ দিনে পবিত্র মক্কা-মদিনায় ইতিকাফের মনোবাসনা থাকে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। কিন্তু এবার এ সুযোগ থেকে হাজার হাজার বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী বঞ্চিত হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত অঘোষিতভাবে হঠাৎ ওমরাহ ভিসা (মোফা) একেবারে কমিয়ে দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত পনেরো দিনেও ওমরাহযাত্রীদের কাক্সিক্ষত মোফা মিলছে না। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওমরাহযাত্রীরা মাহে রমজানে পবিত্র মক্কা-মদিনায় ইতিকাফ করার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওমরাহ মোফা ইস্যু অনেকটা বন্ধ থাকায় আগে বিমানের টিকিট ক্রয় করেও রমজানে যাত্রীরা ওমরাহ পালনে সৌদি যেতে পারছেন না। বিষয়টি সম্পর্কে আগে জানা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৪ মার্চ থেকে সৌদি আরবের নুসুক সিস্টেমে কাক্সিক্ষত ওমরাহযাত্রীর মোফা মিলছে না। নুসুক সিস্টেমে ৯০ শতাংশ ওমরাহ ভিসা (মোফা) রিজেক্ট হচ্ছে। ফলে মোফার জন্য ওমরাহযাত্রীদের মাঝে চলছে হাহাকার। নুসুক সিস্টেমে ওমরাহযাত্রীর মোফা ইস্যু বুকিং করতে সার্ভারে ঢুকলেই দেখাচ্ছে বাংলাদেশি দৈনিক ওমরাহযাত্রীর কোটা শেষ। ফলে ওমরাহ মোফা মিলছে না। ফলে রমজান মাসে মক্কা-মদিনায় ইতিকাফ এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য যেসব হাজার হাজার নারী-পুরুষ সৌদি যাওয়ার নিয়ত করেছিলেন, তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। হঠাৎ বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের মোফার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইটেও প্রায় ৭০ শতাংশ সিট খালি যাচ্ছে। কিন্তু এসব ফ্লাইটের টিকিট আগেই বুক করা ছিল।
কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিতে এজেন্সিগুলো
দেশের স্বনামধন্য এজেন্সিগুলো অগ্রিম ওমরাহ গ্রুপ টিকিট বুকিং দিয়ে রাখলেও ভিসা জটিলতায় ওমরাহযাত্রীরা সৌদি গমন করতে পারছেন না। ফলে এয়ারলাইন্সগুলো অনেকটা খালি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অগ্রিম টিকিট পেমেন্টকারী এজেন্সিগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এ যাবত প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি গেছেন। সেই অনুযায়ী এবারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন অনেকে, এজেন্সিগুলো তাদের জন্য টিকিটও বুকিং দিয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ ৯০ শতাংশ ভিসা বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ওমরাহযাত্রী ও এসকল এজেন্সিগুলো। ভিসা প্রায় বন্ধ হলেও আগে-ভাগে বুকিং দেওয়া বিমান টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমান বাংলাদেশ টিকিট সমন্বয়ের ঘোষণা দিলেও সৌদি ও অন্য এয়ার লাইন্সগুলো এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ টিকিট সমন্বয় করলেও তার জন্য বিশেষ চার্জ কেটে নেয়া হবে বলে জানা গেছে, যা এজেন্সিগুলোর জন্য বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। হাব সূত্র জানায়, ওমরাহযাত্রী পরিবহন করে থাকে ১০-১২টি এয়ারলাইন্স। রমজানে প্রতিদিন ১,০০০-১,২০০ ওমরাহযাত্রী পরিবহন করার কথা। তবে ভিসা বন্ধ করায় এসব যাত্রীরা টিকিট করেও এখন যেতে পারছেন না। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, টিকিট সংগ্রহকারী কোনো যাত্রী ভ্রমণে অনিচ্ছুক হলে বিধি মোতাবেক তার টাকা ফেরত প্রদান করা হবে। তবে এর জন্য চার্জ কেটে নেয়া হবে। অন্যদিকে সাউদিয়া এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা রমজান মাসে ভিসা না পাওয়ার কারণে যারা ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যেতে পারবেন না, তাদের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক ঈদুল ফিতরের পরে এবং আগামী জুলাই মাসে ওমরাহ পালনের সুযোগ রেখে টিকিট পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়টি এখনো অনিশ্চয়তায়। বিশেষ করে রোজার সময় যে টিকিট ১ লাখ ১০-১৫ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সময় ৭০-৭৫ হাজার টাকা হলে তা কীভাবে সমন্বয় হবে তার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সমস্যা কোথায়
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি সরকার নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসা ওপেন (খুলে) করে দিয়েছিল অথচ এ বছর (কাজের উদ্দেশ্যে) লাখ লাখ মানুষ এখন সৌদি আরবে হাজির। হজের চেয়েও বেশি মানুষ এখন মক্কা-মদিনায়। মানুষ যে এবাদত করবে সেই পরিবেশ নেই। অনেকে ওমরাহ ভিসায় গিয়ে হজ করে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর ওমরাহ ভিসায় বহু প্রবাসী পরিবারের অন্য সদস্যদের সে দেশে নিয়ে গিয়েও কোটা শেষ করে ফেলছেন বলে অভিযোগ আছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা ইস্যু একদম কমিয়ে দিয়েছে। আর (বাংলাদেশিদের জন্য) তারা এখন ভিসা ইস্যুর হার ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার বলেছেন, সৌদি আরবে পাঁচ লাখ লোক যেখানে এ সময় ওমরাহ করতে পারবে সেখানে, এরই মধ্যে সাড়ে চার লাখ চলে গেছে। আর হয়তো ৫০ হাজার মানুষ ভিসা পাবে। সেখানে বাংলাদেশ ৪-৫ হাজার পেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে যেতে ইচ্ছুক ২০ হাজার।
কী বলছেন ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধে উদ্বেগ জানিয়ে সংকট নিরসনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জটিলতা কাটিয়ে বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এজেন্সিগুলোর অগ্রিম ভাড়ার অর্থ ফেরত দেবে বলে নিশ্চিত করেছে বলেও জানিয়েছেন আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত ১৮ মার্চ মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভিসা পেতে বাংলাদেশের হজ এজেন্সির প্রতিনিধিদের যাত্রীর হোটেল বুকিং ও বিমান টিকিটের তথ্যসহ সৌদি আরবের ওমরাহ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত। এতে ওমরাহ ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা হবে বলে আশা করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এদেশের ওমরাহ যাত্রীদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না- এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরপরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মৌখিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়। পরে ১৩ মার্চ এ মন্ত্রণালয়ের সচিব ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতকে একটি ডিও পত্র প্রেরণ করেন। পত্র প্রেরণের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব ঢাকাস্থ সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে অব্যাহতভাবে টেলিফোনে ও মোবাইলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমানে ছুটিতে দেশটিতে অবস্থান করছেন। ডিও পত্রের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তিনি সচিবকে একটি ফিরতি অডিওবার্তা প্রেরণ করেছেন। অডিওবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হয়নি। তিনি (রাষ্ট্রদূত) আরও জানিয়েছেন, সৌদি ওমরাহ এজেন্ট যদি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে সে দেশের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হাবের ভাষ্য
হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে এবার রমজানে ওমরাহ করতে যেতে ইচ্ছুক ২০ হাজার। এরই মধ্যে সৌদি কোটার পাঁচ লাখের সাড়ে চার লাখ ওখানে আছে। তাই সারা বিশ্বের জন্যই কোটা সীমিত করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ হয়তো এবার সর্বোচ্চ ৪-৫ হাজার ভিসা পেতে পারে এ রমজানে। তিনি বলেন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স যেন আমাদের টিকিটের টাকা রিফান্ড করে দেয়। এখন টিকিটের দাম এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু হজের পরে যখন আমরা ওমরাহয় যাব, তখন টিকিটের দাম হবে ৭৫ হাজার টাকা। এই যে ব্যবধান হচ্ছে এ বারতি টাকার কী হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রাজি হলেও সৌদি আরব এখনো টাকা রিফান্ডে রাজি হয়নি।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, সৌদি আরব ভিসা ইস্যু প্রক্রিয়া এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, এটি বন্ধের কাছাকাছি। আমরা ১০০ পাসপোর্ট সাবমিট করলে একটি বা দুটি ভিসা দেয়া হচ্ছে। এখন যে অনলাইন ফরমেটে আমরা ভিসা আবেদন করি সেখানে হোটেল ও টিকিটের তথ্য দিতে হয়। না দিলে ভিসা আবেদন সাবমিট করা যায় না। এভাবে আবেদন করার পরও আমরা প্রতিনিয়ত রিফিউজ হচ্ছি। তাই রাষ্ট্রদূত যে তথ্য উপদেষ্টাকে দিয়েছেন তাতে ঘাটতি রয়েছে। ‘সৌদি এয়ারলাইন্স এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাইরে অনেকগুলো এয়ারলাইন্স ওমরাহযাত্রী বহন করে থাকে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন ছাড়া বাকি বিমান সংস্থাগুলো টিকিটের টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন’ বলেও দাবি করেন হাব মহাসচিব।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
বাংলাদেশ হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের ওমরাহ মোফার তীব্র সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। তিনি পবিত্র রমজান মাসে ইতিকাফকারীদের জন্য অবিলম্বে পূর্বের ন্যায় ওমরাহ ভিসা ইস্যু বহাল রাখার জন্য রাজকীয় সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সৌদি ওমরাহ কোম্পানিগুলো ভিসার মূল্যবৃদ্ধির নামে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ রিয়াল কামিয়ে নিচ্ছেন। ওমরাহ কোম্পানিগুলো একেকটা ওমরাহ মোফায় ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। ১৮ হাজার টাকার ওমরাহ মোফার ফি এখন ২৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক। আমরা এ অনৈতিক কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে স্বনামধন্য হজ এজেন্সি আবাবিল হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ সোনার বাংলাকে জানান, হঠাৎ ওমরাহ মোফা ইস্যুতে গত ৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশের জন্য কোটা সিস্টেম চালু হওয়ায় ৯০ শতাংশ ওমরাহ মোফা হ্রাস পেয়েছে। ওমরাহ ভিসার অভাবে হাজার হাজার যাত্রীর সিট বাতিল হচ্ছে। ওমরাহ মোফার অভাবে অগ্রিম ক্রয়কৃত ওমরাহ টিকিটের মূল্য এয়ারলাইন্সগুলো ফেরত দিবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। এতে সবাই চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ওমরাহ নিয়ে ইসলামিক স্কলারদের ভাষ্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক এবং ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মোহাম্ম শহীদুল ইসলাম সোনার বাংলাকে বলেন, ইসলামী রীতি অনুযায়ী সামর্থ্য হয়ে গেলে জীবনে অন্তত একবার পবিত্র হজ পালন করা অবশ্যই ফরজ। আর ওমরাহ হচ্ছে একটি নফল ইবাদত। হজের ফরজ ওমরাহ দিয়ে করলে হবে না। আর আমাদের মতো গরিব দেশে বার বার ওমরাহ পালন করাও সমীচীন নয়, যা অনেকেই করে থাকেন। ইসলাম একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম। কারো ওমরাহর মনোবাসনা পূর্ণ হয়ে গেলে সে পরবর্তীতে বার বার ওমরাহ পালন না করে সে টাকা দিয়ে সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে অনেক ভূমিকা রাখতে পারেন। অনেক সদকায়ে জারিয়ার কাজ করতে পারেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। অথচ সে হিসেবে ওমরাহ পালনে শুধু একবারই গমনকারী সাওয়াব পাবেন। এই ইসলামিক স্কলার বলেন, বর্তমান সময়ে বহু মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না কিংবা তাদের ন্যূনতম প্রয়োজনটুকুও পূরণ করতে পারেন না, অনেক মানুষ লজ্জায় সমাজের কাছে চাইতেও পারেন না। তাই এ বিষয়গুলোয় সমাজের সামর্থ্যবান ও ধনীদের খেয়াল রাখতে হবে।