গুজব ও ষড়যন্ত্র এখন ফ্যাস্টিস্টদের পুঁজি
২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:০৪
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তুএ সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করতে দিচ্ছে না বিদেশে ও দেশে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা। তারা প্রতিদিনই ষড়যন্ত্র করে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যখনই কোনো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়, তখনই ওই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে ফ্যাস্টিস হাসিনার অনুসারী অনুগতরা। সেখানে ইচ্ছাকৃত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তারা। শুধু আওয়ামী লীগের দোসররাই যে ষড়যন্ত্র করছে তা কিন্তু নয়, বামরাও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত ৫ আগস্ট হাসিনার পতনে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রেখেছে ইসলামপন্থীরা। এ ইসলামপন্থী যাতে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে না পারে, এজন্য বামপন্থীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ সৃষ্টির পরিবেশ তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে এ স্বৈরাচার গোষ্ঠী।
আন্দোলনের নামে উসকে দেওয়া হচ্ছে বিশৃঙ্খলা : স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র বামরা কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তার একটা জ¦লন্ত উদাহরণ সামনে তুলে আনা যাক। সম্প্রতি মাগুরার আছিয়া ধর্ষণের বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলন করছিল বামপন্থীরা। ওই আন্দোলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিসহ নানা দাবি করা হচ্ছিল। গুটিকয়েক মানুষের ওই অবস্থানের মধ্যে সিভিলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলে পড়ে বামপন্থীরা। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে কোনো অ্যাকশনে না গিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করা ওই পুলিশ অফিসারের ওপর আন্দোলনকারী বামরা কতটা আক্রমণাত্মকভাবে হামলে পড়েছিল, তার একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কাছাকাছি সময়ে বামদের কোনো এক কর্মসূচিতে সিভিলে থাকা এক পুলিশকে আক্রমণাত্মক এক নারী আন্দোলনকারী ‘গায়ে টাচ করবি না’ বলে সতর্ক করছিল, কিন্তু সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীই পুলিশ অফিসারকে টাচ (ছোঁয়া) করছে। অফিসার সেখানেও নিজেকে সেইভ করার চেষ্টা করছিলেন। এভাবেই পরিস্থিতি উত্তেজক করার চেষ্টা করছে বাম ও ফ্যাসিস্টরা।
গুজব যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে
গুজব কীভাবে ছড়ানো হচ্ছে, তারও একটি জ¦লন্ত উদাহরণ সামনে নিয়ে আসা যাক। ফ্যাস্টিস সরকারের আমলে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন আবুল হাসনাত হাসনাইন। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল হাওলাদার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা চালান। ওই হামলার ভিডিও তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সম্প্রতি গুজব সৃষ্টিকারীরা ওই ভিডিওটার ক্যাপশন পাল্টিয়ে দিয়ে দাবি করে হামলাকারী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, হামলাকারী ওই ব্যক্তি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামী লীগের লালমোহন উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। এমন হাজার হাজার গুজব ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এখানেই শেষ হয়, সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয় উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আসছে। সেখানে নতুন পাঁচ মুখ যুক্ত হচ্ছেন। এমন একটি প্রজ্ঞাপনের কাগজ তৈরি করে তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন কোনো প্রজ্ঞাপন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি। এমনকি যে সচিবের নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, তার সবটাই ভুয়া। এ ঘটনায় সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেনাপ্রধান পদত্যাগ করেছেন বলে গত ১১ মার্চ গভীর রাতে সামাজিকমাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টে ক্যু করে ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়েছে বলে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেই খবর ভারতীয় প্রভাবশালী অনেক পত্রিকায়ও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু আদতে ওই খবরটি ছিল গুজব।
কিছুদিন আগে ফেসবুকে অনেকগুলো অস্ত্রের ছবি দিয়ে ছড়ানো হয় যে, সেগুলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতির কক্ষ থেকে উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, সেগুলো মূলত জুলাই অভ্যুত্থানে থানার লুট হওয়া অস্ত্র। সেনাবাহিনী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধারের পর পুলিশকে হস্তান্তর করে। আর সেই ছবি দিয়ে এ গুজব ছড়ানো হয়। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আর তা হলো এক ব্যক্তি আদালত চত্বরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। ওই সময় লোকজন তাকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর শুরু করে। মূলত সেই ভিডিওটি ঠাকুরগাঁও জেলার যুবলীগ নেতাকে মারধরের। কিন্তু সেটি ছড়ানো হয় ভিন্নভাবে। সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনায় আসামির পক্ষে এক আইনজীবী লড়াই করতে যাওয়ায় তাকে এভাবে মরধর ও গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে বলে প্রচার চালানো হয়। আদতে সেটি ছিল অসত্য তথ্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ঢাকায় সফরকালীন মুহূর্ত নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। ছবিতে টেবিলে বসে একটি বইয়ে স্বাক্ষর করছেন গুতেরেস আর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কেউ কেউ আবার সেই টেবিলে গুতেরেসের জায়গায় ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার ছবি যুক্ত করেও প্রকাশ করেছেন, ইউনূস পদত্যাগ করলেন শেখ হাসিনা ফিরে আসার কারণে। কখনো ছবি, ভিডিও আবার কখনো ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রচার করে মূলত পতিত লীগের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করছে তারা। গত আড়াই মাসে বেশি গুজব ছড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোকে টার্গেট করে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সম্পর্ক নিয়ে বেশি গুজব ছড়ানো হয়েছে। এরপর আছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
আড়াই মাসে ৫৩৯ ভুয়া তথ্য প্রচারের প্রমাণ করেছে রিউমর স্ক্যানার
ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে গত আড়াই মাসে ৫৩৯টি ভুয়া তথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানটির মতে, জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ২৭১টি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬৮টি অসত্য তথ্য ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, ফ্যাক্টচেক থেকে গণনাকৃত এ সংখ্যার মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে। ফেসবুকের পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রচারের তালিকা থেকে বাদ যায়নি দেশের গণমাধ্যমও। ১৬টি ঘটনায় দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারিতে এমন ৩২টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে ২৫টি ঘটনাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গেল জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ১৩টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ খবর সরকারের বিরুদ্ধে। ভুল তথ্যের রোষানল থেকে রক্ষা পায়নি রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোও। এ তালিকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও রয়েছেন। তবে রিউমার স্ক্যানার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা মনে করছেন এ গুজব দেশ ও বিদেশ দুই পথ থেকেই ছড়ানো হচ্ছে। তবে দেশে যারা ছড়াচ্ছেন তাদের অধিকাংশই ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ টার্গেট করে গুজব ছড়ানোর কাজ করছে। ভুল তথ্যের স্টিকারসংবলিত কার্ড যারা সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করছেন তাদের বেশিরভাগই জানেন না, সেটা আসল নাকি নকল তথ্য। শুধু ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও অনেক সময় সামাজিকমাধ্যম থেকে অসত্য ভুয়া তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন পাঠক।
সামনে বামদের রেখে পেছনে কলকাঠি নাড়ছে আ’লীগ
গত ১৮ মার্চ দেশের অন্যতম প্রভাবশালী একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সামনে বাম, পেছনে আওয়ামী লীগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ‘নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র, দেশকে অস্থিতিশীল করতে বেছে নেওয়া হয়েছে শাহবাগ ও শহীদ মিনার’ এমন তথ্যও পাঠকের দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “বামদের ওপর ভর করে দেশকে অস্থিতিশীল করার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের ইস্যুকে সামনে রেখে বাম রাজনৈতিক দল এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে গণজাগরণ মঞ্চের সেই কুশীলবরাও। যারা প্রায় নিয়মিত শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড় প্রভৃতি এলাকায় সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করছে। এসব সংগঠনের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে আওয়ামী দোসররা। এজন্য বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বাস্তবতা হলো-সামনে বাম, পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আর নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছে আমাদের বন্ধুপ্রতিম একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ওই দৈনিকটিকে জানিয়েছে, মূলত মুখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে বেশিরভাগ বাম দল একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এজন্য বাম দলগুলোকে আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের জোটবদ্ধ আন্দোলন করার বহু নজির রয়েছে। এছাড়া আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের কাছে প্রথম পছন্দের দল আওয়ামী লীগ হলেও বিকল্প পুঁজি হচ্ছে বাম দল। আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে দিয়ে তারা নানা কৌশলে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। আওয়ামী লীগ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ায় বাম সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামানো হচ্ছে।
যা বলছেন রাজনীতিকরা
শরীয়তপুর জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা এখনো প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছে। তিনি বলেন, এসব প্রেতাত্মা নতুনভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে নানারকম কূটকৌশল অবলম্বন করছে। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।