নিত্যপণ্যমূল্য নিম্নমুখী স্বস্তিতে ভোক্তা


২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:০০

স্টাফ রিপোর্টার : পতিত সরকারের সময় এক কেজি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়ও কিনতে হয়েছে। আর পেঁয়াজ উত্তোলন মৌসুমেও চড়ামূল্যে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে ভোক্তাদের। কিন্তু গত ৩ মাস ধরে স্বল্পমূল্যে কেনা যাচ্ছে পেঁয়াজ। সাধারণ যেকোনো সবজির মতোই পেঁয়াজের দাম রয়েছে হাতের নাগালে। গত ১৮ মার্চ মঙ্গলবার রাজধানীর বাজারে দেশি এবং সবচেয়ে ভালোমানের পেঁয়াজের মূল্য কেজি ৪০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ছিল এক ডজন ডিমের মূল্য, কিন্তু এখন সেই ডিমের মূল্য অলিগলির দোকানে ১২০ টাকা আর সুপারশপে ১০০ টাকা মূল্যে কেনা যাচ্ছে। চিনির মূল্যই অনেক কমেছে, ১৫৫ টাকার চিনি এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকায়। এছাড়া প্রায় সব সবজিরই মূল্য কমেছে। সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়াতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছিল, এখন সেই সংকটও দূর হয়েছে। কমতে শুরু করেছে সয়াবিন তেলের মূল্যও।
পবিত্র রমজানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজার করতে আসা ভোক্তারা স্বস্তিতে রয়েছেন। রমজানের আগে থেকেই খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের যে সংকট ছিল, তা কিছুটা কমেছে। বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে তা এখনো চাহিদার তুলনায় কম। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজসহ বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। ফলের দামেও কিছুটা স্বস্তি মিলছে। দোকানগুলোয় আগের তুলনায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেড়েছে। এসব দোকানের বিক্রেতারা জানান, ডিলাররা এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছেন, তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। পাঁচ কার্টন বোতলজাত সয়াবিন তেলের অর্ডার দিলে দুই কার্টন তেল সরবরাহ করছে। জানা গেছে, খুচরা সয়াবিন তেলের দাম অনেকটাই কমেছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭ থেকে ২০ টাকা কমে ১৬০ থেকে ১৬৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিনে তিন টাকা কমে ৩৪৫ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৭৫ থেকে ১৭৮ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৮৪৫ থেকে ৮৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে তা ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, যা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও গরুর গোশতের দাম কমেনি। প্রতি কেজি গরুর গোশত ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে। এছাড়া লেবুর দামও কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি হালি লেবু এখন ৪০ টাকা। এদিকে প্রতি কেজি তরমুজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা রমজানের শুরুতে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মাল্টা কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ফলের মধ্যে আপেল ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরই ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আঙুর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, নাশপাতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা রমজানের শুরুর তুলনায় মানভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কম।