আসছে নয়া রাজনৈতিক দল
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪৩
স্টাফ রিপোর্টার : আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার আত্মপ্রকাশ করছে নতুন একটি রাজনৈতিক দল। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এদিকে নতুন এই দলের নেতৃত্বে আসছেন তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নাহিদ ইসলাম। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে নতুন দল গঠন এবং সেই দলে নাহিদের অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকলো না। ২০২৪-এর আন্দোলনের সমন্বয়কদের ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে গত বুধবার। এ সংগঠনের নাম গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সারজিস জানান, অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে সময়ের দাবি হচ্ছেÑ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সাত মাসে আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে সেই ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশকে যে জায়গায় কল্পনা করেছি, সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া একটা দীর্ঘ লড়াই। আমাদের জায়গা থেকে বিশ্বাস করি, হাজারো শহীদের জীবনের ওপর, ভাই-বোনের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশে দীর্ঘ লড়াইটি করে সেই কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ আগামীর প্রজন্মকে উপহার দেওয়া আমাদের কাছে একটি আমানত। আমরা এ লড়াইটি করে যেতে চাই। তিনি বলেন, সেই লড়াই সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলের শপথটি এ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাক্সক্ষার যে প্রতীক, সেই জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে এ শপথটি করতে চাই। তিনি আরও বলেন, যুগের পর যুগ ধরে এই সংসদ ভবনকে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক না বানিয়ে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে পলিসি মেকিংয়ের জায়গা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। জায়গাটিকে স্বৈরাচারের উৎপাদন ক্ষেত্র বানিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই আমরা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে সামনে রেখে, জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলে ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠী স্বার্থ, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা চলছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন হবে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ ইসলাম। সেটি ২৫ ফেব্রুয়ারি সত্যিই হলো। সে কারণে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন দলে আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কারও কোনো আপত্তি ছিল না। সদস্য সচিব হিসেবে কে আসবেন, মূলত তা নিয়ে মতবিরোধ ছিল। সমঝোতার ভিত্তিতে এ পদে আখতার হোসেনের নাম অনেকটাই চূড়ান্ত। তিনি এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব। দলের মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র পদে দেখা যেতে পারে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে।
অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আলী আহসান জোনায়েদের নাম বিবেচনায় আছে। আর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে আসতে পারেন জাতীয় নাগরিক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাহিদ ইসলাম। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর তিন দিনের মাথায় ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারে উপদেষ্টা হন নাহিদ ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক নেতা মাহফুজ আলম প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং পরে উপদেষ্টা হন। ঢাকার বনশ্রীর ছেলে নাহিদ ইসলাম ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীরাই নতুন দলের কাণ্ডারি হচ্ছেন।