দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও বিক্রি হয়েছে কম
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩৫
স্টাফ রিপোর্টার : সময় না বাড়ালে আজ শুক্রবারই শেষ হচ্ছে চলতি বছরের একুশে বইমেলা। দীর্ঘদিনের ঐত্যিবাহী এ বইমেলায় এবারও কমতি ছিল না পাঠক ও দর্শনার্থীর। কিন্তু তুলনামূলক বই বিক্রি অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছর বইমেলায় বিক্রি হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বই। এবারের বইমেলায় ঠিক কত পরিমাণে বই বিক্রি হয়েছে, তা ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখার সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্টল মালিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তুলনামূলক বিক্রি কম হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনের শিশু চত্বরে অবস্থিত ছোটদের সময় প্রকাশনীর (স্টাল নং-৮৮৯) কর্ণধার কবি ও ছড়াকার মামুন সারওয়ার এর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, এবার মেলায় দর্শনার্থী পর্যাপ্ত থাকলেও বিক্রি কম হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার তিনি জানান, শেষ তিন দিন বিক্রি অন্য সময়ের চেয়ে ভালো হবে।
প্রতি বছর নানা প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। লেখক, সাহিত্যিকদের প্রত্যাশা থাকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এ মেলা ভূমিকা রাখবে। আরও প্রত্যাশা থাকে পাঠকের মধ্যে সৃজনশীলতা, বিনয় ও মানবিকতার বিকাশ ঘটবে। বহু প্রত্যাশার সে মেলা এখন একেবারেই শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে বইপ্রেমীদের হৃদয়ে বাজছে বিদায়ের সুর।
ঐতিহ্যের কর্ণধার আবদুল্লাহ আল নাঈম আরাফ গণমাধ্যমকে বলেন, বই বিক্রি কম হয়েছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। অন্যান্য বছর মেলার শেষের দিকে প্রচুর ভিড়ের পাশাপাশি বিক্রি অনেক বেশি থাকে। এ বছর তা দেখা যায়নি। বই বিক্রি কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক ও লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘দেশ একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এখনো সবকিছু স্বাভাবিক হয়নি। যার কারণে মেলায় এসে বই কিনে এমন মানুষজন কম এসেছে এবার। যারা প্রকৃত পাঠক তাদের বেশিরভাগই অনলাইনে বই কিনছে।’
মোড়ক উন্মোচন মঞ্চের সামনের উন্মুক্ত জায়গায় জমে ওঠে বিরাট একটা আড্ডা। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থীর একটি দল গোল হয়ে বসে সমস্বরে গান, কবিতা আবৃত্তি করেন। তাদের সে আড্ডা পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই উপভোগ করছিল। নেতিবাচক দিক হচ্ছে, এ বছর মেলায় প্রতিটা সময় হকার, ভিক্ষুকের উপদ্রব দেখা গেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন দেখা গেল হিজরা জনগোষ্ঠীর চাঁদা উত্তোলন। তারা মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নানাভাবে ১০ টাকা, ২০ টাকা করে নেয়। যারা দিতে চায়নি, তাদের কটূক্তির শিকার হতে হয়। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পুলিশ কিংবা আনসার এসব দেখেও ছিল নির্বিকার।
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ পরিচালক জি. এম. মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, এ বছর অন্য বছরের তুলনায় বিক্রি কম হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখনো তার দপ্তরে জমা হয়নি। তিনি জানান, স্টল মালিকদের কাছে বিক্রি সংক্রান্ত একটি ফরম দেওয়া হয়, ইতোমধ্যে তা দেওয়া হয়েছে। তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিক্রি পরিসংখ্যান ওই ফরমে তুলে ধরবেন, ফলে মেলা শেষ হওয়ার পর এ বছরের বিক্রির সঠিক তথ্য জানা যাবে।