তোমার দীপ্ত কণ্ঠস্বর
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৫০
[মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.)কে নিবেদিত]
আজো কানে বাজে তোমার
সেই দীপ্ত কণ্ঠস্বর
রক্তের কণায় কণায় তোলে
সাহসের প্রচণ্ড ঝড়
‘শোন সন্ত্রাসীরা শোন হে
আমি বসলে দাঁড়িয়ে থাকবে কে? কে?’
তর্জন গর্জন নয়
নয় হুঙ্কার
যেন আলীর দুধারী জুলফিকার
মুহূর্তে টুকরো টুকরো করে
সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র-আঁধার।
সন্ত্রাসীদের শরীরে ওঠে জ¦র
ভয়ে কাঁপতে থাকে থর থর
অতঃপর
নীরবে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করে
সরে পড়ে ছড় ছড়।
পাহাড়ের চেয়েও তিনি ছিলেন অটল
অসীম ছিল তাঁর ঈমানের বল।
আজো আমি বাংলাদেশ থেকে শুনি
সেই অনির্বাণ প্রদীপ্ত কণ্ঠস্বর
হৃদয়ের পরতে পরতে তোলে
সাহসের প্রচণ্ড ঝড়।
মাওলানা
ইচ্ছে করে আমি এক্ষুণি বাতিলের দুর্গে দুর্গে দিই হানা
লণ্ডভণ্ড করে ফেলি শয়তানদের আড্ডাখানা
যুদ্ধবাজদের সব মারণাস্ত্র চিবিয়ে চিবিয়ে
মুড় মুড় করে খাই
দেশে দেশে ছুটে যাই
শহর বন্দর গ্রামে গ্রামে
সকল বাতিলের বিরুদ্ধে নামি
প্রাণপণ সংগ্রামে।
মাওলানা
এত অপমান লাঞ্ছনা
প্রাণে আর সহে না সহে না।
দেশে দেশে মুসলিম নর-নারীর চিৎকার
বুকফাটা আর্তনাদ হাহাকার।
কতকাল যাবত কাঁদছে ঐ কাশ্মীর ফিলিস্তিন
ইচ্ছে করে এক্ষুণি হই মুসা তারিক সালাউদ্দীন
আল্লাহু আকবর চিৎকার দিয়ে ফাটিয়ে ফেলি
আকাশের ছাদ
ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলি
বাতিলের ফাঁদ
আর চলার পথের বাঁধ
দিকে দিকে বীরদর্পে হাঁটি
কাঁপিয়ে তুলি পৃথিবীর মাটি!
মাওলানা
আমি এখনো বুঝতে পারছি না
শুনে তোমার সেই প্রদীপ্ত কণ্ঠস্বর
কেন মুসলমানদের বুকে উঠছে না সাহসের ঝড়।
আমার মনে হয়
এখন মুসলমান আর সেই মুসলমান নয়।
দেখছি তো কতকাল
সবগুলো নাদান ভেড়ার পাল
বিজাতির পদলেহী দাস
মরে পড়ে আছে লাশ।
আমি নির্ঘুম জেগে আছি
দুইশ’ কোটি লাশের কাছাকাছি
ইসমে আজম ফুঁকছি বার বার
করতে চাচ্ছি চেতনা সঞ্চার
মাওলানা
কেউ জাগছে না।
দ্যাখো দ্যাখো
চারদিক ঘিরে আছে আঁধার
অন্ধকারে ফোৎ ফোৎ করছে হিংস্র জন্তু-জানোয়ার
উন্মত্ত খুনি সন্ত্রাসী স্বৈরাচার
কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে মৃত লাশের রক্ত মাংস হাড়
পৃথিবীর অঙ্গে অঙ্গে মাতাল দাঁতাল বিদ্ধ করেছে দাঁত
এখন এখানে নেমেছে ভয়াল রাত।
দ্যাখো দ্যাখো
সবকিছু করে ফেলেছে এলোমেলো
হায়! কেমনে এমন হয়ে গেল!
মাওলানা মওদূদী
তুমি আরেকবার আসতে যদি
আঁধার ভুবন করে ফেলতাম হেরার আলোয়
আলোকিত নূরের নদী।
মাওলানা
তুমি কি আবার একটু আসতে পারো না
আমরা ডুবে যাচ্ছি ক্রমশ আঁধার অতলে
নষ্ট জাহেলি জলে।